কে কোথায় যায়? পর্ব ১০

0
634

কে কোথায় যায়? পর্ব ১০
নীলগিরি বাংলাদেশের বান্দরবান জেলায় অবস্থিত। বান্দরবান শহর থেকে দক্ষিণ পূর্ব দিকে পাহাড়িরা আঁকা বাঁকা পথ বেয়ে থানচি উপজেলাগামী রাস্তার বাম পাশে এর অবস্থান। এটি একটি সুউচ্চ পাহাড় এবং মনোরম পর্যটন কেন্দ্র। নীলগিরি পাহাড়ের চারিদিকে সবসময় মেঘমন্ডিত থাকে। যতদূর চোখ যায় দিগন্ত বিস্তৃত ছোট ছোট সবুজ পাহাড় গুলো ঢেকে আছে শুভ্র মেঘের আঁচলে, যেন এক মেঘের দেশ, তাই নীলগিরিকে বাংলাদেশের দার্জিলিং বলা হয়ে থাকে। সকালের দিকে চারিদিকে তাকালে সাগরের মতো মনে হবে, প্রকৃত পক্ষে ওগুলো শুভ্র মেঘের ভেলা। নীলগিরি পাহাড়টি বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ৫০ কি:মি: দূরে এবং এর উঁচ্চতা ২২৫০ ফুট । নীলগিরি পাহাড় চূড়াতেই রয়েছে সেনাবাহিনী পরিচালিত বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর পর্যটন কেন্দ্র গুলোর একটি নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র।
শুভা খানিক সময় নীলগিরি’র দিকে তাকিয়ে রইলো।এমন সৌন্দর্যও মহান সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টি করেছেন?নীলাচল না গিয়ে আগে নীলগিরি দেখে তার আনন্দই হচ্ছে!
জন প্রতি ৫০ টাকা দিয়ে তাদের এন্ট্রি টিকিট সংগ্রহ করতে হবে নীলগিরিতে প্রবেশের জন্য এবং গাড়ি পার্কিং এর ফি টাও পরিশোধ করতে হবে এই টিকিট কাউন্টারে। গাড়ি ভেদে পার্কিং ফি ভিন্ন ভিন্ন। নীলগিরি অনেক উচুতে হবার কারনে আকাশের নীলটা এখানে বেশ তীক্ষ্ণ এবং সেই সাথে পাহাড়ের অসীম সমারোহ তাদের মুগ্ধ করছে। নীলগিরির রাস্তায় অনেক আদিবাসীদের দোকান রয়েছে- পাহাড়ি ফলের দোকান। এখান থেকে ওরা পাহাড়ি পেঁপে, জাম্বুরা, কলা অথবা আখের স্বাদ নিচ্ছে অল্প খরচেই।
সবাই দলে দলে বিভক্ত হয়ে সব জায়গা দেখতে লাগলো!
শুভা ও তামিম এক গ্রুপ!হাত হাত রেখেই হাটছিল দু’জন।
তামিম নির্বিকার গলায় বললো,
———‘একদিন হেঁটে হেঁটে ঠিক চলে যাবো
নির্জন নদীর বাঁকে,
ফিরিয়ে দাও, ফিরিয়ে দাও বলে কান্ত হচ্ছে
নাগরিক ফুসফুস।
দখিণা পথভুলা, পাথুরে জীবন।
পাইলিং মেশিনের বর্বর দাপুটে শব্দে দূর্বিষহ সময়
হৃদরোগের আশঙ্কা বুকে পুষে,
দেয়ালে ঝুলাই প্যানোরমা!
সবুজ বন, নাব্য নদী, দূরের পাইন, কিংবা
নীলগিরি, হিমালয়, চেরাপুঞ্জি…!
পুরানো এ্যালবাম জুড়ে আছে সুখ!
মাঝেমধ্যে সেখানে ঘুরে আসি…
ফিরে আসবে না সেইসব অতীত,
ভবিষ্যৎ কেউ জানি না, যেন বৃক্ষ স্থবির।
শোনা গেল, আজকাল কাসিনো খেলছে কতিপয় ভ্রষ্ট! ‘
শুভা হাসলো।ভ্রু কুচকে বললো,
——-‘এটা আবার কোন গান?’
তামিম চুল খাড়া করতে করতে বললো,
——-‘গান তো না, তবে একদিন হবে অবশ্যই!’
শুভা গাল ফুলিয়ে হাসলো!ছেলেটা একটু কেমন যেন!ঠিক কেমন?এই কেমন তামিম তা শুভা জানে না কিন্তু দিনকে দিন বড়ই টান অনুভব করছে সে।
রিতু সবাই এক স্থানে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিল!সবাই যে যেখানে ছিল দ্রুততার সহিত চলে এলো।রিতু সামান্য গলা কেশে বললো,
———‘আজ আর কোথাও ঘুরবে সবাই?সময় হাতে আছে!’
তামিম সরু চোখে শুভা’র দিকে তাকালো।শুভা’কে নির্বিকার গলায় বললো,
——–‘ঘুরবি?’
নীহারিকা কথার মাঝে নাক দিল।ভ্রু কুচকিয়ে সে বললো,
———‘শুভাকে জিজ্ঞেস ক্যান করছিস?তোর নিজস্ব মতামত নাই?ও কি তোর গফ নাকি হ্যাঁ?’
শুভা বিব্রতবোধ করলো।মেয়েটার পেটে একটা কথাও আটকায় না!!তামিম চুল খাড়া করতে করতে বললো,
——-‘গফের চেয়ে কম কিসে?বন্ধু’ই তো আমরা!তাই না রে?’
শুভা কাপা কাপা গলায় বললো,
———‘হ্যাঁএএএ!’
রিতুকে খানিক নয় অনেকটা বিরক্ত দেখালো।রুদ্র তাই রিতুকে বললো,
——-‘তা আপু আমরা কই যাবো এখন?’
রিতু ধারালো কন্ঠে বললো,
——-‘শৈলপ্রপাত দেখবা সবাই?’
সবাই সমস্বরে বললো,
——–‘ইয়েস!’
গাড়ি চলতে চলতে ওরা পৌঁছে গেল শৈলপ্রপাতে। এখানে শৈলপ্রপাতের চেয়ে তাদের বেশী মুগ্ধ করবে উপজাতিদের হাতে তৈরি পোশাক, শাল, মাফলার এবং অন্যান্য শিল্প। অনেক অল্প খরচে অনেক সুন্দর কিছু কাপড় ওরা এখান থেকে কিনতে পারবে। শৈলপ্রপাতে কোন এন্ট্রি টিকিট নিতে হবে না।বান্দরবান যে কতই রুপে রুপবতী তা নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা অসম্ভব!শৈলপ্রপাতের চারিদিক ঘুরে ওরা হোটেলে ফিরলো!
সবাই যার রুমে গিয়ে ফ্রেশ হলো।শুভার মন কিছুতেই রুমে বসছে না!অনেকক্ষণ নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও এখন পারছে না।দরজা খুলতেই সামনে দাড়িয়ে তামিম!
শুভা হতবাক হলো।মিষ্টি গলায় দিয়ে বললো,
——-‘আরে তুই যে?আমি তোর রুমেই যাচ্ছিলাম।’
তামিম শুভাকে ধাক্কা দিয়ে রুমে ঢুকলো!চারদিক পরখ করে বললো,
——–‘বাহ!কি সুন্দর করে রাখছিস রুমটা যদিও এটা কাল পর পরশু শেষ!’
শুভা ভেংচি মেরে বললো,
——‘তো কি হলো?’
তামিম বারান্দার দিকে অগ্রসর হলো!শুভাকে হাত দিয়ে ইশারা করলো।শুভাও দৌড়ে গেল!শুভা চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললো,
——-‘কাল নাফাখুম যাবো তাই না রে?’
তামিম বিরক্তি নিয়ে বললো,
——‘এই জায়গার অনেক নাম!কোনটা দিয়ে পরিচয় দিব খুজে পাইনা।’
শুভা চাঁদের দিকে দৃষ্টি আবদ্ধ করে বললো,
——–‘চাঁদটা কি সুন্দর আজকের!তাই না রে?’
তামিম অন্যমনষ্ক হয়ে বললো,
——–‘ওটা দিকে ক্যান তাকাবো?আমার পাশেই যে একটা চাঁদ বসে আছে,ওটার কি?’
শুভার সর্বাঙ্গ দুলা দিয়ে উঠলো! এ কি ওর পুরানো সেই বন্ধু না অন্যকিছু?
চলবে…..
©ইভা আহমেদ চৌধুরী
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।
▶ লেখকদের জন্য পুরষ্কার-৪০০৳ থেকে ৫০০৳ মূল্যের একটি বই
▶ পাঠকদের জন্য পুরস্কার -২০০৳ থেকে ৩০০৳ মূল্যের একটি বই
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক:
https://www.facebook.com/groups/golpopoka/

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে