স্বপ্ন?পর্ব_৪৬/৪৭/৪৮

0
393

স্বপ্ন?পর্ব_৪৬/৪৭/৪৮
#অনামিকা_সিকদার_মুন
#পর্ব_৪৬
.
.
.
সাজেক থেকে ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে যায় ওদের । নিঝুম নিশি আর অনুকে ওদের বাসা পর্যন্ত দিয়ে আসে আর মাহিকে নিয়ে বাসায় যায় নীল । তার আগে আযানকেও ওর বাসায় দিয়ে আসে । নিশিদের বাসার সামনে আসার পরে অনু আগে বাসার ভিতরে চলে যায় । যাওয়ার সময় ইশারায় নিশিকে বলে যায় কিছু একটা । গাড়িতে চুপচাপ বসে আছে নিশি নিঝুম । প্রথমে নিঝুমই কথা বলল,
—বাসায় যাও নিশি ।
নিশি নিঝুমের কথায় ওর দিকে ফিরে তাকায় । এতক্ষণ মাথা নিচু করে ছিল ও । নিঝুম সামনের দিকে তাকিয়ে আছে । নিশি কোনো কথা না বলে গাড়ির ডোর খুলে বের হয় । নিশির সাথে বের হয় নিঝুমও । নিশি আরেকবার নিঝুমের দিকে তাকিয়ে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায় । নিঝুম তাকিয়ে থাকে নিশির যাওয়ার দিকে । বাসে উঠার পর থেকেই নিঝুম অনেকটা চুপচাপ হয়ে ছিল । নিশিও তেমন একটা কথা বল নি । সেই থেকে এখন পর্যন্ত দু’জনেই চুপ ।
দেখতে দেখতে নিশি চোখের আড়াল হয়ে গেল । বাসার ভেতরে চলে গেছে নিশি । নিঝুমের মনটাও খারাপ হয়ে যায় । নিশি অন্তত কিছু একটা বলবে বলে আশা করেছিল ও । কিন্তু নিশি কোনো কথা না বলে চলে যাওয়ায় খারাপ লাগে । নিঝুমও চলে যাওয়ার জন্য গাড়ির ডোর খুলে । কিন্তু হঠাৎ কি মনে করে আবার পিছন ফিরে তাকায় । ঠিক তখনই কেউ ঝড়ের বেগে এসে হামলে পড়ে ওর বুকে । নিঝুম পুরো থমকে যায় । পর মুহুর্তেই ওর মুখে হাসি ফুটে উঠে । খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে নিশিকে । নিশির মাথায় একটা চুমু দেয় । নিশি তখন নিঝুমের বুকে মুখ লুকিয়ে আছে । আলতো করে নিঝুমের বুকে ঠোঁট ছোঁয়ায় নিশিও । শিউরে ওঠে নিঝুম । মিষ্টি একটা বাতাস ছুঁয়ে যায় ওদের । সুখের মুহুর্তগুলো হয় ক্ষণস্থায়ী । মাত্র কয়েক মিনিট নিঝুমের বুকে লেপ্টে থাকে নিশি । তারপর নিজেকে মুক্ত করে নেয় নিঝুমের থেকে বাহুডোর থেকে । পায়ের গোড়ালি উঁচু করে দু’হাতে নিঝুমের মুখ আঁজলা করে ধরে প্রথমে নিঝুমের কপালে চুমু দেয় । তারপর ডান চোখের পাতায় । পরে বাম চোখের পাতায় । নিঝুম নীরবে অনুভব করে গেল শুধু নিশির ভালোবাসায় করা পাগলামিগুলো। নিশি যে ওর বাসার সামনে দাড়িয়ে আছে এটাও হয়তো মেয়েটা ভুলে গেছে । একপলক নিঝুমের দিকে তাকিয়ে আবার দৌড় দিল নিশি । যেমন ঝড়ের বেগে এসেছিল তেমনি ঝড়ের বেগেই চলে গেল । নিঝুম নিশির এমন কান্ডে হেসে ফেলল । নিশিদের বাসার গেটের দিকে একবার তাকিয়ে গাড়িতে উঠে পড়লো । তারপর গাড়ি স্টার্ট দিয়ে চলে গেল ।
নিশি এক দৌড়ে রুমে ঢুকে পড়ে । তখন অনু রুম থেকে বের হচ্ছিল । নিশি দৌড়ে আসায় অনুর সামনে পড়ে থমকে দাড়ায় । নিশিকে ওভাবে দৌড়ে আসতে দেখে অনু বলে,
—এভাবে ট্রেনের বেগে ছুটছিস কেন? কি হয়েছে?
নিশি কোনো উত্তর দিল না । হাপাচ্ছে শুধু । দৌড়ে তিনতলায় উঠলে হাপানোটাই স্বাভাবিক । তার উপর নিশি মুখটা লাল হয়ে আছে । অনু ছোট ছোট চোখ করে নিশির দিকে তাকিয়ে বলল,
—ব্যাপার কি আপি? লজ্জায় ওমন রংধনু হয়ে আছিস যে? কুচ কুচ হুয়া ক্যায়া?
অনুর দুষ্টমি করে বলা কথা ধরতে নিশির একমিনিট সময়ও লাগলো না । অনুর হাতে চিমটি কেটে অনুকে রুমের দরজা থেকে সরিয়ে দিয়ে দরজা লক করে দেয় নিশি । অনু খিলখিল করে হেসে উঠে তখন ।
.
কপালের উপর হাত দিয়ে শুয়ে আছে মাহি । দৃষ্টি উপরের সিলিংয়ের দিকে আবদ্ধ । কি যে দেখছে সেটা মাহিই ভালো জানে । সাজেক ট্যুরের প্রথম দিনে বাসে আযানের সঙ্গে একসাথে বসা থেকে শুরু করে আজ ফিরে আসা পর্যন্ত এই পাঁচদিনের প্রত্যেকটা মুহুর্ত একে একে সব চোখের সামনে ভেসে উঠছে ওর । কপাল থেকে হাত নামিয়ে পাশ ফিরলো মাহি । কেমন অস্থির লাগছে । আবার অন্যপাশ ফিরলো । কতক্ষণ এপাশ ওপাশ করেই কাটালো । শেষে উঠে বসেই পড়লো । বালিশের পাশ থেকে ফোনটা নিয়ে আনলক করে আযানকে ফোন দেওয়ার জন্য কল লিস্টে গেল । কল দিতে গিয়ে সময়ের দিকে খেয়াল হতেই আবার ফোন রেখে দিল ।
সময় একটা বেজে একুশ মিনিট । আস্তে আস্তে বিছানা ছেড়ে উঠে ব্যালকনিতে চলে গেল মাহি । গিয়ে ব্যালকনিতে রাখা দোলনায় বসে দুলতে লাগল । ওর ভাবনা তখন আযানকে ঘিরে । একটা প্রশ্নই নিজেকে বার বার করছিল ও । “ক্ষণিক এইটুকু পরিচয়ে কি কাউকে ভালোবাসা যায়?” মন ওকে একটাই উত্তর দিচ্ছিল, “হ্যাঁ যায় ।”
আকাশটায় আজ কোনো চাঁদ নেই । কিন্তু আছে হাজার হাজার তারার আনাগোনা । জ্বল জ্বল করে জ্বলছে তারা । কোথাও কোথাও এক টুকরো মেঘ দেখা যাচ্ছে । ভেসে বেড়াচ্ছে সেই মেঘ । আকাশপানে চাইলো মাহি । সেখানে যেন দেখতে পেল আযানের মুচকি হাসি দেয়া মুখটা । মাহির মুখেও তখন এক ঝিলিক হাসি ফুটে উঠে ওর অজান্তেই । আযান হয়তো ওর সামনে নেই । দূরত্বটা অনেক কিন্তু দু’জন তো এক আকাশের নিচেই । আনমনে এমন হাজার কথা আওড়াতে লাগলো মাহি । সাজেকে থাকাকালীন মাহি একবার নিঝুম ভেবে আযানকে পেছন থেকে পেটে চিমটি কেটে ছিলো । তখনই আযান একলাফ মেরে পেছন ঘুরে মাহির হাত টেনে ধরে । মাহি চিমটি কেটে পালাচ্ছিল । আযান ভেবেছিল এটা নিশি । কিন্তু যখন হাত ধরে টান মারে তখন মাহি ঘুরে এসে পড়ে আযানের বুকে । মাহিকে দেখে আযান চোখ বড় বড় করে ফেলে । সেই সাথে মাহিও । দু’জনই তখন একসাথে “সরি” বলে উঠে । এই কাহিনী মনে পড়াতে একা একাই খিলখিল করে হেসে উঠে মাহি । বাকি রাতটা হয়তো ব্যালকনিতে বসে আযানকে ভাবতে ভাবতেই পার করে দিবে মাহি ।

নীল বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে কিছুক্ষণ মায়ের সাথে বসে গল্প করে । নিঝুম কোথায় জিজ্ঞেস করেন তিনি । তখনই নিঝুম প্রবেশ করে উনার রুমে । নিঝুমকে আসতে দেখে মা জিজ্ঞেস করেন, এত দেরি করল কেন ফিরতে? তখন নিঝুম কিছু বলার আগেই নীল বলে উঠল,
—তোমার জন্য বউমা খুঁজছিল আম্মু ।
তারপর নিঝুমের দিকে তাকিয়ে চোখ টিপ দেয় । নিঝুম মুচকি হেসে বলল,
—হ্যাঁ, মা । নীলের তো বিয়ের বয়স হয়েই গেছে । তাই মেয়ে খুঁজছি । আর তুমিই বা আর কতদিন নিঃসঙ্গ থাকবে বলো?
নীল নিঝুমের কথা শুনে কেশে উঠল । তারপর বসা থেকে উঠে দাড়াতে দাড়াতে বলল,
—আমার খুব ঘুম পাচ্ছে । আমি রুমে যাচ্ছি ।
আর একমিনিটও ওখানে দাড়ায় নি নীল । একপ্রকার দৌড়েই বেরিয়ে আসে মায়ের রুম থেকে । নীলকে ওভাবে দৌড়ে যেতে দেখে নিঝুম আর ওদের মা শব্দ করে হেসে উঠে ।
নীল নিজের রুমে এসে দরজা লাগিয়ে বিছানায় বসে হাঁফ ছাড়ল । কয়েক মিনিট না যেতেই ফোনের রিংটোন বেজে উঠে । ফোন হাতে নিয়ে দেখল স্ক্রীনে নিহার নাম ভাসছে । গত পাঁচদিন নীল ওর ফোন বন্ধ রেখেছিল । পাঁচদিনের একটা মুহুর্তও ও নষ্ট করতে চায় নি । কেউ যাতে ডিস্টার্ব করতে না পারে তাই এই কাজ করেছিল । এর মধ্যে নিহার কথা যে মনে পড়ে নি তা না । সাজেক যাওয়ার আগের নিহাকে কিছুই বলে নি নীল । একবার চেয়েছিল নিহাকে জানাবে । আবার পরে ভেবেছে থাক সাজেক থেকে ফিরেই জানাবে । সকালেই নীল নিহাকে ফোন করত । কিন্তু তার আগেই নিহা ফোন করেছে ফেলেছে । কিছু একটা ভেবে নীল রিসিভ করল ফোন ।
—হ্যালো!
অপাশ থেকে কোনো আওয়াজ নেই । নীল পুনঃরায় বলল,
—হ্যালো নিহা শুনতে পাচ্ছিস ।
এবার ওপাশ থেকে ফোঁপানোর আওয়াজ পাওয়া গেল । নীল ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল । বিষ্ময় নিয়ে ভাবতে লাগল, “নিহা কাঁদছে কেন?”
—নিহা! কাঁদছিস কেন? কি হয়েছে তোর?
ওপাশ থেকে ফোঁপানোর আওয়াজ আরো তীব্র হলো । নিহা কাঁদতে কাঁদতে বলল,
—নী… নী… নীল
নীল ব্যস্ত হয়ে বলল,
—বল না । কি হয়েছে তোর? তুই এভাবে কাঁদছিস কেন?
নিহা কাঁদতে কাঁদতেই বলল,
—নীল আ… আই… লা… লাভ… ইউ.. । আই লাভ ইউ…….
.
.
.
চলবে?
(বিঃদ্রঃ ভুলত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন । )
.

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share

#স্বপ্ন?
#অনামিকা_সিকদার_মুন
#পর্ব_৪৭
.
.
.
হতভম্ব হয়ে রইলো নীল । ওর জানা ছিল যে নিহা ওকে পছন্দ করে । কিন্তু তাই বলে হুট করে এভাবে আজ যে বলে দিবে সেটা ও কল্পনায়ও ভাবে নি । অন্য কেউ হলে এতেক্ষণে খট করে ফোনের লাইনটা কেটে দিত নীল । কিন্তু নিহার ক্ষেত্রে বিষয়টা আলাদা । শত হলেও নিহা ওর বেষ্টফ্রেন্ড । এই মুহুর্তে ঠিক কী জবাব দিবে বুঝতে পারছে না নীল । নিহাকে যদি এখন সরাসরি না বলে তাহলে হয়তো কিছু একটা অঘটন ঘটিয়ে বসবে নিহা । ফ্রেন্ডশিপটা তো আর আজ থেকে না । তাই কোন পরিস্থিতিতে নিহা কী কী করতে পারে সেটা নীলের খুব ভালো করেই জানা । অথৈ সাগরে পড়ে গেল নীল ।
—কি… কিরে ক.. কথা বলছিস না কে.. কেন?
নিহা হেঁচকি তুলে কাঁদতে কাঁদতে বলল । নীল এখনো চুপ । নিহা আবার বলল,
—আমি বিশ্বাস করি না তুই অন্য কাউকে ভালোবাসিস । অনুকে তুই ভালোবাসিস না আমি… জানি… । তুই তো আমাকে ভালোবাসিস.. তাই না? বল না নীল? চুপ করে আছিস কেন? বল?
নীল এবার শান্ত স্বরে বলল,
—নিহা শান্ত হো প্লিজ ।
নিহা আরো জোরে প্রায় চিৎকার করে বলে উঠল,
—না… আমি শান্ত হবো না । আগে তুই বল তুই আমাকে ভালোবাসিস।
নীল আগের মতোই শান্ত স্বরে বলল,
—আমি অনুকে ভালোবাসি । আমি তোকেও ভালোবাসি । কিন্তু তফাৎটা হলো তোকে আমি বন্ধু হিসেবে ভালোবাসি । আর অনুকে…
নীল পুরো কথা শেষ করতে পারলো না তার আগেই নিহা আবার চিৎকার করে উঠল ।
—না…
.
.
নীলের নাম ধরে চিৎকার করে শোয়া থেকে উঠে বসলো অনু । সেই সাথে শব্দ করে কেঁদেও উঠল । নিশি বারান্দায় দাড়িয়ে নিঝুমের সাথে ফোনে কথা বলছিল । হঠাৎ করে অনুর চিৎকার শুনে দৌড়ে রুমের ভেতর আসে । অনুকে দেখে থ হয়ে যায় নিশি । অনু বাচ্চাদের মতো শব্দ করে কাঁদছে । সেই সাথে ফোন নিয়ে কাকে যেন কল দিচ্ছে । নিশি দৌড়ে গিয়ে অনুর পাশে বসে মাথায় হাত রেখে বলে,
—অনু কি হয়েছে তোর? এমন করছিস কেন?
নিশিকে দেখেই অনু হামলে পড়ে নিশির উপর । নিশিকে জড়িয়ে ধরে হু হু করে কেঁদে উঠে । কাঁদতে কাঁদতে কিছু একটা বলল অনু । কিন্তু সেটা স্পষ্ট শোনা গেল না । নিশি যেটুকু বুঝলো সেটা হচ্ছে অনু কিছু একটা নিয়ে বাজে স্বপ্ন দেখেছে । নিশির কপালে ভাজ পড়লো । কারণ অনু যেমন ধাচের তাতে সামান্য একটা স্বপ্ন দেখে এমন করে কাঁদার মতো মেয়ে ও না । অনুকে শেষ কাঁদতে দেখেছিল যখন নিশির রেপ হয়েছিল । তারপর থেকে আর কোনোদিন ওর চোখে পানি দেখেনি । তাহলে??
নিশি আর কিছু ভাবার সুযোগ পেল না । অনু নিজে থেকে নিশিকে ছেড়ে দিল । তারপর আবার ফোন নিয়ে পাগলের মতো ফোন দিতে লাগলো । নিশি অনুর ফোনের দিকে তাকাতেই দেখতে পেল ফোনের স্ক্রীনে নীলের নাম ভাসছে । নিশির আর বুঝতে বাকি রইলো না স্বপ্নটা অনু কাকে নিয়ে দেখেছে । কিন্তু কি এমন দেখলো যে এমন পাগলের মতো করছে!!
নীলের নাম্বারে যখনই ফোন দিচ্ছে তখনই ওপাশ থেকে ওয়েটিং দেখাচ্ছে । অনু নিজের ফোনটাকে ছুড়ে ফেলে দিল । তারপর নিশিকে কাঁদতে কাঁদতেই বলল,
—আপি নিঝুম ভাইয়াকে একটা কল দে না প্লিজ ।
নিশি কোনো কথা না বলে নিঝুমকে ফোন দিল । নিঝুম ফোন হাতেই রেখেছিল । অপেক্ষা করছিল নিশির আবার ফোন দেওয়ার জন্য । তাই নিশির ফোন আসার সাথে সাথেই নিঝুম রিসিভ করল । নিঝুম হ্যালো বলার সাথে সাথেই অনু নিশির হাত থেকে ফোন কেড়ে নিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,
—ভাইয়া নীল কোথায়?
হুট করে অনু এভাবে ফোন ধরে নীলের কথা জিজ্ঞেস করায় নিঝুম একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেল । তার উপর আবার অনু কাঁদতে কাঁদতে কথা বলছিল । নিঝুম কিছু বলার আগেই অনু আবার বলে উঠল,
—ভাইয়া চুপ করে আছেন কেন? বলুন না নীল কোথায়?
নিঝুম বলল,
—অনু রিলাক্স । নীল ওর ঘরেই আছে । বাট তোমার কি হয়েছে? এভাবে কাঁদছ কেন?
নিঝুমের কথা শুনে আবার হু হু করে কেঁদে উঠে অনু । নিশি অনুর হাতে ধরে কাঁদতে বারণ করল । কিন্তু অনু শান্ত রাখতে পারছে না নিজেকে । ঠোঁট কামড়ে ধরে কান্নার আটকাবার চেষ্টা করে নিঝুমকে বলল,
—ভাইয়া নীলকে একটু ফোন দিবেন? আমি উনার নাম্বারে অনেকবার ট্রাই করেছি । কিন্তু…. কিন্তু বার বার ওয়েটিং দেখাচ্ছে ।
বলতে বলতে অনু আবার কেঁদে ফেলল । অনুকে থামাতে নিঝুম বলল,
—আচ্ছা আমি দিচ্ছি । তুমি কেঁদো না ।
নিঝুম অনুকে লাইনে রেখেই গেল নীলের রুমে । নীলের রুমের দরজা লক কর । একটু অবাক হলো নিঝুম । কারণ নীল কখনো রুমের দরজা লক করে রাখে না । সেসব চিন্তা বাদ দিয়ে দরজায় নক করল । সারা নেই । এমন করে কয়েকবার নক করে নিঝুম । কিন্তু কোনো সারা নেই ভেতর থেকে । এবার চিন্তায় কপালে ভাজ পড়লো নিঝুমের । ওদিকে আবার অনুও চিন্তা করছে । কান্না করছে । ওকে কিছু বলে আরো চিন্তায় পড়বে মেয়েটা । তাই অন্যকিছু বলতে হবে । ফোন কানে নিয়ে নিঝুম বলল,
—অনু…
নিঝূমের কণ্ঠ শুনেই অনুর যা বোঝার বুঝে গেল । অনুর আর কোনো কথা শোনা গেল না । কিন্তু নিশির কথা শোনা যাচ্ছে । নিশি বলছে,
—অনু…. এই অনু । কি হয়েছে তোর? কথা বল? অনু….
নিঝুম হ্যালো হ্যালো করতে লাগল । তারপর হুট করে শুনতে পেল নিশি কথা বলছে,
—নিঝুম অনু সেন্সলেস হয়ে গেছে ।
একথা বলে নিশিও কান্নায় ভেঙে পড়লো । নিঝুমে যেন তব্ধা হয়ে গেল । নীল দরজা খুলছে না । অনু সেন্সলেস হয়ে গেছে । দিশেহারা লাগছে ওর । নিশির অনরবত কান্নাও সহ্য হচ্ছে না । নিঝুম নিশিকে বলল,
—শোনো মাকে ঘুম থেকে উঠিও না । আমি আসছি তোমাদের বাসায় ।
নিশি চোখের পানি মুছতে মুছতে বলল,
—নীলকেও নিয়ে এসো সাথে করে প্লিজ ।
—হুম ।
ফোন রেখে দিল নিঝুম । নীলের দরজায় আবার নক করতে লাগলো জোরে জোরে ।
নীল নিহাকে ফোনে তখনও বোঝানোর চেষ্টা করছে । কথা বলতে বলতে ও বারান্দায় চলে আসে যার কারণ নিঝুম এতবার দরজায় নক করা সত্বেও ও শুনতে পায় নি । কিন্তু শেষ দিকে নিঝুম জোরে জোর নক করায় বলতে গেলে ধাক্কানোই । তখন নীলের কানে শব্দ আসে । “এতরাতে কে আসবে?” মনে মনে ভাবলো নীল । নিঝুম ছাড়া আর কেউ এখন আসার কথা না । নীল ফোন কানে নিয়েই দৌড়ে রুমে এসে দরজা খুলে । দেখে ঠিকই নিঝুম দাড়িয়ে আছে । কিন্তু বিভ্রান্ত দেখাচ্ছে নিঝূমকে । নীল দরজা খুলতেই নিঝুম একটা ধমক মারে নীলকে । এতক্ষণ দরজা খুলেনি কেন তার জন্য । তারপর নীলের আর কোনো কথা না শুনেই নীলের হাত ধরে টানতে টানতে বাসা থেকে বেরিয়ে আসে । নীল বার বার জিজ্ঞেস করতে লাগল, যে এতরাতে কোথায় যাচ্ছে? কিন্তু নিঝুম কোনো উত্তরই দিল না । বাসা থেকে গ্যারেজে গিয়ে গাড়ি বের করে নীলকে উঠতে বলে নিজেও উঠে পড়ে । নীল কোনো কথা না বাড়িয়ে গাড়িতে উঠে বসে । নিঝুম গাড়ি স্টার্ট দিতে দিতে বলে,
—অনু কাঁদতে কাঁদতে সেন্সলেস হয়ে গেছে ।
নিঝুমের কথা শুনে নীল মাথায় যেন বজ্রপাত পড়ল । চিৎকারে বলে উঠল,
—কিহহহ?
নিঝুম ক্ষেপে গিয়ে আরো দ্বিগুন জোরে বলে,
—এখন চিৎকার করছিস কেন? এই যে এইটা….
বলতে বলতে নীলের হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিয়ে দেখিয়ে বলতে লাগল,
—কেন রেখেছিস এটা? কতবার তোকে ফোন করেছে অনু জানিস? হ্যাঁ?
নিঝুম নীলের ফোন গাড়ির জানলা দিয়ে ফেলে দিল । নীল মুর্তির মতো বসে আছে । নিহার সাথে যদি কথা না বলত তাহলে অনুর ফোনটা ধরতে পারত । নীলের ভাবনা শূণ্য হয়ে গেছে । কপালে হাত দিয়ে সিটের সাথে হেলান দিয়ে শুয়ে পড়ে ও ।
.
নিশিদের বাসার সামনে দাড়িয়ে আছে নীল নিঝুম । নিশিকে ফোন দিয়ে জানায় যে ওরা এসে পড়েছে । নিশি যেন গেইট খোলে । নিশি একটা ওড়না পেঁচিয়ে নিঃশব্দে বের হয়ে নিচে এসে গেইট খুলে দেয় । নিশি গেইট খোলার সাথে সাথে নীল নিশিকে পাশ কাটিয়ে এক দৌড়ে সিড়ি দিয়ে উঠতে থাকে । নীলের পেছন পেছন যায় নিশি নিঝুমও । তিনতলা উঠতেই ফ্ল্যাটের দরজা খোলা পেয়ে সেখানেই ঢুকে পড়ে নীল । ভেতরে ঢুকেই সামনে আরেকটা রুমের খোলা দরজার দিকে চোখ পড়তেই দেখে অনু বিছানায়শুয়ে আছে । বিদ্যুৎবেগে অনুর কাছে গিয়ে অনুকে বিছানা থেকে টেনে তুলে নিজের মাঝে জড়িয়ে নেয় । অনুর শরীর ঠান্ডা হয়ে আছে । নীলের পেছন পেছন নিশি নিঝুম এসেও দাড়িয়েছে । নিশি আগাতে ধরলে নিঝুম নিশির হাত ধরে আটকায় । নিশি নিঝুমের দিকে তাকালে ইশারায় ওদের কাছে যেতে মানা করে । নিশি মুখে হাত চেপে ধরে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে ।
নীল অনুর মুখটা বুক থেকে উঠিয়ে গালে আলতো থাপ্পর দিতে দিতে বলল,
—অনু, এই অনু । চোখ খোলো । অনু…
সেন্টার টেবিল থেকে পানির গ্লাস নিয়ে অনুর চোখে মুখে পানির ছিটা দিতে থাকে নীল । প্রথমে কোনো কাজ হলো না । আরো বারকয়েক দেয়ার পর পিটপিট করে চোখ খুলে তাকায় অনু । ঝাপসা চোখে দেখতে পায় সামনে খুব চেনা একটা মুখ । আবার স্বপ্ন দেখছে? নাকি সত্যি নীল এসেছে । যদি এটা স্বপ্ন হয় তাহলে সেটা সত্যি হয়ে যাক । নাহলে এই স্বপ্ন কখনো না ভাঙুক । অনু প্রচুর দূর্বল লাগছে । চোখ মেলে তাকাতে কষ্ট হচ্ছে । তারপরও কাঁপা কাঁপা হাত উঠালো নীলকে ছুঁয়ে দিতে । কিন্তু সম্পুর্ণ উঠানোর আগেই ওর হাত পড়ে যেতে নেয় । তখন খপ করে ওর হাত ধরে নেয় নীল । নিজের গালের সাথে চেপে ধরে । খুব গভীর একটা চুমু দেয় হাতের পাতায় । অশ্রুসিক্ত চোখে তাকায় অনুর দিকে । অনুর মুখটা ফোলা । চোখ দু’টোও ফুলে লাল হয়ে আছে । দীর্ঘ একটা শ্বাস টেনে নেয় অনু । চোখ বন্ধ করে ক্লান্ত স্বরে বলল,
—হোল্ড মি নীল ।
অনুর বলতে দেরি নীলের জড়িয়ে ধরতে দেরি হলো না । আষ্টেপৃষ্টে নিল অনুকে নিজের সাথে ।
অনুর নিঃশ্বাস পড়ছে নীলের বুকে । সেই নিঃশ্বাসে পুড়ছেও বুক । অনু নীলের উপর সম্পূর্ণ ভার ছেড়ে দিয়েছে । কিছুক্ষণ কেটে গেল ওভাবেই । নিঝুম নিশিকে নিয়ে আরো আগেই ড্রয়িংরুমে চলে গেছে । রুমে এখন শুধুমাত্র অনু আর নীল ব্যতীত দ্বিতীয় কোনো সত্তা নেই । অনু বিরবির কিছু একটা বলছিল । নীল ঠিক স্পষ্ট শুনতে পারছিল না । মাথাটা একটু ঝুঁকিয়ে অনুর কানের কাছে নিল । হ্যাঁ, এখন শুনতে পারছে । অনু বিরবির করে বলছে,
—ওটা কে ছিল নীল? বলো না? আমি স্বপ্নে দেখেছি ওকে?
নীল অবাক হলো । “কার কথা বলছে অনু?” মনে মনে ভাবলো । পরে অনুর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে নিচু স্বরে প্রশ্ন করল,
—কার কথা বলছো মিষ্টি? কাকে স্বপ্নে দেখেছ?
অনু পুনঃরায় বিরবির করে বলতে লাগল,
—ঐ মেয়েটা । তোমাকে আমার থেকে কেড়ে নিতে চায় । তোমাকে নিয়ে চলে যাচ্ছিল । আমি আটকাতে পারছিলাম না । তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছিল অনেক দূরে ।
নীলের রক্ত যেন হিম শীতল হয়ে গেল । “এসব কী বলছে অনু? আমিও যে অনুকে স্বপ্ন হারিয়ে ফেলি… ” নীলের ভাবনার সুতো কাটে । অনুর দিকে তাকায় নীল । দেখে অনু নীলের কলার ধরে নিভু নিভু চোখে তাকিয়ে আছে । ঘোর লেগে গেল যেন দু’জনেরই । সময়টা মাঝরাত । খোলা জানালা দিয়ে বাহির থেকে মৃদু বাতাস আছে । সেই মিষ্টি বাতাসে কিছু একটা আছে মাতাল করার মতো । অনু নীলের কলারটা ধরে টান দিয়ে আরো কাছে নিয়ে এলো । চোখে চোখ রেখে বলল,
—তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যাবে তাই না?
অনুর নিভু নিভু ওই চোখের, ঘোর লাগা কণ্ঠ সব এক জোট হয়ে নীলের ভেতরে ঝড় তুলে দিচ্ছে…..
.
.
.
চলবে?
(বিঃদ্রঃ ইডিট করার সময় পাই নি । বানানে ভিল থাকতে পারে । ভুলত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন । )
#স্বপ্ন?
#অনামিকা_সিকদার_মুন
#পর্ব_৪৮
.
.
.
নীল অনুর চোখ থেকে চোখ সরিয়ে নিল । আর বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকা মানেই বিপদ । ভুলে ভুলে কোনো ভুল করতে চায় না ও । যেইদিন অনুকে সম্পূর্ণ স্ত্রী হিসেবে পাবে সেদিনই অনুর কাছে যাবে ও । কারণ তখন আর কোনো অপরাধবোধ থাকবে না মনে । কিন্তু এখন যদি কোনো ভুল করে তাহলে অনুও তো মনে কোনো কষ্ট পেতে পারে । এমন কিছু হোক সেটা নীল চায় না । এদিকে অনু এখনো তাকিয়ে আছে নীলের দিকেই । নীল অনুর দিকে না তাকিয়ে আবার অনুকে বুকের মাঝে ভরে নিল । মাথায় চুমু দিয়ে বলল,
—কখনও-ই ছেড়ে যাব না ।
অনু প্রশান্তির হাসি হাসলো ।
শরীরের তাপমাত্রা বাড়ছে ধীরে ধীরে । হঠাৎ নীলের খেয়াল হয় যে অনুর শরীর প্রচন্ড গরম । কপালে হাতের উল্টো পিঠ রেখে দেখে অনুর জ্বর । শুধু জ্বর বললে ভুল হবে । জ্বরে মনে হচ্ছে গা পুড়ে যাচ্ছে । নীল এতক্ষণে বুঝলো যে অনু জ্বরের ঘোরে এসব বলছে । নাহলে ও যেমন লজ্জা পায়, সুস্থ থাকলে এমন কখনোই করতে পারত না । হেসে ফেলে নীল । কিন্তু পরমুহুর্তেই আবার দুশ্চিন্তার একটা ভাজ পরে কপালে । সেই দুশ্চিন্তাটা হলো নিহাকে নিয়ে । অনুও স্বপ্নে দেখেছে কেউ কেড়ে নিয়ে যাচ্ছে ওকে । সেই কেউটা কি নিহা? সত্যিই কী এমন কিছু করবে নিহা?
.
.
সময়টা খুব সুন্দরই কাটছিল নিশি, নিঝুম, অনু, নীলের । খুনসুটি ভালোবাসা । মাঝে মাঝে পাগলামি করা । এখানে সেখানে ঘুরতে যাওয়া । একটু আধটু অভিমান করা । এই করে সময়টা বেশ সুন্দর গতিতেই আগাচ্ছিল ওদের । এর মাঝে মাহিও অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে আযানের মন গলিয়ে নিজের ভালোবাসার মায়ায় আটকে নিয়েছে আযানকে । লুকোচুরি ভালোবাসায় কাটছিল ওদের দিন । কিন্তু একসময় ধরা খেয়ে যায় নিঝুমের কাছে । প্রথমে নিঝুম রাজি ছিল না । কিন্তু নিশি থাকতে তো সেটা সম্ভব না । নিশি ঠিক রাজি করিয়ে ফেলেছিল নিঝুমকে । আর যখন আযানের ব্যাপারে সব খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারে যে আযান সত্যিই ভালো ছেলে তখন আর কোনো আপত্তি করেনি । বাসায় মাহির ব্যাপারে নিজেই কথা বলে বাবা মাকে রাজি করিয়েছে । মাহিও কম যায় না । ওর বিয়ের কথা পাকাপাকি করে ফেলেছে ভাই ও কি আর চুপ করে বসে থাকবে? সেটা কি হয় নাকি? মাহিও নিজ দায়িত্বে নিশি আর অনুর কথা মাকে বলে দেয় । নিশি অনুদের ছবি দেখতে চাইলে মাহি দেখায় । তিনি একপলকেই নিশিকে পছন্দ করে নেন । কিন্তু অনুকে দেখে একটু মন খারাপই হয় উনার । মন খারাপের কারণ হয়তো অনুর গায়ের রংটাই । কিন্তু ছেলে কথা ভেবে মন খারাপটা মনেই দাফন করে দেন উনি । ছেলের খুশিই উনার জন্য সব । নীল যেখানে নিজে পছন্দ করেছে তাহলে যোগ্য কাউকেই পছন্দ করেছে । ছেলেদের উপর উনার আস্থা আছে । যাই হোক না কেন সেরা কাউকেই বেছে নিবে নিঝুম আর নীল ।
দেখতে দেখতে সময় এভাবেই কেটে যাচ্ছছিল । ঘড়ির কাটা ঘুরতে ঘুরতে সময়ের পাতা উল্টে উল্টে কেটে যায় নিঝুম নিশি আর নীল অনুর সম্পর্কের তিনবছর । এর মধ্যে কষ্টের সময়টা ওদের মাঝে আসেনি বললেই চলে । যা এসেছে সেটা ছোটখাট রাগ কিংবা অভিমান । যেটা সব সম্পর্কেই থাকে । আর এই ছোট ছোট রাগ অভিমান ছাড়া সম্পর্ক পানসে লাগে । সুখ আর দুঃখ মিলিয়েই তো জীবন । জীবনের প্রতিটা মুহুর্ত যে হাসতে হাসতেই কাটবে সেটা হয় না। আবার প্রতিটা মুহুর্ত যে কাঁদতে কাঁদতেই কাটবে এমনটাও হয় না । উপরওয়ালা প্রতিটা মানুষের জীবনেই নির্দিষ্ট কিছু সময় সুখ আর কিছু সময় দুঃখের রাখেন । সুখের সময়টা মানুষের জীবনে খুব কমই থাকে । সেই সুখের সময়টা ফুরিয়ে এলে আসে দুঃখের পালা । অনুর জীবনের সুখটা হয়তো একটু বেশি সময়ই স্থায়ী হয়েছিল । তাই তার সময়ও ফুরিয়ে যায় । হ্যাঁ, সুখের সময়টা ফুরিয়ে এসেছিল অনুর । আর যেই কষ্ট পাওয়াটুকু বাকি ছিল তার সময়টা শুরু হয়েছিল । সেই কষ্টের ভাগিদার হতে হয়েছিল আরো একজনকে ।

স্বভাবতই খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে অনু । মনটা বেশ ভালো ছিল । কারণ গতকাল রাতে নীলের সাথে যখন কথা হয়েছে তখন নীল বলছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই নিঝুম নীলের বাবা মা নিশি অনুদের বাসায় যাবে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে । খুশির মাত্রাটা একটু বেশিই ছিল । কারণ দীর্ঘ তিনবছর অপেক্ষার পর কাঙ্খিত সেই সময়টা যে আসছে । খুশি তখন ছিল প্রতিটা রগে রগে । শিরায় শিরায় । মনের মধ্যে ছলকে উঠছিল খুশি ।
কি মনে করে অনু রান্নাঘরে গিয়ে চা বানায় মায়ের জন্য । সেই সাথে গুনগুন করে গাইতে থাকে গান । এই সময়ে মা জেগেই আছে সেটা অনু জানে । মায়ের কাছে যেতে ইচ্ছে করছে । যাওয়ার আগে ভাবল চা করে নিয়ে যাক । চা খেতে খেতে আড্ডা দিবে ।
চা বানিয়ে মায়ের রুমের দিকে পা বাড়ায় অনু । দরজার কাছে গিয়ে দেখে দরজা ভেতর থেকে লক করা । অনু টোকা দিতে গিয়েও থেমে যায় । ভেতর থেকে কেমন চাপা কান্নার আওয়াজ আসছে । “মা কাঁদছে কেন?” মনে মনে ভাবলো । টোকা দিতে গিয়ে আবার থেমে যায় । ভেতর থেকে মায়ের কথাও শোনা যাচ্ছে । কিন্তু কার সাথে কথা বলছে মা এত সকালে? দরজায় কান পাতলো অনু । যদিও এটা ঠিক না সেটা ও জানে । তবুও অজানা, গোপন বিষয়েই মানুষের কৌতুহল বেশি । স্পষ্ট কিছু শোনা যাচ্ছে না । দরজা ছেড়ে জানলার পাশে গিয়ে দাড়ালো । জানলার পর্দা হালকা সরিয়ে দেখলো মা বিছানার উপর বসে হাতে একটা ফটোফ্রেম নিয়ে কাঁদছে । ফ্রেমের ছবিটা কার সেটা অজানা না অনু । বাবার ছবি । কিন্তু অনু মায়ের কথাগুলো শুনে অনুর শিরদাড়া বেয়ে হিম রক্ত বয়ে গেল । মাথা ভনভন করে ঘুরছে । মনে হচ্ছে এখনই পড়ে যাবে । নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে অনু । দু’পা পিছিয়ে যায় সাথে সাথে । হাত থেকে চায়ের কাপ পিরিচও পরে যায় । সামনের সবকিছু অন্ধকার হয়ে আসে অনুর । হঠাৎ কিছু ভাঙার শব্দে চমকে উঠেন নিশি অনুর মা । দৌড়ে এসে রুমের দরজা খুলে দেখেন অনু উনার রুমের জানালার থেকে একটু দূরে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছে । অনুর নাম ধরে চিৎকার করে উঠেন উনি……
.
.
.
চলবে?
(বিঃদ্রঃ অনুমান করে বলুন তো অনু কি শুনলো যে একবারে জ্ঞান হারালো? ? দেখি কারটা ঠিক হয় । ?
ভুলত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন । )
.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here