বৃষ্টি ভেজা রাত পর্ব-১৯

0
1948

#বৃষ্টি_ভেজা_রাত💖
#মেহেদী_হাসান_রিয়াদ💖

#পর্বঃ__১৯

সেই হারিয়ে যাওয়া মানুষ নামক বিশ্বাস ঘাতক প্রানিটা সামনে পরতেই স্তব্দ হয়ে যায় রাত। বৃষ্টি রাগে হেটে চলে যায় সেখান থেকে।
বর্ষা দু,হাত বুকে গুজে রাতের দিকে চেয়ে বলে উঠে,
– কেমন আছো?
– ভালো। তুমি এখানে? আর একা? তোমার ওই প্রিয় মানুষ, নামটা যেনো কি ওর? কোথায় সে?
বর্ষা মাথা নিচু করে বলে উঠে,
– সরি রাত। আমি না বুঝে তোমার সাথে অনেক অন্যায় করে ফেলেছি। প্লিজ রাত আমায় একটিবার ক্ষমা করা যায় না?
– ক্ষমা আমি তোমাকে অনেক আগেই করে দিয়েছি। যেদিন থেকে বুঝেছি, তুমি আমার জীবন থেকে চলে গিয়েছিলে দেখে বৃষ্টির মতো কাওকে পেয়েছি আমি।
– প্লিজ রাত, ভুল তো মানুষই করে তাই না। আর তোমার মনে আছে? আমি রোজ ভুল করতাম আর তুমি ক্ষমা করে দিতে। তার পর আবার নিজেকে সুধরে নিতাম আমি। মনে আছে তোমার রাত? একটি বার সুজুগ দাও আমায়।
– তোমার ভুল গুলো ক্ষমা করে দেওয়াই আমার সব চেয়ে বড় ভুল ছিলো। কথায় আছে, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালি কনা বিন্দু বিন্দু জল, তৈরি করে মরুভুমি সাগর অতল। আর তুমি কেমন মেয়ে হ্যা? কি করে পারলে এভাবে এতো বছরের ভালোবাসাটা ভুলে যেতে? আর কিভাবেই বা চাইছো এখন নিজের আপন ছোট বোনের গুছানো সংসারটাকে নষ্ট করে দিতে? তুমি কি মানুষ? একটু বিবেক বোধ কি আছে তোমার অন্তরে? এতো কিছু হয়ে যাওয়ার পরও কিভাবে তুমি আমার সামনে দাড়িয়ে কথা বলার সাহস পাচ্ছো? তোমাকে আমি যতো দেখছি ততোই অবাক হচ্ছি। যেনো আমার সামনে এক বড়ু গিড়গিটি দাড়িয়ে আছে। যে মুহুর্তেই রং বদলাতে পারে। নেক্সট টাইম এসব অধিকার চাওয়া তো দুরের কথা আমার সামনে দাড়াতেও দশ বার ভেবে দেখবে আগে। আরেকটা কথা মনে রেখো। তোমাকে হারিয়ে বৃষ্টিকে পাওয়াটা আমার দুর্ভাগ্য ছিলোনা, ছিলো সৌভাগ্য। আমি সত্যিই ভাগ্যবান ওর মতো মেয়েকে পেয়ে। যে দুঃসময়কেও চুপচাপ মানিয়ে সু-সময়ে রুপান্তরিত করতে পারে।
,
,
বৃষ্টি বর্ষাকে নিয়ে কিছু জিগ্গেস করলোনা রাতকে। রাতও এই নিয়ে আর কথা তোলেনি। রাতের বেলায় রাতের ফোনে একটা ছবি পাঠায় বর্ষা। ছবিটা ছিলো তিহানের। রাত দেখতে চেয়েছিলো ছেলেটাকে। ফোন অন করে ছবিটা দেখতেই যেনো গায়ে কাটা দিয়ে উঠে রাতের। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমা হচ্ছে তার। ফোন হাতে নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে নিচে চলে যায় সে। বাবা বাবা বলে কয়েকবার ডাক দিতেই রাতের পাশে গিয়ে দাড়ায় বাড়ির সবাই। রুদ্র চৌধুরি ধিরে পায়ে নিচে নেমে সোফায় বসে বলে উঠে,
– কি হলো রাতের বেলায় এমন চেচাচ্ছিস কেনো?
– বাবা আরশির বিয়ের আর কয়দিন বাকি?
– কেনো সাত দিন।
– বিয়েটা এক্ষুনি কেন্সেল করো তুমি।
– কেনো কি হয়েছে?
– আরশির সাথে যে ছেলের বিয়ে হয়েছে তার নাম তুর্জয়, রাইট?
– কি বলতে ডেকেছিস আসল কথাটা বল।
– তুর্জয়ের পরু নাম কি?
– কেনো? তুর্জয় আহমের তিহান।
রাত ফোনটা বের করি রুদ্র চৌধুরির সামনে ধরে।
ছবিটা ছিলোবিদেশে থাকতে পার্টিতে মেয়ে কোলে নিয়ে ড্রিংস করার ছবি।
– ও মাই গট।
– শুধু তাই নয়, এই ছেলেটা কে তা জানো? আমাদের বিয়ের দিন বৃষ্টির বড় বোন বর্ষাকে নিয়ে পালিয়েছিলো।

ব্যাস পরদিনই ভেঙে যায় আরশির বিয়েটা। বৃষ্টি জড়িয়ে ধরে অনেক্ষন কেদেছে আরশি। জানেনা কেনো কেদেছে তবে হ্যা, বিয়েটা ভেঙে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছে আরশিই। কিন্তু কেনো খুশি হয়েছে তাও সে জানেনা। এটা কি তাহলে অদৃশ্য কোনো এক টান?
,
,
বৃষ্টিকে ডেকে নিয়ে যায় বর্ষা। বৃষ্টি ওই বাড়িতে গিয়ে দেখে সব ঠিকঠাকই আছে। শুধু বাবা নাকি এখনো কথা বলেনি বর্ষার সাথে।
বৃষ্টিকে জড়িয়ে ধরে অঝরে কেদে চলছে বর্ষা।
– প্লিজ বোন আমায় ফিরিয়ে দিস না আজ। তুই বললে রাত ঠিকই বুঝবে। দেখ আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। আর তোকে তো আমি ছোট বেলা থেকেই কতো আদর ভালোবাসা দিয়েছি। কখনো তোর কাছে কিছু চাইনি। কিন্তু এখন বেহায়ার মতো বার বার তোর কাছে অনুরুধ করছি। আমায় ফিরিয়ে দিস না বোন।
কিছু বলতে পারছেনা বৃষ্টি। বুকের ভেতরটা শুধু হু হু করে উঠছে বার বার।
ছোট বেলা থেকে কখনো বর্ষাকে এভাবে কাদতে দেখেনি বৃষ্টি। লাইফে এই প্রথম দেখছে। তাও তাকে অনুরুধ করে করে কাদছে বর্ষা। কিচ্ছু মাথায় আসছেনা বৃষ্টির। এক মুহুর্তে কি সব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়?
চোখ বন্ধ করে রাখে কিছুক্ষন। বার বার চোখের সামনে ভেষে উঠে, রাতের সাথে কাটানো মগহুর্তগুলো। নিজের অজান্তেই বৃষ্টি বতে শুরু করে,
– আমি পারবোনা রাতকে ছারতে। এই কয়েক মাসে অনেক ভালোবেসে ফেলেছি আমি তাকে। অনেক বেশি। তাকে আমি কিছুতেই ছারতে পারবোনা। আর তোমার জদি রাতের প্রতি এতোই ভালোবাসা থেকে থাকে, তাহলে ছেরে গিয়েছিলে কেনো এভাবে? এটাই বুঝি তোমার ভালোবাসার নমুনা? এর পর আবার অন্য ব্যটার কাওকে পেলে আবার রাতকে ছেরে যাবেনা তার কি গ্যারান্টি আছে? তোমার ওটা ভালোবাসা নয় ওটা হলো লোভ। আর আমি মন থেকে ভালোবেসে ফেলেছি রাতকে। আমি ছারতে পারবোনা তাকে।
– তুই রাতকে ছারতে পারবিনা?
– না।
– তাহলে তুই আমার মরা মুখ দেখবি। তোর চোখের সামনে লাশ হয়ে সুয়ে থাকবে তোর ছোট বেলা থেকে আপু ডাকা মানুষটা। তোর কারনে লাশ হয়ে তোর সামনে পরে থাকবে সে। সহ্য করতে পারবি তখন?
এবার যেনো কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে বৃষ্টি। বর্ষা এমন কিছু বলবে তা হয়তো ভাবতেও পারেনি সে।

মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলো বৃষ্টি। খেয়ে যেতে বলেছিলো তাকে। কিন্তু বৃষ্টির মনে দুঃশ্চিন্তার ভার। বর্ষা ছোট বেলা থেকেই এক ঘেয়ি একটা মেয়ে। জেদি মেয়ে ও। যা বলে তাই করে বসে। কোনো বিশ্বাস নেই এই মেয়েকে। না, কিচ্ছু মাথায় আসছেনা বৃষ্টির। একাকি রাস্তার পাশে বসে কিছুক্ষন নিরবে চোখের জল ছারলো বৃষ্টি। বুকটা ফেটে যাচ্ছে তার। নিজের স্বামিকে যতটা ভালোবাসে ততোটা নিজের বোনকেও বাসে সে। তার এখন কি সিদ্ধান্তে পৌছানো উচিৎ?
,
,
রুমটা গোচগাছ করে জামা গুলো ঠিক ভাবে আলমারিতে ঘুচিয়ে রাখছে বৃষ্টি। ফোন টিপতে টিপতে রুমে এসে সোফার মাঝে বসে রাত। কিন্তু বৃষ্টির মুখে কোনো কথা না শুনে ফোনটা সোফায় রেখে পেছন থেকে বৃষ্টিকে জড়িয়ে ধরে বলে উঠে,
– মন খারাপ?
– উহু
– তাহলে?
– এমনি ভালো লাগছেনা।
– শরির খারাপ?
– উহু ঠিক আছি আমি।
– তাহলে কিছু বলছোনা যে?
– ধরেন দুজন মানুষ, যাদের আপনি সমান ভাবেই ভালোবাসেন। সেখান থেকে জদি আপনাকে বলা হয় এক জন কে বেছে নিন। অন্য জন মরে যাবে তাহলে কি করবেন আপনি?
– গভির চিন্তার বিষয়।
– আচ্ছা ধরেন এমনও একটা পথ আছে যাতে করে দুজনই বেচে থাকবে তাহলে কি করবেন।
এবার উত্তর দিকে এক মুহুর্তও দেরি করলো না রাত।
– অবস্যই, এই পথটাই বেছে নিবো।
– ওহ্। আচ্ছা আপনি কি আপুকে এখনো ভালোবাসেন।
– ভালো বাসা যায় তাকে যে এটার সঠিক মর্যাদা দিতে যানে।
– উত্তরটা বললেন না।
আর কিছু না বলে হন হন করে বেড়িয়ে যায় রাত। হয়তো বর্ষার ব্যাপারে আর কিছু শুনতে চাইছেনা সে। আর উত্তর সে দিয়েই দিয়েছে।
কিন্তু সহজ সরল বৃষ্টি না বুঝে একটা দির্ঘশ্বাস ছারলো।
,
,
রাতের বেলায় রুম ঘাটতে ঘাটতে একটা পুরাতন ডায়রি পায় বৃষ্টি। অতটাও পুরান নয়। কিন্তু রাত যে ডায়রি লেখে তা তো জানা ছিলোনা।
খুলে পড়ার ইচ্ছে জাগে বৃষ্টির।
পুরু ডায়রিটায় বর্ষাকে নিয়ে নানান অনুভুতিতে ভরা। বর্ষার সাথে কাটানোর বেষ্ট দিন গুলো বন্ধি করে রেখেছে এই ডায়রিতে। দেখে হিংসে হয় বৃষ্টির কতো ভালোবাসা ছিলো তাদের মাঝে। রাত বর্ষাকে কতোটা ভালোবাসতো তা তার এই কলমে লিখা অক্ষরগুলোতেই প্রকাশ পাচ্ছে।
“” আজ এই বিকেলটা ছিলো আচ্ছন্ন ময় একটা বিকেল। তবুও স্নিদ্ধ শিতল ছোয়া বাতাসে পারি দিয়েছি তোমার সাথে দির্ঘতম এক পথ। ইশ, আজ এই বিকেলটা জদি শেষ না হতো তাহলে বোধ হয় ভালো হতো। হয়তো এখনো তোমার সাথে থাকতে পারতাম আমি। বাতাসে উড়ে পড়া চুল গুলো কপালে গুজে দিতাম আলতো করে। কিন্তু কোনো একদিন হটবো এমন এক অপুরন্ত পথ। বিকেল পেরিয়ে সন্ধা হবে, সন্ধা পেরিয়ে রাত, রাত পেরিয়ে ভোরের আলো ফুটে উঠবে রাঙা প্রভাত। তবুও এই পথ শেষ হবেনা আমাদের। এই মায়াবতি শুনছো তুমি? ঐ দিন হাটতে না চাইলেও হাটতে হবে তোমায়। আর না পারলেনা হয় কোলে তুলে নিবো। তবুও যতে হবে তোমায়। এই মায়াবতি শুনছো?””

এমন আরো অনেক অনুভুতি জমা এই ডায়রির পাতায়। শেষ পাতায় ছোট্ট একটা লিখা।
“” অনেক বেশিই ভালোবাসি তোমায়। আই উইশ, আমাদের বিচ্ছেদ যেনো শুধু মাত্র মৃত্যুতেই হয়।

To be continue………

~~ রি-চেক করার সময় পাইনি। ভুল ত্রটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে