গল্প:-একটু_অধিকার পর্ব:-(০৪)

0
2258

গল্প:-একটু_অধিকার পর্ব:-(০৪)
লেখা:- AL Mohammad Sourav
!!
আম্মার আর দাদির অত্যাচারে তসিবা এই বাড়িতে কত দিন থাকতে পারবে সেইটা চিন্তার বিষয়! যদিও ওনাদের সব অত্যাচার সহ্য করে যদিও তসিবা এই বাড়িতে থাকার চান্স পেয়ে যাই! তাহলে আমার অত্যাচারে নিশ্চিত পালাবে। আঁপাদত আমি তসিবার সাথে কোনো রকম কথাবার্তা বলছিনা দেখি দাদি আর মা তসিবার সাথে কি করে? রুমের দিকে যাচ্ছি তখনি ভাবি এসে আমার কান টেনে ধরেছে। ভাবি কি করছো কান ছাড়ো ব্যথা লাগছে। কানটা ছেড়ে বলে!

ভাবি:- সৌরভ তুমি তসিবাকে ভিতরে নিজে নিয়ে এসেছো। এর পরে না করেছো কেনো যে তুমি আনোনি? তোমার জন্য তসিবা কত গুলি কথা শুনেছে?

আমি:- একদম ঠিক করেছি আর কথা গুলি শুনার পাপ্য ছিলো।

ভাবি:- কেনো বাসর ঘরে খাঠের উপর রাখেনি বলে?

আমি:- ভাবি তুমি জানলে কি করে?

ভাবি:- বুঝতে পারছি আমি রুমে ঢুকেই আর সোফাই একটা বালিশ রাখা ছিলো। আর রুমটা কেমন এলোমেলো ছিলো আমি রুমে ঢুকে বুঝতে পারছি রাতে তোমরা অনেক ঝগড়া করেছো। সৌরভ বিয়েটা যেহেতু হয়ে গেছে তুমি তসিবাকে মেনে নাও। তখনি আম্মা ভাবিকে ডাক দিয়েছে।

আম্মা:- বড় বউ কাকে মেনে নিবে যেই মেয়েটা আমার সাথে খারাপ আচরন করছে তাকে? যতদিন আমি মেয়েকে মেনে নিতে না পারছি ততদিন সৌরভ তার বিয়ে মেনে নিবে না। সৌরভ তোর দাদি যা বলছে তাই করবি যা এখন রুমে যা।

আমি:- হ্যা যাচ্ছি! রুমে এসে কাপড় চেন্জ করে মোবাইলটা হাতে নিয়ে ফেসবুকে ঢুকেছি। কিছুক্ষণ বন্ধুদের সাথে মেসেজ করে বেড়িয়ে গেছি। দুপুরবেলা নিচে গেলাম দেখি দাদি তসিবাকে দিয়ে চাওলের কি সব বাচ্ছাচে। আমার দিকে তসিবা তাকিয়ে আছে!

দাদি:- শুনো মেয়ে যদি চাওলে একটা পাথর বা মরা চাওল থাকে তাহলে দুপুরবেলার খানা বন্ধ থাকবে। তখনি দাদি আমার দিকে তাকিয়ে বলে সৌরভ তোর কিছু লাগবে?

আমি:- হ্যা রুমে খাবার পানি শেষ হয়ে গেছে! টুনটুনি কোথায় ওকে বলো রুমে পানি দিয়ে দিতে।

দাদি:- টুনটুনিকে ছুটি দিয়ে দিয়েছি এক সাপ্তাহর জন্য। ঈদে তো বাড়িতে যায়নি তাই এখন ছুটি দিয়েছি কিছুদিন বাড়ি থেকে ঘুরে আসতে। তুই রুমে যা আমি পানি পাঠাচ্ছি।

আমি:- ঠিক আছে! আমি রুমে চলে এসেছি আর বসে বসে তসিবার জন্য অপেক্ষা করতেছি। আমি নিশ্চিত দাদি তসিবাকে দিয়ে পানি পাঠাবে। কিছুক্ষণ পরে দেখি দাদি নিজেই পানি নিয়ে এসেছে। আরে দাদি তুমি পানি আনতে গেলে কেনো?

দাদি:- তুই কি ভাবছিস আমি কিছু বুঝিনা আমি সব বুঝি। পানি তো মাত্র বাহানা তসিবাকে দেখার জন্য তাইনা নাতি?

আমি:- কি যে বলোনা দাদি! আমি নিজেই তো তসিবাকে সহ্য করতে পারিনা আমিও চাই তসিবা আমার জীবন থেকে দূরে চলে যাক।

দাদি:- তোর চোখ বলছে অন্য কথা! যদি তসিবা চলে গেলে খুশি হবি তাহলে তোর আম্মাকে বলবো তোদের ডির্ভোসের ব্যবস্থা করতে। (ডির্ভোসের কথাটা শুনে হঠাত করে কেমন জানি মনে হলো)

আমি:- বলো আমি সাইন করে দিবো। আচ্ছা তুমি এখন যাও আমার কাজ আছে! দাদি চলে গেছে আমি বসে আছি তখনি মোবাইলে ফোন এসেছে তাকিয়ে দেখি অফিসের নাম্বার রিসিভ করতেই বলে।

সৌরভ একটু অফিসে আসতে পারবেন জুরুরী একটা মিটিং ছিলো! জানি আপনার ছুটি কিন্তু ক্লাইন্টরা আপনার সাথে মিটিংটা করতে চাচ্ছে।

আমি:- ঠিক আছে স্যার আমি এখুনি আসতেছি। তাড়াতাড়ি করে তৈরি হয়ে নিলাম আম্মাকে বলেছি যে ফিরতে দেরি হবে। বাইকটা নিয়ে বেরুলাম। কিছুক্ষনের মধ্যে অফিসে এসেছি আমাকে দেখে সব কলিকরা মজা নিচ্ছে আমি কিছু না বলে স্যারের রুমে সামনে গিয়ে বলি আসবো স্যার।

স্যার:- হ্যা সৌরভ এসো।

আমি:- স্যার ক্লাইন্টরা কোথায়?

স্যার:- ওনারা হল রুমে আছে চলো।

আমি:- জ্বি স্যার চলেন! দুজনে মিলে হল রুমে গেলাম! ক্লাইন্টদের সাথে মিট করে কোশুল বিনিময় করে নিলাম। ওনাদের সাথে প্রায় তিন ঘন্টা বৈঠক শেষে আমাদের সাথে চুক্তি করতে রাজি হয়েছে। স্যার অনেক খুশি হয়েছে।

স্যার:- সৌরভ আগামী শুক্রবার আমাদের মেরিজ এনিভার্সারি উপলক্ষে ছোট খাটো পার্টির আয়োজন করেছি। তুমি তোমার মিসেস সহ তোমার পরিবারের সবাইকে আমার তরফ থেকে ইনবাইট করা হলো।

আমি:- ঠিক আছে স্যার। আচ্ছা তাহলে এখন আমি যাই। স্যার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বেড়িয়ে পড়েছি। রাস্তায় জ্যামে পরে আছি তখনি পাশের একটা বাইকে এক জোরা কাপল বসে আছে। দুজনের খুনসুটি দেখে আমারো করতে ইচ্ছে হয়ছে কিন্তু আমার ভাগ্যে তা হচ্ছেনা। বাড়িতে এসেছি রাত ১২টার দিকে কলিং বেল চাপ দিতেই আম্মা দরজা খুলে দিয়েছে!

আম্মা:- তুই খাবার টেবিলে বস আমি খাবার বেড়ে দিতেছি।

আমি:- নাহ খিদা নেই বলে এদিক সেদিক তাকাচ্ছি।

আম্মা:- যাকে খোঁজতেছিস সে তোর দাদির রুমে।

আমি:- কাওকে খোঁজ করছিনা বলে সোজা রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পড়েছি। সকালে ঘুম থেকে উঠে নামায পড়তে গেলাম নামায পড়ে এসে। ফ্রেশ হয়ে নিচে এসেছি।

ভাবি:- সৌরভ কোথাও যাবে নাকী?

আমি:- হ্যা অফিসে যাবো।

আব্বা:- তোর তো আরো ছুটি আছে তাহলে আজকে কেনো যাবি?

আমি:- ছুটি বাতিল করে দিয়েছি আজ থেকে যেতে হবে। সবাই মিলে নাস্তা করতেছি কিন্তু তসিবা নেই। আমি রান্নাঘরের দিকে তাকিয়ে দেখি তসিবা রান্না করছে আর হাত মুখ আঁঠা দিয়ে একা কার করে রাখছে। তসিবার এমন অবস্থা দেখে আমি আর নাস্তা করিনি অফিসে চলে আসার জন্য বাহিরে এসেছি তাকিয়ে দেখি তসিবার বাবা মা সি এন জি থেকে নামছে। আমি দেখে দৌরে ভিতরে এসেছি।

আম্মা:- কিরে কিছু ফেলে গেলি নাকী?

আমি:- হ্যা! বলে রান্নাঘরের দিকে তসিবার কাছে হাটা দিয়েছি।

আম্মা:- কিরে ঐদিকে যাচ্ছিস কেনো তোর দাদি যে তোকে তসিবার সাথে কথা বলতে মানা করছে তুই ভুলে গেছিস?

আমি:- দাদির কথা আমি শুনতে যাবো কেনো? বলে তসিবার কাছে গেছি সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে। তসিবা আমাকে দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। কাছে গিয়ে ওর হাত ধরে বেসিনের কাছে নিয়ে গেছি। তসিবা অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। কি হলো এমন করে কি দেখছো?

তসিবা:- আপনার শরীর ঠিক আছে তো?

আমি:- কেনো?

তসিবা:- নাকী আমি স্বপ্ন দেখছি!

আমি:- কথা কম বলো হাত গুলি দাও আমি দুয়ে দেয়। তসিবার হাত গুলি একদম ছোট ছোট ঠসা পরে গেছে। তসিবা তোমার হাতে এগুলা কি?

তসিবা:- কাজ করলে তো এমন ছোট খাটো ঠসা পড়বে তাইনা। তা হঠাত করে এতটা মায় হচ্ছে কেনো আমার প্রতি?

আমি:- মুখটা দুয়ে নাও কাম ফাস্ট তাড়াতাড়ি করো। তসিবা চেয়ে আছে আমি তসিবাকে ইশারা করছি।

দাদি:- সৌরভ কি হচ্ছে এসব কেনো এমনটা করছিস?

আমি:- একটু চুপ থাকবে নাকী? আমার বউয়ের সাথে আমি কি করবো না করবো এইটাও কি আপনারা শিখাই দিবেন নাকী? তসিবা এসো খাবে বলে তসিবাকে টেনে খাবার টেবিলে নিয়ে বসিয়েছি ঠিক তখনি আম্মা এসেছে প্লেট নিয়ে যেতে। আমি বাধা দিয়েছি তখনি কলিং বেল ভেজে উঠেছে।

দাদি:- এখন আবার কে এসেছে! বড় নাত বউ দরজাটা খুলে দাও।

ভাবি:- হ্যা যাচ্ছি। ভাবি দরজার দিকে গেছে তখন আম্মা বলে।

আম্মা:- সৌরভ যেই মেয়েটা আমাকে সবার সামনে অপমান করছে তাকে তুই সবার সাথে বসে খাবার অনুমতি দিচ্ছিস?

আমি:- আম্মা আমাদের বাড়ির কাজের মেয়ে টুনটুনি যদি আমাদের সাথে বসে খাবার খেতে পারে তাহলে তসিবা কেনো নয়। তসিবা তো এই বাড়ির বউ তাইনা তাহলে তসিবার কেনো অধিকার হবেনা আমাদের সবার সাথে বসে খাবার খেতে।

আম্মা:- কারণ তসিবা একটা বেয়াদব মেয়ে! তখনি চেয়ে দেখে তসিবার বাবা মা ওনারা ভিতরে এসেছে। আব্বা বসা থেকে উঠে ওনাদের কাছে গেছে। তসিবা দৌরে গিয়ে ওর আম্মাকে জড়িয়ে ধরেছে।

আব্বা:- বেয়াই সাহেব আর সাহেবা আপনারা হঠাত করে?

শ্বাশুরী:- আসলে আমরা এসেছি একটু ডাক্তারের কাছে! এদিক দিয়ে যাচ্ছিলাম তসিবাকে দেখতে মন চাইছে তাই চলে এসেছি। মা তসিবা নে এই ব্যাগ গুলি ধর। তখন তসিবা এক এক করে সবাইকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে তসিবার বাবা মাকে।

দাদি:- এসবের কি দরকার ছিলো? (খরস দাদি যদি না আনতো তাহলে তো ওনাদের বারোটা বাজিয়ে দিতে মনে মনে বলছি)

আম্মা:- আপনারা বসেন! মা তসিবা তোমার বাবা মাকেকে মেহমানদারি করো।

শ্বশুর:- না বেয়াইন তার কোনো দরকার নেই! আমরা বেলা থাকতে বাড়িতে যেতে হবে।

দাদি:- একটা কথা জিগেস করবো? আপনারা তো এর আগে এই বাড়িতে আসেন নাই তাহলে চিনলেন কি করে?

শ্বশুর:- বিন্তির বাবা ঠিকানা দিয়েছে! আর সি এন জি ড্রাইভারটা আপনাদের মহল্লার তাই আর চিন্তে কোনো অসুবিধা হয়নি। আচ্ছা বেয়াই আপনারা সবাই আমাদের বাড়িতে আগামী শুক্রবারে যাবেন।

আব্বা:- নাহ এখন আমরা কেউ যাচ্ছিনা আগামী শুক্রবারে সৌরভ আর তসিবাকে পাঠিয়ে দিবো। পরে এক সময় আমরা বেড়াতে যাবো কেমন।

শ্বশুর:- আপনারা যা ভালো মনে করেন! তবে যদি আপনারা সবাই যেতেন তাহলে আমি অনেক খুশি হতাম। তখনি দাদি বলে।

দাদি:- ঠিক আছে আমি ওদের সাথে যাবো এবার তো আপনারা খুশি হয়ছেন? তখনি তসিবা আর আমি দুজনে দাদির দিকে তাকিয়েছি আর দাদি একটা মিষ্টি হাসি দিয়েছে।

আব্বা:- নাহ আম্মা আপনার যাবার কোনো দরকার নেই। শুধু সৌরভ আর তসিবা যাবে।

শ্বাশুরী:- আচ্ছা তাহলে আমরা যাই আমাদের দেরি হয়ে যাচ্ছে। মা তসিবা নিজের প্রতি খেয়াল রাখিস। আর আপনাদের বলি তসিবা কোনো ভুল করলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখেন কেমন?

আম্মা:- তসিবাকে আমি আমার মেয়ে মনে করি! আপনারা তসিবার জন্য কোনো চিন্তা করবেন না। আম্মার কথা শুনে শ্বাশুরী অনেক খুশি হয়েছে। ওনারা চলে গেছে আমি আর তসিবা দরজা পর্যন্ত এসে এগিয়ে দিয়েছি। ওনারা দরজার বাহিরে যেই চলে গেছে তখনি তসিবা বলে

তসিবা:- ধন্যবাদ আম্মা আব্বার সামনে আমার প্রতি সহানুভূতি দেখানোর জন্য।

আমি:- হ্যা ঠিকই বলছো! দাদি তুমি তোমার কাজ শুরু করে দাও এতক্ষন যা করছি সবটা অভিনয় ছিলো। ঠিক তখনি দাদি একটা গ্লাস ফেলে ভেংগে ফেলছে।

দাদি:- এই তসিবা গ্লাসের টুকরা গুলি উঠাও। তসিবা আমার দিকে তাকিয়ে একটা ছোট হাসি দিয়ে গ্লাসের টুকরা গুলি উঠাতে গেছে! তসিবা হাসি দিলো কেনো তখনি চেয়ে দেখি তসিবা ভাংগা টুকরা না তুলে সোজা উপরের দিকে হাটা দিয়েছে। To be continue,,,,

( প্রিয় পাঠক আপনাদের যদি আমার গল্প পরে ভালোলেগে থাকে তাহলে আরো নতুন নতুন গল্প পড়ার জন্য আমার facebook id follow করে রাখতে পারেন, কারণ আমার facebook id তে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গল্প, কবিতা Publish করা হয়।)
Facebook Id link ???

https://www.facebook.com/shohrab.ampp

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here