কে কোথায় যায়? পর্ব ১৯

0
557

কে কোথায় যায়? পর্ব ১৯
——‘বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিম কোণে সুন্দরবনের অবস্থান।প্রত্যহ সামুদ্রিক জোয়ারের পানিতে এ বন প্লাবিত হয় বলে একে লোনা পানির বনও বলা হয়!এ বনের অধিকাংশ উদ্ভিদের উর্ধ্বমুখী বায়বীয় মূল রয়েছে।যার সাহায্যে এরা শ্বসন ক্রিয়ার জন্য অক্সিজেন গ্রহণ করে।এ বনের মোট আয়তন ৬০০০ বর্গ কিলোমিটার।আর কিছু জানবি তোরা?’
রুদ্র চোখে চশমা দিয়ে একজন জ্ঞানী লোক সেজে উপরিক্ত বর্ণনাটা দিল।শুভা রুদ্রের কাধে থাপ্পড় দিয়ে বলল,
——‘কেয়া বাত হে মেরি দোস্ত!’
নীহারিকা প্রশ্ন করল রুদ্রকে,
——-‘আমরা তো সমুদ্রসৈকত আর ভুটানে যাবো, তো সুন্দরবন কই থাইকা আসলো?’
শুভা হাতে হাত রাখলো নিজের!তারপর বলল,
——‘প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি, বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য, রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল সুন্দরবন ক্রমেই সৌন্দর্য পিপাসু ভ্রমণকারীদের জন্য হয়ে উঠেছে তীর্থস্থান।তাই কেন বাদ থাকবো এই বন্ধুমহল?’
শুভা আবারও বলল,
——-‘সুন্দরবন ভ্রমণের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা থেকে ঘুরে আসার মতো স্থান সুন্দরবন।কাজের চাপ, মানুষের ভিড়, গাড়িঘোড়ার শব্দ এসব থেকে বাঁচতে সুন্দরবনের নির্জনতা দেবে এক দারুন উপভোগ্য সময়।নদীর মাঝখান দিয়ে বয়ে চলা লঞ্চ, চারপাশে সবুজ আর সবুজ, পাখির ডাক আর বানরের খেলা, কুমিরের চলাচল এবং হরিণের মায়াবি চোখ!’
ভোর ভ্রু কুচকে শুভাকে বলল,
——-‘আপুই,তুই তো সুন্দরবনে কখনো যাস নাই,তবে এত সুন্দর বর্ণনা উপস্থাপন করলি কিভাবে?’
নীহারিকা ফুড়ন কেটে বলল,
——‘ইউটিউব ম্যাপ আপা আছে না?ওখান থাইকা!’
তামিম রুমে এসেই তাড়াহুড়োর সহিত বলল,
——-‘তাড়াতাড়ি গাড়িতে উঠ তোরা,গাড়ি আসছে!সমুদ্রসৈকত ভ্রমণ, ওয়াহ!’
রুদ্র ঘাড় ত্যাড়া করে বলল,
——‘সুন্দরবন যামু না?’
তামিম রেগে গেল।রেগে গজ গজ করতে করতে বলল,
——-‘টাকা তুই দিবি শালা?এভাবেই যে এত টাকা দিয়া দুই স্থান ঘুরবো এটাই গায়ে নেয় না?’
শুভা ইনোসেন্ট মুখ করে বলল,
——-‘সুন্দরবন!’
কত বিচিত্র প্রকৃতি দেখলো ওরা!চারদিক দেখতে দেখতে তারা পৌছালো সমুদ্রসৈকতে!তখন রাত!
কতো মানুষ! হালকা শীতে কতো আনন্দ!
না, খুব অল্প। সমুদ্রেও যেনো মরা নদীর শোক! ঢেউয়ে কাদা আর বালি। সমুদ্রে নামেনি। তাই বলে, আনন্দে কৃপণতা ছিলোনা।সবাই প্রাণের বন্ধু। কেউ সস্ত্রীক নয়। মাঝেমধ্যে এরকম ‘ব্যাচেলর লাইফ’ উপভোগ করতে দারুণ লাগে।
হোটেল থেকে সন্ধ্যায় বের হয় শুভা ও তামিম! তখন সবে মাত্র জোয়ার শুরু হয়েছে সাথে হালকা বাতাস। তারা হাঁটতে হাঁটতে চলে যায় দ্বীপের মূল বীচে। বীচের পাশেই তখন চলছে বারবি কিউর আসর। সমুদ্র থেকে ধরে আনা বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ এই বারবি-কিউর মূল উপাদান। এর মধ্যে সুন্দরী, কোরাল, টুনা, লবস্টার, সুরমা, রূপ চাঁদা, টেক চাঁদা, স্যামন, কাঁকড়া কমন হলেও স্কুইড, বাটারফ্লাই, ফ্লাইং ফিশের মতো ব্যতিক্রমধর্মী মাছ-ও চোখে পড়লো ।
বেশ উপভোগ করলো দু’জনে!
বীচ থেকে পরে চলে গেলো জেটি ঘাটে।জ্যোৎস্নার আলোয় তখন জেটির সবকিছু স্পষ্ট! জেটির বা-পাশটা প্রায় খালি আর ডান পাশটায় প্রচুর ব্যস্ততা। এই পাশটায় জেলেদের মাছ ধরার ট্রলার এসে ভিড়েছে। ট্রলারগুলোতে তখনও সিগনাল দেওয়ার লাল-নীল বাতি জ্বলছে-নিভছে। সব মিলিয়ে ভালোই লাগছিলো ওদের।হঠাৎ বাতাসের তীব্রতা বাড়তে শুরু করলো। বাতাসের তীব্রতা মনে একটা আতংকের সৃষ্টি করলো। ঝড়ের আতংক। তারা কি তবে সেইন্ট মার্টিনে আটকা পড়তে যাচ্ছি? পড়লেই বা কি আসে যায়, এই দ্বীপে মাসখানেক থাকতেও কারো আপত্তি থাকার কথা না, যদি পকেটে কিছু টাকা থাকে। পরে জানা গেলো জোয়ারের সময় এই বাতাস এখানকার স্বাভাবিক বিষয়।
বীচের যে জায়গা দিয়ে একটু আগে ওরা হেঁটে এসেছে সেখানে এখন হাঁটু পানি। উপায় না পেয়ে ওরা পাঁকা রাস্তা ধরে তাদের হোটেলে ফিরার পথে যেতে লাগলো।
রাত তখন ১২টা । জোয়ারের সময় প্রায় শেষের দিকে। ওরা পশ্চিম বীচের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। হাতে গোনা কিছু মানুষ তখন বীচে তাদের অলস সময় পার করছে। কেউ কেউ তাদের প্রিয়জনদের নিয়ে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়টি কাটাচ্ছে। কেউ বা আবার গিটারে তাদের প্রিয় গানটি তুলছে। তারা যতো পশ্চিমে যাচ্ছিলো নীরবতা ততোই বাড়ছিলো। বীচের পাশেই একটা চায়ের দোকান খুঁজে পেলো তামিম। এই শীতল আবহাওয়ায় এক কাপ চাঁয়ের খুব প্রয়োজন ছিলো!
শুভা তামিমের হাত ধরলো শক্ত করে!কানের পাশে এসে বলল,
——-‘দোস্ত ঠান্ডা লাগতেছে রে!’
©ইভা আহমেদ চৌধুরী
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।
▶ লেখকদের জন্য পুরষ্কার-৪০০৳ থেকে ৫০০৳ মূল্যের একটি বই
▶ পাঠকদের জন্য পুরস্কার -২০০৳ থেকে ৩০০৳ মূল্যের একটি বই
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক:
https://www.facebook.com/groups/golpopoka/

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে