নিমাইদা পর্ব : ৫

0
853
নিমাইদা পর্ব : ৫ গল্পবিলাসী : নিশিখাওয়া দাওয়া শেষ করেই রওনা হয়েছে রফিক রেহমান আর আসমা রেহমান। বেয়াইন সাহেবা যে মেয়ে দিতে নারাজ তার চাহনিতেই বুঝতে পেরেছেন রফিক রেহমান।হওয়াটাও স্বাভাবিক। কোনো মা ই চায়না তার মেয়ে কষ্টে থাকুক। শুধুমাত্র মায়া নামক কীটটার কারনে পুরো সংসারটা ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে গিয়েও আল্লাহর রহমতে বেচেঁ গেছে। মনেমনে আল্লাহর দরবারে হাজারো শুকরিয়া জানিয়ে বাহিরের পানে তাকালেন তিনি। কি একটা ভূল করতে যাচ্ছিলেন তিনি। ভেবেই কেঁপে উঠলো আসমা রেহমান। এতো লক্ষি একটা মেয়েকে কি সব বাজে বাজে কথা শুনাতে একটু ছাড় পর্যন্ত দেননি তিনি।কিন্তু আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো বিয়ের পর থেকে এতো কথা শুনিয়েছেন ঋতুকে ফিরিয়ে একটা জবাবও দেয়নি। সীমান্তের পাশে বসে তার বুকে পিঠ ঠেকিয়ে শরীরের পুরো ভরটাই ছেড়ে দেয় ঋতু।সীমান্ত তাকিয়ে আছে ঋতুর দিকে। -‘কি হলো খাবে কখন? ‘ -‘ইচ্ছে করছেনা। ঘুমাবো। ‘ ধাক্কা মেরে উঠিয়ে,
-‘ বাহানা কম করো। দেখি উঠো।’ -‘ প্লিজ খেতে ইচ্ছে করছেনা। ‘ -‘কোনো কথাই শুনছিনা আমি।’একপ্রকার জোড় করেই ঋতুকে খাইয়ে দিয়ে সীমান্ত নিজেও কিছুটা খেয়ে নিলো। হাত ধুয়ে এসে -‘ কি করছো তুমি?’ – ‘বিছানা গুছাচ্ছি। ঘুমাবো।’ টান মেরে উঠিয়ে -‘ঘুমানোর জন্য এখানে নিয়ে আসিনি আপনাকে ওকে? আমি চলে যাওয়ার পর থেকে গতকাল অব্ধি ঠিক কি কি হয়েছে সব বলতে হবে তোমাকে। আর এক্ষনি। ‘সীমান্তর দিক অবাক হয়ে তাকিয়ে -‘তুমি কি এজন্য এখানে এসেছো? ‘ -‘হ্যা এজন্যই এসেছি। আর এক্ষনি বলবে। ‘ -‘শুধু শুধু অতীত ঘেটে কি পাবে তুমি? আজাইরা প্যাঁচাল শুধু। ‘ -‘দেখো তোমার ফালতু লেকচার শোনার ইচ্ছে আমার নাই। কাজের কথায় আসো।’ ঋতু মুখ ফিরিয়ে অন্যপাশে তাকালে আবারো তার মুখোমুখি করে -‘ হ্যালো মেম আমি এখানে ওইখানে না। দেখো ঋতু আমি এখনো ভালোভাবে বলছি আর নয়তো আমার মেজাজ সম্পর্কে তোমার জানা আছে নিশ্চয়ই ।তুমি নিশ্চয়ই চাওনা আমি এই রাতের বেলা সবাইকে ডেকে এনে সব কাহিনী শুনি। ভালো থাকতে বলো আর নয়তো আমি এমন ব্যবস্থাই করবো। সেদিনতো গাড়িতে ইচ্ছেমতো চেঁচালে এখন চুপ হয়ে আছো কেনো?’ ঋতুকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে -‘ আমি তোমার মুখ থেকে সবটা শুনতে চাই। এমন কি হলো তুমি সেপারেশনে চলে গেলে?’ -‘ কিহ? আমি সেপারেশনে গেছি? নাকি তুমি দিয়েছো?’ -‘আমি? কখন? ‘ -‘ ভিসিটিং ভিসায় দেশে দেশে ঘুরে বেড়াও। সবসময়ই যাওয়ার সময় আমাকে জানায় গেছো। কিন্তু ইউরোপ যাওয়ার সময় কেনো আমি জানলাম না? এমনকি যাওয়ার পনেরো দিনেও তোমার বিন্দু মাত্র খোজ নাই। জানায় যাওনি সেটা তোমার ব্যাপার আর দোষ হলো আমার? আমি তোমাকে ভালোবাসিনা বলেইতো আমাকে জানানোর দরকার মনে পরেনি। ‘ -‘আমি সেখানে গিয়ে ঝামেলায় পরে গিয়েছিলাম। কল করে জানানোর মতো কোনো স্কোপ ছিলোনা।’ -‘ সেটাতো তোমার মা বুঝেনি। দোশ আমার। আমি তোমাকে ভালোবাসতেই জানিনা আর তাই আমাকে কিছুই জানাও না। তোমার খুজঁ নাই এমনিতেই পাগলপারা তার মধ্যে আছে তোমার মামাতো বোন সব নষ্টের মূল।আমার সোনার সংসারে আগুন দিয়েছে সে। এসে বিষ ঢেলেছে তোমার মায়ের কানে। আমাকে নাকি তুমি ভালোই বাসোনা। তাকে ভালোবাসো।আর তার প্রমান তোমার সাথে কতো ক্লোজ ক্লোজ ছবি। এমনিতেই মা আমাকে পছন্দ করেনা হলো তার আরো সুযোগ। দুদিন পর শুনি তোমাদের বিয়ের কথাও নাকি চলছে। ‘ -মায়ার সাথে বিয়ের কথা? পাগল হয়ে গেছো তুমি? আমি দেশে নাই আর আমার বিয়ে?’ -‘আমি পাগল না। পাগল তোমার মা। সে নিজেই বলেছে আমাকে। আমি টাকা দেখে ঝুলে পরেছি তোমার গলায়। এমনকি তোমাদের বিয়ের কার্ডও আমার বাসায় দিয়ে আসছে। আমার কাছ থেকে মুক্তি চাও বলেই দেশে দেশে ঘুরে বেড়াও। আমাকে ভালোইবাসতে পারোনাই। এভাবে প্রায় পনেরো দিন কেটেছে উঠতে বসতে মা আমাকে কতো কতো কথা শুনিয়েছে আমি বলে বুঝাতে পারবোনা।তবুও গায়ে নেইনি এই ভেবে ছেলেকে কাছে না দেখে হয়তো মন খারাপ। আর মায়াতো ছিলোই আমাকে বের করার জন্য। প্রতিদিন সকাল বিকাল এসে মাকে কি জানিয়েছে কি বলেছে আমি নিজেও জানিনা। একদিন হঠাৎ করেই মা আমাকে বলে আমি ‘ বলেই কাদঁতে লাগলো ঋতু। -‘কি বলেছে মা তোমাকে? ‘ -‘আমি রাস্তার বেশ্যা মেয়ে। আমি জানিনা মা কেনো আমাকে বলেছে। সেদিনই জিজ্ঞাসা করেছিলাম মা আমি এমন কি কাজ করেছি আপনি আমাকে এতোটা নিচু ভাবতে পারলেন। একবার না দুইবার না কম করে হলেও সারাদিনে বিশবারের বেশি জিজ্ঞাসা করেছি কিন্তু কোনো উত্তর পাইনি। মা আমার হাতের রান্না খায়না আমি অপবিত্র। তবুও সহ্য করে যাচ্ছি এই ভেবে তুমি এসে সব ঠিক হয়ে যাবে। ঘন্টার পর ঘন্টা তোমার ফেইসবুক, হোয়াটস্যাপ, ভটিম, স্কাইপি কোথায় না খুঁজেছি কিন্তু পাইনি। কোথাও পাইনি।
কিন্তু সেদিনই একেবারে ভেঙে পরি যেদিন লয়ার এসে আমার কাছে সেপারেশন ধরিয়ে দেয়। বিশ্বাস করো পুরো আকাশটাই মনে হয়েছিলো আমার মাথার উপর ভেঙে পরেছে। নিজেকে শান্ত রেখে ওনাকে বললাম যে হয়তো আপনাদের ভূল হচ্ছে। কিন্তু না। ওনার কথানুযায়ী তুমি আমার সাথে থাকতে চাওনা। আমার বাপ চাচাদের প্রভাবে দেশে থেকে ডিভোর্স দিতে সমস্যা। তাই সেখান থেকেই দিয়েছো। মোবাইলের ভিডিও করে সব জানিয়েছো। আমি কিছুতেই বিশ্বাস করছিলাম না তখন ওনি তোমার কিছু নিজেই তোমার ভিডিও আমাকে দেখায়।নিজের কানকেই বিশ্বাস করাতে পারছিলাম না। নিজের কাছে নিজেকে তুচ্ছ মনে হচ্ছিলো। বারবার শুধু মনে হচ্ছিলো এটা হওয়ার আগে কেনো মরে যাইনি। আমি যখন চিৎকার করে কেঁদে উঠি মা চলে আসে। ব্যাস সব হয়েই গেলো। মায়া ও তখন এই বাসায় ছিলো। মা এসে লয়ারের মুখ থেকে সব শুনে গেইট থেকেই আমাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। একটা বার আমাকে জিজ্ঞাসা করেনি কি হয়েছে। আমি বাবার বাসায় যাওয়ার আগেই অই লয়ারের কাছে যাই। কিন্তু কিছুতেই দেখা করতে পারছিলাম না। ওনি ব্যস্ততা দেখিয়ে কেটে পরেন।বাসায় এসে বাবাকে সব খুলে বললে বাবা পুলিশকে জানাতে চাইলো। আমি না করি আমি নিশ্চিত ছিলাম কিছু একটা চলছে এখানে। কিছুদিনের জন্য চুপ থেকে একদিন টাকা অফার করে লয়ারের কাছ থেকে সব সত্য জানতে পারি।’ -‘কি সত্য? ‘ -‘মায়া।’ -‘মায়া? ‘ -‘ হ্যা মায়াই ছিলো সব। এই পুরো ঘটনাটা সাজিয়েছে মায়া। লয়ার মায়ার কথায় সেপারেশন টেনেছে। সব মিথ্যা ছিলো। আমার বিশ্বাস ছিলো এতোটা খারাপ আমি নই যে আমাকে তুমি ডিভোর্স দিবে। পুরো বিশ্বাস ছিলো তোমার উপর। বাবা একদিন বললো তোমার লাস্ট কল চেক করে অবস্থান ছিলো এয়ারপোর্টে। সেদিনের সব চেক করতেই জানতে পারলো ভিসিটিং ভিসায় ইউরোপ চলে গেছো তুমি।আমি তোমার অপেক্ষায় ছিলাম। শুধু তোমার। আমি জানতাম তুমি এলে সব ঠিক হয়ে যাবে। ঋতুর কথা শেষ হতেই ঋতুকে কাছে টেনে বুকে জড়িয়ে সারা মুখে চুমুর বন্যা বইয়ে দিলো। এতো বিশ্বাস তার উপর ঋতুর। আর সে কিনা এই বিশ্বাসের মূল্যই দিতে জানলোনা। ঋতুর চোখের পানি মুছে দিয়ে -‘আম সরি বাবু। বিশ্বাস করো আমি কিছুই জানিনা। সত্যি বলছি কিছুই জানিনা।’ঋতুকে গভীর ভাবে জড়িয়ে ধরে সীমান্ত। আর শুনতে ইচ্ছে করছেনা তার।একটা মেয়ে কতোটা ভালোবাসলে এতো কঠিন পরিস্তিতিতেও নিজের স্বামীকে বিশ্বাস করে টিকে থাকতে পারে। চলবে,,,,,


( প্রিয় পাঠক আপনাদের যদি আমার গল্প পরে ভালোলেগে থাকে তাহলে আরো নতুন নতুন গল্প পড়ার জন্য আমার facebook id follow করে রাখতে পারেন, কারণ আমার facebook id তে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গল্প, কবিতা Publish করা হয়।)
Facebook Id link ???
https://www.facebook.com/nishe.ratri.9809

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here