গল্প:-নব_বধূয়া পর্ব:-(০৬)

0
3917
গল্প:-নব_বধূয়া পর্ব:-(০৬) লেখা_AL_Mohammad_Sourav !! তসিবা মাথা ঘুরে নিছে পড়ে গেছে আমি খাবার টেবিল থেকে উঠে গিয়ে ওকে ধরেছি সাথে আম্মু আব্বু সহ সবাই এসেছে,,, এই তসিবা কি হয়ছে কথা বলছো না কেনো? চোখ খুলবে তো এই তসিবা,,, আম্মু:- সৌরভ তসিবার চোখে মুখে পানি দে কি হলো ওর হঠাত করে অজ্ঞান হলো কেনো? আব্বু:- আমি এখুনি ডাক্তারকে ফোন করতেছি,,, সৌরভ তসিবাকে কুলে নিয়ে রুমে নিয়ে যা আমি ডাক্তারকে ফোন করতেছি। আমি:- ঠিক আছে তসিবাকে কুলে নিয়েছি তখনি চোখ খুলে আমাকে চোখ টিপ দিয়েছে,,, আব্বু তসিবা চোখ খুলেছে এই দেখেন,,, আব্বু:- তসিবা কি হয়ছিলো তোমার? তসিবা:- এই একটু মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠে ছিলো। আম্মু:- আমি তো ভাবছি অন্য কিছু। আব্বু:- তোমার তো সন্দেহ থাকবে সৌরভ যা তসিবাকে নিয়ে রুমে যা। আমি:- হ্যা যাচ্ছি, তসিবাকে কুলে করে সিঁড়ি দিয়ে উঠতেছি আর তসিবা রিয়াকে দেখাচ্ছে যে আমি শুধু তসিবার। রিয়া তসিবাকে আমার কুলে দেখে হিংসায় জ্বলে পুরে যাচ্ছে তসিবাও রিয়াকে দেখিয়ে আমাকে আরো শক্ত করে ধরে রাখছে,,,তসিবাকে নামিয়ে দিয়েছি রুমে,,,, তসিবা:- আপনি ঐ মেয়েটার পায়ে পা লাগাচ্ছিলেন কেনো? আমি:- মানে কখন লাগিয়েছি? তসিবা:- আমাকে বোকা পায়ছেন হ্যাঁ আর যদি রিয়াকে আপনার সাথে দেখি তাহলে খবর করে ছাড়বো। আমি:- তোমার কি তুমি যার তার সাথে কথা বলবো দেখা করবো। তসিবা:- যতদিন আপনার কাছে আছি ততদিন কোনো মেয়ের দিকে নজর দিবেন না। আমি:- তোমার কথা আমি শুনতে যাবো কেনো? আর শুনো তুমি আমাকে নিয়ে চিন্তা করতে হবে না তুমি তোমার চিন্তা করো। আর কিছু দিন পর তুমি চলে যাবে তোমার ভালোবাসার মানুষের কাছে কিছু দিনের জন্য মায়া বারিয়ে কি লাব? তসিবা:- হ্যাঁ তা ঠিক বলছেন কি লাব ঠিক আছে আমি ঘুমায়। আমি:- ঠিক আছে ঘুমাও আমিও ঘুমাবো দুজনে আলাদা যায়গা শুয়ে পড়েছি সকালে ঘুম ভাঙ্গছে কারো হাতের স্পর্শে চেয়ে দেখি তসিবা ধাক্কা দিচ্ছে আর ডাকছে,,,,
তসিবা:- উঠেন এত ঘুমাতে হবে না তারা তারি উঠেন। আমি:- কি হয়ছে সবে তো ভোর ৬টা বাজে ডাকছো কেনো? (তখনি তসিবা এমন কথা বলছে আমি শুয়া থেকে লাফ মেরে সোজা বসে গেছি,,) তসিবা:- আমি রান্না করতে পারি না আমাকে আপনি রান্না করতে সাহায্য করতে হবে আসুন আমার সাথে। আমি:- মানে কি? তসিবা:- মানে আমি রুটি বানাতে পারি না আর নাস্তা তৈরি করতে পারি না এখন কি হবে? আমি:- যদি তুমি রান্না করতে না পারো তাহলে আম্মুকে তখন বলতে তুমি রান্না করতে পারোনা। তসিবা:- আর বকা শুরু করে দিত আপনার তো ভালোই লাগে আমাকে বকা দিলে কথাটা বলে কান্না শুরু এ,,,আ,,,,এ,,,। আমি:- আরে কান্না করছো কেনো দেখি কান্না থামাও। চচজকিন্তু রুটি তো আমি বানাতে পারি না তাহলে কি হবে? তসিবা:- আজকে তাহলে আমাকে বাড়ী থেকে বের করে দিবে আপনার আম্মু বলে আবার কান্না করতে লাগছে,,, আমি:- আবার কান্না করছো কেনো কান্না থামাও তাও কান্না করে যাচ্ছে এভার রাগ করে দিয়েছি এক দমক তখনি একদম ভয়ে কান্না থামিয়ে দিয়েছে,,, আমি তসিবার চোখের পানি গুলি মুছে দিয়েছি। আসো আমার সাথে তসিবাকে নিয়ে রান্না ঘরে গেছি দেখি সব কিছু উল্টা পাল্টা করে রাখছে,,, তসিবা:- রান্না ঘরের এই অবস্থা কেনো? আমি:- মনে হয় ভাবি ইচ্ছে করে ওল্টা পাল্টা করে রাখছে যাতে তুমি সহজে কোনো কিছু খুঁজে না পাও। মনে হয় ভাবি তার বোনকে এই বাড়ীর বউ করে ছাড়বে,,, তসিবা:- বুঝতে পারছি,,, তাহলে এখন কি করবো? আমি:- তুমি দেখো কি করে রান্না করে কেমন আর কি করে আটা থেকে রুটি হয়। যদিও অভিগ্যতা নেই তাও ট্রাই করতে লাগলাম বাহ প্রথমে কষ্ট হলেও চার পাঁচটার পর ঠিক হয়ে গেছে। আমি রুটি বানাচ্ছি তসিবা চেয়ে চেয়ে দেখছে রুটির সাথে ডিম বাজি করেতেছি। সব কাজ শেষ লাস্টা একটা ডিম বাজতে হবে তখনি তসিবা বলে,,, তসিবা:- এইটা আমি ট্রাই করি।
আমি:- হ্যাঁ করো আর আমি চা করে নিচ্ছি,,, তসিবা ডিম দিয়েছে আর গরম তেল ওর হাতে এসে পড়েছে এক ফোটার মত তখনি চিৎকার দিয়ে উঠেছে,,,, কি হয়ছে দেখি,, তসিবা:- আঙ্গোলে মাথায় তেলের ছিটা পড়েছে। আমি:- দাও তো বলে ওর আঙ্গোলটা আমি মুখে নিয়েছি তখনি রিয়া ভাবি আম্মু সহ সবাই এসে হাজির হয়েছে,,, আম্মু:- সৌরভ তুই রান্না ঘরে কেনো? আর চিৎকার দিলো কে? আমি:- আম্মু তসিবার আঙ্গোলে গরম তেল পড়েছে তাই চিৎকার দিয়েছে। আমি ওর চিৎকার শুনে এসেছি,,, তখনি ভাবি বলে,,, ভাবি:- আর কপালে গালে সাটে আটা লেগে গেলো। আম্মু:- সত্যি তো তোর শরীরে এত আটা ময়দা লাগলো কি করে? আমি:- ঐ তসিবার হাত থেকে লাগছে,,,, রিয়া:- কিন্তু তসিবার হাত তো একদম পরিস্কার কোনো আটা ময়দা নেই। আমি:- এত কথা বলো কেনো হ্যাঁ আম্মু তুমি দিন দিন কেমন পাল্টে গেছো আমাকে একটু ভালোবাসো না। রিয়া তুমি একটু নাস্তা গুলি খাবার টেবিলে নিয়ে যাও আর শুনো খাবার গুলি সব ভালো আছে এই গুলো যেনো কোনো উলট পালট না হয়। রিয়া:- কি আমি কাজ করবো কেনো যার কাজ সে করবে? তসিবা:- কাওকে করতে হবে না আম্মাজান আপনি যান আমি নিয়ে আসতেছি,,,, সবাই চলে গেছে আমি আর তসিবা দুজনে মিলে খাবার টেবিলে নাস্তা নিয়ে গেছি,,, সবাই নাস্তা করতে এসেছে,, সবাই নাস্তা খাচ্ছে তবে কেও কিছু বলছে না হঠাত করে ভাবি বলে,,,, ভাবি:- রুটিতে লবন একটু বেশি হয়ে গেছে আর ডিম গুলি ঠিক করে বাজা হয়নি এমন খাবার খাওয়া যায়। আমি:- তাও তোমার থেকে ভালো রান্না করেছে যখন তুমি প্রথম এসেছিলে তখন তো কিছুই পারতে না আম্মু তোমাকে সব কিছুতে শিখিয়ে নিয়েছে। আম্মু:- বড় বউ রান্নাটা যেমনি হয়ছে ভালোই হয়ছে। সবাই খাবার টেবিলে কথা কম বলে নাস্তা করো।,,,, সবাই খাবার খাচ্ছি আব্বু রান্নার অনেক প্রশংসা করছে বিশেষ করে চা, এর প্রশংসা সবাই করেছে। আম্মু:- বাহ তসিবা তুমি তো অনেক সুন্দর চা বানাতে পারো আমার মনটা একদম ফ্রেস হয়ে গেছে তোমার হাতের চা খেয়ে,,, আব্বু:- বউ মা বল তোমার কি লাগবে তোমার চা খেয়ে কিছু দিতে ইচ্ছে করছে,,, তসিবা:- কিছু লাগবে না আমার জন্য শুধু দুআ করবেন তাহলে হবে। আচ্ছা তাহলে আমি যাই আমার কলেজের সময় হয়ে যাচ্ছে,,, আম্মু:- হ্যাঁ যাও তবে এমন কোনো কাজ করোনা যাতে আমাদের পরিবারের দিকে আঙ্গোল তুলে কথা বলে,,, আমি:- হ্যা আম্মু তুমি দুআ করো তসিবা যাতে এমন কাজ না করে। তসিবা আসো দুজনে রুমে গিয়ে রেডি হয়ে নিলাম। তসিবা তোমার কলেজ ছুটির পর কোনো কাজ নেই তো? তসিবা:- আমার একটা টিউশন আছে ১ ঘন্টা দেরি হবে বাসায় আসতে। আমি:- তোমাকে টিউশন করতে হবে না। তসিবা:- কেনো তাহলে আপনার টাকা দিবো কি করে? আর আমার হাত খরচ পড়া লেখার খরচ কে দিবে? আমি:- আমার টাকা তোমার কাছে চায়ছি? আর তোমার যখন যা লাগবে তখন তা আমি দিবো কেমন। তসিবা:- কেনো দিবেন আমি তো আর কিছু দিন পর চলে যাবো। আর তাছাড়া আমি তো আপনার কেও না। আমি:- সব দাড় হিসাবে দিবো যখন তোমার স্বপ্ন পুরুন হবে তখন সব এক সাথে দিয়ে দিয়ো কেমন। দয়া করে এখন কোনো টিউশন করাতে হবে না এমনিতেই আম্মু তোমার পেছনে রিয়াকে লাগিয়ে রাখছে,,, তসিবা:- আমি তো টিউশন করাবো তবে রিয়াকে ফাকি দিয়ে করাবো প্লিজ আপনি না করবেন না। আমি:- তোমার প্রতি আমার বিশ্বাস আছে সেই বিশ্বাসের ঘরে কোনো রকম ক্ষতি করো না। আমি মনটা খারাপ করে বেরিয়ে আসবো তখনি তসিবা বলে,,, তসিবা:- দেখছেন আজকে সবাই আমার রান্না আর চায়ের কত প্রশংসা করেছে,, আমি:- তোমার করেনি করেছে চা যে বানায়ছে তার। সুতুরাং চা আমি বানিয়েছি আর প্রশংসা আমার বুঝলে,,, এত বড় মেয়ে হয়ছে এখনো চা বানাতে পারে না আসো এমনিতে আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে,,, তসিবা:- সবাই তো যানে আমি বানিয়েছি। ছিবতে তো সব কিছু স্টার্টমেন্ট করে কিন্তু সবাই তো প্রশংসা হিরোকে করে। আপনি হলে স্টার্টমেন্ট। আমি:- ঠিক আছে কাল সকালে বুঝা যাবে কে হিরো আর কে জিরো এখন আসেন তখনি তসিবা বলে,, তসিবা:- মানে কাল সকালে আপনি আমাকে সাহায্য করবেন না? আমি:- কেনো করবো তুমি তো আমাকে জিরো মনে করো এখন আসো,,,, আমি আর তসিবা আজকে একিই মেচিং করা কাপড় পড়া হয়ছে রিয়া আর ভাবি আমাদের দেখে হিংসা পুরছে,,,
আম্মু:- তসিবা তুমি কলেজ ছুটি হলে রিয়ার সাথে বাড়ীতে আসবে। তসিবা:- কিন্তু,,, আম্মু:- কোনো কিন্তু টিন্তু নেই তুমি কলেজ শেষ হলে সোজা বাড়ীতে রিয়ার সাথে আসবে। রিয়া তুমি তসিবাকে চোখে চোখে রাখবে আর আসার সময় তসিবার সাথে নিয়ে আসবে কেমন,,, রিয়া:- ঠিক আছে তাই করবো। আম্মু:- আর সৌরভ যদি তুই কখনো তসিবাকে নিয়ে কোথাও যাওয়ার থাকে তাহলে আমাকে ফোন করে বলবি। আর রিয়া যেনো দেখে তুই তসিবাকে নিয়ে যেতেছিস। আমি:- ঠিক আছে,, তসিবা আসো তোমাকে কলেজে নামিয়ে দিয়ে আমি অফিসে যাবো। তসিবা আমার সাথে চলে এসেছে বাইকে বসে আমাকে জড়িয়ে ধরে আছে,,, তসিবা:- রিয়া যদি আমার পিছু পড়ে থাকে তাহলে টিউশন করাবো কি করে? আমি:- না করালে হবে না? তসিবা:- না হবে না, প্লিজ আপনি আমাকে একটা বুদ্দি দিন প্লিজ। আমি:- তোমার কলেজে এসে পড়েছি তুমি নামো। তসিবা নেমে দাঁড়িয়েছে,,, আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে আমি রিয়ার সাথে ভালোবাসার অভিনয় করে ওকে ব্যস্ত করে রাখবো তখন তুমি টিউশনে চলে যেতে পারবে কেমন। তখনি তসিবা চেহারাটা কালো করে চলে গেছে আর আমি বাইক নিয়ে অফিসে চলে এসেছি,,,,,, অফিসে বসে কাজ করতেছি নিজের মত করে আজকে সব গুলি কাজ ঠিক মত করেছি লাঞ্চ করতে যাবো তখনি আম্মু ফোন করেছে,, রিসিব করতেই বলে,,, আম্মু:- সৌরভ একটু সিটি শপিং মহলে আয় তো। আমি:- কিন্তু কেনো? আম্মু:- আয় দরকার আছে বলে ফোন কেটে দিয়েছে,,, আমি অফিস থেকে ছুটি নিয়ে তারা তারি করে সিটি শপিং মহলে গেছি। দেখি আম্মু আব্বু দুজনে দাঁড়িয়ে আছে,,,, আমি:- আরে আপনারা দুজনে আছেন তাহলে আমাকে ডাকছেন কেনো? তখনি আম্মু আমার হাত ধরে টেনে নিতে লাগলো শপিং মহলের ভীতরে ঢুকেছি,,, একটা জিন্সের দোকানে দিকে আঙ্গোল দিয়ে দেখিয়ে বলে,,,,,, আম্মু:- একটু ঐ দিকে তাকিয়ে দেখ তো? আমি তাকিয়ে তো পুরায় অভাক হয়ে গেছি তসিবা একটা ছেলেকে সাট পছন্দ করে দিতেছে ওর শরীরে সাথে মেচিং করতেছে,,, আমি একটু ভীতরে এগিয়ে গেছি তসিবার দিকে তখনি তসিবা ছেলেটার হাত ধরে আমার সামনে দিয়ে বেরিয়ে যেতেছে তখনি আমি তসিবা বলে ওর হাতটা ধরে নিয়েছি,,,,, আমি:- তসিবা তুমি ওর সাথে এখানে কি করছো? তসিবা আমার দিকে এমন ভাবে তাকিয়েছে মনে হচ্ছে জীবনে প্রথম আমাকে দেখছে। কি হলো কথা বলছো না কেনো? তসিবা:- কি বলবো আর আপনি কে? আজিব তো হাত ধরেছেন কেনো ছাড়েন বলছি? তসিবা আমর থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে ছেলেটার হাত ধরে আব্বু আম্মুর সামনে দিয়ে হেটে চলে গেছে,,, To be continue,,,,,

( প্রিয় পাঠক আপনাদের যদি আমার গল্প পরে ভালোলেগে থাকে তাহলে আরো নতুন নতুন গল্প পড়ার জন্য আমার facebook id follow করে রাখতে পারেন, কারণ আমার facebook id তে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গল্প, কবিতা Publish করা হয়।)
Facebook Id link ???

https://www.facebook.com/shohrab.ampp

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে