গল্প:- দুলহানীয়া পর্ব:-(০৬)

0
1076

গল্প:- দুলহানীয়া পর্ব:-(০৬)
লেখা:- AL_Mohammad_Sourav
!!
আশফিকে বাসর ঘরে দেখেই এক থাপ্পড় দিয়েছি বাসর ঘরে আশফি থাপ্পড় খেয়ে গালে হাত দিয়ে অভাক দৃষ্টিতে আমার দিকে চেয়ে আছে। কিছু একটা বলবে তখনি আমি বলি। তুমি আর তোমার আব্বা মিলে জ্বালিয়াতি করে আমার সাথে তোমার বিয়েটা পড়িয়েছে। সতুরাং তুমি ভাবলে কি করে আমি তোমাকে বউ হিসাবে মেনে নিবো? এখুনি তুমি আমার ঘর থেকে বেড়িয়ে যাবে বলে আশফির হাত ধরে টেনে খাটের উপর থেকে নামিয়ে এনেছি।

আশফি:- কি হয়ছে এমনটা করছেন কেনো?

আমি:- কি করছে শবে তো শুরু তোমার সাথে আমার বিয়ে হয়ছে?

আশফি:- হ্যা! আর আপনি তো চেয়েছেন আমি যেনো আপনাকে ভালোবেসে বিয়ে করি।

আমি:- হ্যা চেয়েছি কিন্তু এখন নয়। তুমি এখুনি আমার ঘর থেকে বেড়িয়ে যাবেন তানা হলে ঘার ধাক্কা দিয়ে বের করে দিবো।

আশফি:- যাবোনা আমি আপনার বউ আপনার সাথে থাকবো।

আমি:- থাকাচ্ছি বলে ওর ঘার ধরে নিয়ে দরজাটা খুলে ধাক্কা দিয়ে বাহিরে ফেলে দিয়েছি। আমার ঘরে তোর মত মেয়ের কোনো যায়গা নেই। তোর মনে নেই অফিসে সবার সামনে আমার সাথে কি সব ব্যবহার করেছিস? আমাকে বিয়ে করার আগে একবার তোর চিন্তা করা দরকার ছিলো আমার সাথে কি সব খারাপ আচরন করেছিস।

আশফি:- আমার কথা গুলি তো শুনবেন?

আমি:- তোর কথা আমি শুনবো তা কি করে হয়? তোর মনে নেই আমি তোর সাথে কথা বলার জন্য কতটা ছটফট করেছি কিন্তু তুই কথা বলিসনি। আর শুন বাড়ীর কাওকে যদি বলিস আমি তকে ঘর থেকে বেড় করেছি তাহলে এর চেয়ে ভয়াবহ পরিনিতি হবে।

আশফি:- সবকিছুর জন্য তো ক্ষমা চাচ্ছি প্লিজ ক্ষমা করে দেন। সব ভুলে নতুন করে আবার দুজনে ভালোবাসবো।

আমি:- তোমার মুখে ভালোবাসাটা মানায়না! অনেক হয়ছে আর না আমার পক্ষে সম্ভব না তোমার সাথে নতুন করে ভালোবাসা। (আমাদের দুজনের ঝগড়া শুনে বাড়ীর সব লোক জ্বরো হয়েছে)

আব্বা:- আলিফ কি হয়ছে আশফি বাহিরে কেনো?

আমি:- আম্মা তুমি এই মেয়েটার সাথে বিয়ে দিয়েছো? তুমি ভুলে গেছো যেই মেয়েটা আমাকে চরিত্রহীন বানায়ছে?

আম্মা:- আশফি সব ভুলে গেছে আর আমার পা ধরে ক্ষমা চাইছে। আশফির বাবা মা সবাই ক্ষমা চাইছে এবার তুই ক্ষমা করে দে বাবা।

আমি:- পারবোনা ক্ষমা করতে আমি ওর সাথে সংসার করতে পারবোনা।

ভাবি:- আলিফ বিয়েটা কি তুমি পুতুল খেলা মনে করেছো? তুমি আগে দেখলেনা কেনো? এখন যেহেতু বিয়েটা হয়ে গেছে সেহেতু আস্তে আস্তে সব কিছু মানিয়ে নিয়ে নাও। তুমি একা কষ্ট পাওনি কষ্ট তো আমরা সবাই পেয়েছি সবাই ক্ষমা করতে পারলে তুমি কেনো পারবেনা।

আম্মা:- তুই আমাকে বলেছিস আমি যা করিনা কেনো সব তোর ভালোর জন্য করি। তাহলে আমি যেহেতু করেছি তুই কিছুদিন সংসার করে দেখ আশফির সাথে। যদি আশফিকে তোর তখনো মনে হয় তোর স্ত্রী হবার যোগ্য নয় তখন আলাদা হয়ে যাস। কিন্তু এখন কিছুদিন এমনটা করিসনা বাবা।

আমি:- মাত্র ৩ মাস সময় দিলাম এই ৩ মাসে যদি মনে হয় আশফি ভালো হয়ে গেছে তাহলে আমি আশফিকে বউ হিসাবে মেনে নিবো। আর যদি দেখি আগের মত আছে তাহলে ডির্ভোস দিয়ে দিবো।

আশফি:- আমি রাজি আছি।

আব্বা:- আলিফ তুই আমার উপর রেগে আছিস আমি জানি। কিন্তু কি করবো বল তখন মাথা ঠিক ছিলোনা সব ভুলে আগের মত হয়ে যা।

আমি:- আগের মত হতে পারবোনা তবে আপনার উপর আমার কোনো রাগ নেই। ( সবার সামনে থেকে চলে এসেছি সবাই চলে গেছে যার যার রুমে। আমি চেয়ারে বসে আছি এমনি আশফি রুমে এসে দরজাটা লাগিয়েছে। আমি বসা থেকে উঠে সব গুলি ফুল ছিড়ে টেনে একাকার করে ফেলছি। বিছানার চাদর টেনে বালিশ এদিক সেদিকে ফিক্কা মারতেছি।

আশফি:- এমনটা করতেছেন কেনো? আমার উপর রাগটা আমার উপরে দেখান তাও এমনটা করবেন না প্লিজ।

আমি:- চুপ একদম কথা বলবেনা তুমি যতই ভালো হয়ে যাও কিন্তু তোমাকে নিয়ে আমি সংসার করবোনা। তিন মাস তোমার উপর দিয়ে জ্বর ভয়ে যাবে রেডি থাকো।

আশফি:- আমি জানি কেমন জ্বর ভয়বে কিন্তু আপনি আমাকে এখনো ঠিক আগের মত ভালোবাসেন।

আমি:- ভুর ধারনা তোমার! তোমার প্রতি আমার কোনো ভালোবাসা নেই। আজ থেকে তুমি ঘরে থাকবে কিন্তু চাকরানীর মত। আর তুমি নিচে ঘুমাবে আমার কোনো কাজে নাক গলাবেনা সবচেয়ে বড় কথা হলো তুমি তোমার বাপের বাড়ীতে যেতে পারবেনা।

আশফি:- সব কিছু মেনে নিলাম কিন্তু আমি আপনাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাবো। আর প্রতি সাপ্তাহ একদিন আমাদের বাড়ীতে নিয়ে যেতে হবে।

আমি:- মানে তুমি আমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাবে মানে? আর তোমাকে তোমার বাড়ীতে নিয়ে যাবো মানে?

আশফি:- হ্যা এইটুকু আমার জন্য করতে হবে।

আমি:- আমাবে টাচ্ করে দেখো থাপ্পড় একটাও নিচে পড়বে না। আর তুমি যেদিন তোমার বাপের বাড়ী যাবে সেদিন এই বাড়ীর দরজা চিরদিনের জন্য বন্ধ থাকবে। এখন আমি ঘুমাবো এই নাও বালিশ আর চাদর তুমি নিচে শুয়ে পড়। (আশফি দিকে তাকিয়ে আছে আমি কিছু না বলে শুয়ে পড়েছি। আশফি মন খারাপ করে ডেসিন টেবিলের সামনে বসে গহনা গুলি খুলছে। তখনি আমি লাইট অফ করে দিয়েছি)

আশফি:- লাইট অফ করেছেন কেনো?

আমি:- আলো থাকলে আমার ঘুম আসেনা তাই অফ করে দিয়েছি।

আশফি:- আমি গহনা গুলি অন্ধকারে খুলবো কি করে?

আমি:- বাহিরে যাও ঐ খানে বারান্দায় আলো আছে। ঐ আলো থেকে খুলে এসো এখন লাইট জ্বালানো যাবে না।

আশফি:- আমার ভয় করে একা একা প্লিজ লাইট জ্বালিয়ে দেন।

আমি:- আরেকটা কথা বললে সত্যি সত্যি ঘার ধাক্কা দিয়ে বাহির করে দিবো। ( এখন আর কোনো কথা বলছেনা অন্ধকারে গহনা গুলি খুলতেছে) এই এত আওয়াজ করতেছো কেনো? তোমাকে না বলছি শব্দ করা যাবেনা।

আশফি:- গহনা খুললে তো একটু শব্দ হবেই।

আমি:- তাহলে খুলতে হবেনা আর যদি খুলতে হয় তাহলে শব্দ করা যাবেনা। (তখনি আশফি চিল্লাই উঠছে আমি সাথে সাথে লাফ দিয়ে বসে লাইট জ্বেলে দিয়েছি। দেখি আশফি গলার হার খুলতে গিয়ে গলাতে হার লেগে কিছুটা আচর খেয়েছে। তাও আমি কিছু বলিনি আশফি আয়না দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে চোখে পানি টলমল করছে তাও বলেছি) এই এত রাতে জুড়ে চিল্লাচ্ছো কেনো? মানুষ তো মনে করবে তোমাকে আমি বাসর ঘরে মারধর করতেছি।

আশফি:- ব্যথা পেলে চিল্লাবোনা তো কি হাসবো

আমি:- হাসবে তাও চিল্লানো যাবে না বলে দিলাম। এখন ঘুমাও বলে লাইট আবার অফ করে শুয়ে পড়েছি। শুয়ে শুয়ে প্লান করতে লাগলাম কি করে আশফিকে বাড়ী থেকে তারানো যাই। প্লান করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে গেছি ঠিক মনে নেই সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি ঘরটা একদম গুচানো। আমি চোখ ঢলতে ঢলতে আয়নার দিকে তাকিয়ে জুড়ে এক চিৎকার দিয়েছি আর চিৎকার শুনে আশফি ভাবি আম্মা ভাইয়া দৌরে ঘরে এসেছে। আমি হাত দিয়ে মুখ ঢেকে রাখছি।

আশফি:- কি হলো চেচালেন কেনো?

আম্মা:- কিরে এমন ভাবে চেহারা ঢেকে রাখছিস কেনো?

ভাবি:- কি হলো বলো কি হয়ছে?

আমি:- কিছুনা আশফি ছাড়া সবাই রুম থেকে যান।

ভাবি:- হাত দিয়ে মুখ ডেকে রাখছো কেনো?

আমি:- বলছি তো কিছুনা আশফি ছাড়া আপনারা যান ( তখনি আশফি টান দিয়ে আমার হাত সরিয়ে দিয়েছে আর সবাই আমার দিকে তাকিয়ে লজ্জা পেয়ে যার যার মত বেড়িয়ে গেছে)

ভাইয়া:- আলিফ তোর এই অবস্থা করছে কে? সারা গালে লিভিস্টিক দিয়ে ঠোটের ছবি একে রাখছে। এই দাও তো আমার মোবাইলটা আলিফের কিছু ছবি তুলে রাখি অনেক সুন্দর লাগছে।

ভাবি:- এই তুমি বোকা নাকী হা এসো আর আলিফ তুমি গোসল না করে এমন ভাবে চেচাচ্ছো কেনো?

আমি:- আরে গোসল করবো কেনো? এখন তোমরা যাও তো রুম থেকে।

ভাবি:- কি গোসল করবেনা মানে রাতে তো তোমাদের বাসর হয়ছে তাইনা আশফি?

আশফি:- হ্যা একটু মাথাটা নেড়ে বুঝায়ছে। ভাইয়া আল ভাবি দুজনে হাসতে হাসতে চলে গেছে। সাথে আশফি চলে যেতে ছিলো তখনি আমি ওর হাত ধরে ফেলি।

আমি:- কোথায় যাচ্ছো তুমি তোমার সাহোস হলো কি করে আমাকে কিস করার?

আশফি:- আপনি আমার স্বামী আর আজ আমাদের বাসর রাত ছিলো এই রাতের কিছু তো স্মৃতি থাকা দরকার তাই স্মৃতি রেখে দিলাম।

আমি:- রাখাচ্ছি তোমার স্মৃতি বলে ধাক্কা দিয়ে দেওয়ালে আটকিয়ে দিয়েছি। ওর হাত চেপে ধরে রাখছি চোখ গুলো কেমন টলমল করতেছে তাও ওকে শক্ত করে ধরে রেখেছি।

আশফি:- ছাড়ুন ব্যথা লাগছে?

আমি:- লাগুক তাতে আমার কি? তোমার মত সস্থা মেয়ের কিস আমার দরকার নেই! আমাকে কিস করার জন্য আমার জানু আছে অনেক। আজকের পর যদি তোমার সস্থা ঠোটের ছোঁয়া আমার উপর প্রভাব ফেলতে এসো তাহলে এর পরিনাম ভালো হবে না। আজকের মত ক্ষমা করে দিলাম! আশফিকে ছেড়ে আমি উয়াশ রুমে যাচ্ছি হঠাত ছোট একটা শব্দের আওয়াজ শুনতে পেলাম পেছনে চেয়ে দেখি আশফি নিচে পড়ে আছে ওর বা হাত দিয়ে রক্ত পড়ছে অনেক জুড়ে।
!!
To be continue,,,

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে