নিশ্চুপ ভালোবাসা পর্ব-০৩

0
94

গল্পের নামঃ-#নিশ্চুপ_ভালোবাসা💕
লেখিকাঃ- আইদা ইসলাম কনিকা
পর্বঃ-০৩

দিহান বলে
—এই আদ্রিয়ান তুই কিছু বললি না কেন ঐ মেয়েটাকে? আদ্রিয়ান বলে
—চুপ নাপিত। তারপর সবাই ব্যস্ত হয়ে যায় দিহানের সাথে মজা করতে, কিন্তু ঐদিকে আধারকে নিয়ে দুজনের মনে চলছে দুই ধরনের ধারণা, দুজনের মনে হচ্ছে তাদের মনে বাজাচ্ছে ঘন্টা কিন্তু সেটা কিসের বুঝতে টাইম লাগলো না পাশেই একটা মন্দির ছিলো সেখানকার ঘন্টার আওয়াজ এর মানে তাদের মনের ঘন্টা না।

[বিদ্রঃহিহিহি কেসা লাগা মেরা মাজাক]

আধার আর তার দুই বান্ধবীরা বসে বসে ক্লাস করছিল, তখনই স্যার কে বলে প্রবেশ করে দিহান আর আশিক। আশিকে দেখেই মিম ভেংচি কেটে অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নিল। কিন্তু আধার খুঁজছে আরেকজন কে কিন্তু তার দেখা সে পেলো না। দিহান আর আশিক এসে স্যারকে কিছু বলে তারপর চলে যায়, তার একটু বাদেই স্যার বলতে লাগে

—-ভার্সিটি থেকে টুরে যাওয়া হবে সাজেক। সবাইতো সেই খুশি কিন্তু আধারের তাতে কোন মথা ব্যথা নেই,সে দিব্যি বসে আছে নিজের মতো। একটু পরই তাদের ক্লাস ওভার হয়ে যায়। তাই তারা ঠিক করে লাইব্রেরিতে যাবে, আধার আর তার বান্ধবীরা কথা বলছে আর হাটছে ঠিক তখনই আধার কারো পায়ের সাথে বেজে পরে যেতে চাইলে কেউ তাকে ধরে ফেলে। আধার চোখ মুখ খিচে বন্ধ করে ছিল তারপর ধীরে ধীরে চোখ খুলে দেখে, আদ্রিয়ান তাকে ধরে ফেলেছে। আদ্রিয়ান আধারকে ঠিক ভাবে দাঁড় করিয়ে বলে

—-তুমি মেবি পুষ্টির অভাবে ভুগো তাই যেখানে সেখানে পরে যাও তাই না। আধার বলে

—-ওও আপনি তো অনেক বুদ্ধি মান তা এতো বুদ্ধি কোথায় রেখে ঘুমান বালিশের নিচে, আমি খেয়াল করিনি, কারো পায়ের সাথে বেজে পরে যাচ্ছিলাম, বায়দা ওয়ে ধন্যবাদ। আদ্রিয়ান আঁধারের চশমাটা খুলে হাতে নিয়ে পরিষ্কার করতে করতে বলে

—-চশমা পড়া মেয়েরা কিউট হয় কিন্তু কানা তো আসলে কানাই। বলে আধারকে চশমাটা পরাতে গেলে আধার সেটা নিয়ে বলে

—-হ্যা আমি কানা আর আপনি আমার নানা হইছে খুশি মি.আদ্রিয়ান। বলেই চলে যেতে নিলে দিহান গান ধরে মারিয়াকে দেখে

—–খারুন লো.. তোর লম্বা মাথার কেশ

হিরো আলমের গান শুনাইয়া পাগল করলি দেশ
খাইরুন লো…খারুন লো… তোর লম্বা মাথার কেশ, মারিয়া বলে

—-নাপিত ভাইয়া তা আপনার সমস্যা কি একটু বলবেন,এমন কাকের মতো কাকা করে গান গাইছেন কেন? দিহান একভ্রু নাচিয়ে বলে

—-কিছু না আমার মাইন্ড আমার যা ইচ্ছা তাই গাইবো, কোনো সমস্যা তোমার? থাকলেও আমার কিছু যায় আসে না। মারিয়া একটা হাসি দিয়ে বলে

—-হ্যা ছিল এখন নেই কারণ কিছু সময় আগ পর্যন্ত ভাবতাম যে আপনি সত্যি নাপিত কিনা কিন্তু এতো গুলো মানুষের সামনে আপনি স্বীকার করলেন আপনি নাপিত তাই আমি কনফার্ম হলাম, যাই হোক এটা বলেন চুলকাটার ব্যবসা কেমন চলছে?

দিহান বুঝতেই পারেনি মারিয়া তাকে এমন ভাবে কথার জালে ফেলবে। সবাইতো মুখ চেপে হাসছে। আধারও সেম আর সেই হাসিতে চোখ আঁটকে যায় অনেকের, আধার বলে

—ভাইয়া আজ আসি অন্য কোনো দিন আপনার সেলুনে গিয়ে আপনার সেলুনটাকেও দেখে আসবো সাথে গল্পও করে আসবো। আশিক বলো

—-তোমাকে তো চুপচাপ ভেবেছিলাম এখনতো দেখি তুমি কথার রানি। আধার মুচকি হেসে বললো

—-সবসময় সব কথার জবাব দিতে নেই। তখনই মৌ আসে, এসে বলে

—-কি হচ্ছে এখানে এত ভির কেনো? মিম তো মৌকে সহ্যই করতে পারনে তাই বলে

—-মধু সংগ্রহ হচ্ছে তা আপনি নিবেন,মধু তো মৌমাছির খুব পছন্দের তাই না? সবাই এবার জোরেই হেসে দেয়, মৌ তো রাগে শেষ বলে

—–ইউ ইস্টুপিট সাট আপ। মিম বলে

—-ডাবল সাট আপ, আমাকে আধার পেয়ছন নাকি দশটা শুনে একটা বলবো। মৌতো চুপ আশিক বলে

—-বাহ বাহ বাহ তালিয়া তালিয়া। মৌ আশিকের দিকে রাগী চোখে তাকায় কিন্তু আশিক ডোন্ট কেয়ার ভাব নেয়, যার মানে তার কিছু যায় আসে না।

আদ্রিয়ান পরিস্থিতি ঠান্ডা করার জন্য বলে

—-তোমরা তোমাদের কাজে যাও আর মৌ তুইও যা, বলেই আদ্রিয়ান তার ফ্রেন্ডদের নিয়ে হাটা দিলো। আধার, মারিয়া, মিম লাইব্রেরি থেকে বেড়িয়ে আসে মাত্র তখনই একটা ছেলে আসে আধারের সামনে
ছেলেটা বলে

—-হায় আমি তিয়াস। নিজের হাত বাড়িয়ে দিয়ে কিন্তু আধার বলেই

—-হ্যালো আমি আধার। বলেই হাটা দিলো তিয়াসও ওদের পিছন পিছন আসছে, আধারা নিচে নেমে ভার্সিটির মাঠে চলে যায় কিন্তু তিয়াস পথ ছাড়তে নারাজ। তিয়াস পিছন থেকে ডাক দেয় বলে

—–এই আধার দাঁড়াও। আধারকে ডাকায় সবার নজর এখন তাদের দিকে। আধার বলে

—-জ্বি ভাইয়া বলুন। তিয়াস বলে

—-ভাইয়া বলো কেন? মিম বলে

—-ওকে তিয়াস কাকু,এবার ঠিক আছে? তিয়াস বলে

—-এই আমি তোমাকে কোন এঙ্গেলস থেকে কাকুর মতো লাগী? মারিয়া বলে

—আরে আরে ভুল বলছিস কেন, উনি তো আমাদের দাদু, তা দাদু ভালো আছো,এই বয়সে আমাদের পিছনে পিছনে যেই হাড়ে দৌড় দিয়েছ, ভালোই তো পারো। তিয়াশ খেপে গিয়ে বলে

—-তোমারা ২টাই ইস্টুপিট, পাগল তোমাদের সাথে কথা কেনো বলছি আমি? যাই হোক আধার তোমার নাম্বর টা দেয়া যাবে। আধারের অনেক খারাপ লাগছে তার সামনে তার বান্ধবীদের অপমান করা, সে বলে

—-হুম আমার সেভেন নাম্বার টা অনেক ভালো লাগে। তিয়াশ বলে

—সেটা না, আমি তোমার ফোন নাম্বর টা চেয়েছি

—- হুমমম অবশ্য, আই ফোন এইট প্লাস। তিয়াশ বলে

—-আরে ঐটা না আমি তোমাকে কল করবো কি ভাবে? সেটা বলছি। আধার বলে

—–আমার নাম ধরে। তিয়াশ বলে

—-ওকে ফাইন তোমার ফোনটা দাও আমি আমার নাম্বার দিয়ে দেই। আধার বলে

—-সরি আমি আমার ফিঙ্গার প্রিন্ট ভুলে গেছি বলেই হাটা দেয় আর দাঁড়ায় না। আর তিয়াশ তো বেকুব এর মতো দাড়িয়ে আছে। আর এইসব দেখে রাগ ফুসফুস করছে একজন ( সেটা কে গো? কেউ আইডিয়া করো, কিন্তু যাকে আইডিয়া করবা সে নাও হতে পারে আবার হতেও পারে) আধার মিম আর মিরায় গল্প করতে করতে আসছে, মিম বলে

— কিভাবে কথা ঘুরালি, আর তোর ফিঙ্গার প্রিন্ট তুই ভুলে গিয়েছিস। মারিয়া হাহাহাহা করে হেসেই যাচ্ছে। আধার ভার্সিটি থেকে বেড়িয়ে যাওয়ার সময় খেয়াল করে আদ্রিয়ান ওরা সবাই একসাথে বসে আছে আর গল্প করছে। কিন্তু আধার আর আদ্রিয়ানের চোখে চোখ পরলে, আধার সাথে সাথে চোখ সরিয়ে ফেলে। গেটের বাইরে যেতেই দেখে সেই বখাটে ছেলেরা। আধার কে দেখে তাদের পিছন পিছন হাটতে লাগলো আর গান ধরলো

—-চুমকি চলেছে একা পথে সঙ্গী হলে দোষ কি তাতে? একটা ছেলেতো আধারের ব্যাগ ধরেই টান দেয় আধার এবার রেগে গিয়ে ঘুরে একটা লাগায় চড় ছেলেটা গাল হাত দিয়ে আধারের দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আর আধারকে একটা চড় বসিয়ে দেয় আধার তাল সমলাতে না পেরে নিচে পরে যায় ফলে হাতে ছিলে আর কপালের ভ্রুর দিকে অনেকটা কেটে যায়। মিম রেগে গিয়ে তেড়ে যায় নিজের জুতা হাতে নিয়ে

—-বাসায় মা বোন নাই তো, তাই না জুতার বারি খেলে রাস্তা ঘাটে আর মেয়েদের অসম্মান করবি না। মিমের চিৎকারে কেম্পাসের অনেক স্টুডেন্ট রা বাইরে চলে আসে, আর মারিয়া আধারকে ধরে বসে আছে। আদ্রিয়ান ওরা এসে বলে

—-কি হয়েছে, আধার কে দেখে বলে ওহহ তুমি আবার পরেগেছে? আধার রেগে গিয়ে উঠে দাড়িয়ে বলে

—-আপনি না জেনে কথা বলেন কেন? মেয়েদের যে ভার্সিটি বাইরে হেনস্তা করা হয় সে খবর কি আপনি জানেন না? সকালেও করেছে ইভান এখন তো আমার ব্যাগ ধরে টান দিয়েছে তাই আমি চড় দিয়েছিলাম আর সে সেটা আমাকে রিটার্ন বেক করেছে। ভার্সিটির বড় ভাইনা আপনারা আপনাদের তো এইসব জানা উচিত। ছেলেগুলো তো ভয়ে কাপছে। তখনই তিয়াশ এসে একটা ছেলেকে চড় বসিয়ে দিয়ে বলে

—-কে করেছে এমন? বল আমাকে। আধার বলে

—-ধন্যবাদ। শুনে ছিলাম বাঘের সাথে থাকলে শিয়ালের ও সাহস বেড়ে যায় তা আজ দেখেও নিলাম। বলেই আদ্রিয়ানকে একবার পা থেকে মাথা পর্যান্ত দেখে রাগে মুখ ফিরিয়ে হাটতে লাগলো। আর তিয়াশ বলে

—-এখানে যদি তোদের দেখেছি আবার ভাগ।

ছেলেগুলো দৌড়ে পালায়। আধার আর মিম ওরাও বাসে উঠে চলে যায় রুমাল দিয়ে রক্ত গুলো পরিষ্কার করছিল আধার আর চোখ টলমল করছিল রাগে। বাসায় গিয়ে সোজা নিজের রুমে চলে যায় আর সারাদিনে রুম থেকে বের হয় নি। তার মা খেতে ডাকলে

—-সে বলে তার মাথা ব্যাথা। তাই আর জোর করেনি, মারিয়া আর মিমও কিছু বলেনা নয়তো আধারের মা কান্না কাটি করতে লাগবে, কারণ আধার তার কলিজা।

অপর দিকে গোডাউনে চেয়ারে এক হাত পা বাঁধা অবস্থা বসে আছে সেই ছেলেটি আর আরেক হাত টেবিলে রেখে ছুরি দিয়ে গেম খেলছে একজন। পরনে তার কালো হুডি মুখে মাস্ক সাথে তার আরো অনেকে। ছেলেটা ভয়ে একাকার, কালো মাস্ক পরা ব্যক্তি গেমের গতি বাড়িয়ে দিলো। আর ছেলেটা ভায়ে উমম উমমম করছে। এক পর্যায়ে ছেলেটার হাতে গেথে দিল ছুরিটা সে উমমমমম করে কান্না করছে। মাস্ক পরা ব্যক্তিটা উঠে দাড়িয়ে ইচ্ছে মতো কয়েকটা চড় বসায় আর বলে

—-তুই, আধারের দিকে বাজে নজরে তাকিয়েছিস তোর চোখ আমি তুলে নিব,তুই ওকে এই হাত দিয়ে মেরে ছিলি না? বলেই হাতটা ধরে মুচড়ে ভেঙে দেয়। ছেলেটা ব্যাথায় কাতরাচ্ছে আর চিৎকার করার চেষ্টা করছে আর এইসব দেখে তার সাথে থাকা অন্য সবাই ভয়ে শেষ, কারণ এর আগে তাকে কেউ এইভাবে রাগ তে দেখে নাই। এতেও যেনো সে শান্তি পেলো না, আশেপাশে কিছু খুঁজতে লাগে পরে দেখে একটা বাশ পেয়ে সেটা নিয়ে ইচ্ছে মতো মারে সে সেই ছেলেটাকে। তারপর বলে

—-এই এটাকে সরা আমার সামনে থেকে নয়তো জানে মেরে ফেলবো বলেই পা দিয়ে দেয় আরো কিছু লাথি মারে। একজন এসে তাকে শান্ত করে ছেলেটাকে নিয়ে যায়,আর সে বলে
—আজকের পর যে আধারের দিকে তাকাবে চোখ তুলে মার্বেল খেলবো। বলেই গোডাউন থেকে বেড়িয়ে গেলো।

চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here