পূর্ণিমা_সন্ধ্যায় পর্ব_০২

0
1920

পূর্ণিমা_সন্ধ্যায় পর্ব_০২
#লেখিকা_তাসনীম_তুষার

ক্লাস শেষ করে ম্যাথিউ কে বিদায় জানিয়ে প্যাট্রিসিয়া ও তিয়াশা পার্কিং লটের দিকে হাঁটা শুরু করে।

প্যাট্রিসিয়া ও তিয়াশা পাশাপাশি বাড়িতে থাকে, তাই প্যাট্রিসিয়ার গাড়িতেই দুজনে একসাথে আসা যাওয়া করে। গাড়ি প্যাট্রিসিয়ার হলেও দুজনে পাল্টা পাল্টি করে গাড়ি চালায় ওরা, যখন যার মনে চায়।

“Give me the key. I am driving today”
(চাবিটা দাও তো, আজকে আমি-ই চালাবো)

বলতে বলতে তিয়াশা হাতটা এগিয়ে দিলো প্যাট্রিসিয়ার দিকে। চাবিটা নিয়ে “আনলক” বোতামটা চাপতেই কিছু দূরের হোন্ডা সিভিক মডেলের নীল রঙের সেডান গাড়িটা “পিক” করে একটা আওয়াজ করে জেগে উঠে।

তিয়াশা ড্রাইভিং সিটে বসে সিট বেল্ট বাঁধতে বাঁধতে বললো,

“Pat, I have to go to work now. Manager called me. Employee is short today, so he requested me to be there by 3.30 pm.” (প্যাট, আমাকে কাজ যেতে হবে এখন। ম্যানেজার ফোন করে বলেছে আজকে কর্মী সঙ্কট, তাই অনুরোধ করেছে আমাকে সাড়ে তিনটার মধ্যে পৌঁছতে।)
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



প্যাট্রিসিয়া তখন বলে উঠলো,

“Ok, then how are you gonna get home dear? If you want, I can pick you up. Just let me know the time.” (আচ্ছা, তাহলে বাসায় ফিরবে কিভাবে তুমি? তুমি যদি চাও তাহলে আমি তোমাকে নিতে আসতে পারি। শুধু আমাকে সময় টা জানিও।)

তিয়াশা খুশি হয়ে উঠে,

“That’s great! I will let you know after I talk to my Mom.” (সেটা তো খুবই ভালো হয়, আমি তোমাকে জানাবো আম্মুর সাথে কথা বলে)

আমেরিকার একটি মজার বিষয় হচ্ছে এখানে হাইস্কুলে পড়া সময়কালীন থেকেই সব ছেলে মেয়েরা নিজেদের হাত খরচের জন্য বিভিন্ন দোকানে, রেস্তোরাঁতে অথবা শপিং মলে খণ্ডকালীন কাজ করে থাকে। সেই সাথে এখানে কোনো কাজকেই ছোট করে দেখা হয়না। সবাই ছোট বড়ো সব কাজকেই শ্রদ্ধা করে। পাশাপাশি এসব কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে এবং তা প্রফেশনাল চাকরির সিভি তে উল্লেখ করলে তা বিশেষ ভাবে গণ্য করা হয়। সদ্য পাশ করা ছাত্র-ছাত্রীদের ক্ষেত্রে এটা একটা প্লাস পয়েন্ট।

গাড়ি চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঁচ মাইল দুরে ম্যাকডোনাল্ড’স এর সামনে গাড়ি রেখে তাড়াহুড়ো করে প্যাট্রিসিয়া কে বিদায় জানিয়ে, যেতে যেতে তিয়াশা বলে,

“Bye Pat. I will let you know when you need to pick me up, if needed.” (বিদায় প্যাট। আমি তোমাকে প্রয়োজন হলে জানাবো যে কখন আমাকে নিতে আসতে হবে।)

তিয়াশা ম্যাকডোনাল্ড’স এর ক্যাশিয়ার পদে খণ্ডকালীন কাজ করে। তার কাজ হচ্ছে লাইন এ দাঁড়ানো মানুষের কাছ থেকে খাবার অর্ডার নেয়া এবং তাদের খাবার কিচেন থেকে তৈরি হয়ে আসলে সেগুলো সংগ্রহ করে প্যাকেটজাত করা এবং যার যার অর্ডার তাদের রিসিট নম্বর ডেকে তার অর্ডারকৃত খাবারের প্যাকেটটি দিয়ে দেয়া। শুনতে খুব সহজ মনে হলেও, কাজটা এতটা সহজ না তা তিয়াশা খুব ভালো করেই বুঝেছে এতদিনে।

