বৃষ্টি ভেজা রাত পর্ব-০৭

0
1917

#বৃষ্টি_ভেজা_রাত💖
#মেহেদী_হাসান_রিয়াদ💖

#পর্বঃ__৭

ইদানিং রাতের আচার আচরণে অনেকটাই পরিবর্তন দেখা যায়। বৃষ্টির সাথেও আগের মতো অস্বাভাবিক আচরণ করেনা সে। স্ত্রীর অধিকার না দিলেও আচরণ টা ঠিক ঠাকই করে বৃষ্টির সাথে। এটা কি বৃষ্টির প্রতি তার কর্তব্য পালন করা? নাকি একটু সহানুভুতি? নাকি বৃষ্টির প্রতি তার ধিরে ধিরে ভালোবাসা জম্ম নেওয়া? এটা যেনো একটা অজানা প্রশ্ন।

সন্ধার পর সোফায় বসে বসে টিভি দেখছে বৃষ্টি। বাইরে গাড়ির হর্ণ শুনতে পায় সে। বুঝতেই পারছে রাত এসেছে। ঘরে প্রবেশ করতেই দেখে রাতের হাতে ভারি কিছু। যা হাতে করে ঘরে নিয়ে আসছে সে। পেপার দিয়ে মোড়ানোর কারনে বুঝা যাচ্ছেনা ওটা।
ওগুলো রুমের এক পাশে রেখে হাত থেকে ঘরি খুলছে রাত। বৃষ্টি পেছন থেকে বলে উঠে,
– এগুলো কি?
– অফিসের কিছু কাগজ।
– ওহ্।
টাওয়াল নিয়ে ওয়াশ রুমে চলে যায় রাত। দেখার আগ্রহ জম্মালেও অফিসের কাগজ পত্র শুনে আর গুরুত্ব দিলোনা বৃষ্টি। মায়ের ডাক আসতেই নিচে চলে গেলো সে।

রাতে খাবার খেয়ে বেলকনিতে বসে আছে বৃষ্টি। এই থমথমে পরিবেশে জোৎস্নার দেখাও আলাদা একটা তৃপ্তিময়। হাতে দু,টা কফির মগ নিয়ে বৃষ্টির পাশে এসে বসলো রাত। বৃষ্টির পাশে বসে একটা কফির মগ বাড়িয়ে দেয় তার দিকে।
– নাও কফি,
– উহু, ইচ্ছে করছেনা।
– নাও নাও, ভালো লাগবে। আমি নিজ হাতে বানিয়েছি। খেয়ে বলবে কিন্তু কেমন হয়েছে।
– আপনি বানিয়েছেন? বাব্বাহ্, তাহলে তো খেয়েই দেখতে হয়।
রাত কফির মগে চুমুক দিয়ে বলে উঠে,
– আমার কফির প্রশংসা করলে নাকি নাকি অপমান করলে ঠিক বুঝতে পারছিনা। যাই হোক কেমন হয়েছে?
– জঘন্ন।
– ওটা খারাপ হলে আমারটা ট্রাই করতে পারো। এটা ভালোই হয়েছে।
– না থাক, এমনি দুষ্টুমি করছিলাম। খুব ভালো কফি বানার আপনি।
একটা মৃদ হাসি দিয়ে কফির মগে চুমুক দেয় দুজনই।

-তোমার না সামনে ইয়ার ফাইনাল?
বৃষ্টি মাথা নিচু বলে উঠে,
– হুম।
– শুধু হুম হুম করলে কি হবে? পরিক্ষার জন্য তো প্রস্তুতি ও থাকতে হয়।
বৃষ্টি একটা নিশ্বাস ফেলে বলে,
– আর প্রস্তুতি, দের মাস ধরে কলেজের সাথে নেই কোনো সংযোগ, বই খাতার সাথে নেই কোনো সম্পর্ক।
– আগামি কাল থেকে তুমি আবার কলেজে যাচ্ছো। তোমার সাথে কলেজে গিয়ে আমিই স্যারদের বুঝিয়ে বলবো।
বৃষ্টি খুশিতে হকচকিয়ে বলে উঠে,
– সত্যি?
– হুম।
– তাহলে কাল বাড়ি গিয়ে বইগুলোও সব নিয়ে আসবো। সেই সাথে বাবা মাকেও দেখে আশা হবে। যাবেন?
– এখন তুমি ওই বাড়িতে গিয়ে বই নিয়ে আসবে। আর পরে বলবে, নিজের বৌয়ের পড়াশুনার জন্য বই যৌতুক নিছি।
– কিহ্! বই নিয়ে আশার সাথে যৌতুকের কি সম্পর্ক? আর আমি ওসব বলবো কেনো?
– মেয়েদের এই একটা সমস্যা হলো, ঝগড়ার সময় কোনো কিছু নিয়ে খোটা দেওয়া। বলতে গেলে এটাও তাদের একটা ফ্যাশন হয়ে দাড়িয়েছে।
– দেখেন সবাই এক নয়? আর আপনি ডিরেক্টলি মেয়ে জাতিকে এভাবে অপমান করতে পারেন না, হুম।
– ছেলেরা মেয়েদের ব্যাপারে সত্যিটা বললেই ওটা অপমান হয়ে যায় তাই না?
– আপনার মতো পাগলের সাথে ঝগরা করার মুড নেই আমার, হুহ্। তাছারা বই না আনলে পড়বো কি?

রাত বৃষ্টির হাত ধরে নিয়ে চলে যায় রুমে। বিছানায় বসিয়ে তখন নিয়ে আশা ওই পেপার মোড়ানে জিনিসটা নিয়ে আসে তার সামনে।
– এটা খুলে দেখো সব ঠিকঠাক আছে নাকি?
বৃষ্টি ওটা খুলে দেখে তার প্রয়োজনিয় সব বই ই নিয়ে এসেছে রাত।
– তার মানে আপনি তখন বই নিয়ে এসেছেন?
– হুম, তোমার বই সম্পুর্ন সেট ই আছে। কাল থেকে আবার স্টাডির সাথে সু-সম্পর্ক গরে তুলবে। এই বাড়ির বৌ হয়ে মাজ পথে পড়াশুনা বন্ধ করে দাও এটা আমি চাই না।
কাল থেকে আবার কলেজে যাবে বৃষ্টি। ভেবেছিলো এই বাড়িতে এসে তার পড়াশুনাটাই অফ হয়ে গেছে। কখনো বলার সাহস পায়নি রাতকে। যতটা খারাপ ভেবেছে অতোটাও খারাপ নয় লোকটা। এখন তার বাচ্চাদের মতো গলা জড়িয়ে ধরে বলতে ইচ্ছে করছে।
“” আপনি খুব ভালো।

পরদিন কলেজে গিয়ে সবকিছু ঠিকঠাক করে নেয় রাত। ছুটি শেষে বৃষ্টিকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলো রাত। হটাৎ বৃষ্টি হাত নাচিয়ে বলতে থাকে,
– এই গাড়ি থামান গাড়ি থামান।
গাড়ি থামিয়ে রাগি লুক নিয়ে বলে উঠে,
– কি হলো বানরের মতো এমন লাফাচ্ছো কেনো?
– ওইযে দেখেন, ফুলগুলো কি সুন্দর। আমাকে দু,টু এনে দিন না।
– বন্যেরা যেমন বনে সুন্দর, শিশুরা যেমন মাতৃ কোলে, তেমনই পুষ্প সব সময় গাছেই সুন্দর। মানুষের হাতে সুন্দর লাগে মাত্র কয়েক মিনিট। তারপর ঠিকই সে ছুড়ে ফেলে দেয়, সেগুলো। এগুলো এখন গাছে থাকায় তুমি যেমন সৌন্দর্যটা উপভোগ করছো, এখন জদি ছিরে ফেলো তেমন অন্যরা কি আর সেই সুন্দর্যটা উপভোগ করতে পারবে?
– আমি এতো কিছু বুঝিনা। আমাকে একটা হলেও এনে দিন। আর আমি প্রিয় মানুষের কাছ থেকে কিছু পেলে, সেটা ফেলে দিই না, যত্ন করে রেখে দিই।
রাত কিছুক্ষন বৃষ্টির দিকে দৃষ্টি স্থির রেখে, গাড়ি থেকে নেমে ওই ফুলগাছ গুলোর কাছে চলে গেলো।
জানালা দিয়ে মাথা বের করে রাতের দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দেয় বৃষ্টি।

ফুল নিয়ে ফেরার পতেই একটা ছেলে গাড়ি থেকে নেমে বন্ধু বন্ধু বলে জড়িয়ে ধরে রাতকে।
– আরে দোস্ত কতো বছর পর দেখা। কেমন আছিস?
ওদের কথাপোকথনের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে রইলো বৃষ্টি।
গাড়ি থেকে নেমে তাদের কাছে যায় সে। রাতের বন্ধু রাফিকে দেখিয়ে রাত বলে উঠে,
– আমার কলেজ ফ্রেন্ড রাফি। বাইরে থাকে, আজ ৪ বছর পর দেশে ফিরেছে।
বৃষ্টি হাই বলে হাত বাড়িয়ে একটা মুচকি হাসি দেয়। রাফিও হাত বাড়িয় বলে উঠে,
– নাইস টু মিট ইউ।
রাতের দিকে তাকিয়ে হাত ছেরে দেয় বৃষ্টি। একটা রাগি লুক দেখতে পায় রাতের চোখে। রাফি রাতকে বলে উঠে,
– কি হয় তোর?
বৃষ্টিও একটু উৎসাহের দৃষ্টিতে তাকায় রাতের দিকে। রাত আজ তাকে কি বলে সম্মোধন করে এটা দেখার জন্য অস্থির হয়ে আছে সে।
রাত একবার বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে বলে উঠে,
– আমার কাজিন বৃষ্টি।
– ওহ্।
নিমেষেই মুখটা গোমড়া হয়ে যায় বৃষ্টির। নিজের স্ত্রী হিসেবে সম্মোধন করতে কি এতোই গায়ে লাগে তার? গোমড়া মুখে সেখান থেকে হাটা ধরে বৃষ্টি।
” যেখানে আমার বর্তমান পরিচয়টা দিতে তার মুখে বাধে, সেখান থেকে প্রস্থান করাটাই ভালো।
রাত ও রাফি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে বৃষ্টির দিকে। রাফি রাতের কাধে হাত রেখে বলে উঠে,
– ওর হটাৎ কি হলো। কাহিনি বলতো।
– কিছুনা বাদ দে।
– কাজিন বলায় মুখটা বাংলা ৫ হয়ে গেছে। আমার মনে হয় তোর কাজিন তোকে ভালোবেসে ফেলেছেরে। বলেই একটা হাসি দেয় রাফি।
বৃষ্টি গিয়ে গাড়িতে উটে বসে রইলো।
সারা পথ আর রাতের সাথে একটাও কথা বলেনি বৃষ্টি। তবুও মনকে এটা বুঝ দেয়,
” আজ আমার এমন লাগছে কেনো? সত্যিই তো আমি ওর কেও না। সে তো আগেই বলে দিয়েছিলো আমি তার স্ত্রী শুধু মাত্র নামে। তার পরিচয়ে পরিচিত হওয়ার কেওই না আমি। কেও না।

To be continue…………

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে