গল্প:- দুলহানীয়া পর্ব:-(০২)

0
747

গল্প:- দুলহানীয়া পর্ব:-(০২)
লেখা_AL_Mohammad_Sourav
!!
আব্বা জীবনের এই প্রথম একটা ভালো কাজ করেছে! জীবনে অনেক ছুড়ি ঘুরিয়েছে কিন্তু এই প্রথম মনে হচ্ছে আব্বাকে জড়িয়ে ধরি। কারন একটাই আমি যাকে ভালোবাসি তার সাথেই আমার বিয়ে ঠিক করেছে। আমার যে কি আনন্দ লাগছে তা বলে বুঝাতে পারবোনা। আনন্দের ঠেলাই উল্টা পাল্টা আচরন করতেছি তখনি আব্বা বলে।

আব্বা:- আলিফ কি করছিস এসব ফাজলামু করছিস কেনো?

আমি:- সরি আব্বা।

ভাবি:- আলিফ তোমাকে এতটা খুশি লাগছে কেনো?

আমি:- নাহ তেমন কিছুই না। গাড়ীতে আর কোনো কথা হয়নি, গাড়ীটা এসে আমাদের বাড়ীর সামনে থামছে। গাড়ী থেকে নেমে সোজা বাড়ীর ভীতরে চলে এসেছি। কারো সাথে কোনো কথা না বলে রুমে এসে দরজা বন্ধ করে আশফির নাম্বারে ফোন করতেছি রিং হচ্ছে কিন্তু রিসিব করছেনা ১০টা ফোন করেছি তাও রিসিব হয়নি। ফোন কেনো রিসিব করছেনা দুর ভাল্লাগছেনা! মন খারাপের মাঝে আমার পরিচয়টা দিয়ে দেয় আমি আলিফ ইসলাম, আমরা দুই ভাই, আমি ছোট আর বড় ভাই বিয়ে করেছে আমাদের একটা ছোট ব্যবসা আছে। আশফিরা ভাই বোন মাত্র দুই জন ও ছোট আর ওর ভাই বিয়ে করেছে, ওদের বড় ব্যবসা আছে। আমি পড়া শেষ করে আব্বার সাথে ব্যবসা দেখা শুনা করছি। আশফিকে আমি অনেক ভালোবাসি ওকে আমি প্রথম দেখি রাস্তায় আমার গাড়ীর সামনে এসে পড়েছে দেখে প্রেমে পড়ে যায়। এক্সিডেন্টের ভয়ে ড্রাইভার তাড়া তাড়ি করে গাড়ী চালিয়ে চলে এসেছে। এরপর আরো কিছু যায়গায় ওকে দেখি আর ফলো করি কিন্তু ঠিক করে কথা বলার মত যায়গা পাচ্ছিলাম না। হঠাত কিছু দিন পর আশফির সাথে আমার বাসের মধ্যে দেখা আমি গিয়ে ওর পাশে বসেছি ইচ্ছে করে। মিস যদি কিছু মনে না করেন তাহলে একটা ফোন করতে দিবেন? (প্রথম কথা হলো আশফির সাথে)

আশফি:- কেনো আপনার মোবাইলে কি হয়ছে?

আমি:- মোবাইল ঠিক আছে কিন্তু টাকা নেই আর মোবাইল অফিস থেকে দার নেওয়া শেষ।

আশফি:- নাম্বারটা দেন।

আমি:- ০১৭৪২—–!

আশফি:- মোবাইল রিচার্জ করে দিলাম কথা বলেন যার সাথে মন চাই।

আমি:- তুমি বুঝলে কি করে এইটা আমার নাম্বার?

আশফি:- আজকাল মেয়ে পটানোর নতুন ধান্দা এইটা। আর আপনি আমাকে বোকা পাইছেন কিছু দিন ধরে দেখছি আপনি আমাকে ফলো করছেন। দেখেন এসব বাধ দিন আমি ঐ টাইপের মেয়ে নয় অন্য কোথাও ট্রাই করেন এই প্রিয়া চল।

প্রিয়া:- হ্যা আশফি চল। (আশফি আগে নেমে গেছে আমি প্রিয়ার সাথে কিছু কথা বলে নিলাম। তারপর ওদের সাথে বাস থেকে নেমেছি প্রিয়াকে পটিয়ে আশফির নাম্বারটা সংগ্রহ করেছি।)

আমি:- আই লাভ ইউ আশফি (দূর থেকে ডেকে বলছি)! নাম্বার তো পেয়ে গেছি ফোন করবো আর রোজ রাতে রোমান্টিক কথা কেমন। আশফি প্রিয়ার সাথে ঝগড়া করে এক প্রকার প্রিয়াকে রেখে চলে গেছে। তারপর থেকে আমি আশফিকে ফোন করে জ্বালাতে থাকি আর আশফি আমাকে না করতে থাকে এভাবে চলছিলো আমার লাভস্টোরি আর এখন তো আংটি বদল হয়ে গেছে। অনেক ঘুম পাচ্ছে এখন ঘুমায় বাকী কথা সকালে হবে আর কখন ঘুমিয়ে গেছি ঠিক মনে নেই। সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে বন্ধুদের সাথে নিয়ে আশফির কলেজের সামনে এসেছি দেখি আশফি এসেছে।

জুয়েল:- কিরে তোর উটবি তো কথা না বলে চলে যাচ্ছে?

আমি:- আরে দোস্ত তোর ভাবি একটু লজ্জাবতী। তখনি আশফি দাঁড়িয়ে গেছে।

আশফি:- আচ্ছা আপনি এমন কেনো?

আমি:- কেমন?

আশফি:- সবাইকে জানানোর কি দরকার ছিলো?

আমি:- দরকার আছে। কত মেয়ে মনে করে আমি তাদের জন্য এসে এখানে দাঁড়িয়ে থাকি। আর তোমার সাথে যাতে অন্য কেও লাইন মারতে না পারে তাই সবাইকে জানিয়ে দিতেছি আচ্ছা শুনো আশফি?

আশফি:- আবার কি?

আমি:- হাই দোস্তরা আমার বউ একটু লজ্জাবতী তো তাই আমি ওর হয়ে তোমাদের সবাইকে হাই বলে দিতেছি।

দোস্তরা:- হাই ভাবি।

আশফি:- আমাকে ক্লাসে যেতে দিবেন নাকী?

আমি:- হ্যা যাও! আশফি হাটা দিয়েছে আমি পেছন থেকে হাত টেনে ধরেছি। আশফি রাগি চোখে তাকিয়েছে আমি কানের কাছে গিয়ে বলি। আশফি তোমাকে অনেক কিউট আর সুইট লাগছে।

আশফি:- আপনাকে দেখতে একদম বান্দর লাগছে বলে চলে গেছে। আমি বন্ধুদের সাথে নিয়ে চলে এসেছি।

জুয়েল:- দোস্ত তোর সাথে আশফিকে দারুন মানিয়েছে। কিন্তু মনে হচ্ছে ভাবি তোকে একদম সহ্য করতে পারেনা।

আমি:- আস্তে আস্তে সব করতে পারবে দেখবি আশফি আমাকে অনেক ভালোবাসবে।

সাহেদ:- পার্টি কবে দিবি বল আর তর সয়ছে না।

আমি:- দিবো। তখনি আব্বা ফোন করেছে রিসিব করতেই বলে।

আব্বা:- আলিফ আজকে সন্ধায় তোর জাফর আঙ্কেলের বড় মেয়ের বিয়ের অনুষ্টান আছে। আমি কথা দিয়েছি সবাই যাবো তাই তুই তাড়া তাড়ি বাড়ীতে আসবি কথাটা যেনো মনে থাকে।

আমি:- ঠিক আছে! (আব্বা ফোন কেটে দিয়েছে) আচ্ছা দোস্তরা আমার যেতে হবে। ওদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে এসেছি বাসায়। বিকাল গড়িয়ে সন্ধার দিকে জাফর আঙ্কেলের বাসায় গেলাম। ঐখানে গিয়ে দেখি আশফিরা আসছে আমি তো খুশিতে আত্বহারা হয়ে গেছি। সবাইকে সালাম দিয়েছি আশফি আমার দিকে তাকিয়ে আছে সবার সাথে যেতেছে তখনি চেয়ে দেখি ওর জামার পেছনের চেইনটা খুলে নিচের দিকে নেমে গেছে কিছুটা। তখনি ওর পেছনে গিয়ে দাড়িয়ে পড়েছি।

আশফি:- কি হচ্ছে পেছনে গা গেশে দাঁড়িয়ে আছেন কেনো?

আমি:- একটু আঁড়ালে আসো।

আশফি:- কি আঁড়ালে যাবো কেনো? ছিঃ আপনি এতটা ছোট মনের মানুষ আমার ভাবতে গা ঘিন ঘিন লাগছে।

আমি:- আরে এখানে ছোট মনের মানুষ হতে যাবো কেনো? তোমার ভালোর জন্য বলছি বলে ওর জামার চেইন লাগিয়ে দিতেছি। আশফি চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে আমি চেইন লাগিয়ে দিয়ে চলে এসেছি অন্য দিকে। কিছুটা ঘুরতেছি একা একা তখনি আব্বার ফোন রিসিব করতেই বলে।

আব্বা:- তোর কোনো কমন সেন্স নাই এখানে সবাই তোর জন্য অপেক্ষা করতেছে আর তুই কিনা। তাড়া তাড়ি আয় সবাই তোর জন্য অপেক্ষা করতেছে।

আমি:- আসতেছি ফোনটা কেটে দিয়ে ওনাদের কাছে গেলাম। আশফি কিছু বলবে বলবে ভাব কিন্তু কিছু বলতে পারছেনা। সবার সাথে বসে খাবার খেয়ে নিলাম আমি বসে আছি আশফি পেছন থেকে বলে।

আশফি:- ধন্যবাদ।

আমি:- এইটা তো আমার অধিকার!

আশফি:- কিন্তু এইটা মনে করবেন না যে আমি আপনাকে ভালোবাসি। আপনি যতই চেষ্টা করেন কোনো কাজ হবেনা আমি আপনাকে বিয়ে করতে রাজি নয়। যেভাবে হোক বিয়েটা তো আমি ভেংগে দিবোই।

আমি:- আমাকে কেনো বিয়ে করতে চাওনা তার একটা কারন দেখাও।

আশফি:- বলতে পারবোনা আর কারন টারন বুঝিনা আপনাকে আমার বিয়ে করার কোনো ইচ্ছে নেই।

আমি:- ভালো লাগার আর ভালোবাসার কোনো কারন থাকেনা কিন্তু বিয়ে না করার অনেক রিজন থাকে।

আশফি:- দেখেন?

আমি:- হ্যা বলো?

আশফি:- দেখেন আমি আপনাকে বিয়ে করতে পারবোনা।

আমি:- কেনো? তুমি কাওকে ভালোবাসো? তোমাকে কেও আই লাভ ইউ বলছে?

আশফি:- আমাকে তো আপনি কতবার আই লাভ ইউ বলছেন। আর আমি একজনকে ভালোবাসি।

আমি:- সে কে যাকে তুমি ভালোবাসো?

আশফি:- আপনাকে বলার কোনো প্রয়োজন মনে করিনা।

আমি:- আমার মনে হয়না তোমাকে আমি ছাড়া আর কেও তোমাকে আই লাভ ইউ বলছে। আর এমন একদিন আসবে তুমি আমাকে জড়িয়ে ধরে বলবে আমি আপনাকে অনেক ভালোবাসি।

আশফি:- তার কোনো সুযোগ নেই আমি আজকে বাসায় গিয়ে সবাইকে বলে দিবো আপনাকে বিয়ে করতে আমি রাজি নয়। আপনাকে ছাড়া যাকে বলবে তাকেই আমি বিয়ে করবো বলে আশফি ওর পরিবারের কাছে চলে গেছে। আমি ওর পিছু পিছু গেছি সবাই এক সাথে হয়েছে।

আঙ্কেল:- বাবা আলিফ কাল থেকে তুমি আমার অফিসে এসো। আমি চাই আশফির নামে যেই ব্যবসাটা আছে সেইটা তুমি দেখা শুনা করো।

আশফি:- কিন্তু আব্বা আমি তো চাইছি ঐখানে আমি নিজেই বসবো।

আঙ্কেল:- কিন্তু আলিফ চাইনা তুমি অফিস করো এইটা আমাকে আরো ভালো লাগছে। আলিফ তোর জন্য যোগ্য বর বাবা আলিফ তুমি আশফিকে অনেক সূখে রাখবে এইটুকু আমি চাই।

আমি:- আঙ্কেল আপনি নিশ্চন্তে থাকেন আমি আশফিকে অনেক সুখে রাখবো।

আঙ্কেল:- আমি অনেক খুশি হয়েছি। তাহলে এখন যাই কাল সকালে তুমি অফিসে এসো কেমন।

আমি:- আঙ্কেল আমাদের বিয়টা হয়ে গেলো ভালো হতনা?

আঙ্কেল:- বিয়ে হতে হবেনা তোমাকে আমি জামাই মেনে নিয়েছি। জশিম সাহেব তাহলে আগামী কাল কাবিনটা করে নিলে কেমন হবে?

আব্বা:- ভালোই হয় তবে আমি তো সবাইকে বলেছি আগামী মাসের ৫ তারিখে বিয়ে।

আঙ্কেল:- ৫ তারিখে আশফিকে উঠিয়ে নিবেন।

শ্বাশুমা:- কাজী আর মৌলভী তো আছে যদি এখানে কাবিন করে ফেলতেন তাহলে ভালোই হত। (আমার শ্বাশুমা তো আরো এগিয়ে)

আব্বা:- করা যায় আমাদের দুই পরিবারের সবাই এখানে আছে।

শ্বশুড়:- হ্যা তাহলে চলেন দেখি আমি কথা বলি। (ওনারা সবাই গেছে কথা বলতে তখনি আশফি আমাকে বলে)

আশফি:- কোথায় রইলো আপনার চ্যালেঞ্জ? আমি এখনো আপনাকে ভালোবাসিনি আর এখনি কাবিন করে নিতে রাজি হয়ে গেছেন। যদি সত্যি আমাকে ভালোবেসে থাকেন তাহলে আজকে কাবিন করা থেকে বিরত রাখেন।

আমি:- আমাকে বোকা পায়ছো আগে বিয়ে হয়ে যাক তারপর সব ঠিক হয়ে যাবে।

আশফি:- ওকে আমিও দেখবো বিয়েটা কি করে হয় বলে হেটে সামনে গেছে ওদের। সবাই দাঁড়িয়ে আছে আর কাজী সাহেবের সাথে কথা বলছে এমনিতেই আশফি মাথা ঘুরে নিচে পড়ে গেছে। আরে আশফির কি হয়ছে বলে সবাই আশফিকে ধরা ধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। কেবিনে ঢুকিয়ে নিয়েছে আর সবাই অনেক চিন্তা করছে কিন্তু আমি বুঝতে পারছি সবটাই আশফির নাটক। কিন্তু তখনি ডাক্তার বের হয়ে যা বলছে তা শুনে আমি নিজেই থমকে গেলাম।
!!
To be continue,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here