প্রিয় অভিমান পর্ব ৮

0
1136

#প্রিয়_অভিমান

পার্ট : ৮

লেখা : নিশাত সিদ্দিকা

.
কাব্য ভাইয়া আপু আর আন্টির দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলেন,
আমি আর সুহা একে অপরকে ভালবাসি ,
অনেক দিন ধরে আমাদের রিলেশন । ভেবেছিলাম কিছুদিন পর সবাইকে সবটা জানাবো এবং সবার মত নিয়ে আমরা বিয়ে করবো।
কিন্তু সুহার বাসায় বিয়ের কথা চলছে এটা শুনে ও ভীষন ভয় পেয়ে গেছে ওর ধারনা আমাদের রিলেশন আমাদের দুই পরিবারের কেউ মেনে নিবে না।
কাল এখানে আসার পর থেকে আমার কাছে এসে শুধু কান্না করছে ও না কি আমাকে ছাড়া বাঁচবে না ,
অন্য কোথাও বিয়ে করতে পারবে না।
তোমরা তো জানো ও একটু ভীতু সবাইকে সবটা বলতে ওর ভয় করছে।
আমি বলেছিলাম আমি সবার সাথে কথা বলবো সেটা শুনে ও ভয়ে আরো কান্না করতে লাগল,
আমাকে মানা করতে লাগল যাতে সবাইকে কিছু না বলি,
আমিও ওকে অনেক ভালবাসি ওর কান্না আমি একদম সহ্য করতে পারিনি, তাই বাধ্য হয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে ওকে বিয়ে করে ফেলেছি,
এক নিঃশ্বাসে কথা গুলো বলে কাব্য ভাইয়া থামলে ,
আমি এতক্ষন অবাক হয়ে কাব্য ভাইয়ার কথা গুলো শুনছিলাম ,আমার কান্না থেমে গেছে অনেকক্ষন আগে সেখানে জন্ম নিয়েছে একরাশ বিস্ময় ,আমার মাথা হ্যাং হয়ে আছে সব শুনে, কি সব বলছেন উনি আমাদের বাসায় আমার বিয়ের কথা চলছে অথচ আমি জানি না ,
এই বিষয়ে কেউ আমার সাথে কোনো কথা বলে নি,
উনার সাথে নাকি আমার রিলেশন ছিল,আমি নাকি উনাকে ছাড়া বাঁচবো না ,কত বড় মিথ্যা কথা।
নিজে অপরাধ করে সব দোষ আমার ঘারে চাপিয়ে
দিচ্ছেন।
কি সাবলিল ভাষায় এতো গুলো মিথ্যে কথা বলে গেলেন,
যে কেউ উনার এই ভাবে সুন্দর করে গুছিয়ে বলা মিথ্যে কথাগুলোকে চোঁখ বন্ধ করে বিশ্বাস করে নিবে।
উনার কথা শুনে আন্টি কিছু বললেন না অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন আমাদের দুজনের দিকে।
আপু আমার কাছে এসে বলতে লাগলেন,
সুহা আমরা তোর কাছে এতটা পর হয়ে গেলাম,
আমরা তো শুধু তোর বিয়ের ব্যাপারে কথা বলছিলাম তুই যখন ভাইয়াকে পছন্দ করিস তাহলে আমাদের একবার বলে দেখতি আমরা কি করি।
এত দিনে তুই আমাদের এই চিনেছিস আমরা কি তোর মতে বিরোদ্ধে গিয়ে জোর করে তোর বিয়ে দিয়ে দিতাম,
আপু কথাগুলো শুনে আমি কান্না করতে লাগলাম কাব্য ভাইয়ার বলা মিথ্যে কথার জন্য আপু আমায় ভুল বুঝছেন তাহলে তো মা ও আমায় ভুল বুঝে ভীষন কষ্ট পাবেন,
আপুকে সব সত্যি কথা বলতে হবে ,আমি কেঁদে কেঁদে আপুকে বলতে লাগলাম,
আপু আমি কিছু করিনি,এই বিয়ে আমি করতে চাইনি, কাব্য ভাইয়া আমাকে জোর করে এই কথার মাঝে কাব্য ভাইয়া আমাকে থামিয়ে দিয়ে উনি করুন মুখ বানিয়ে বলতে লাগলেন,
ছি! সুহা ভয় পেয়ে এখন সব দোষ আমায় দিয়ে দিচ্ছো ,তুমি যদি না চাইতে তাহলে কি আমি তোমায় বিয়ে করতে পারতাম,
তুমিই বলো ভাবী কাউকে এই ভাবে এতো সুন্দর করে বিয়ের সাঁজে সাঁজিয়ে জোর করে বিয়ে করা যায়,যদি তার নিজের মত না থাকে।
কাব্য ভাইয়া কথা শুনে আপু আমাকে ধমক দিয়ে বলে উঠলেন,
এ সব কি হচ্ছে সুহা অপরাধ করেছিস আবার মিথ্যে কথা বলছিস ।বিয়ে করার আগে তো ভয়ে সত্যিটা বলতে পারিস নি , এখনও কেন বলতে পারছিস না, এখন কিসের ভয় পাচ্ছিস।
এভাবে সেঁজেগুজে বিয়ে করতে ভয় করেনি আর সেটা বলতে ভয় করছে।
আপুর ধমক শুনে আমার কান্নার বেগ আরো বেড়ে গেলো ,সত্যি তো আমার এভাবে সাঁজগুজ দেখে কেউই বিশ্বাস করবে না যে আমাকে জোর করে বিয়ে করা হয়েছে,
আমি আর কিছুই খুঁজে পেলাম না বলার ,চুপচাপ মাথা নিচু করে দাড়িয়ে অশ্রু বিসর্জন দিতে লাগলাম।
আপু আমাকে বকছেন দেখে আন্টি গম্ভীর কন্ঠে আপুকে বলে উঠলেন ,
বড় বৌ মা ওকে এভাবে বকছো কেনো যা হবার তা তো হয়ে গেছে , দেখো না ওকে কেমন নার্ভাস দেখাচ্ছে ভয় পেয়ে হয়তো এমন বলছে ,তুমি সুহাকে তোমার রুমে নিয়ে যাও ।আমি বেয়াইনকে ফোন দিচ্ছি আমাদের এখানে আসার জন্য তারপর এ বিষয় নিয়ে কথা হবে।
তুমি একটু এ দিকে এসো কথা আছে, বলে আন্টি আপুকে নিয়ে একটু দূরে সরে গিয়ে কি যেন কথা বলতে লাগলেন ,
আমি একা কাব্য ভাইয়ার পাশে জড়েসড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম,ভীষন ভয় লাগছে মাকে কি বলবো আর সবটা শুনে মা কি রিয়েক্ট করবেন সেটা ভেবে।
আমি কাব্য ভাইয়ার দিকে তাকালাম ,আমি তাকাতেই উনি চোঁখ মারলেন যেটা দেখে আমার মাথায় আগুন ধরে গেল রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম,
আমার এভাবে তাকানো দেখে কাব্য ভাইয়া শয়তানি হাসি হেসে আমার কাছে এসে ঝুকে ফিসফিসিয়ে বলতে লাগলেন,
ওগো শুনছো সোনাবউ আমার ,যাও বাসর রাতের জন্য গিয়ে রেডি হও ,আজ তো আমাদের বাসর রাত ।আর এভাবে রাগি লুক দিয় না প্লিজ !!তুমি কি জানো তোমার এভাবে তাকানো সরাসরি গিয়ে আমার কলিজায় লাগে ইচ্ছে করে তোমায় খেয়ে ফেলি।
এভাবে পাগল বানিয়ে দিও না আমাকে তা নাহলে কিন্তু আমি রাত পর্যন্ত ওয়েট করতে পারবো না।
উনার এসব অসভ্য কথা বর্তা শুনে রাগে আমার মন চাইছিল উনার মাথায় বোমা মেরে উনাকে পৃথিবী থেকে উরিয়ে দেই ,
আমি রাগি রাগি কন্ঠ নিয়ে উনাকে ফিসফিসিয়্ বলতে লাগলাম ,
আজ তুমি যা করলে তার জন্য আমি তোমাকে কখনই ক্ষমা করবো না ,
আমার কথা শুনে কাব্য ভাইয়া বাঁকা হেসে বলে উঠলেন,
আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাইছি না কি ,যে তুমি আমাকে ক্ষমা করবে কি না করবে সেটা ভাবছো।স্বামী স্ত্রীর মাঝে ক্ষমা টমা আসলো কি করে আমাদের মাঝে তো শুধু থাকবে ভালোবাসা বাসি অনলি ফুল রোমান্স ।
উনার এমন কথা শুনে বুঝতে পারলাম এই ইতর লোকটা জীবনে ও
ঠিক হবে না।আমার সিরিয়ার কথার মাঝে ও তার অসভ্য কথাগুলো ঢুকিয়ে দিয়েছে।
আপু আমাদের দিকে এগিয়ে আসছেন দেখে কাব্য ভাইয়া সোজা হয়ে দাঁড়ালেন,
আপু এসে বলতে লাগলেন সারারাত পরে আছে বরের সাথে কথা বলার জন্য এখন চল ফ্রেশ হবি।
আর এই যে বর সাহেব আপনিও যান গিয়ে ফ্রেশ হোন গিয়ে ।
আপুর কথা শুনে কাব্য ভাইয়া হেসে মাথা নাড়লেন।
আপু আমাকে উনার সঙ্গে যাবার কথা বলে যেই ঘুরলেন অমনি কাব্য ভাইয়া আমার কাছে এসে আমার গালে কিস করে বসলেন।
উনার এমন কান্ডে আমি জমে ফ্রিজড হয়ে গেলাম।
(চলবে)

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে