গল্প :- দুলহানীয়া পর্ব:-(০৭)

0
570

গল্প :- দুলহানীয়া পর্ব:-(০৭)
লেখা:-AL_Mohammad_Sourav
!!
আশফির চুড়ি গুলি ভেংগে হাতের ভিতরে ঢুকে গেছে! আশফি অজ্ঞান হয়ে পরে আছে হাত দিয়ে অনেক দ্রুত গ্রতিতে রক্ত বের হচ্ছে। আমি তাড়া তাড়ি আশফির কাছে গিয়ে ওর হাতের চুড়ি গুলি সরিয়ে ওর ওরনা দিয়ে হাতটা বেধে নিয়েছি। আশফিকে কুলে করে খাটের উপর শুয়িয়ে দিয়েছি। ওরনাটা খুলে হাত পরিস্কার করে বেন্ডিজ করতেছি তখনি ভাবি এসেছে রুমে।

ভাবি:- আলিফ চলো খাবার খেতে তোমাদের ডাকছে আর আশফির বাবা এসেছে তোমাদের নিতে। (ভাবিকে দেখে আমি আশফির হাতটা লুকিয়ে নিয়েছি হঠাত ভাবি খেয়াল করেছে আশফির দিকে) আলিফ আশফির কি হয়ছে ও এমন ভাবে শুয়ে আছে কেনো?

আমি:- ভাবি প্লিজ আম্মাকে কিছু বলোনা! ওর জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে আমি বেন্ডিজ করে দিয়েছি। কিছুক্ষন পর ডাক্তারকে কল করবো যদি জ্ঞান না ফিরে।

ভাবি:- কিন্তু হাত কাটছে কি করে?

আমি:- হাতের চুড়ি ভেংগে আমি জোর করে ওর হাত ধরে রাখছি তখনি এই অবস্থা হয়ছে।

ভাবি:- আলিফ তুমি এমনটা কেনো করছো? (তখনি দেখি আশফি চোখ মিট মিট করে মেলতেছে) ঐ তো আশফির জ্ঞান ফিরে এসেছে। আমি আশফির হাত ধরে রাখছিলাম আশফি হাতটা ছাড়িয়ে নিয়েছে।

আশফি:- আমার হাতে বেন্ডিজ কে করেছে? (ভাবি বলতে ছিলো আমার কথা কিন্তু আমি ভাবিকে থামিয়ে দিয়ে বলি)

আমি:- কে করবে ভাবি করছে! আমার সামনে তুমি পরে থাকলেও আমি ধরবো নাকী? তোমার মত মেয়েকে দেখলে শরীরে রাগে আগুন জ্বলে উঠে।

আশফি:- যেহেতু আগুন জ্বলে উঠে সেহেতু হাত ধরে বসে আছেন কেনো? দূরে গিয়ে বসেন তানা হলে আগুনে পুরে ছায় হয়ে যাবেন।

ভাবি:- ঝগড়া শেষ হবে নাকী আরো করতে হবে? আশফি তোমার বাবা এসেছে তোমাদের নিয়ে যেতে।

আশফি:- তাই তাহলে আমি এখুনি রেডি হয়ে আসতেছি।

ভাবি:- ঠিক আছে! আর আলিফ তুমিও রেডি হয়ে এসো তোমাকেও যেতে হবে আশফিদের বাড়ীতে।

আমি:- আসছি তুমি যাও। (ভাবি চলে গেছে) আমি ফ্রেশ হওয়ার জন্য উয়াশ রুমে যাচ্ছি তখনি আশফি উয়াশ রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। আশফি তুমি এই উয়াশ রুমে গেলে কেনো?

আশফি:- মানে কোনটায় যাবো? আমরা স্বামী স্ত্রী যদি অন্য উয়াশ রুমে যাই তাহলে আপনাকে খারাপ বলবে। আর তাছাড়া আপনার আম্মা কি মনে করবে?

আমি:- তুমি এখুনি বের হবে নাকী? তানা হলে দরজা ভেংগে ফেলবো কিন্তু?

আশফি:- ভাংগেন আমার কি? খরচ তো আপনার লাগবে আর আপনার আব্বা আপনার উপর এমনিতেই রেগে আছে। সব প্রতিশুধ এক সাথে নিতে পারবে।

আমি:- সুযোগে তুমি আমার ঘারে চেপেছো এখন আমার সবকিছু দখল করতে চাচ্ছো?

আশফি:- এখন দেখেন কেমন লাগে! যখন কারো অনুভূতি নিয়ে খেলা হয় তখন কেমন লাগে। আমি যখন আপনাকে ভালোবাসতে চাইনি তাও আপনি আমাকে নানা রকম বিরক্ত করতেন আর তখন সবকিছু সহ্য করেছি। এখন তো আমি আপনাকে ভালোবেসে ফেলেছি তাহলে কতটা বিরক্ত সহ্য করবো একবার ভেবে দেখছেন কি?

আমি:- দেখবো কতটা সহ্য করতে পারো এখন বের হয়ে নাও এরপর বুঝবে। আমি খাটের উপর বসে বসে রাগে মাথাটা ফেটে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে। প্রায় ৪০ মিনিট পর আশফি দরজাটা খুলছে আমি বসা থেকে উঠেছি তখনি।

আশফি:- আরেকটু দেরি হবে এখন একটু কষ্ট করে আমার টাওয়ালটা দেন তো।

আমি:- আমাকে চাকর পেয়েছো নাকী তোমার টাওয়াল দিবো?

আশফি:- বুঝতে পারছি আপনি চান আমি এমন ভাবে বের হয়ে আশি। ওকে তাহলে আমি আসছি তখনি ব্লু কালার টাওয়ালটা ওর দিকে ছুড়ে মারছি। আরে এই টা ঐ গোলাপী কালার টাওয়ালটা দেন।

আমি:- দিচ্ছি চোখ গুলো বড় বড় করে তাকিয়ে আছি ওর দিকে। আশফি চোখ টিপ দিয়ে আবার দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। প্রায় ২০ মিনিট পরে দরজা খুলে মহা রানী বের হয়ে এসেছে। বাহ ভেজা চুলে আশফিকে একটু বেশি সুন্দর লাগছে আশফির দিকে তাকিয়ে আছি।

আশফি:- কি দেখছেন এমন করে?

আমি:- কিছুনা বলে আমার টাওয়াল নিতে যাবো আর আশফি বের হবে এমনি দুজনে ধাক্কা লেগেছি। ধাক্কা লেগে আশফি নিচে পরে গেছে। মশার মত শরীর ধাক্কা লাগলে পরে যাই।

আশফি:- আপনি ইচ্ছে করে ধাক্কা দিয়েছেন আমি জানি। যাতে করে আমার কমড় ভেংগে গেলে আপনি এই বাহানা আমাকে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দিতে পারবেন।

আমি:- বাহ তুমি তো অনেক ভালো বঝু।

আশফি:- হ্যা ভালো বুঝি এখন আমাকে টেনে তুলবেন নাকী দাঁড়িয়ে মজা নিবেন।

আমি:- পারবোনা আর তোমাকে স্পর্শ করলে আমার শরীর ঘিন ঘিন করে।

আশফি:- ঠিক আছে! নিচে গেলে যদি শ্বাশুমা বা কেও জিগেস করে হাত কাটছে কি করে তাহলে বলে দিবো আপনি ইচ্ছে করে আমার হাতের চুড়ি গুলি ভেংগে দিয়েছেন আর অনেক রক্ত গেছে।

আমি:- হাত দাও তখনি আশফো মুচকি হেসে আমার দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে! আমি হাত ধরে টেনে তুলবো আচমকা এক টানে আশফি আমাকে ওর বুকের উপর নিয়ে গেছে। আশফিকে একদম কাছ থেকে আমি দেখতেছি আশফি খুবই সুন্দর লাগছে। তোমার সাহস হলো কি করে আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরার?

আশফি:- কখন জড়িয়ে ধরেছি বরং আপনি আমাকে জড়িয়ে ধরে আছেন। আমি তো আপনার উপরে আছি এবার মিষ্টি করে একটা হাসি দেন।

আমি:- কেনো?

আশফি:- আপনার সাথে আমার একটাও সেলফি নেই। তাই আমার মোবাইলে আপনার আর আমার ছবিটা উয়াল পেপার হিসাবে রাখবো। আর আমার বান্ধবীরা আপনার ছবি দেখতে চাচ্ছে তাই সেলফি তুলে রাখবো।

আমি:- দরকার নেই ছাড়ু বলছি?

আশফি:- প্লিজ একটা মাত্র বলে ও আমার ঠোটে কিস করে দিয়েছে আমি চোখ বন্ধ করে নিয়েছি। তখনি ছবি তুলার আওয়াজ পেয়েছি চোখ খুলে চেয়ে দেখি আশফি আমার দিকে তাকিয়ে আছে।

আমি:- তুমি আবার আমাকে কিস করেছো?

আশফি:- ফ্রি কিস যা সব ছেলেড়া তাদের বউয়ের কাছে চাই। আমাকে বউ হিসাবে মেনে নেন রোজ ডাবল করে দিবো। তোমার মত সস্থ মেয়ের কিস আমার দরকার নেই দেখি সরো আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে।

আশফি:- বাবহা শ্বশুড় বাড়ীতে যাওয়ার জন্য এতটা উতলা হয়ে উঠছেন যে?

আমি:- তোমাদের বাড়ীতে যাবো আমি? নিচে গিয়ে দেখোনা তোমার আব্বাকে কি রকম অপমান করি।

আশফি:- মানে আপনি আব্বার সাথে খারাপ আচরন করবেন?

আমি:- সেইটা নিচে গেলে বুঝতে পারবে বলে ফ্রেশ হতে গেলাম। তাড়া তাড়ি করে ফ্রেশ হয়ে রুমে এসেছি। জটফট করে রেডি হয়ে নিচে গেছি দেখি সবাই আমার জন্য অপেক্ষা করছে।

আম্মা:- আলিফ আশফির সাথে তুই ওদের বাড়ী থেকে ঘুরে আয়।

আমি:- কার বাড়ীতে যাবো? আমি তো আশফিকে ওদের বাড়ী থেকে বিয়ে করে আনিনি! আশফি নিজে এসে আমাকে বিয়ে করেছে আমাদের বাড়ীতে। সতুরাং আমার ঐ বাড়ীতে যাওয়ার কোনো দরকার নেই।

আব্বা:- কিন্তু এইটা বললে তো হবেনা একটা নিয়ম টিয়ম বলতে তো কিছু আছে নাকী?

আমি:- যেহেতু বিয়েটা সব নিয়ম মেনে হয়নি তাহলে এখন এত নিয়ম দেখিয়ে মেনে কি হবে। আর আমি আশফিকে বলেছি ওদের বাড়ীতে আমি কেনো ও নিজেই যেতে পারবে না।

শ্বশুড়:- বাবা আলিফ যা হবার তা হয়ে গেছে সব কিছু ভুলে যাওয়াটা বেটার হবে।

আমি:- আপনি এই কথা বলছেন? ছিঃ আপনার লজ্জা বোদ হওয়া দরকার! মনে নেই আপনার আপনি কি সব ব্যবহার করছেন আমার সাথে?

আশফি:- আলিফ কি বলছো এসব?

আমি:- যা বলছি ঠিকই বলছি! আশফি তোমার বাবাকে বলে দাও আমার সাথে যেনো অভিনয় না দেখাতে আশে আর তুমি চাইলে তোমাদের বাড়ীতে যেতে পারো কিন্তু আর কোনো দিন ফিরে আসার নাম নিবেনা কোনো দিন। আম্মা আমি অফিসে যাচ্ছি বাড়ীতে আসতে একটু দেরি হবে।

ভাবি:- নাস্তাটা করে যাও?

আমি:- নাহ বাহিরে করে নিবো। আশফির দিকে তাকিয়ে বাহিরে চলে এসেছি! বাইক বের করে অফিসে রওনা দিলাম ৩০ মিনিটের মধ্য অফিসে এসেছি আজকে দেরি হয়ে গেছে।

বস্:- আলিফ আজ থেকে মিস স্নেহা তোমার সাথে যাবে মার্কেটিংয়ে যাবে।

আমি:- ঠিক আছে! হাই আমি আলিফ ইসলাম।

স্নেহা:- আমি স্নেহা রহমান। (দুজনে পরিচয় হয়ে নিলাম। আমি বসে কিছু কাজ করে নিয়েছি)

আমি:- মিস স্নেহা চলেন মার্কেটে যাবো।

স্নেহা:- হ্যা চলেন! (দুজনে বের হলাম মার্কেটে কিছুটা ঘুরে ভালো কিছু কালেকশন করেছি। স্নেহা ঘুরে ঘুরে আমাকে দেখে। একটা বাছে উঠেছি দুজনে পাশা পাশি বসেছি কিছু পার্সনাল আলাপ সেরে নিলাম)

আমি:- আচ্ছা স্নেহা পরিবারে কে কে আছে?

স্নেহা:- আমি মা অসস্থ বাবা আর ছোট বোন।

আমি:- ও ভালো! আজকের মত দিনটা ভালোই কাটছে অফিসে এসে কাজ গুলি বুঝিয়ে দিয়েছি। চেয়ারে বসে আছি এমনি জুয়েলের আগমন।

জুয়েল:- তুই বিয়ে করেছিস গতকাল আজকে অফিসে এসেছিস কেনো? আর তোর পরিবার যেহেতু সব মেনে নিয়েছে তাহলে আর চাকরিটা করার কি দরকার?

আমি:- দরকার আছে আমার পরিবার আর আশফিকে উচিত শিক্ষা দিতে হবে।

জুয়েল:- শিক্ষা দিতে গিয়ে পরে না আশফি তকে আবার ভুল বুঝে দূরে সরে যায়।

আমি:- দূরে গেলে তো ভালোই হবে! আচ্ছা এখন যাই তুই বের হবি কখন?

জুয়েল:- আমার বের হতে একটু দেরি হবে!

আমি:- ওকে রাত ৮টার দিকে অফিস থেকে বের হয়েছি। নিচে এসে বাইক বের করে রাস্তার মাঝে এসেছি দেখি স্নেহা দাঁড়িয়ে আছে। মেয়েটা দেখতে সুন্দর তবে ওকে বাইকের পেছনে উঠানোটা ঠিক হবে কি না ভাবতেছি তখনি স্নেহা এসে বলে।

স্নেহা:- যদি কিছু মনে না করেন তাহলে আমাকে একটু বাসায় ছেড়ে দিবেন?

আমি:- ঠিক আছে আসেন। স্নেহা বসেছে আমি রাস্তায় কোনো রকম ইচ্ছে করে ব্রেক মারিনি।

স্নেহা:- এখানে থামান একটু ভেতরে আমাদের বাসা। (যায়গাটা দেখতে একটা বস্তির মত) এতদিন কোনো চাকরি ছিলোনা তো তাই টিউশন করে যেই টাকা পেয়েছি তা দিয়ে কোনো রকম ভাবে ছিলাম। চাকরির বেতন পেয়ে নতুন বাসায় উঠে যাবো।

আমি:- হ্যা বুঝতে পারছি! আচ্ছা তাহলে আজকে যাই কেমন।

স্নেহা:- সরি আমি এমনি একটা মেয়ে যে আপনাকে কফি বা চা খাওয়ানোর মত অবস্থা আমার নেই।

আমি:- নাহ থাক যখন অবস্থা ভালো হবে তখন ট্রিট দিয়েন কেমন। আচ্ছা এখন যাই স্নেহার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে এসেছি মনটা খুব খারাপ হয়ে গেছে। রাস্তায় কিছুটা সময় বসে বসে চিন্তা করেছি মানুষ কত রকমমের হয়। আশফি দেখতে সুন্দর বড় ঘরের মেয়ে স্নেহাও দেখতে সুন্দর ওর পরিচয় গরিব ঘরের মেয়ে। রাত সারে ১১ টার দিকে বাসার দিকে রওনা দিলাম বাসায় এসেছি রাত ১২টার দিকে। দরজার ছোট ফাকা দেখি আশফি খাবার টেবিলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে আছে। কলিং বেল চাপ দিয়ে ধরে রাখছি আশফি এসে দরজা খুলে দিয়েছে। আমি কোনো কথা না বলে চুপ চাপ সিঁড়ি দিয়ে হেটে উপরে উঠে যাচ্ছি।

আশফি:- রাত ১২ টা পর্যন্ত আপনার জন্য না খেয়ে বসে আছি আর আপনি কিনা সিঁড়ি দিয়ে রুমে চলে যাচ্ছেন?

আমি:- তোমাকে কি বলেছি আমার জন্য না খেয়ে বসে থাকতে?

আশফি:- বলতে হবে কেনো? সকালে কিছু খেয়ে যাননি দুপুরে কিছু খেয়েছেন কিনা জানার জন্য হাজার বার ফোন করেছি মোবাইলটা বার বার বিজি বিজি দেখাচ্ছে এখন রাতের বেলা না খেয়ে চলে যাচ্ছেন?

আমি:- বলছি তো খাবোনা তাও এমন করছো কেনো? আর আমিকি তোমাকে বলছি নাকী আমার জন্য রাত জেগে অপেক্ষা করতে? আর শুনো এসব রাত জেগে থেকে আমার ভালোবাসা পাবেনা এখন আর তোমার প্রতি আমার কোনো ভালোবাসা নেই। কথা গুলি বলে উপরে চলে আসতেছি হঠাত করে মনে হলো আশফি কোনো কথা বলছেনা কেনো? তখনি পেছনে ঘুরে তাকিয়ে দেখি আশফি নিচে পরে আছে। বাহ আবার অভিনয় করতেছে ছিঃ আশফি আমার ভালোবাসা পাবার জন্য এমন জঘণ্য কাজ করতে পারে। কি হলো আবারো অভিনয় শুরু করেছো? তোমার অভিনয়ে আর মন গলবেনা বলে ওর কাছে গিয়ে পা দিয়ে ধাক্কা দিতেছি তাও কোনো সারা শব্দ দিচ্ছেনা এবার একটু চিন্তায় পরে গেলাম। বসে ওর হাতটা ধরেছি হাত অনেক গরম শরীরে পচন্ড জ্বর জ্বর ভাব ওকে কুলে নিবো তখনি আম্মা এসেছে।

আম্মা:- আলিফ বউমার কি হয়ছে? তখনি আম্মা সবাইকে ডাকা ডাকি শুরু করেছে। সবাই এসে জ্বরো হয়ে গেছে।

আব্বা:- আলিফ আশফির কি হয়ছে?

আমি:- আমি কি করে বলবো? আমাকে খেতে বলছে আমি খায়নি উপরে যেতে ছিলাম তখনি দেখি এই নিচে পরে গেছে মাথা ঘুরে।

ভাবি:- আশফি আজ সারা দিন না খেয়ে ছিলো। তুমি খাওনি তাই না খেয়ে ছিলো রাতে সবাই কত করে বলছে খেতে কিন্তু তোমার সাথে বসে খাবে তাই কিছু খায়নি।

আব্বা:- কার জন্য মেয়েটা অপেক্ষা করেছে যে কিনা তাকে একটুও সহ্য করতে পারেনা। তোমরা আশফিকে রুমে নাও আমি ডাক্তারকে ফোন করতেছি।

আম্মা:- আলিফ আশফিকে কুলে করে রুমে নিয়ে যা।

আমি:- হ্যা যাচ্ছি! আশফিকে কুলে নিয়ে রুমে এসেছি। খাটের উপর শুয়ে দিয়েছি আশফি আমার সাট ধরে রাখছে কিছুক্ষণ পর ডাক্তার এসেছে। আশফিকে দেখে কিছু মেডিসিন লিখে দিয়েছে।

ডাক্তার:- ভয়ের কোনো কারন নেই! মনে হচ্ছে ঠিক মত খাওয়া দাওয়া করছেনা আর নিজের যত্ন নিতেছে না। একটু খেয়াল রাখবেন যাতে করে ঠিক মত মেডিসিন গুলি খায়।

আব্বা:- ঠিক আছে! আসেন আপনাকে এগিয়ে দিয়ে আশি।

আম্মা:- এই তো আশফির জ্ঞান ফিরছে বড় বউমা দাও আশফিকে খাবারটা খায়িয়ে দাও।

আমি:- ভাবি আমার কাছে দাও আমি আশফিকে খায়িয়ে দিবো।

ভাবি:- তাহলে তো ভালোই নাও তাহলে আসেন আম্মা আমরা চলে যাই। ভাবি সহ সবাই চলে গেছে আমি আশফিকে খাবার খায়িয়ে দিতেছি।

আশফি:- আমার ভুলের ক্ষমা কি আদো শেষ হবে না?

আমি:- সেইটা সময় বলে দিবে এখনো ২৮ দিন বাকী আছে নাও এখন খাবার খেয়ে নাও। আজকের পর আর কোনো দিন আমার জন্য না খেয়ে থাকবে না।

আশফি:- যতদিন বেচে থাকবো ততদিন অপেক্ষা করবো। দেন আমি আপনাকে খায়িয়ে দেয়। বলে আশফি আমার কাছ থেকে প্লেট নিয়ে গেছে।( আশফি খায়িয়ে দিতেছে ওর দিকে তাকিয়ে আছি মনে হচ্ছে হাজারো কথা জমা আছে ঐ দুই চোখে। ইচ্ছে করে ওর আঙুলে কামড় দিয়েছি।) কি হলো আঙুলে কামড় দিয়েছেন কেনো?

আমি:- সরি বুঝতে পারিনি অনেক খাওয়া হয়ছে দাও প্লেট আমি পরিস্কার করে রেখে আসি। আশফির হাত থেকে প্লেট নিয়ে উয়াশ রুম থেকে পরিস্কার করে রুমে এসে দেখি আশফি নিচে শুয়ে আছে। আশফি তুমি খাটের উপরে শুয়ে পরো আমি নিচে শুয়ে থাকবো

আশফি:- না থাক যেদিন ভালোবেসে বলবেন সেইদিন খাটের উপর থাকবো।

আমি:- কথা না বলে গিয়ে শুয়ে পরো। যদি শরীর খারাপ হয় তাহলে বকটা আমার শুনতে হবে। যাও বলছি বলে ওকে কুলে তুলে নিয়ে খাটের উপর শুয়ে দিয়েছি।

আশফি:- তাহলে আপনি শুয়ে পরেন আমার পাশে।

আমি:- নাহ থাক তুমি একা থাকো, আমি নিচেই থাকবো বলে শুয়ে পড়েছি। দূর মাশার কামড় গুলি তো একদম ঘুমের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। তাও নাকে মুখে কাথা দিয়ে ঘুমিয়ে গেছি যখন সকালে ঘুম ভাংগছে তখন তো আমি পুরাই সক খেয়ে গেলাম আরে এইটা কি করে হলো?
!!
To be continue,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here