হ্যাকারের_লুকোচুরি পর্ব-২

0
1799

হ্যাকারের_লুকোচুরি পর্ব-২

রাফি তারাহুরা করে রেডি হয়ে নাস্তা না করেই ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে গেলো। পিছন থেকে বাবা বকছে। সেদিকে কোনো খেয়াল নেই। সে সোজা ডিসির বাংলোয় চলে গেলো। গেটে এক ভুড়িয়াল দাড়োয়ান দাড়ানো।

দাড়োয়ান- কোথায় যাচ্ছেন?

রাফি- বাস স্ট্যান্ড যাবো।

দাড়োয়ান- ফাজলামো হচ্ছে?

দূর থেকে ডিসি সাহেব হাত দিয়ে ইশারা দিলেন রাফিকে ছেড়ে দেয়ার জন্য।

বিশাল বাংলো। ডিসি সাহেব একাই থাকে। পরিবার থাকে ঢাকাতে। বাগানের ভিতর একটু ফাকা জায়গা, সেখানে চেয়ার টেবিল পাতানো।

রাফি সালাম দিয়ে বিসে ব্যাগ থেকে ল্যাপটপ বের করতে যাবে ঠিক তখনি ডিসি সাহেব থামিয়ে দিল।
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share


ডিসি- আজ ওটা আর বের করতে হবে না।

রাফি একটু অবাক হয়ে ব্যাগ থেকে হাত বের করতে করতে বললো

রাফি- তাহলে স্যার আমাকে কি জন্য ডেকেছেন?

ডিসি- দেখো রাফি, প্রথমদিনই তোমার কাজের পারদর্শীতাই দেখে আমি মুগ্ধ। ডিবি অফিসার মাসুদের মুখে শুনলাম তুমিই নাকি হোয়াইট হ্যাট মাফিয়া বয়, আমি কি সেই মাফিয়া বয়ের সাথে কথা বলছি যাকে সবাই সাইবার জগতের মাফিয়া বলে চেনে?
রাফি – স্যার, আমি জানি না মাসুদ ভাই আপনাকে আমার সম্পর্কে কি বলেছে তবে সাইবার জগতের সবাই আমাকে মাফিয়া বয় হিসেবেই জানে এবং সত্যিকারের জীবনে আপনি আর মাসুদ ভাই ছাড়া আর কেউ জানে না যে আমিই মাফিয়া বয়।
ডিসি সাহেব একটা ফর্ম বের করে রাফির সামনে দিল। রাফি বললো স্যার এটা কিসের ফর্ম?
ডিসি – NSA (National Security Agency) তোমার তোমার মত যোগ্য ও পারদর্শী দেশপ্রেমিক হোয়াইট হ্যাট এর খোজ করছে এবং তোমার কাজ NSA এর নজরে এসেছে। তোমার সামনে যে ফর্মটা দেখতে পাচ্ছো এটা তোমার জন্য একটা সুযোগ। এতদিন তুমি নিজের তাগীদে দেশের সেবা করেছো , যদি তুমি চাও তাহলে এই দেশের সাইবার টিম তোমার দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে আরো সুরক্ষিত করতে পারবে।
রাফি ফর্মটা তুলে পড়া শুরু করলো। NSA এর সাইবার ডিভিশনের ফ্যায়ারওয়াল ইন্জিনিয়ার নিয়োগ ফর্ম।
ডিসি – ফর্মটা নিয়ে চিন্তা করো না। ওইটা শুধুমাত্র ফর্মালিটি। তোমার মূল Job discription তোমাকে NSA Headquarters বুঝিয়ে দেবে।
তাই যদি তুমি দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চাও তাহলে ফর্মটা পূরণ করে বাকি কাগজপত্র গুলো নিয়ে রবিবার আমার অফিসে চলে এসো।

রাফির সব কিছু কেমন যেন মাথার উপর দিয়ে চলে গেলো। সামান্য ইমেইল আইডি উদ্ধার করে দেয়ার জন্য NSA এর মত সংস্থার হয়ে কাজ করার সুযোগ!!!!!
কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারে না রাফি। চেয়ার থেকে উঠে ডিসি স্যারকে সালাম দিয়ে গেটের দিকে যেতে গেল রাফি। ঠিক তখনি পিছন থেকে ডাক দিলেন ডিসি সাহেব।

ডিসি- রাফি, যদি তুমি সুযোগটা গ্রহন করো তাহলে তুমি এসব কারো সাথে শেয়ার করতে পারবে না। এমনকি তোমার বাবা মায়ের সাথেও না। বলবে ICT ডিভিশনে সফওয়্যার ইন্জিনিয়ার হিসেবে ঢুকেছো। আর হ্যা, তুমি মাসুদকে(সেই ডিবি) চেনো কিভাবে?

রাফি- মাসুদ ভাই আমার ফ্রেন্ডের বড়ভাই। মাঝে তার একটা সাইবার ক্রাইম রিলেটেড কেস নিয়ে খুব বেশী ঝামেলা হচ্ছিলো। চায়ের কাপের আড্ডায় ব্যাপারটা সলভ করতে সাহায্য করেছিলাম।
তারপর থেকে সাইবার বিষয়ে কোনো কেস আসলে আমাকে মাসুদ ভাই ফোন দিত। কাজ আপনাদের সাইবার টিমি করতো। আমি একটু হেল্প করে দিতাম।
এইভাবে মাসুদ ভাই থেকে ডিবি মাসুদ ভাইয়ের সাথে পরিচয়।

ডিসি- দেশের জন্য তোমার কিছু করার ইচ্ছা আছে জেনেই তোমাকে এতকিছু বলা। যাই হোক মাসুদের সাথেও এসবব কিছু শেয়ার করার দরকার নেই। কিছু জিজ্ঞেস করলে বলবে আমার পার্সোনাল কাজে তোমাকে ডেকে ছিলাম।

রাফি- আচ্ছা স্যার, ধন্যবাদ স্যার সব কিছুর জন্য।

ডিসি- যাও। ভালোভাবে ভেবে দেখো, রবিবার তোমার পজেটিভ উত্তরের অপেক্ষায় থাকবো।

রাফি চলে গেল। যাওয়ার সময় গেট থেকে বের হওয়ার সময় দাড়োয়ান উনাকে সেলুট দিল। তখন রাফি কপাল থেকে হাত নামিয়ে নিল। বললো

রাফি- চাচা আগে কিছু হয়ে নেই, তারপর সেলুট দিয়েন।

রাফি খুশি আর বিস্ময়ভরা মনে চলে গেল। কিন্তু কষ্ট লাগতেছে কাউকে কিছু জানাতেও পারবে না। এমনকি বাবা মাকেও না। বাসায় ঢুকার সাথে সাথে বাবার ঝারি শুরু।
বাবা- সকাল সকাল না খেয়ে কোথায় মরতে গেছিলি এই বন্ধের দিনে। যাবি যা, খেয়ে যাওয়া যায় না?

রাফি বাবার কাছে যেয়ে বাবাকে হঠাৎ জড়িয়ে ধরলো। আর বললো বাবা তুমি অনেক ভাল।

বাবা- কিরে কি সব বলছিস। টাকা লাগবে? নাকি বাইরে কোনো কান্ড করে আসছিস।

রাফি- কিছুই না বাবা। মা কই? আমাকে নাস্তা দিতে বলো। আমি আসছি ফ্রেস হয়ে।

রাফি উপরে নিজের রুমে চলে গেলো।

খাবার টেবিলে,
রাফি- বাবা, মা এদিকে একটু আসো।

বাবা- কি হইছে?

রাফি- আমার একটা সরকারি চাকরি হতে পারে, আমার জন্য দোয়া কইরো।

বাবা- (কিছুক্ষন চুপ থেকে) কি বলিস। কোথায়?
মা শুনেই আল্লাহ এর কাছে দোয়া প্রার্থনা করা শুরু করলেন।

রাফি- ICT ডিভিশনে সফটওয়্যার ইন্জিনিয়ার হিসেবে।

বাবা- যাক তোর একটা ব্যবস্থা হলো তাহলে। এখন একটু শান্তি। বাকি রইলো তোর বিয়ে। তাহলে একদম শান্তিতে থাকতে পারবো। কি বলো রাফির মা।

রাফি- ধুর গাছে কাঠাল, গোফে তেল। আগে হোক তারপর সব দেখা যাবে।
রাফি একটু লজ্জা পেয়ে উপরে উঠে গেল নিজের ঘরে।

নিজের আইডিতে ঢুকলো। ঢুকেই একটা নিউজ দেখে রাফির চোখ কপালে উঠলো। ডিফেন্স মিনিস্ট্রির সাইবার ডিভিশনে মাফিয়া বয়! রাফি তো দেখে অবাক। সে আগে কোনদিন ডিফেন্স মিনিস্ট্রির হয়ে কোন কাজ করেনি। তাহলে তার নামে আইপি দিয়ে কে এই কাজ করলো।
রাফি অনেক চেষ্টা করলো, কিন্তু একটা কোডের মেসেজ ছাড়া কিছুই পেলো না। মেসেজটি ছিলো
#I_will_find_you_Mafia_boy
#Mafia_girl
রাফির কপালের ভাঁজটা আরো লম্বা হয়ে গেলো। সকাল সকাল ডিসি স্যারের অফার আবার এখন সাইবার ডিভিশনে মাফিয়া বয় সেজে মাফিয়া গার্লের এতবড় কান্ড!!!! রাফি কিছুক্ষণ হ্যাং হওয়া কম্পিউটারের মত বসে থাকলো।
সকালে কার মুখ দেখে ঘুম থেকে উঠেছিলো তাই ভাবতে ভাবতে আবার আংগুলগুলো চালালো কীবোর্ডের উপর, রাফি বসে গেলো রিসার্চ করতে। একে তো মেজাজ খারাপ যে কেউ একজন তার নাম নিয়ে নিলো। নাহ, এই মাফিয়া গার্ল সম্পর্কে জানতেই হবে, এতবড় একটা কাজের ক্রেডিট কেন মাফিয়া বয় কে দিয়ে দিলো?
রিসার্চ দেখে কিছুটা বিস্মিত হলো রাফি। খুব বেশী পুরাতন নয় এই মাফিয়া গার্ল কিন্তু এরই মধ্যে মায়ানমারের প্রায় ৩০০ সাইট এবং ইন্ডিয়ার প্রায় ১০০ সাইট হ্যাক করে ফেলেছে এই মাফিয়া গার্ল। আর প্রতিটা হ্যাকিংএই সে একটাই কোডেড মেসেজ দিয়ে গেছে
#I_will_find_you
#Mafia_Girl
রাফি আগেই দেখেছিলো এই মায়ানমার এবং ভারতের সাইট হ্যাকিংএর কথা কিন্তু অতটা গুরুত্ব দেয় নি কারন ভেবেছিলো হয়তো কোন দেশপ্রেমিক হোয়াইট হ্যাট গ্রুপ এই কাজ করেছে। রাফির কাছে কয়েকজন ম্যাসেজও দিয়েছিলো এই হ্যাকারকে খুজে বের করতে কিন্তু সবকিছু মিলিয়ে আর সময় করে উঠতে পারেনি তখন রাফি।

কে এই মাফিয়া গার্ল, মাফিয়া বয় এর ফ্যান! নাকি কোন সত্যিকারের মাফিয়া !
বেশি মাথা খাটাতে চাইইলো না রাফি । কাগজ পত্র সংগ্রহ করতে ব্যাস্ত হয়ে গেলো। কিন্তু মাফিয়া গার্ল মাথায় জেকে বসলো রাফির।

রবিবার,
ডিসি অফিসে সকাল সকাল পৌছে গেলো রাফি।
ডিসি র এসিস্টেন্টের কাছে এপয়েন্টমেন্ট চাইলো। এসিস্টেন্ট তেমন গুরুত্বই দিলো না। কয়েকবার বলার পরেও যখন এসিস্টেন্ট কোন রেসপন্স করছিলো না তখন রাফি বললো আপনি দয়া করে স্যারকে বলুন রাফি এসেছে।
রাফি নামটা শোনার পর এসিস্টেন্ট একপ্রকার ভূত দেখার মত লাফিয়ে উঠলো।
এসিস্টেন্ট – আপনি রাফি?
রাফি – জ্বী আমিই রাফি।
এসিস্টেন্ট – আপনার এপয়েন্টমেন্ট নেওয়াই আছে, একটু অপেক্ষা করুন।
এই বলে ডিসির অফিসের ভেতর চলে যায় এসিস্টেন্ট। ২০ সেকেন্ড পরই বের হয়ে রাফিকে ভেতরে ডাক দিলো।
রাফি ভেতরে উকি দিয়ে,
রাফি- স্যার আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন?
ডিসি- আরে রাফি যে। আসো আসো।
রাফি পাশের সোফায় গিয়ে বসলো
রাফি খেয়াল করলো ডিসি তার এসিস্টেন্টকে কিছু বলে বাইরে পাঠিয়ে দিলো।
ডিসি – তারপর রাফি, সামনে এসে বসো।
রাফি উঠে গিয়ে সামনে বসলো।
ডিসি – কি সিদ্ধান্ত নিলে রাফি? সুযোগটা নিতে চাও তুমি?
রাফি- অবশ্যই নিতে চাই। দেশের হয়ে কিছু একটা করার আমার জন্য সৌভাগ্যের ব্যপার।
ডিসি – আমি জানতাম তুমি আগ্রহী হবে। সম্প্রতি তোমার কাজে ডিফেন্স মিনিষ্ট্রি থেকে শুরু করে সাইবার ডিভিশনের সবাই তোমার প্রতি কৃতজ্ঞ। তুমি তোমার রিয়েল লাইফ আইডেন্টিটি এমনভাবে হাইড করে রেখেছো যে যদি মাসুদ বা আমি তোমাকে না চিনতাম তাহলে হয়তো খুজলেই পেতাম না।
রাফির কপালটা আবার কুচকে গেলো, ডিফেন্স মিনিষ্ট্রি ! সাইবার ডিভিশন!
রাফির বুঝতে বাকী রইলো না যে মাফিয়া গার্ল এর করা কাজের ক্রেডিটে আজ NSA তাকে এতবড় সুযোগ দিলো! প্রচন্ড আত্বসম্মানে লাগলো রাফির। মাফিয়া গার্লের কাজের সুবাদে আজ রাফি এই সুযোগ পেলো!? কিন্তু রাফি ত নিজেও মন প্রান দিয়ে দেশের জন্য কিছু করতে চায়। নাহ, এর শেষ দেখতেই হবে (মনে মনে বললো রাফি)
রাফি। । রাফি????
ডিসি স্যারের ডাকে ঘোর কাটলো রাফির।
দেখি ফর্ম আর কাগজপত্রগুলো দাও।
কপালের ভাজ বজায় রেখে কাগজপত্রগুলো এগিয়ে দিলো রাফি।

ডিসি- (কিছুক্ষন কাগজগুলো দেখলো) হা সব ঠিক আছে। তোমার ট্রেইনিং হয়তো মাস খানেকের ভিতর শুরু হয়ে যাবে। তোমার জব ডিস্ক্রিপশন তুমি NSA Headquarter থেকে জানতে পারবে। তাই ততদিন তোমার চাকরীর পরিচয় কেউ যেনো না জানিতে পারে সেই ভাবেই থাকবে। তোমাকে সব রকম ট্রেইনিং ই দেয়া হবে। হয়তো তোমাকে আন্ডারকভার এজেন্ট হয়ে কাজ করতে হবে। বিস্তারিত তোমাকে ট্রেনিং এর আগেই জানিয়ে দেয়া হবে, আমি আগে থেকে একটু হিন্ট দিয়ে রাখলাম।
রাফি- আচ্ছা স্যার, আপনার মাথা নিচু হতে দিব না। দোয়া করবেন।
রাফি অফিস থেকে বের হয়ে গেল বন্ধুদের কাছে। তাদের আজ পেটচুক্তি খাওয়াবে। চাকরি পাওয়ার সুবাদে।
বাসায় খুব আদর যত্ন চলছে তার। কিন্তু মাফিয়া গার্ল রাফির মাথায় চেপে বসে আছে। এতবড় একটা ঘটনা ঘটলো অথচো রাফি জানতেও পারলো না! এতটা এক্সপার্ট এই মাফিয়া গার্ল!
পুরো সৌরমন্ডল নিয়ে মনে হয় বিজ্ঞানীরা এতটা টেনশন করে নি যতটা রাফি এখন মাফিয়া গার্ল নিয়ে চিন্তিত।

৩ দিন পর,
ম্যাসেজ আসলো রাফির ফোনে। NSA থেকে। ২ দিন পর তার ট্রেনিং। সোজা। NSA এর হেডকোয়ার্টারে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।

লেখাঃ @sharix dhrubo

চলবে??????

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে