বেলাশেষে part_2

0
989

বেলাশেষে part_2
#adrin_anisha
.
একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে দরজায়। সবাই তার দিকে তাকিয়ে আছে। মেঘা সুভাকে কানে কানে বলল,
” দেখ তো, প্রথম দিন ই দেরী করে এসেছে। সময়ের কোনো গুরুত্বই নেই। ”
সুভা মেঘাকে থামিয়ে দিয়ে বলল,
” আহা, থাম তো, হতেই তো পারে যে ওর কোনো কাজ ছিল, অথবা ওর কোনো বিপদ হয়েছিল অথবা….”

“ব্যাস ব্যাস, থাম থাম…. তুই ওর হয়ে এতো ওকালতি করছিস কেনো শুনি?, প্রথম নজরেই ক্রাশ খেয়ে গেলি নাকি হুম?” সুভার দিকে চোখ টিপ দিয়ে বলল মেঘা। সুভা আলতো করে মেঘার পিঠে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিল “চুপ কর তো, সব কিছুতেই তোর বাড়াবাড়ি?

এতক্ষনে ছেলেটা এসে মেঘার পাশের বেঞ্চটাতেই বসেছে। স্যার ছেলেটাকে দাড় করিয়েছে, ” নাম কি তোমার?”
“শুভ্র”
” নাম তো সুন্দরই, তো প্রথম দিন ই লেট হওয়ার কারন কি?”
” আসলে হয়েছে টা কি, না মানে, আসলে…. ” মাথায় হাত দিয়ে আমতা আমতা করতে লাগল, স্যার হাত দেখিয়ে থামিয়ে দিয়ে বলল,
“থাক বুঝেছি আর বলতে হবে না। বসো”
শুভ্র বসে পড়ল। মেঘা সুভাকে বলল কানের কাছে এসে বলল
” দেখেছিস, ওর কোনো প্রব্লেম থাকলে বলল না কেন ও? নিশ্চিত গার্লফ্রেন্ড এর সাথে দেখা করতে গেছিল, ন্যাকামো যত্তসব ”
“উফফ, চুপ কর তো, তুই কি করে জানলি যে ওর গফ আছে? আর তুই এত ওর দিকে মন দিচ্ছিস কেন? চুপচাপ ক্লাসে মন দে”
সুভার কথা শেষ হলে মেঘা কিছু বলতে যাবে তার আগেই স্যার মেঘাকে দাড়াতে বলল। মেঘা তো ভয়ে চুপসে গেছে, ভাবছে প্রথমদিনই ওর কথার জন্য ওকে স্যারের কাছ থেকে বকুনি শুনতে হবে, আর সারা ক্লাসের সামনে যে অপমান হবে সেটা নাহয় বাদ ই দিলাম,…

“তোমার নামটা জিজ্ঞেস করা হয়নি, নাম কি তোমার?”

“মে-মেঘা”

স্যারের কথা শুনে যেন হাফ ছেড়ে বাচলো মেঘা। শুভ্রর নজর এতক্ষনে পাশে বসে থাকা মেঘার দিকে পড়ল। মনে মনে একটা ক্রাশ খেল শুভ্র,
“ইশশ, ভয় পেলে কি সুন্দরই না লাগে মেয়েটাকে। ওয়াও, হাসলে তো আরো বেশি সুন্দর লাগে, বাহ, মারামারি ও করতে পারে দেখছি,”
শুভ্র মেঘা আর সুভার মারামারি দেখছে আর মনে মনে মেঘার প্রশংসার ফুল ফোটাচ্ছে। নিজেও বুঝতে পারেনি ঠিক কতক্ষন এভাবে অপলক দৃষ্টিতে মেঘাকে দেখছিল সে।
কিন্তু মেঘা ঠিকই বুঝতে পেরেছে কেও তাকে দেখছে। পাশে ফিরেই দেখল শুভ্র ওর দিকে হা হয়ে তাকিয়ে আছে, মেঘা রাগি দৃষ্টি ছুড়ে দিলেও ছেলেটা সেটা লক্ষ্য করল না, উল্টো ভাবছে,
” বাহ রাগলে তো আরো সুন্দর লাগে মেয়েটাকে”
ভাবনার ইতি ঘটল যখন মেঘা নিজের কলম টা ছুড়ে মারল আর সেটা সোজা গিয়ে শুভ্রর বুকের বা পাশে গিয়ে লাগল। সাথে সাথে শুভ্র বলে উঠল, ” ইসসস”
“এই কে রে?”
কর্কশ একটা গলা শুনে সামনে তাকিয়ে দেখল স্যার ঠিক তার দিকেই রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। এতক্ষন মেঘাকে দেখে শুভ্র ভুলেই গিয়েছিল যে সে ক্লাসে আছে। স্যার শুভ্রকে দাড়াতে বললে সে ভয়ে ভয়ে দাঁড়ায়,
“শব্দ করলে কেন?”
মেঘা একটু ঘাবড়ে যায়, যদি ছেলেটা ওর কথা বলে, পরে আবার নিজেকে শান্তনা দেয়, বলে দিলে দিক সেও বলবে যে ছেলেটা ওকে ডিস্টার্ব করছিল।
শুভ্র ভয়ে ভয়ে বলল,
” না মানে, আসলে, ওই যে, মানে….”
” চুপ কর। মানে মানে ছাড়া আর কিছু যানো না নাকি তুমি। একে তো দেরী করে এসেছো, তারউপর কারন জিজ্ঞেস করলে মানে মানে করছ। শাস্তি না দিয়ে বসতে দিয়েছি প্রথম দিন বলে। কোথায় মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করবে তা না উল্টো বাকিদের মনোযোগ নষ্ট করছ? বেরিয়ে যাও এখনি। ইডিয়ট একটা। ”
স্যারের বকা শুনে মেঘা শুভ্রর দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে, কিন্তু সুভা শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বেচারার মতো রিয়েকশন দিচ্ছে। শুভ্র বই খাতা নিয়ে বেরিয়ে গেল। পেছন থেকে স্যার বললেন, ” স্টুপিড কোথাকার”
পরে আবার নিজের কাজে মন দিলেন।
মেঘাকে একটা খোঁচা দিয়ে সুভা জিজ্ঞেস করল, ” ওই তুই ওকে কলম মারলি কেনো রে? বেচারা তারপরও তোর নাম নিল না। আর তুই কি না..”

.
.
.
.
চলবে…

( পর্ব ১ এর লিংকঃ-
https://m.facebook.com/groups/884724498624937?view=permalink&id=907815772982476&refid=46&__tn__= (

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে