নিমাইদা পর্ব : ২

0
949
নিমাইদা পর্ব : ২ গল্পবিলাসী : নিশি-‘লিসেন মি সীমান্ত মেহরাব।ঃ ঋতুর হাত ধরে কাছে টেনে -‘ ইয়েস। আম লিসেনিং ডিয়ার।’রেগে হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে বাহিরের দিক ইশারা করে, -‘ চলে যান এই বাসা থেকে। আর নয়তো আমি পুলিশ ডাকবো। ‘ -‘ডাকো। কে কি করবে? আমার শ্বশুর বাড়ি। আমার বউ। কি করবে এসে আমিও দেখতে চাই। ‘বলে খাটে গিয়ে শুয়ে পরলো। খাটের দিকে এগিয়ে গিয়ে -‘ আপনি হয়তো ভূলে গেছেন আমার আর আপনার সেপারেশন চলছে। আর মাত্র এগারো দিন পরেই দুজনের পথ আলাদা। আলাদা হবে বৈকি হয়েই তো আছি। আপনি আপনার রাস্তা মাপুন।’ -‘ সেপারেশনের গুল্লি মারি আমি। দেখবো কেমনে না যাও তুমি।’ -‘ হ্যা আপনারা যা খুশি করতেই পারেন। টাকা আছে আপনাদের এতো এতো। মানুষকে মানুষ মনে হয়না আপনাদের। আর তাই যেভাবে খুশি নাচাতে পারেন। এখন ইচ্ছে হয়েছে তো বুকে টেনে নেন আর ইচ্ছা না হলে ছুড়ে দুরে ফেলে দেন। ‘ সীমান্ত উঠে ঋতুর দিকে এগিয়ে এসে,
-‘প্লিজ বাসায় চলো ঋতু। মা ভূল করেছে তাতো স্বীকার করেই নিছে। আমিও চলে এসেছি। আর জীবনেও যাবোনা। পাক্কা প্রমিজ। প্লিজ বাসায় চলো। ‘ কিছু না বলে দরজা খুলে বেরিয়ে যায় ঋতু। ড্রইংরুমে আসতেই রাগ যেনো দ্বিগুণ হয়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো।কিছু বলতে যাবে তখনি, -‘দেখ ঋতু। মানুষ মাত্রই ভূল। বেয়াইন সাহেবা কত ভালো মানুষ দেখলি? নিজের ভূল বুইঝা আবার তোরে নেয়ার লাইগা কেমনে আসছে। তোর ভাগ্যটা অনেক ভালো। বড় ভাগ্য লাগেরে এমন শ্বাশুড়ি পাইতে। যা ওদের লগে ফিরা যা। ‘বলে পান চিবুতে চিবুতে রান্না ঘরের দিকে পা বাড়ালেন বড় চাচ্চি। রাগে পুরো শরীর নিশপিশ করছে। ডায়নিংয়ে একটা চেয়ার ধরে দাঁড়িয়ে আছে ঋতু। -‘কি ম্যাম কেমন লাগছে এখন? কাম হোগায়া না। ‘ঋতু তাকাতেই চোখ টিপ মেরে একটা হাসি দিয়ে প্যান্টের পকেটে দুহাত ঢুকিয়ে শিষ বাজাতে বাজাতে ড্রইংরুমে পা বাড়ালো সীমান্ত। ডায়নিংয়ে ডিশ রাখতে এসে ঋতুকে দেখে ছোট চাচি, -‘ ও ঋতু তোর কাছেই যাচ্ছিলাম। বলছি যে জামাই কি ইলিশ মাছ খাবে? নাকি রূপচাঁদা করবো?’ মনেমনে -‘বিষ দাও খেয়ে মরুক। আর আমি উদ্ধার হই। ‘ কিছুনা বলে সোজা বাবার রুমে এলাম।এদের সাথে কথা বলে কোনো লাভ হবেনা। উল্টা জ্ঞানই দিবে কিছু শুনবেনা।কিছুই ভাল্লাগছেনা। ওরা আগে থেকেই সব প্ল্যান করে এসেছে।চৌদ্দগুষ্টির মাথা খেয়েছে নিশ্চয়ই।বাবাতো চাচ্চুদের কথা কখনো বরখেলাফ করেনা।সেটা আগে থেকেই জানে সীমান্ত। আর সেই সুযোগটাকেই কাজে লাগিয়েছে সে। আগে থেকেই যোগাযোগ করে রেখেছে আসবে এখানে।তাইতো আসার সাথে সাথেই হুমরী খেয়ে এসে পরেছে বাসায়। সবার সামনে গিয়ে নিশ্চয়ই নেকা কান্না জুড়েঁ দিয়েছে। পুরোবাড়ি মানুষে গমগম করছে।যেনো সেই আবারো দেখতে আসা আক্দ অনুষ্টানের মতো। নিজেকে বড্ড অসহায় মনে হচ্ছে। হঠাৎ কারো উপস্থিতি টের পেয়ে চোখগুলো মুছে নেয় ঋতু। -‘কি রে এখানে তুই? আর তোর মা তোকে খুঁজছে। ‘ -‘এইতো বাবা যাচ্ছি।’বেড়িয়ে যেতে নিলে -‘ঋতু শোন। ‘ -‘ হ্যা বাবা। কিছু বলবে? ‘ -‘এদিকে আয়। ডেকে পাশে বসিয়ে, মারে! সংসার খুব কঠিন একটা জিনিস। এটা সামলানো কোনো সামান্য কাজ না। আর সংসারে টুকটাক কথা কাটাকাটি সবসময়ই হয়। তাই বলে কি মানুষ সংসার করা ছেড়ে দিবে? ছাড়বেনা। দেখ মা। আমি জানি তোর কোনো দোষ ছিলোনা। সব দোষ বেয়াইনের। সে নিজেও স্বীকার করছে।নিজের ভূলের জন্য তার ছেলের সংসার ভাঙতে চলছে এই যন্ত্রনা তাকে কুড়েঁ কুড়েঁ খাচ্ছে। তাছাড়া সীমান্ত নিজেই তো সব ঝামেলা শেষ করছে। তাই আমি চাইছিলাম তুই যা। তুই গিয়ে নিজের সংসার সামলে নে। বেয়াই বেয়াইন এতো করে বলছে। তোর সব চাচারাও চাইছে তুই সুখে সংসার কর।আজকাল আমাদের সমাজে ডিভোর্সিদের কেমন নজরে দেখে তা তুই খুব ভালোভাবেই জানিস। কখনো দেখবেনা মেয়েটার দোষ নাকি ছেলেটার।কিন্তু ওরা গাইবেই। ভালো হলে কি ডিভোর্স দেয় নাকি। এমন সমালোচনা করেই যাবে। আমি চাইনা আমার মেয়েটাও কারো মুখে উপহাসের স্বীকার হোক। ‘ফ্লোরে একমনে তাকিয়ে কথাগুলো শুনছিলো ঋতু। কি করা উচিত সে নিজেও জানেনা। বাবাতো ভূল কিছু বলেনি নিজ চোখেই অনেক ডিভোর্সিকে দেখেছে সে। সবার চোখে মুখে উপহাসের পাত্রী। সামনে আদিক্ষেতা দেখালেও পিছনে ঠিকই নাচানাচি করে বেড়াবে। ইতিমধ্যে তাকে নিয়েও অফিসে কানাঘুষা চলছে। মামার অফিস হলে কি হবে? আমরা বাংলার মানুষ। অন্যের সমালোচনা করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। ঋতুকে চুপ থাকতে দেখে, -‘ এখন তুই কি বলিস?তুই যাবি? নাকি আমি উকিলের সাথে কথা বলবো? ভেবে কাজ করিস কিন্তু। মনে রাখিস এইটা কোনো পুতুলখেলা না। সারাজীবনের ব্যাপার। আমি তোর মতামত চাইছি। কেনোনা আমি দ্বিতীয় বার আর কোনো ভূল করতে চাইনা। তোর মন কি চায় তুই সেইটা প্রাধান্য দিবি। ‘ -‘বাবা আমি জানিনা। আমি বুঝতে পারছিনা কি করা উচিত আমার। সমাজ বলো সংসার বলো আমার থেকেও তুমি বেশি ভালো বুঝো। আমি সত্যিই বুঝতে পারছিনা আমার কি করা উচিত।তবে হ্যা আমি তাদের করা ব্যবহার গুলো কোনোভাবেই ভূলতে পারছিনা। আমি জানিনা কখনো ভূলতে পারবো কিনা। ‘ -‘ আচ্ছা তুইতো সাইকেলিং করতে বেশি পছন্দ করিস তাইনা? ‘ -‘হ্যা কেনো?’
-‘ আচ্ছা তোর মনে আছে? তোর দাদুর বাড়িতে সাইকেলিং শিখতে গিয়ে পায়ে কিভাবে ব্যাথা পেয়েছিলি? তারপরও তুই নাছোড়বান্দা। সাইকেল চালানো তোর শিখতেই হবে।কয়েকবার ব্যাথা পেয়েও কিন্তু সাইকেল চালানো শিখেছিলি। এখন কিন্তু তুই খুব ভালো সাইকেল চালাতে জানিস। ভূল বলেছি কিছু? ‘ -‘নাহ।’ -‘ ঠিকতো? এইটা ভালোভাবে খেয়াল কর। দেখ ব্যাথা পেয়েই কিন্তু তুই সাইকেলিং শিখেছিলি। ঠিক এইভাবেই সংসারটাতেও জয়ী হয়ে নিতে হবে।তবে পার্থক্য আছে। আকাশ পাতাল পার্থক্য। সাইকেলিং ছিলো তোর শখ আর এখানে শখ না এখানে বাধ্যতামূলক। আর এই সংসার সাজাতে গুছিয়ে নিতে কোনো শখ না দরকার লাগবে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, স্নেহ। জিদ দিয়ে সংসার গড়া যায়না।’ কিছুক্ষন চুপ থেকে -‘ তুই যদি বলিস তুই ঐবাড়িতে যাবি কি যাবিনা আমাকে মতামত দিতে। আমি বলবো অবশ্যই তুই যাবি।তোর মূল্যটা ঠিক কতোটুকু তুই তাদের বুঝিয়ে দিবি।যে হাত দিয়ে ধরে তোকে বাসা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে ঠিক সেই হাত দিয়েই তোকে বুকে টেনে নিবে। সেটা অনেক সাধনার ফল। মনে রাখিস, কষ্ট করলেই কেষ্ট মিলে।’ বাবার দিক তাকিয়ে, -‘বাবা এতো ভালো কেনো তুমি? এতো সুন্দর করে কিভাবে বুঝাও? বাবা আমি এতোগুলো দিনে অনেক ভেবেছি। একবারও পজেটিভ ভাবতে পারিনি। শুধু নেগেটিভ ভাবনা এসে হামলে পরে।বারবার শুধু এটাই মনে হচ্ছিলো আমরা সেপারেশনে আছি। আমার শ্বাশুড়ি আমাকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছে। নিজেকে নিকৃষ্টতম মনেহয়।’ -‘ তুই আমার মেয়েতো তাই সব পারবি।’ -‘ আমি যাবো বাবা। আমি তোমার সব গুলো কথা মানতে চেষ্টা করবো।চেষ্টা না ইনশাল্লাহ আমি মানবো।’ -‘ এই না হলে আমার মেয়ে। আচ্ছা চল দেখি বাহিরে কি অবস্থা।’ -‘ হ্যা চলো। ‘ বাবার সাথে সমান তালে পা মিলিয়ে ড্রইংরুমে এসে বাবাকে বসতে বলে একটা বড় নিঃশ্বাস ফেলে মনেমনে ভাবতে লাগলো, -‘মুখে বললেও মেনে নিতে কি আদৌ পারবে সে? সীমান্তকে দেখলেই কেমন সব মনে পরে যায়।কিভাবে থাকবো একসাথে।?’ ড্রইংরুম থেকে বেরিয়ে নিজের রুমে পা বাড়ালো ঋতু। ক্ষিদায় পেটে ঘূর্ণিঝড় বয়ে যাচ্ছে। রুম থেকে সফট মিউজিক ভেসে আসছে। ভ্রু কুঁচকে দ্রুত পা চালিয়ে রুমে এলো।
-‘ বাহ কি কেয়ারলেস বউ আমার। জামাই ঘরে রেখেই উধাও। কই একটু জামাইর সেবা করবে আদর সোহাগ করবে উল্টা কই হারাই গেলে।’ লেপটপের স্ক্রিনে তাকিয়েই বলে উঠলো সীমান্ত। সামনে গিয়ে ঠাস করে লেপটপটা বন্ধ করে দিলো ঋতু। -‘কারো পার্সোনাল জিনিসে হাত দেয়ার আগে পার্মিশন নিতে হয়। এই মিনিমাম সেন্সটুকুও কি নেই তোমার?’ -‘ আমার সেন্স অফ হিউমার খুব কম তবে রোমেন্স এ ভরপুর বলেই হাত ধরে টেনে বুকের উপর ফেলে দেয়। আচমকা এমন একটা কাজে কোনোরকম প্রস্তুত ছিলোনা ঋতু। চলবে,,,,


( প্রিয় পাঠক আপনাদের যদি আমার গল্প পরে ভালোলেগে থাকে তাহলে আরো নতুন নতুন গল্প পড়ার জন্য আমার facebook id follow করে রাখতে পারেন, কারণ আমার facebook id তে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গল্প, কবিতা Publish করা হয়।)
Facebook Id link ???
https://www.facebook.com/nishe.ratri.9809

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here