ম্যাকডোনাল্ড’স এ ঢুকতে ঢুকতে তিয়াশা তার মা নীলিমা হাবিব কে ফোন দিয়ে বলে,

“আম্মু, আজকে কাজে আসতে হলো। ম্যানেজার ফোন করে আসতে বললো।”

“আচ্ছা। তোর কাজ শেষ হবে কয়টায়? আর বাড়ি ফিরবি কি করে? আমার তো কাজ শেষে গুছিয়ে বাসায় আসতে আসতে ১১ টা বেজে যাবে। বাড়ি থেকে তো তোর কাজের জায়গা উল্টো পথে।”

“তুমি চিন্তা করোনা আম্মু, আমার কাজ সম্ভবত রাত ১০ টায় শেষ হবে। প্যাট বলেছে ওকে জানাতে যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে ও এসে আমাকে নিয়ে যাবে।”

“ঠিক আছে মা। সাবধানে আসিস।”

বলেই ফোন কেটে দিলো নীলিমা হাবিব।

মা নীলিমা হাবিব ও ছোট দুই ভাই বোন নিয়ে তিয়াশাদের ৪ জনের সংসার। তিয়াশার পরেই তার বোন পৌষী হাবিব যে কিনা এখন হাইস্কুলে ১১ গ্রেডে পড়ে, আর ছোট ভাই ইশতিয়াক হাবিব পড়ে মিডল স্কুল এর ৭ গ্রেডে। তার বাবা আহসান হাবিব পৃথিবীর মায়া ছেড়েছেন ৫ বছর আগে। আহসান হাবিবের একটি নিজস্ব প্রতিষ্ঠিত গ্রোসারি স্টোর আছে লস এঞ্জেলেস শহরে। তার মা নীলিমা হাবিব তারই দেখাশোনা করে এখন। তিয়াশাও ওর পড়ালেখা আর খন্ডকালীন কাজের ফাঁকে সময় পেলেই তাদের পারিবারিক গ্রোসারিতেও সময় দেয়।

তিয়াশা ম্যাকডোনাল্ড’স-এ ঢুকে কাজের পোশাক পরিধান করে কাজে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে। এদিকে মানুষের লম্বা লাইন দাঁড়িয়ে গেছে কাউন্টার এর সামনে খাবার অর্ডার দেয়ার জন্য।

কাজ করতে করতে রাত ৮ টা বেজে গেছে, কাজ শেষ হবার বাকি আছে আরও ২ ঘন্টা। এক মুহূর্ত জিরোনোর সময় পায়নি তিয়াশা। এখনো সামনে বিশাল লম্বা লাইন। তিয়াশা ভেবে পায়না যে আজ এত মানুষ কোথা থেকে আসছে। এরই মধ্যে সামনে এসে দাঁড়িয়েছে দুজন লম্বা আফ্রিকান-আমেরিকান খাবার অর্ডার করার জন্য। ঠিক মতো দাঁড়াতে পারছেনা, নেশায় টলছে, চোখ গুলো লাল হয়ে আছে সাথে মুখ দিয়ে বের হচ্ছে মদের তীব্র গন্ধ। তিয়াশা দেখেই বুঝতে পারলো এরা দুইজন পুরাই মাতাল হয়ে আছে। ভীষণ বিব্রত বোধ করছে ও, তবুও কাজের খাতিরে অস্বস্তি নিয়ে জিজ্ঞেস করে,

“How may I help you sir? What would you like to order?” (আপনাদের কিভাবে সাহায্য করতে পারি? কি অর্ডার করতে চাচ্ছেন?)

আফ্রিকান-আমেরিকান দুজন খাবার অর্ডার না করে বরং নানা রকম কথা বলার চেষ্টা করছে তিয়াশার সাথে।

তিয়াশার নাম নেইমপ্লেট থেকে দেখে তাকে উদ্দেশ্য করে বলছে,

“Hi Tiyasha. It’s a very beautiful name.” (হাই তিয়াশা। এটা খুব সুন্দর একটা নাম।)

আরেকজন আফ্রিকান-আমেরিকান কাউন্টার এ ঝুকে তিয়াশার কাছাকাছি এসে জিজ্ঞেস করে,

“Hi, do you know you are very beautiful. Would you like to come with us in a party?” (হাই, তুমি কি জানো তুমি অনেক সুন্দর? তুমি কি আমাদের সাথে পার্টি তে যাবে?)

তখন দুজন-ই একসাথে বলে উঠে,

“We will have lots of fun, and you will like it too.” (আমরা অনেক মজা করবো এবং তোমার ও অনেক পছন্দ হবে।)

তিয়াশা ভীষণ বিব্রত হয়, পেছনে সরে গিয়ে বলে,

“I would really appreciate if you could tell me what would you like to order here?” (আমি খুব খুশি হবো আপনারা যদি আমাকে জানান আপনারা কি অর্ডার করতে ইচ্ছুক এখানে)

আফ্রিকান-আমেরিকান দুজন আরো মাতলামি শুরু করে দেয়। ঠিক তখন-ই পেছন থেকে একটি ছেলে কাউন্টার এর সামনে এসে একটু জোরে চিৎকার করেই বলে,

“I would like to talk to the manager, please. How long we will be waiting on line?” (আমি ম্যানেজার এর সাথে কথা বলতে চাই। আমরা এই লাইনে দাঁড়িয়ে আর কতক্ষন অপেক্ষা করবো?)

চেঁচামেচি শুনে অন্য এক কর্মকর্তা ম্যানেজারকে খবর দিলে কিচেন এর পেছনে অফিস রুম থেকে ম্যানেজার এলবাস ট্রয় বের হয়ে আসে এবং সেই ছেলেটির সামনের এসে বেশ ভদ্র ভাবে জিজ্ঞেস করে,

“Yes sir, tell me is there any problem? How can I help you?” (জ্বি জনাব, বলুন আপনার কি সমস্যা? কিভাবে আমি আপনাকে সাহায্য করতে পারি।)

তখন ছেলেটি ম্যানেজার কে উদ্দেশ্য করে তিয়াশা কে দেখিয়ে বলে,

“Would you please help this lady? I guess she is in trouble with those two men. Also all these people are waiting to order their food.” (আপনি কি দয়া করে মেয়েটিকে সাহায্য করবেন? আমার ধারণা তিনি ঐ লোক দুটোর কারণে কোনো ঝামেলায় পড়েছে। এবং আমরাও অপেক্ষা করছি আমাদের খাবার অর্ডার করার জন্য।)

ম্যানেজার এলবাস ট্রয় কাজে বেশ অভিজ্ঞ লোক।

খুব দ্রুতই সে বুঝতে পেরেছে কি হয়েছে এখানে।

তিয়াশারা সাথে সেই দুটো আফ্রিকান-আমেরিকানদের ব্যাবহার দেখে এবং ব্যাপারটি বুঝতে পেরে ছেলেটির কাছে দুঃখ প্রকাশ করে। তারপর তিয়াশা কে অন্য একটি কাউন্টার এ পাঠিয়ে সেই দুজন আফ্রিকান-আমেরিকান এর সাথে কথা বলা শুরু করে। এক পর্যায়ে কথা কাটাকাটি শুরু হলে ম্যানেজার ৯১১ এ কল করে পুলিশের সাহায্য চায়। ৯১১ এ কল করার ঠিক ৫ মিনিটের মধ্যে পুলিশ চলে আসে এবং অবস্থা দেখে সেই দুজন মাতালকে ধরে নিয়ে চলে যায়।

অন্যদিকে তিয়াশা তখন অন্যান্যদের খাবারের অর্ডার নিচ্ছিল। সবার অর্ডার নেয়া হয়ে গেলে তখন সেই ছেলেটি তিয়াশার সামনে এসে দাঁড়ায় এবং ঠোঁটে একটি মুচকি হাসি দিয়ে মজার ছলে বলে উঠে,

“Hi Tiyasha. It’s a very beautiful name.” (হাই তিয়াশা। এটা খুব সুন্দর একটা নাম।)

পর্ব ০৩ আসছে…

আগের পর্বের লিংক:

১. https://www.facebook.com/groups/golpopoka/permalink/915622528868467/

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে