গল্পের নাম-শক্তিরূপেণ সংস্থিতা (পর্ব- এক)

0
668

#গল্পপোকা_ধারাবাহিক_গল্প_প্রতিযোগিতা_২০২০
গল্পের নাম-শক্তিরূপেণ সংস্থিতা (পর্ব- এক)
লেখায়-সমন্বিতা ঘোষ

কলেজের ক্যান্টিনে বসে নীলাশা,আকাশলীনা আর ইমরান আড্ডা দিচ্ছিল।আর কদিন পর থেকেই পূজোর ভ্যাকেশন স্টার্ট হচ্ছে, কে কোথায় যাবে তা নিয়েই আলোচনা।এমনসময় সেখানে সদ্য প্রবেশ করা একটি মেয়ের দিকে তাকিয়ে নীলাশা বলে উঠল,”আরে ঐতিহাসিক ম্যাডাম, ঐ ফাঁকা টেবিলির দিকে যাচ্ছেন কেন? আমি আপনার লাইব্রেরি থেকে প্রত্যাগমনের প্রতীক্ষায় তখন থেকে বসে রয়েছি আর আপনি একা একা বসতে যাচ্ছেন?” নীলাশার কথা শুনে একটু অপ্রস্তুতভাবে হেসে ওদের দিকে এগিয়ে গেল মেয়েটি। ক্যান্টিনের বাকিরা তখনো ওর কথায় হাসাহাসি করছে।
ইমরান এক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে মেয়েটির দিকে।কোনোরকম সাজগোজ নেই। হালকা হলুদ রঙের একটা শাড়ি,ছোট্ট কালো টিপ , ডান হাতে ঘড়ি
আর চুলে খোপা করা। এসবের মাঝে সবচেয়ে অদ্ভুত চশমার আড়ালে থাকা কাজলকালো চোখের দ্যুতি;যেন আগুন আর জল একসাথে রয়েছে তাতে। প্রয়োজনমতো বর্ষায় তা;আর কতো গল্প যেন লুকিয়ে আছে সেই চোখের মণিতে।অদ্ভুত এক শ্রদ্ধা যেন ইমরানের মনে কাজ করছে।
মেয়েটি ওদের টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে বলল,”আমার জন্য তুমি অপেক্ষা করছিলে আমি জানতাম না নীলাশা। বলো।”এরপর ইমরান আর আকাশলীনার দিকে একটু জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে চাইল সে।
নীলাশা বলে ,”এই তোকে কতবার বলেছি যে আমাকে তুই করে বলবি।আর দাঁড়িয়ে না থেকে বোস।দ্যাখ তুই তো নতুন এসেছিস স্পেশাল অ্যাডমিশন নিয়ে ;তাই ওদের চিনিস না। তবে গোটা কলেজ ওদের ফ্যান। ও আকাশলীনা সিংহ আর ও হল ইমরান খান।কলেজের সেরা জুটি।আর ওদের একদিন দেখিনি কারণ একজন অসুস্থ থাকলে আরেকজনের কলেজ আসতে প্রাণের মধ্যে বাঁধা আছে। আর হ্যাঁ তোরা বস।আমি ঐতিহাসিক ম্যাডামের জন্য আইসক্রিম নিয়ে আসি” আইসক্রিম আনতে চলে গেল।
–হায়।আমি ইমরান।তুমি?
–নমস্কার। আমি আরাধ্যা রায়।
এরপর আরাধ্যা আর কিছু না বলে মুখ নীচু করে বসে রইল।
নীলাশা চকলেট আইসক্রিম নিয়ে আরাধ্যার সামনে রেখে বলল,” নে এটা খেয়ে নে।আর তো কিছু খাবি না। শরীরটাকে অসুস্থ করার প্ল্যান বানাচ্ছিস।কাল রাতে জাস্ট চকলেট আর আজ আইসক্রিম। অসাধারণ। ”

ইমরান বলল,”কেন ডায়েটিং করছ বুঝি?কিন্তু এগুলো খেলে ডায়েটিং করাও যা না করাও তা।” আরাধ্যা কিছু না বলে মাথা নাড়াল।

আকাশলীনা এবারে বলল,”আরাধ্যা তুমি কি বরাবরই শান্ত?না আমাদের সাথে কথা বলতে অকওয়ার্ড ফিল করছ? হবে না আমাদের ফ্রেন্ড?”
আরাধ্যা এবারে মুখ তুলে আকাশলীনা আর ইমরানের দিকে তাকিয়ে একটু হেসে ওদের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল,”ফ্রেন্ডস।” আকাশলীনা আর ইমরান দুজনেই একে অপরের দিকে তাকিয়ে একটু হেসে ওর হাতে হাত রেখে বলল,”মুখে নয় সময় এলে কাজে প্রমাণ করব আমাদের বন্ধুত্ব। ” নীলাশা বলে উঠল,”আমি তো বানের জলে ভেসে এসেছি। নতুন বন্ধু পেয়ে আমার কথা আর কেউ মনেই রাখে না।”আরাধ্যা বলল,”এমন করে বলিস না নীলু। তুই যে আমার কতটা কাছের তোকে বলে বোঝাতে পারব না।”

–আচ্ছা আরাধ্যা তোমাকে নীলাশা ঐতিহাসিক ম্যাডাম বলে কেন?
–আসলে ইমরান মানে আমার বিষয় বাংলা সাহিত্য হলেও ইতিহাসে একটু ইন্টারেস্ট আছে।
নীলাশা একটু মজা করে বলল,”সেই একটুর নমুনা যদি হোস্টেলের রুমকে প্রাচীন বাংলা সম্পর্কিত বইয়ের লাইব্রেরি বানানো হয় তবে মোটামুটি ইন্টারেস্টে কি হবে ভাব একটু লীনা। ”
–আচ্ছা, আচ্ছা বাদ দে।এই আরাধ্যা তুমি পূজোতে বাড়ি যাবে নাকি কোথাও ঘুরতে যাবে?আর যদি কোনো প্ল্যান না করে থাকো তবে তার দায়িত্ব আমাকে দিয়ে দাও।
–না মানে সত্যিই কিছু ভাবিনি আকাশলীনা।
–দারুন করেছ।
–মানে?
–শোনো না বলছি কি আমাদের দেশের বাড়িতে বেশ জমাটিয়া পুজো হয়।তুমি এলে খুব ভালো লাগবে।প্লিজ প্লিজ মানা কোরো না। নীলাশাও যাবে।
–আমি মানে..
–তুমি কালকের মধ্যে জানাও। আর আমি বারণ শোনার জন্য কিন্তু সময় দিচ্ছি না।তেমন হলে তোমার মা-বাবাকে আমি বলব।

“লাভ হবে না বলে।আমার মতো স্বার্থপর মানুষ ওদের কথা ভেবেই দেখে না তো শোনা।বড় খারাপ আমি। আমার সাথে পুজো কাটালে তোমার আনন্দ হয়তো মাটি হয়ে যাবে” বলে আরাধ্যা বেড়িয়ে গেল।

কথাগুলো বলার সময় আরাধ্যার চোখের কোণটা যে চিকচিক করছিল সেটা ইমরানের নজর এড়ালো না।
আকাশলীনা ভ্রূ কুঁচকে বলল, “নীলাশা ব্যাপারটা কি বলতো?অমন মিষ্টি মেয়ের মুখে এমন কথা আমি তো ভাবতেই পারছিনা।” নীলাশা বলল,”জানিনা রে লীনা। মেয়েটি বড় চাপা স্বভাবের।তবে বড় ভালো জানিস তো? কিছু ঘটনা হয়তো ওকে এমন করে দিয়েছে।আর ওর বাড়ির কথা জিজ্ঞাসা করলে বা মা-বাবার কথা বললে এমন উত্তর দেয়।”

গাছগাছালির ছায়ায় কিছু বেদীর মতো বসার জায়গা করা আছে কলেজেরই নিরিবিলি একটা স্থানে। ক্যান্টিন থেকে বেড়িয়ে ওখানে গিয়ে বসল আরাধ্যা।দাঁতে দাঁত চেপে চোখ বন্ধ করে আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগল চোখের জলকে বাঁধা দেওয়ার। তবে ব্যর্থ হয়ে সাদা মেঘে ঢাকা আকাশটার দিকে চেয়ে বলে উঠল,”বলতে পারো সাদা মেঘ,নীলাকাশ আমার অপরাধটা ঠিক কি?আচ্ছা, কাঁদতে না চাইলেও কেন জল আসে ?লড়াই ঠিক লড়াই। জন্মানোর পর লড়াই,শৈশবে লড়াই,নারীত্বের লড়াই,সমাজের বিরুদ্ধে লড়াই,নিজের সাথে নিজের লড়াই আর সেই মানুষগুলোর সাথে..এমনকি …..।ঠিক খালি লড়েই যেতে হবে ..তবে হাঁপিয়ে উঠেছি জানো?আর যে
পারছিনা। ”

শেষ সন্ধ্যায়……….

পরের দিন আকাশলীনা র জন্মদিন তাই ইমরান প্রেজেন্টশন হাউসে গিয়েছিল একটা গিফ্ট কিনতে।কিন্তু ফেরার সময় ঝড়বৃষ্টির জন্য আটকে পড়ল।আর এমন ঝড়বৃষ্টিতে ছাতা থাকাও যা না থাকাও তাই।
বাধ্য হয়ে একটা বন্ধ দোকানের বাইরে শেডের তলায় দাঁড়িয়ে রইল ।রাস্তাতে তেমন লোকজনও নেই।এমনসময় কিছু পুরুষকন্ঠ আর একটি নারীকন্ঠের তর্কাতর্কি আর গোঙানির শব্দ শুনতে পেল সে।
“আরে নারীকন্ঠ টা তো বেশ চেনা চেনা ঠেকছে। কোথায় শুনেছি? কোথায়? আরে এ তো আরাধ্যার
কন্ঠস্বর ! কিন্তু ওর তো টিউশনি করিয়ে আটটার মধ্যে হোস্টেলে ফেরার কথা” ইমরান আর ভাবতে পারল না এগিয়ে এল সামনের বাঁকটার দিকে সেই শব্দ অনুসরণ করে। কিছুটা এগোতেই থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল।
কতগুলো ছেলে মাটিতে পড়ে গোঙাচ্ছে। রাস্তার মাঝখানে আরাধ্যা দাঁড়িয়ে।ঝোড়ো হাওয়ায় তার চুল খুলে কোমড়ে লোটাচ্ছে। তার রক্ত বর্ণ চোখ যেন সবকিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে। বিদ্যুত যেন আকাশে ঐ মেঘের মাঝে নয় আরাধ্যার চোখে চমকাচ্ছে।
” কি যেন বলছিলি মেয়েরা হল নরম ফুল তার একটা একটা করে পাঁপড়ি ছিড়লে সে শুধু চোখের জলই ফেলতে পারে নীরবে। কিন্তু তোরা ভুলে গিয়েছিলিস যে কিছু ফুলে কাটাও থাকে। তাকে অন্যায়ভাবে অনধিকারে ছুঁতে চাইলে রক্তাক্ত হতে হয়।আর মেয়েদের মানুষ হিসাবে দেখতে শেখ;ভোগ-লালসার ভোজ্য বস্তু হিসেবে নয়।অবশ্য ওটা ছাড়া আর কিই বা পারিস। পারিস একটা মেয়েকে বোনের চোখে দেখে তাকে বাড়ি পৌঁছে দিতে সযত্নে? তোদের শেষ সুযোগ দিচ্ছি;পারলে মানসিকতা বদলা।আর কোনোদিন যদি কোনো নারীর অবমাননা করতে দেখি তাহলে পুঁতে রেখে দেব ” –বলে আরাধ্যা পেছন ঘুরে চলে গেল। ইমরানের মুখ থেকে অজান্তেই বেড়িয়ে গেল,
“নারী সত্যিই তুমি রহস্যময়ী…একই দেহে অগ্নিরূপা,বারিদাত্রী ,কোমলকামিনী।সেলাম তোমায়।”
(ক্রমশ )
[???? গতকাল আমার এই পোস্ট টি ভুলবশত ডিলিট হয়ে যাওয়ায় আজ আবার তা পোস্ট করলাম। পাঠক বন্ধুরা কিছু মনে করবেননা।
????আমার নিজস্ব মোবাইল না থাকায় মায়ের মোবাইল থেকেই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছি। তাই অ্যাকাউন্টে একজনের নাম আর লেখক হিসেবে আরেকজনের নাম।
????এটি আমার গল্পপোকাতে প্রথম লেখা। আমার ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দেবেন ]

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share