হ্যাকারের_লুকোচুরি সিজন_২ পর্ব-১৪

0
1226

হ্যাকারের_লুকোচুরি সিজন_২
পর্ব-১৪

বিঃদ্রঃ ব্যস্ততার কারনে গল্প দিতে দেরি হচ্ছে তার জন্য দুঃখিত।

রাফি দ্রুত ম্যাপগুলো একটা ডিজেবল সার্ভারের ফাঁকে লুকিয়ে ফেলে আর বেজমেন্ট থেকে বের হয়ে সদর দরজা খোলার জন্য এগিয়ে যায়। এতদিন বাইরের মানুষকে ভয় লাগলেও এখন আপন ভাবা সাইবার কুইনকেই ভয় লাগতে শুরু করেছে রাফির।
সদর দরজায় পৌছে রাফি দরজা খুলে দিলো। দুইজনকে শিড়ির উপর মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকতে দেখে রাফি। রাফির দরজা খোলার আওয়াজে দুইজনই ঘাড় ঘুরিয়ে রাফির দিকে তাঁকালো। রক্তচক্ষু বলা যায় দুইজনেরই, যে কোন ঘরের সামনে ঘন্টা খানেক বসে থাকা কম কথা নয়। দুইজন একসাথে উঠে দাঁড়াল। ছবিতে দুজনকে এভারেজ সাইজ লাগলেও বাস্তবে দুইজনই ৬+ ফিট আর হাট্টাকোট্টা বডিফিটনেস। রাফি হাত মেলানোর জন্য হাত বাড়িয়ে দিলেও দুইজনের কেউই হাত মেলালো না উল্টো হাতে থাকা ৫ লিটারের সসের বোতলটা ধরিয়ে দিয়ে রাফিকে সাইড কাটিয়ে ঘরের ভেতর ঢুকে যায় দুইজনই। ডাইনে বায়ে না তাকিয়ে সোজা দোতলায় উঠে যায় রাফি নীচ থেকে উঁকি দিয়ে দেখতে চেষ্টা করে দুজন কি করছে। দুইজনই নিজ নিজ জ্যাকেটের পকেট থেকে চাবি বের করে দুটো আলাদা রুমের দরজা খুলে ফেলে। এরপর ভেতরে গিয়ে বেশ জোরেই দরজা লাগিয়ে দেয়। রাফি বিষয়টা কিভাবে নেবে না নেবে কা বুঝে উঠতে পারে না, এদের দুইজনের কাছেই ঘরের চাবি রয়েছে অর্থাৎ এরা এই ঘরের পুরাতন বাসিন্দার। প্রথমবারের মত কোন বাড়িতে আসা কেউ সরাসরি সঠিক দরজার সামনে গিয়ে লক খুলতে পারে না যদি না তারা বাড়ি সম্পর্কে পরিচিত না হয়। রাফি চুপচাপ নিজের জন্য কয়েকটা স্যান্ডউইচ বানিয়ে ৫ লিটারের বোতল থেকে বেশ খানিকটা সস ঢেলে নিয়ে বেসমেন্টে চলে যায়। নিজেকে উদ্ধার করার জন্য হলেও পিকাচু কে পরিপূর্ণ রূপ দিতে হবে রাফিকে। বেজমেন্টে যেতে যেতে মাফিয়া গার্লের ফোন,
– তোমার সস পেয়েছো?
রাফি – (স্যান্ডউইচ গালে) পেয়েছি তবে ইম্পোর্টেড মাল ও যে বাজে হতে পারে তার একটা প্রমান পেলাম। যাইহোক, I wanna talk to my family, within today.
– today!
রাফি – You save them from my safe house, thank you for that but I need to talk with them. Its been a while.
– I’ll try but can’t guarantee you anything.
রাফি – if you can send Ruhi for me than it is nothing. I can’t control myself, I need to talk.
– let me check what I can do.
রাফি – ধন্যবাদ। কাজ শুরু করবো। রাখছি।
– অফলাইনেই বেশ কাজ করছো দেখছি?
রাফি – আপাতত ইন্টারনেট প্রয়োজন হচ্ছে না। প্রয়োজন হলে আমিই অনলাইন করে দিবো।
– কিন্তু ওটা আমার সেফ হাউজ। I want to see what is going on over there.
রাফি – তোমার বন্ধুরা চলে এসেছে। তাদের কাছ থেকে আপডেট নিয়ে নাও।
– কি হয়েছে তোমার রাফি? এমন ব্যবহার করছো কেন?
রাফি – (বিষন্ন) Just let me talk to my family. I’m not strong without them. Please.
– ok, I’ll try.
রাফি – please. Thank you.
রাফি জানে যে এই মুহূর্তে মাফিয়া গার্লের উপর ভরসা করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। জিপিএস ব্যবহার ছাড়া এই এলাকা ছেড়ে যাওয়া সম্ভব নয় আর মাত্র কয়েক ঘন্টায় একটা আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যানেলের পুরো ম্যাপ আত্বস্থ করে ওই অন্ধকার ট্যানেলে ঢুকে যাওয়ার মত সাহস যোগাড় করাও সম্ভব নয়। আর পালালেও বা কোথায় যাবে রাফি? এই অজানা শহরের একটা পিপড়াকেও চেনে না রাফি, অনলাইনে কাউকে খোঁজ করতে চাইলে সে খবর মাফিয়া গার্লের কাছে আগে পৌঁছাবে। এই দেশের কারেন্সি এখনো পর্যন্ত দেখে নি রাফি। ইন্টারনেট, মোবাইল, টেলিফোন, জিপিএস, সিসিটিভি, স্যাটেলাইট সবখানেই মাফিয়া গার্লের উষ্ণ ছোঁয়া রয়েছে। নেটওয়ার্ক মোডিফাই করলেও ধরে ফেলবে মাফিয়া গার্ল। রাফির কাছে একটা জিনিস পরিস্কার যে মাফিয়া গার্ল তার উদ্দেশ্য সফল না করে রাফিকে ছেড়ে দেবে না, হোক সে উদ্দেশ্য রাফিকে বাঁচানো অথবা অন্য কোন ভয়ংকর কিছু।
তাই যদি এখান থেকে মুক্ত হতে হয় তো মাফিয়া গার্লের উদ্দেশ্য বুঝে ব্যবস্থা নিতে হবে। আপাততঃ কিছু না বুঝে নিজের কাজ করে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
বেজমেন্টে বসে পুরাতন হোমওয়ার্কে বিজি হয়ে যায় রাফি, পিকাচুকে কন্ট্রোল করতে পারছিলো মাফিয়া গার্ল এমনকি পিকাচুর পার্মিশন সেটিংস ও চেন্জ করতে পারছিলো মাফিয়া গার্ল যা অথোরাইজড ইউজার ছাড়া সম্ভভ না। এছাড়াও পিকাচু কোন পরিস্থিতির সাথে এডাপ্ট ও করে নিচ্ছিলো না যার জন্য রাফিকে একই কমান্ড বার বার দিতে হচ্ছিলো। মোটকথা এই বেটা ভার্শনের পিকাচুকে পরিপূর্ণ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বলা চলে না। এখন পর্যন্ত পিকাচু একটা এসিস্টেন্ট ই হয়ে আছে যার জন্য শুধুমাত্র প্রিলোডেড সিমুলেশনই ফলো করছিলো পিকাচু, আর ১০ টা সাধারন কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মত। তবে পিকাচুর আনফিনিশড প্রোগ্রামিং এবং কোডিং যদি ঠিকঠাকমত শেষ করা যায় তো পিকাচু হবে পৃথিবীর অন্যতম ইফিসিয়েন্ট আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স।
পিকাচুর ডিজাইনের একটা ডায়াগ্রাম এঁকে বেজমেন্টের দেয়ালে ঝুলিয়ে দিলো। বিশাল বড় কাজ ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে এক একটা টাস্ক ঠিক করে নেয় রাফি।
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন


বিকেলের দিকে কম্পিউটারের মনিটর থেকে চোখ সরায় রাফি। যথাযথ কারন ও রয়েছে তার, খিদে পেয়েছে ভয়াবহ। সকালবেলা কয়েকটুকরো স্যান্ডউইচ খেয়ে কাজ শুরু করেছিলো, এখন পেটের ভেতর দানব দৌড়াচ্ছে। বেজমেন্টের কাজ রেখে উপরে উঠে আসে রাফি। ড্রয়িং এর কাছে এসে নতুন দুই সদস্যকে খুঁজতে থাকে। এখনো ঠিকমত পরিচিত ও হয় নি। হঠাৎ উপরে কিছু একটার শব্দ হওয়ায় রাফি শিড়ি দিয়ে উপরে উঠতে লাগলো। কোন একটা কর্মযজ্ঞ চলছে তা বোঝাই যাচ্ছে, দোতলা ছেড়ে তিন তলার দিকে তাকালো রাফি, আওয়াজ তিনতলা থেকে আসছে। রাফি তিনতলায় একটা রুম খোলা পায়, রুমটাতে ঢুকে দেখতে পায় দুইজনই রুমের ভেতর বসে ক্যাবল টানাটানি করছে। দুইটা মনিটর ট্যাম্পরারী ভাবে মেঝেতে কানেকশন দিয়ে কি যেন চেক করছে। রাফিকে দেখে দুজনেই রাফির দিকে তাকিয়ে পরে,
রাফি – (অবাক হয়ে) কি করছো এখানে!
দুইজনই কোন কথার জবাব না দিয়ে আপন কাজে মন দিলো। রাফি ঘুরে এসে মনিটরের দিকে তাকালো। সারা বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার কাজ করছে তারা, কিন্তু এখানে কেন! বেজমেন্টে তো সব সিস্টেমই রয়েছে। কিছুক্ষণ কাজ করে তারা ফোনে কাকে কি যেন বললো। ফোনটা কেটে মনিটর অফ করে রেখে বের হয় রুম থেকে আর রাফিকেও ইশারা করে রুম থেকে বের হওয়ার জন্য।
রাফি রুম থেকে বের হয়ে গেলে দরজা লাগিয়ে দেয় একজন আর নীচে নামতে শুরু করে। রাফি ও চুপচাপ নীচে নামতে থাকে। তাদের কাজ আর সিস্টেম সেটআপ দেখে বোঝা যাচ্ছিলো ওরা সিসিটিভির কানেকশন ব্রডব্যান্ডে দিয়ে দিয়েছে। হয়তো মাফিয়া গার্ল ওদেরকে অল্টারনেটিভ ওয়ে তে সিসিটিভি অনলাইন করার নির্দেশনা দিয়েছে।
রাফি শিড়ি দিয়ে নামতে নামতে মাফিয়া গার্লের ফোন,
– I can see the surveillance operation now. You don’t have to worry about surveillance anymore.
রাফি – ধন্যবাদ। আমার রিকুয়েষ্টের কি করলেন ? কথা বলতে পারবো তো?
– ব্যবস্থা on the way তে আছে। পৌছালে আমি জানাবো।
রাফি ফোনটা রেখে দেয়, হঠাৎ করেই পেট কড়া নেড়ে জানান দেয় যে কেন রাফিকে বেজমেন্ট ছেড়ে উপরে আসতে হয়েছে। কিচেনে গিয়ে ফ্রীজ থেকে ঠান্ডা নুডুলস বের করে সস দিয়ে ওই অবস্থাতেই খাওয়া শুরু করে রাফি। বাইরে বরফ পড়া শুরু হয়েছে, কিচেনের জানালা দিয়ে দেখতে থাকলো রাফি, এর আগে কখনো তুষারপাত দেখে নি রাফি।একনজরে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে আবারো বেজমেন্টের দিকে রওনা দেয় রাফি। অনেক কাজ করা বাকী।
বেজমেন্টে বসে আবারো কাজ করতে শুরু করে রাফি, একের পর এক কোড বসিয়ে প্রোগ্রামিং কম্প্লিট করতে থাকে সে। রাফির কাজ আরো দ্রুত হয়েছে কারন ডেভেলপাররা তাদের পুরা পিকাচু প্রোজেক্টের ইনিশিয়াল কোডিং কম্প্লিট করেই রেখেছিলো। যার জন্য রাফিকে শুধু ফিনিশিং টাচ দিয়ে জায়গামত কোডটা বসিয়ে দিতে হচ্ছে। রাফি শুধু কোডিংএর মাধ্যমে একটা ননবায়োলজিক্যাল ব্রেনের বেসিক লজিক, এন্যালিটিকাল লজিক, হিউম্যান ইমোশন সহ একজন বুদ্ধিমান মানুষের ব্রেন যে সব ভিত্তিতে কাজ করে তার সবই ডিজিটাল ল্যাংগুয়েজে ইনপুট করতে থাকে পিকাচুর সিস্টেমে। এছাড়া আগের করা কিছু কোডকে আরো আপডেট ও আপগ্রেড করতে থাকে রাফি।
রাতে ডিনার কারার জন্য রাফি বাইরে এলে নতুন দুই সদস্যের একজন সেঁধেই কথা বলতে আসে রাফির দিকে,
F1- Sorry for our behavior, bro. We were just upset about the morning issue. Nobody likes to wait in front of anybodys door.
রাফি – it’s okay. I was just busy with my work, sorry for that.
F1 – I can see that, btw, I’m Mark. He is Jack. We are here to assist you. You name it, we get it.
রাফি – ( কপাল কুচকে) Who is Mafia Girl? Bring her here.
Mark – (অবাক হয়ে) Did you ever see anybody to catch a shadow? Or even hear?
রাফি – Noop, just kidding. Thank you.
দুইজনের সাথেই হাত মেলায় রাফি। কথাবার্তায় যথেষ্ট ভদ্র লাগলেও চেহারা আর হাতের তালুর স্ট্রাকটার সেটা বলে না। দুইজনই দুই জিবন্ত হাতুড়ি সেটা আন্দাজ করতে পারে রাফি। ডিনার শেষে বেজমেন্টে ফিরে যাবে ঠিক তার আগ মুহূর্তে মাফিয়া গার্লের ফোন পায় রাফি।
– তোমার ফ্যামিলির হাতে একটা ফোন পৌঁছেছে। তাদেরকে তোমার নাম্বার কানেক্ট করে দিয়েছি। হ্যালো বললে কথা বলো।
রাফি অধির আগ্রহে অপেক্ষা করতে লাগলো কোন পরিচিত গলার হ্যালো শোনার জন্য।
মা – হ্যালো,
রাফি – (আবেগে) মা!
মা – রাফি! কেমন আছিস বাবা! তোর না দেশে ফিরে আসার কথা ছিলো! তা না এসে আবার কেন ট্রেনিং এ ফেরত গিয়েছিস! তোকে না বললাম এই চাকরি ছেড়ে দে। ঘরে বসে থাক তারপরও চোখের সামনে থাক। দরকার নেই এই চাকরির।
রাফি – (কৌতূহল) আমি আবার ট্রেনিং এ গিয়েছি এটা তোমাদের কে বললো! আর তোমরা কোথায় আছো এখন?
মা – তুই যে ঠিকানা দিয়েছিলি বৌমা এর ফোনে, ওই ঠিকানাতেই তো আছি এখন। বলেছিস নাকি এখানেই নিরাপদ, সাথে আরো ৩ জন বডিগার্ডও দিয়ে দিয়েছিস সবসময় দেখাশোনা করার জন্য।
রাফি – (শান্তভাবে) তোমার বৌমা কোথায়!
মা – সে তো তার বাবা মায়ের কাছে গিয়েছে, বেয়ান অসুস্থ হয়ে পড়েছে। সেখানেই আছে। তুই যাওয়ার দিনই খবর আসে বেয়ান অসুস্থ। পরের দিন ই তো আমরা চলে আসি তোর দেয়া ঠিকানাতে আর জোর করে পাঠাই ওকে বেয়াই বাড়ি, যেতেই চাইছিলো না মেয়েটা।
রাফি – ঠিকানাটা কোথায়?
হঠাৎ বী‌প বীপ আওয়াজ হতে থাকে অার ওপাস থেকে মাফিয়া গার্লের কম্পিউটার জেনারেটেড ভয়েস ভেসে আসে,
– কেন তুমি তোমার মা কে কনফিউজড করছো। তারা নিরাপদে আছে বলেছি তো। তোমার মা যদি জানে যে তুমি তাদেরকে ওখানে রাখো নি তাহলে তারা চলে যেতে চাইবে আর এতে হিতে বিপরীত হবে। একটা জিনিস কেন বুঝতে পারছো না তুমি!
রাফি – (রাগান্বিত) আসলেই আমি বুঝতে পারছি না আপনার উদ্দেশ্যটা কি! কি চান আপনি আমার কাছে! কেন আমার জন্য এত কিছু করছেন!
– এখনো সময় আসে নি সেটা জানানোর। আগে নিজেকে তৈরী করো নিজের বিপরীত শক্তির সাথে পেরে ওঠার জন্য।
রাফি – আমার কেন মনে হচ্ছে যে তুমিই আমার বিপরীত শক্তি?
– হতেই পারি। সারা দুনিয়া আমার অস্তিত্ব জানে না আর যারা জানে তারা কোন পজেটিভ ধারনা রাখে না মাফিয়া গার্ল সম্পর্কে। ধরে নাও এটাই আমার পক্ষ থেকে করা তোমার এবং তোমার পরিবারের প্রতি শেষ সাহায্য। তুমি যে কাজ করছো সেটা শেষ হলে তুমি তোমার রাস্তায় আর আমি আমার রাস্তায়।
রাফি – ফ্যামিলির সাথে কথা বলতে পারি এখন? মাঝপথে লাইন কেটে দিয়ে ঢুকে পড়েছেন আপনি!
– আজ আর না। তোমার মায়ের মনে সন্দেহ ঢুকে গেলে তাকে এবং তোমার পরিবারকে সিকিউর রাখা আমার জন্য টাফ হয়ে যাবে। তোমার কাজ শেষ করেই একবারে কথা বলতে পারবে। তাই Finish your task fast.
রাফি কথা বলা শেষ করে ফোন রেখে দেয়। বেজমেন্টে গিয়ে চেয়ারে বসে। ভয়ংকর জেদ মাথায় চাপে। মাফিয়া বয় একটা সাইবার রকস্টারের নাম, সারাজীবন নীতি আর আদর্শের ভেতর থাকতে চাওয়া রাফির জন্য এই দুনিয়া কখনই ফেয়ার গেম খেলে নি। কিন্তু সাইবার দুনিয়ায় মাফিয়া বয় যেভাবে খেলবে সেভাবেই গেম চলবে। মাফিয়া গার্লের কথাগুলো শুনে নিজের ভেতরের ঘুমিয়ে থাকা দানবটাকে অনুভব করতে পারে রাফি, নিজের পরিবারের সাথে কথা বলতে গেলেও এখন রেষ্ট্রিকশন মানতে হবে। ভয়ংকর জেদ মাথায় চেপে যায় রাফির। সার্ভার অনলাইনে নেয় রাফি। আর হাত চালায় কীবোর্ডে।
মাফিয়া গার্লের নেটওয়ার্ক মডিফিকেশন ডিসেবল করে নিজের কাষ্টোম মোডিফিকেশন বসায় রাফি, সার্ভারগুলোর এমনভাবে হাইড করে দিলো যে সার্ভারগুলোর ডেস্টিনেশন জানা থাকলেও কেউ এই সার্ভারগুলো এক্সেস করতে পারবে না, একই সার্ভারের ক্লোন আইপি এড্রেস তৈরী করলো কয়েক হাজার আর সারা দুনিয়াজুড়ে সেই কোডিং ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়, প্রতিবার ক্লোন আইপি একসেস করলে নতুন করে আরো ৪ টি ক্লোন আইপি তৈরী হবে আর তা হতে পারে পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে। কিন্তু মাফিয়া গার্ল তো জানে যে কোথায় তার ল্যাব আর সার্ভার অবস্থিত তাই অপ্রয়োজনীয় সার্ভারগুলো ডিজেবল করে রেখে দেয় রাফি। মাফিয়া গার্লের কাছ থেকে পৃথিবীর অন্যতম এডভান্স কম্পিউটার ল্যাব ছিনিয়ে নিয়ে বসলো রাফি। “নে যদি পারিস তো এক্সেস নিয়ে দেখা!” মনে মনে মাফিয়া গার্লকে উদ্দেশ্য করে বলে মাফিয়া বয়। বেশ কিছুক্ষণ পর মাফিয়া গার্লের ফোন আসে,
– রাফি! কি করছো তুমি ল্যাবে বসে! সবকিছু কানেক্ট করে আবার ডিসকানেক্ট করে দিলে কেন।
রাফি – রাফি! Rafi lives no more, its Mafia Boy. And all of your servers are online, if you and your hybrid Hydra is that much powerful, find your servers,
– okay than, Mafia boy. Show your true color.
রাফি ফোন কেটে দেয়। রাফি জানে না মাফিয়া গার্লের হাইড্রা কতটা পাওয়ারফুল তারপরও চ্যালেঞ্জ যখন ছুড়ে দিয়েছে তখন চ্যালেঞ্জে ই কথা হবে। রাফি জানে এই পুরো সিস্টেম মাফিয়া গার্লের তৈরী, তাই পুরোটা মাফিয়া গার্লের নখের ডগায় থাকাটা স্বাভাবিক, তাপরও রাফি যে এনক্রিপশন ব্যবহার করেছে তা এজইউজুয়াল টুলস দিয়ে ক্রাক করা সম্ভব না সেই ভরসায় কাজটা করে শান্ত হলো রাফি। দ্রুতই পিকাচুর কোডিং শেষ করতে হবে রাফিকে। এভাবে চুরি করে থাকা আর সম্ভব নয়। শুরু করলো পিকাচুর কোডিং আর অপেক্ষা করতে লাগলো মাফিয়া গার্লের “হাই” পাওয়ার জন্য।
পরপর দুইদিন একইভাবে খেটে যায় রাফি পিকাচুর পেছনে। শুধুমাত্র খাওয়া ছাড়া বেসমেন্ট থেকে বের হওয়ার নাম নেয় না রাফি। কাজে এতোটা বেশী মগ্ন হয়ে যায় যে দুনিয়ার বাদবাকী সবকিছুই ভুলে যায় রাফি। দুইদিনে মাফিয়া গার্লও কোন সাড়া দেয় নি, রাফির কোডিংও প্রায় শেষের দিকে।
রাফি কোডিং শেষ করে একটু দম নেয়।
অবশেষে। রাফি একটু স্বস্তি পায়। পিকাচু প্রোগ্রাম রান করে মাফিয়া বয়। সিস্টেম এক্টিভ হওয়ার সাইন দেখায় স্ক্রীনে। ১%….২%…..৩%
ধীরে ধীরে জেগে উঠতে থাকে পিকাচু, সিস্টেম ইরর দেখার মত মানসিকতা নেই রাফির, পিকাচুই এখন শেষ ভরসা।
অবশেষে পিকাচুর রেস্পন্স পাওয়া গেল।
পিকাচু – (কার্টুন ভয়েসে) Hi, I am pikachu,

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে