গল্প:-লাভ_স্টোরি_Session_2 পর্ব:-(৯)

0
653

গল্প:-লাভ_স্টোরি_Session_2 পর্ব:-(৯)
লেখা_AL_Mohammad_Sourav

!!
কি করছে মেয়েটা এভাবে নিজের হাত নিজে কখনো কাটতে পারে কেও? তারা তারি করে তসিবাকে কোলে তুলে নিলাম। বাসার বাহিরে নিয়ে যেতেছি তখন তসিবার মা বাবা দুজনে আসছে তসিবাকে আমার কোলে দেখে। তখনি,,,,
শ্বশুড়: সৌরভ বাবা তসিবার কি হয়ছে তসিবার হাত কাটলো কি করে?

আমি: আঙ্কেল আমি কিছু বলতে পারছিনা। একটু আগে তসিবার সাথে আমার কথা কাটা কাটি হয়ছে। তারপর আমি তসিবাকে একটা থাপ্পড় দিয়ে বাহিরে গেছি। আর এখন বাহির থেকে এসে দেখি তসিবা রুমে দরজা বন্ধ করে আছে। আমি দরজা ভেঙে রুমে ঢুকে দেখি তসিবা নিছে পড়ে আছে।

শ্বাশুড়ি: তুমি তসিবাকে থাপ্পড় মারতে গেলে কেনো? এত বড় সাহোস হলো কি করে তোমার?
আমি: প্লিজ আন্টি এখন তসিবাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেন যা বলবেন পড়ে বলেন।
শ্বশুড়: ঠিক আছে তারা তারি করে নিয়ে যায় চলো।
আমি: হ্যা চলেন তসিবাকে আমি কোলে করে গাড়ীর সামনে নিয়ে আসলাম। তসিবাকে গাড়ীর ভীতরে বসালাম ওর আব্বু ওকে ধরে বসে আছে। আমি সামনে বসে গাড়ীটা চালাচ্ছি তসিবার দুষ্টমি গুলো খুব মনে পড়ছে। তসিবা এমনটা করবে আমি ভাবতে পারছিনা একটু পর পর গাড়ীর লোকিং গ্লাসটা দিয়ে তসিবার মুখটা দেখছি। তসিবার চেহারেটা একদম ছোট হয়ে গেছে,, ৩০ মিনিট পড়ে কুমিল্লার সদর হাসপাতালে আসলাম। তসিবাকে কোলে করে নিয়ে হাসপাতালের ভীতরে ডোকলাম। তারা তারি করে তসিবাকে কেবিন রুমে নিয়ে গেলো। ১০ মিনিট পড়ে ডাক্তার বেড়িয়ে এসে বলে।
ডাক্তার: AB+ পজিটিভ রক্ত লাগবে। আপনারা তারা তারি করে রক্তের ব্যাবস্তা করেন।
আমি: এখন রক্ত পাবো কোথায়? আপনাদের হাসপাতালে রক্ত নেই? থাকলে আপনি রক্ত দেন যত টাকা লাগে আমি দেবো।
ডাক্তার: দেখুন আমাদের এখানে কোনো রক্ত নেই। থাকলে আমি প্রথমে দিয়ে দিতাম। তখনি একজন বলে রক্ত আমি দেবো ডাক্তার। আমি তাকিয়ে তো অবাক আরে ও এখানে কি করছে?

শ্বশুড়: রানা তুমি দেবে তসিবাকে রক্ত?
রানা: আমি দেবো। তবে আমার সৌরভের সাথে কিছু কথা আছে।
আমি: হ্যা বলেন কি কথা বলবেন?
রানা: আপনি আমার সাথে একটু এদিকে আসেন।
ডাক্তার: তারা তারি করেন কারন রুগির অবস্তা বেশি একটা ভালোনা।
আমি: রানা তুমি যা বলবে পড়ে বলো। আমি তোমার সব কথা শুনবো প্লিজ তুমি তসিবাকে রক্ত দাও।
রানা: দুই মিনিট সময় লাগবে ডাক্তার সৌরভ আসেন আমার সাথে।

আমি: হ্যা,, চলেন রানা আমাকে একটু দূরে নিয়ে গেলো।রানা বলো কি বলবে?
রানা: আমি তসিবাকে রক্ত দিতে পারি তবে একটা শর্ত আছে।
আমি: বলো কি শর্ত?
রানা: তসিবার জীবন থেকে তোমাকে চলে যেতে হবে। আর তসিবাকে ডির্ভোস দিতে হবে। কারন আমি তসিবাকে অনেক ভালোবাসি। আর তসিবা আমাকে ভালোবাসে তুমি রাজি আছো।

আমি: কতক্ষন ভেবে বললাম। রানা তুমি যা চাও তাই হবে। তবে একটা রিকুয়েস্ট আছে। সেইটা হলো তসিবা সুস্থ হলে আমি চলে যাবো।
রানা: ঠিক আছে।
আমি: চলো এখন।রানা গিয়ে তসিবাকে রক্ত দিলো তারপর তসিবার হাতে ডেসিং করে দিলো। সারা রাত তসিবা অজ্ঞান ছিলো। আমি তসিবার পাশে বসে ছিলাম সকালে তসিবার জ্ঞান ফিরছে। আমি ডাক্তারকে ঢেকে আনছি।
ডাক্তার: ওনি এখন অনেকটা সুস্থ আছে। আপনারা চাইলে আজকে ওনাকে বাসায় নিয়ে যেতে পারবেন।
আমি: ঠিক আছে ডাক্তার। ডাক্তার চলে গেলো। আমি তসিবার বাবা মা কে কল করে বলছি তসিবার জ্ঞান ফিরছে। আমি একটু তসিবার পাশে বসেছি,,

তসিবা: আমি মরে গেলে অনেক ভালো হতো তাই না। আপনি প্রিয়াকে বউ করে নিয়ে আসতেন।
আমি: প্রিয়াকে বউ করে আনতে হলে তোমাকে মরতে হবে কেনো? তুমি বেচে থাকলে আনলে কি কেও মানা করবে নাকি?
তসিবা: ঠিকই বলছেন। তবে আমার জন্য এত কষ্ট সহ্য করছেন তার জন্য স্যরি। আপনাকে একটা কথা বলবো?
আমি: হ্যা বলো?

তসিবা: আপনি একা চলে যেয়েন ঢাকা। আমি আপনার সাথে যাবোনা আজকে আপনাকে কিছু সত্য কথা বলবো। আপনি মনে করতেন আমি অশিক্ষিত সত্যি বলতে আমি অশিক্ষিত নয়। আমি অনার্স ফাস্ট ইয়ারে ভর্তি হয়ছিলাম তারপর আপনাকে বিয়ে করতে আপনার বাবা আমাকে বলে। আমি প্রথমে রাজি ছিলামনা পড়ে আপনার বাবার অনুরুদে রাজি হয়ছি।

আমি: তোমার ব্যপারে সব জেনে গেছি আমি। ভাবি সব কিছু বলে দিছে। তবে তুমি ভালো থেকো রানা তোমাকে অনেক ভালোবাসে। রানা তোমাকে তার রক্ত দিয়ে জীবন বাচিয়েছে। তোমরা দুজনে অনেক সূখী হবে দেখো। আমি তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি পারলে ক্ষমা করে দিয়ো। আমি আজকে বিকালে চলে যাবো। আর এক সাপ্তাহের মধ্যে তোমর ডির্ভোস পেপার পেয়ে যাবে। কারন রানাকে আমি কথা দিছি তোমার জীবন থেকে চলে যাবো। তসিবা তোমাকে একটা কথা বলতে ইচ্ছে করছে তোমায় বলবো?
তসিবা: হ্যা বলেন কি বলবেন? কি হলো বলেন না?
আমি: তুমি অনেক সুন্দর। আর রানা তোমাকে অনেক সূখে রাখবে। তুমি রানাকে বিয়ে করো প্লিজ এইটা আমার অনুরুদ তোমার কাছে।

তসিবা: আপনাকে বলতে হবেনা। আমি জানি রানা আমাকে অনেকটা ভালোবাসে। আপনি এক কাজ করুন এখনি চলে যান। আমি আপনার মুখটা আর দেখতে চাইনা।
আমি: ঠিক আছে চলে যাবো তবে তোমাকে বাসায় নিয়ে যায়। তখনি,,,,
রানা: সৌরভ তার আর দরকার হবেনা। আপনি অনেক করছেন এবার আপনি আসতে পারেন।
আমি: তুমি চলে এসেছো রানা? যাক তাহলে আমি চলে যায়। তসিবা আসি তাহলে ভালো থেকো বলে বড়েয়ে আসলাম হাসপাতাল থেকে। তসিবার বাড়ীতে গেলাম আমার প্রয়োজনীয় জিনিস গুলো আনতে। তখনি,,,
শ্বাশুড়ি: সৌরভ তুমি চলে আসছো যে তসিবা কোথায়?

আমি: তসিবা হাসপাতালে আছে। আর রানা তসিবার সাথে আছে।
শ্বশুড়: তাহলে ঠিক আছে। রানা একমাত্র তসিবাকে অনেকটা ভালো করে বুঝতে পারে। ঠিক আছে তুমি ফ্রেসহয়ে নাও নাস্তা খাবে। আর তসিবাকে কখন ছারবে হাসপাতাল থেকে?
আমি: আজকে ছেরে দিবে। আর আমি এখন ঢাকা চলে যাবো আমার অফিসে একটা সমস্যা হচ্ছে। আমি কয়দিন পড়ে এসে তসিবেকে নিয়ে যাবো। আন্টি বললো ঠিক আছে। আমি রুমে গিয়ে আমার সবকিছু গুচিয়ে নিলাম। তারপর তসিবার বাবা মার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসলাম। To be continue,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here