স্বামীর_বিয়ে৭

"এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে। আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার। আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন "

#স্বামীর_বিয়ে৭
#সাখেরীন

নিহাল:হু..( ফোন টা তুলে পকেটে রেখে দিয়ে পোস্টার টায় চোখ গেলো চোখ বড়বড় হয়ে গেলো) অন্যদিকে রুহীনি টুল বেডের ওপর রেখে ফেনে উড়না বাধঁছে…..। নিহাল একপ্রকারের হাটার মাঝে দৌড়ে বাসায় গেলো, গিয়ে যা দেখলো নিহালের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। নিহাল হাত থেকে পোস্টার ফেলে দিয়ে রুহীনির পা গুলোর ওপর টুল দিলো।
নিহাল:আমি এসে দেখি রুহীনির পা গুলো ঝুলছে গলায় দড়ি রুহীনিকে নামিয়ে ব্যক্তিগত ডক্টরের কাছে নিয়ে যাই।
সব ফরমালিটি পূরণ করে ওটির সামনে বসে আছি।
৩০মিনিট পর ওটি থেকে বের হলো ডক্টর।
নিহাল:(ব্যস্ত হয়ে পরলো) ডক্টর রুহীনি কেমন আছে?? ঠিক আছে তো??আমি কি কবিনে যেতে পারবো?? আ..
ডক্টর :আপনি এতো ব্যস্ত হবেন না।পেশেন্ট ঠিক আছে আল্লাহ রহমতে। তেমন ভয়ের কিছু নেই। হ্যা কিন্তু আর একটু দেড়ি হলে হতো…. ফাইন তুমি ওটি থেকে কেবিনে সিফ্ট করলে যেতে পারো।
নিহাল:ওহ থ্যাংগ গড। থ্যাংগ ইউ ডক্টর।
ডক্টর:এটা আমার দায়িত্ব। ( এই বলে ডক্টর নিজের কাজে চলে যান)
রুহীনিকে ওটি থেকে কেবিনে সিফ্ট করে দিয়েছে।
নিহাল বসে আছে রুহীনির সামনে। নিহাল তাকিয়ে দেখে:- রুহীনির চেহারাটা মলিন হয়ে আছে, ঠোঁট গুলো কেমন যেনো হয়ে আছে, ঘুমিয়ে রইয়েছে তারপর চোখ দিয়ে পানি পরছে। খুব মায়াবী লাগছে রুহীনিকে।
নার্স:স্যার..
নিহাল:ইয়াহ
নার্স :পেশেন্টের সেন্স ফিরলে ডক্টরসদের ডাকবেন।
নিহাল:সিওর।
নার্স চলে যায়।
প্রায় ৪ ঘন্টা পরে সেন্স ফিরে রুহীনির। নিহাল মীমের সাথে কথা বলছে বললে ভুল হবে কিছু পার্সোনাল বিষয় নিয়ে ঝগড়া করছে। নিহাল খেয়াল করলো রুহীনি বাচ্চাদের মতো মিটমিট করে চোখ খুলছে আবার অফ করছে।
রুহীনি:চোখ খুলতে পারছিনা। জ্বলছে হালকা আর মাথায় পেইন হচ্ছে প্রচুর সাথে গলায় প্রচন্ড ব্যাথাই কান্নাও করতে পারছিনা। উঠতে চাইলাম কিন্তু পারলাম না। ( মনে মনে বললাম)
নিহাল:আরেহ তুমি উঠছো কেনো শুয়ে থাকো রেস্ট নাও।
রুহীনি কান্না করতে লাগলো।
নিহাল একটু ধমকের সুরে বললো এইখানে রেখেই চলে যাবে কান্না করলে।
রুহীনি এটা শুনে কান্না অফ করে ফুফাতে লাগলো।
নিহাল এটা দেখে না হেসে পারলো না। একটু হেসে ডক্টরসদের ডাকতে গেলো।
রুহীনি কান্না করতে লাগলো এই ভেবে যে ওকে এখানে রেখে বাসায় চলে গেলো নিহাল। উঠতে পারছে না।
ডক্টর আসলো নিহালের সাথে।রুহীনি নিহালকে দেখে মনে একটু শান্তি পেলো।
নিহাল দেখে রুহীনি কাদঁছে। ডক্টরের সামনে কিছু বললো না রুহীনিকে। ডক্টর চেকআপ করলো।
ডক্টর :সি ইজ ওকে। এখন আপনি বাসায় নিয়ে যেতে পারবেন।
নিহাল:ওকে… থ্যাংগ ইউ।
নিহাল হস্পিটালের ফরমালিটি পূরন করে। রুহীনিকে ইস্টার্ফ বয়ের সাহায্য কারে করে বাসায় নিয়ে যায়।
নিহাল:শুনো রুহীনি তুমি অসুস্থ তাই রেস্ট নাও। বারাবারি করলে কিন্তু…..
রুহীনি মুখটা অন্য সাইডে ঘুরিয়ে ঠোঁট বাকাঁলো।
নিহাল নিজের রুমে মীমের সাথে ফোনে কথা বলে সব ঠিক করে নেই। নিহাল কথা বলতে বলতে রাত ৯ টা বেজে যায়।
মীম:এখন রাখি বাবু ফোনটা প্লিজ
নিহাল:ওকে
নিহাল:ফোনটা অফ করে শুয়ে থাকে। চোখ অফ করে। পোস্টারটা কথা মনে পরে যায়।
নিহাল সাথে খাবার ও মেডিসিন ও নিয়ে যায় রুহীনির রুমে।
রুহীনি নিহালকে দেখে আধশোয়া হয়ে বসে। রুহীনির শরীরটা আগের থেকে একটু ভালো এখন।
নিহাল:( খাবার গুলো রুহীনির হাতে দিয়ে) নাও খাও
রুহীনিও চুপচাপ খেয়েনিলো।
নিহাল:নাও মেডিসিন খাও
রুহীনি মেডিসিন ও খেলো।
নিহাল:( চেয়ারে বসে)রুহীনি
রুহীনি নিহালের দিকে তাকালো।
নিহাল:আমি যা বলবো তা মন দিয়ে শুনো তাহলেই তুমি অভ্রকে পেতে পারো।
রুহীনির চোখগুলো খুশিতো বড়বড় হয়ে গেলো।
রুহীনি:(হাতের ঈশারাই)কিভাবে??
নিহাল:পোস্টারের সাহায্য
রুহীনি:( হাতের ঈশারাই)মানে।
নিহাল:এটা একটা ডক্টরের চেম্বারের ঠিকানা। এই ডক্টরের দ্বারাই তুমি কথা বলতে পারবে।
রুহীনি অবাক হয়ে নিহালের দিকে তাকালো।
নিহাল:আমি ডক্টরের সাথে কথা বলছি। ডক্টর বলেছে সুস্থ হলে তোমাকে নিয়ে যেতে।
রুহীনি চুপ করে কথা গুলো শুনছে সে ভেবে পাচ্ছে, কি করবে, কি হবে।
নিহাল:ওকে তুমি ঘুমাও এখন
নিহাল নিজের রুমে চলে গেলো।
রুহীনি খুশিতে সারারাত ঘুমাই নি। রুহীনি ভাবেই অস্থির সে কথা বললে কিভাবে কথা বলবে?? কেমন কন্ঠ হবে তার??
কিছুদিন পর রুহীনি সুস্থ হলে নিহাল ডক্টরের কাছে নিয়ে যায় আর ছোট একটা অপরেশন হয়। তারপর ৪মাস পর কথা বলতে পারে রুহীনি। প্রথম প্রথম কথা বলতে রুহীনি খুব কষ্ট হয়। রুহীনিকে স্টাইলিস,পড়াশুনা এসব শিখতে আরো ৩ বছর লাগলো। পড়াশুনা শেষ হয়নি আরো বাকি আছে। রুহীনি ইংরেজিতে কথা বলতে পারে। সময়ের সাথে সাথে নিহাল আর রুহীনি বেস্ট ফ্রেন্ড হয়ে যায়।
মীমের বিয়ে হয়ে যায়।
অভ্র আর নিহাল সেই আগের মতই কজিলার ফ্রেন্ড। মীমের বিয়ে হয়ে গেলে রুহীনি নিহালকে খুব টাইম স্পেন করে। রুহীনি এখন একাই কার ড্রাইভ করতে পারে। রুহীনি পড়াশুনা পাশে পাশে একটা ঈদের জন্য নাটক করছে। এখনো রিলিজ হয়নি। রুহীনি এখন কলকাতায় ফেশন ডিজাইনার তাই এখানে কাজের শুএে থাকে। রুহীনি সব জায়গাই নিহালকে নিয়ে যায়। কিন্তু মিডিয়ার সামনে নিহাল রুহীনির সাথে থাকেনা। অভ্র সব জেনে যাবে তাই। মিডিয়ার জন্য রুহীনির হোটেল থেকে কিছু দূরের হোটেলে থাকে নিহাল। আজকে পার্কে দুজন ঘুড়তে গেছিলো। অনেকটাই ইনজয় করেছে। সেখান থেকে রুহীনিকে ড্রপ করে নিজের বাসায় যায়।

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......

Related Articles

তোকে ভালোবেসে খুব পার্ট- ১৫(শেষ) | গল্প পোকা কষ্টের গল্প

#তোকে_ভালোবেসে_খুব #পার্ট_১৫(শেষ) Writer:#সারা_মেহেক আয়ান শার্টের হাতাটা ঠিক করে টাই টা গলায় দিয়ে নিলো।টাইটা সম্পূর্ণ লাগালো না।গলার কাছে এসে থামিয়ে নিলো টাইয়ের নটটা।আয়নার সামনে থেকে গিয়ে সে বেডের...

তোকে ভালোবেসে খুব পার্ট- ১৪(দ্বিতীয় অংশ)

#তোকে_ভালোবেসে_খুব #পার্ট_১৪(দ্বিতীয় অংশ) Writer:#সারা_মেহেক আয়ান এবার মৌ কে জড়িয়ে ধরে বললো, ---"ভুলটা আমি করেছিলাম,তাই সাজাটাও আমাকে ভোগ করতে হবে।তবে আমার সাথে যে তুইও এতো কষ্ট পাবি তা চিন্তা...

তোকে ভালোবেসে খুব পার্ট-১৪(প্রথম অংশ)

#তোকে_ভালোবেসে_খুব #পার্ট_১৪(প্রথম অংশ) Writer:#সারা_মেহেক মৌ মাথা উঁচু করে দেখলো আয়ান ভয়ার্ত মুখে তার দিকে তাকিয়ে আছে।তার চেহারায় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে সে এখান থেকে পালিয়ে যেতে পারলেই...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -
- Advertisement -

Latest Articles

তোকে ভালোবেসে খুব পার্ট- ১৫(শেষ) | গল্প পোকা কষ্টের গল্প

0
#তোকে_ভালোবেসে_খুব #পার্ট_১৫(শেষ) Writer:#সারা_মেহেক আয়ান শার্টের হাতাটা ঠিক করে টাই টা গলায় দিয়ে নিলো।টাইটা সম্পূর্ণ লাগালো না।গলার কাছে এসে থামিয়ে নিলো টাইয়ের নটটা।আয়নার সামনে থেকে গিয়ে সে বেডের...