“ফাঁদে পড়ে” পর্ব-(৩)

0
636

“ফাঁদে পড়ে” পর্ব-(৩)

আমি রুম থেকে বেরিয়ে ডায়নিংএ গেলাম। তারপর পানির বোতল নিয়ে বড় নাতির রুমের দিকে গেলাম, যেন সবাই মনে করে আমি দায়িত্ব কর্তব্য পালন করতে যাচ্ছি। মূলত আমি তো সেটাই করতে যাচ্ছি। দাদী বলে কথা। দাদীদের যে কত্তো দায় দায়িত্ব থাকে!
দরজা নক করতেই সে ভেতর থেকে বলল-
“দরজা খোলা আছে।”
রুমে ঢুকতেই সে খাইয়ালাইমু দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকালো। একটু একটু ভয়ও লাগছে, নাতি খেয়ে না ফেলে আমায়! সে চিৎকার করে বলল-
“তুমি এখানে কেন? বেরিয়ে যাও ঘর থেকে!”
আমি স্বাভাবিক ভাবে জবাব দিলাম-
“দাদীমার সাথে কেউ এমন করে কথা বলে?”
সে চিৎকার করে বলল-
“তোমাকে আমি গুলি করবো। যাও বলছি!”
আমি দুই কান চেপে ধরে বললাম-
“এই তোমরা সবাই গুন্ডা নাকি হুম? কথায় কথায় গুলি করতে চাও কেন?”
সে চোখ পাকিয়ে বলল-
“এই তুমি যাবা?”

আমি কাঁন্নার পোজ নিয়ে বললাম-
“আমি কিন্তু কাঁদবো বলে দিচ্ছি!”
সে আমার পোজ দেখে আরও রেগে গেল। বিকট ধমক দিয়ে বলল-
“চুপ একদম!”
আমি কাঁদো কাঁদো স্বরে বললাম-
“আবার ধমক দেয়! এবার সত্যিই কিন্তু কাঁদবো!”
“যাও বাহিরে গিয়ে কাঁদো।”
“না আমি এখানেই কাঁদবো।”
“লজ্জা করবে না তোমার কাঁদতে?”
“কাঁদতে লজ্জা করবে কেন?”
“ওহ আমি তো ভুলেই গেছি যে, লজ্জা নামক বস্তুটি তো তোমার নেই। লজ্জা থাকলে তো প্রেমিকের দাদুকে বিয়ে করতে পারতে না। বুড়োকে বিয়ে করার যখন এতই সখ জেগেছিল তখন দেশে কী বুড়োর আকাল পড়ে ছিল যে, আমার দাদুকেই বিয়ে করতে হবে?”
আমাদের যে বিয়ে হয়নি এই কথাটা বলতে গিয়েও নিজের মুখ চেপে ধরলাম। কারণ আমার মুখকে আমিই ভরসা করতে পারি না। মনে পড়ে গেল, বালিচাপা হবার কথা। ওরে বাপরে! আমি মরতে চাই না, কিছুতেই না। যদিও সিনেমার নায়িকারা মরতে ভয় পায় না কিন্তু এদিক দিয়ে আমি আলাদা টাইপের নায়িকা। বললাম-

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share


“আমি ইচ্ছে করে বিয়ে করেছি নাকি? তোমার দাদু আমাকে গুলি করার ভয় দেখিয়ে তুলে এনেছে। কি গুন্ডারে বাবাহ!”
তিতাস অবাক হয়ে বলল-
“কিহ দাদু তোমাকে তুলে এনেছেন? তা দাদু তোমাকে পেলো কোথায়? বলো কি অকাম করেছো?”
“আমি কী করে জানবো যে, তোমার গাড়িতে তোমার দাদু থাকবেন? আমি তো তুমি ভেবেই গাড়িতে ধাক্কা খেয়েছি।”
“মানে?”
“তোমার গাড়ি ভেবে ধাক্কা খেলাম যেন তুমি বেরিয়ে এসে আমাকে টেনে তুলো। অথচ বেরিয়ে এলো ড্রাইভার।”
“আমি টেনে তুলবো বলে তুমি ধাক্কা খেয়েছো? এই তুমি তো দেখছি সত্যি সত্যিই পাগল।”
আমি মুখ কাচুমুচু করে বললাম-
“একটা রোমান্টিক দৃশ্য হবে তাই ধাক্কা খেয়েছি। সিনেমাতে এসব হয় জানো না?”
“সিনেমা করে আমায় উদ্ধার করে ফেলেছেন।”
আমি কাঁন্না কাঁন্না ভাব নিয়ে বললাম-
“তোমার জন্য দুই ঘন্টা প্রখর রোদে রাস্তায় বসে ছিলাম আর তুমি আমায় বকছো?”
সে অবাক হয়ে বলল-
“রাস্তায় বসে ছিলে কেন?”
“তুমি এসে টেনে তুলবে তাই।”
“ইয়া আল্লাহ এই মেয়ের সাথে আমার কেন পরিচয় হয়ে ছিল? পৃথিবীতে কি আর কোনো মেয়ে ছিল না?”
“জানো রোদে পুড়ে আমি কয়লা হতে বসে ছিলাম। ভাগ্যিস দাদুর গাড়িতে একটা ছাতা ছিল তাই বেঁচে গেছি।”
“যখন দেখলে গাড়িটা আমার নয় দাদুর, তখন তো চলে যেতে পারতে?”
“চলে যেতেই তো চেয়ে ছিলাম, দাদু বললেন, গাড়িতে না উঠলে পুলিশ ডাকবেন আর গুলি করে আমায় বালিচাপা দিয়ে দেবেন।”
“দাদু হঠাৎ এটা কেন করবেন? এই তুমি কী বলেছিলে তাকে?”
“আমি ড্রাইভারকে বলে ছিলাম আমি গাড়ির মালিকের গার্লফ্রেন্ড। সে যেন ফোন করে তাকে বলে যে, তার গার্লফ্রেন্ড অপেক্ষা করছে। আমি কি করে জানবো যে মালিক তুমি নও, দাদু?”
“তুমি মালিককে না দেখেই তার গার্লফ্রেন্ড হয়ে গেলে?”
“গাড়ি দেখে হয়েছি, আমি কী করে জানবো যে, তোমার গাড়িতে চড়ে দাদু ঘুরে বেড়ায়?”
“মাথামোটা ওটা তো দাদুরই গাড়ি, আমিই তার গাড়িতে চড়ে ঘুরেছি।”
“তো আমাকে কি বলেছো যে, ওটা তোমার নয় তোমার দাদুর গাড়ি? ভাব নিছো তো নিজের গাড়ির মতো।”
“তাই বলে বিয়ে করবে?”
আমি ইমোশনাল ভাব নিয়ে বললাম,
“সে জোর করে বিয়ে করেছে আমায়। এখন আমি সুইসাইড করবো। রাখবো না এ জীবন।”
“কোন্ দুঃখে যে, তোমার মতো বদ্ধ একটা পাগলির প্রেমে পড়ে ছিলাম! এখন তো আমার নিজের গালে নিজেরই থাপ্রাতে ইচ্ছে করছে।”
“এভাবে আমায় বকছো কেন তুমি?”
“বকছি না তো, এসো তোমায় আদর করবো।”
আমি লাজুক মুখ করে বললাম-
“এই না না, কেউ দেখে ফেলতে পারে।”
সে ভয়ানক রেগে গিয়ে চেঁচিয়ে উঠে বলল-
“সাট আপ ননসেন্স! কে তোমায় আদর করতে চাইছে?”
আমি হতবাক হয়ে বললাম-
“তুমিই তো চাইলে এখন!”
“এই তুমি এখন যাও তো এখান থেকে! আমার মাথা হ্যাং হয়ে গেছে।””ওঘরে যেতে ভয় লাগছে বাবু।”
“কেন?”
“দাদু যদি বাসর টাসর…. ইয়ে মানে।”
“ওহ নো! ধুর কিচ্ছু মাথায় আসছে না।”
“তার চেয়ে বরং আমি তোমার রুমেই থাকি।”
“এই মেয়ে তুমি পাগল হয়ে গেছো নাকি? এই রুমে থাকলে সবাই কি কি ভাববে তা একবার ভেবে দেখেছো?”
“ও রুমে দাদু, এরুমে সবাই ভাববে, তাহলে আমি যাবটা কোথায়?”
“শোনো, দাদু কাছে এলেই তুমি চিৎকার করে কান্না জুড়ে দেবে।”
“যদি মুখ চেপে ধরে?”
সে চিন্তিত হয়ে বলল,
“তাও তো একটা কথা। আচ্ছা আমি দরজার আশেপাশেই থাকবো, তোমার একটু আওয়াজ পেলেই আমি ঢুকে যাব।”
“দরজা যদি বন্ধ করে রাখে?”
“সেটাও তো ঠিক। আমি দরজা ভেঙে ফেলবো।”
আমি একটু নিশ্চিন্ত হয়ে বললাম,
“ঠিক আছে।”
হঠাৎ সে নরম আর আহত স্বরে বলল-
“এই মেয়ে তুমি এতো বোকা কেন হুম?”
“জানি না তো।”
সে চেঁচিয়ে উঠে বলল,
“তা তো জানবাই না। আমার এমনই পোড়া কপাল যে, আমার প্রেমিকা এখন বাসর ঘরে ঢুকবে আর আমি দরজার বাহিরে নাইট ডিউটি করবো।”
“আমার ভীষণ কান্না পাচ্ছে।”
“এটা ছাড়া তো আর কিচ্ছু পারো না তুমি।”
“এখন যাই, কখন যেন দাদু আবার ডাকে।”
সে খুব করুণ স্বরে বললো-
“নিজের খেয়াল রেখো জান।”
তিতাসের দিকে তাকিয়ে দেখলাম তার চোখ ছলছল করছে। মানুষটা সত্যিই আমায় খুব ভালোবাসে। আমিও তো খুব ভালোবাসি আর এটা ঐ বুইড়ারে বুঝাতেই পারলাম না।

তিতাসের রুম থেকে বের হতেই দাদুর সাথে দেখা হলো। এই বুইড়া কি আমার পেছন পেছন সারাক্ষণ ঘুরবে নাকি? অসহ্য! উনি রোমান্টিক চোখে তাকিয়ে বললেন-
“বেবি তুমি এখানে কি করছো?”
যত্তো সব মরণ! মনে হলো বলি, ‘ওরে মিন্সে প্রেমিকের সাথে দেখা করতে গেছিলাম।’ কিন্তু এসব বললেই তো সে বালি চাপা দেবে।
আমি মুচকি হেসে পরিস্থিতি ম্যানেজ করার চেষ্টা করলাম। মনে হচ্ছে স্বামী ঘরে রেখে পরোকিয়া করতে গেছিলাম। তাই পরিস্থিতি ম্যানেজ করতে হচ্ছে। অথচ আমার তো বিয়েই হয়নি। আমি হাসি মুখে বললাম-
“বড় নাতিকে পানির বোতল দিতে এসেছি। আহা কেউ ছেলেটার খেয়াল রাখে না।”
দাদুর গলার আওয়াজ পেয়ে তিতাস বেরিয়ে এলো। দাদু তিতাসের দিয়ে তাকিয়ে আমাকে বললেন-
“এসব কাজ তুমি করবে না আর। তুমি হলে এই বাড়ির রাজরানী, এসব কাজ করার জন্য অনেকেই আছে। এখন রুমে চলো সুইটি।”
এই বুড়োর ভিমরতী দেখে মরে যাই, মরে যাই! কি জ্বালা মাবুদ! একটু তো উদ্ধারের ব্যবস্থা করো!
আমি অসহায় দৃষ্টিতে তিতাসের দিকে তাকালাম। দেখলাম, সে আরো দ্বিগুণ অসহায় দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আহারে বেচারার কী কষ্ট! প্রেমিকা বাসর ঘরে যাচ্ছে। যদিও বাসর ঘরে ফুল টুল কিচ্ছু নাই। কিন্তু সবাই জানে আমরা বর বউ। তিতাসের মুখ দেখে দুস্থ অসহায় সম্বলহীন মনে হচ্ছে। ঠিক হয়েছে! কত দিন বলেছি ‘ওগো বাড়িতে বিয়ের কথা বলো। নয় তো চলো পালিয়ে যাই।’ কিন্তু সে পালাবে না। এখন ঠ্যালা সামলাও হিরো তিতাস। কিছু না বলে আমি রুমে চলে গেলাম। আমার সাথে সাথে দাদুও এলেন, যেন তিনি আমার বডিগার্ড।
আমি পেছন ফিরে তাকানোর সাহস পেলাম না। রুমে ঢুকে মনে হলো এই বুইড়ারে আইজ আমিই খুন কইরা বালি চাপা দিমু। হঠাৎ আমি ভীষণ সাহসী হয়ে গেলাম। রেগে উঠে বললাম-
“আমি আপনার রুমে কেনো থাকবো? গুলি করেন আর যাই করেন, আমি এ রুমে থাকবো না। আমাকে আলাদা রুমের ব্যবস্থা করে দিন।”
“কালকেই আমি তোমাকে বিয়ে করবো বেবি। আজকের রাতটাই তো শুধু।”
“এরচেয়ে গুলি করে বালিচাপাই দিন। আত্মা অন্তত শান্তি নিয়ে মরবে।”
কথাটা বলতে বলতে আমি কেঁদেই ফেললাম। দাদু আহত দৃষ্টিতে আমার দিকে চেয়ে থেকে বললেন-
“তুমি আমাকে যেমন মনে করছো আমি তেমন মানুষ নই। আমি আমার স্ত্রীকে খুব ভালোবাসি। সে আমার রাঙা বউ, তার স্থান কাউকে দেবো না। ইভেন তার বিছানাও না। ওই যে পাশে যে ছোট্ট রুমটা দেখছো, তুমি ওই রুমে ঘুমাবে। কোনো সমস্যা হলে আমাকে ডেকো।”
ওমাগো! দাদুর নাতিও তো আমাকে ভালোবেসে “রাঙা বউ” বলে ডাকে। অথচ দাদু এই বুড়ো বয়সেও কত্তো রোমান্টিক আর তিতাস পুরাই একটা বদ মেজাজের ঝাড়। ধমকে ধমকে আমার জীবনটা ত্যানা বানিয়ে দিয়েছে। হঠাৎ মনে হলো তিতাস তো আমাকে চিৎকার করতে বলেছিল। অবশ্য প্রয়োজনে চিৎকার করতে বলেছিল। একবার চিৎকার করে পরীক্ষা করবো নাকি যে, তিতাস আশেপাশে আছে কি না? ট্রায়াল আর কি!

বিঃদ্রঃ গল্পের কাহিনী এবং চরিত্র সম্পূর্ণ কাল্পনিক। বাস্তবতার সাথে গল্প কখনোই মিলবে না। জীবন কখনও গল্পের মতো সাজানো গোছানো হয় না। গল্পটা শুধুমাত্র বিনোদনের জন্য লেখা হয়েছে তাই বিতর্কিত মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়।

পরের পর্ব আসছে……
Written by- Sazia Afrin Sapna

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here