ওয়াদা ২৬

0
2546

ওয়াদা ২৬
আমি আর ঝুমা মাকে রান্নায় সাহায্য করছি। রান্না শেষে ঝুমা টেবিলে খারাব দিলো আমরা সবাই একসাথে খেলাম। খাওয়া শেষে যে যার রুমে চলে গেলো। আমিও মেঘের রুমে গেলাম। ও ওয়াশরুমে গেছে। আমি খাটের উপর বসে আছি। ঔ বাড়িতে যেতে হবে একবার। জামা কাপড় আর মোবাইলটা আনতে। না জানি শুভ কতবার কল করেছে। আমি যখনই উঠতে যাবো তখনই শুভর ফোনে কল এলো ফোনটা হাতে নিয়ে দেখি রাত্রি কল করেছে। ওই হয়তো এখনো কিছু জানে না। আমি ফোনটা রেখে মায়ের কাছে বলে আমাদের ফ্লাটে এলাম।
-কি রে নাশু এতো সকালে এলি যে?(মা)
-কেন আসতে পারি না বুঝি?(রাগি গলায়)
-আরে রাগ করছিস কেন। আমিতো এমনি জিজ্ঞাসা করলাম। তুইতো,,,,
মায়ের কথা না শুনেই আমার রুমে চলে এলাম। মায়ের কথা শুনতে আমার ইচ্ছা করছে না। মা আমার সাথে যেটা করলো সেটা আমি কোনোদিনও ভুলতে পারবো না। রুমে এসে আগে মোবাইলটা খুজতে লাগলাম পাগলের মতো। কিন্তু কোথায় পাচ্ছি না।
-নিশাত নিশাত?
-কি হয়েছে আপু?
-আমার মোবাইল কোথায়?
-মোবাইলতো মায়ের কাছে।
আমি রুম থেকে বেরিয়য়ে মায়ের কাছে গিয়ে বললাম।
-আমার মোবাইলটা দাও।
-মোবাইলতো আমার রুমে আছে। তুই একটু দাড়া আমি নিয়ে আসছি।
-না থাক। আমি নিজেই যাচ্ছি।
তাড়াতাড়ি মায়ের রুমে গিয়ে টেবিলের উপর রাখা আমার মোবাইলটা নিলাম। মোবাইল হাতে নিয়ে কল লিস্ট আর মেসেজ চেক করলাম। কিন্তু শুভর কোনো কল বা মেসেজ আসে নি। শুধু জয়ার কল এসেছে একবার। মনে হয় কেউ রিসিভ করেছিলো। এটা কিভাবে সম্ভব। শুভ কাল থেকে আমায় একটাও কল করেনি। আমি দেরি না করে ওর ফোনে কল দিলাম কিন্তু ওর ফোন বন্ধ। ও কি কাল রাত থেকে একবারো ফোন অন করেনি। তন্নিদের বাড়িতে আমায় না পেয়ে নিশ্চয় ও রাগ করে ফোন অফ করে রেখেছে। আচ্ছা আমার বিয়ের কথাটা ও জেনে যায়নি তো। না না জানবে কিভাবে। আমার বিয়ের কথাতো বাইরের কেউ জানে না। এমনকি কোনো ফ্রেন্ডও জানে না। এখন আমি কি করবো। কিভাবে ওর সাথে যোগাযোগ করবো। জয়াকে একটা কল করি। তারপর জয়াকে কল করলাম।
-হ্যালো জয়া।
-হুম বল।
-কোথায় তুই।
-কোথায় আবার তন্নিদের বাড়িতেই আছি। কালতো তন্নির বৌভাত তুইতো চলে গেলি।
-হুম। মায়ের কাজ পরে গেছিলো তাই আসতে হলো।
-কি এমন কাজ পরলো যে এইভাবে যেতে হলো?
-সেসব পরে বলবো। এখন বলতো শুভ কোথায়?
-শুভ কোথায় মানে? তুইতো আমাদের বলবি শুভ কোথায়। কাল থেকে সমানে ওকে কল করছি কিন্তু ওর ফোন বন্ধ দেখাচ্ছে। আমরা সবাই কত চেষ্টা করলাম যোগাযোগ করার কিন্তু পারলাম না। তোকে ফোন করেছিলাম কিন্তু ফোনটা আন্টি রিসিভ করেছিলো। বললো তোর শরীরটা ভালো নয় তাই তুই ঘুমাচ্ছিস। সকালে তোকে বলবে কল করতে। কি হয়েছিলো তোর?
-হুম। না তেমন কিছু না। আচ্ছা তোদের কারোর কাছে শুভর অন্য কোনো নাম্বার নেই?
-নাশু শুভর যদি অন্য কোনো নাম্বার থাকতো তাহলে কি তুই জানতিস না।
-তাও ঠিক।
-নাশু সব ঠিক আছেতো। শুভর সাথে তোর কোনো ঝগড়া হয়েছে কি,,,?
-না। আসলে কাল থেকে ওর ফোনটা বন্ধ পাচ্ছিতো তাই একটু টেনশন হচ্ছে।
-টেনশন করিস না। নিশ্চয় কোন কাজে আটকে গেছে তাই ফোন অফ।
-হুম। তাই হবে। আচ্ছা রাখছি। পরে কথা হবে।
শুভ কোনো কাজে আটকে যায় নি আমি খুব ভালো করেই জানি। আচ্ছা শুভর কোনো বিপদ হয়নি তো। না না এসব আমি কি ভাবছি। শুভর কিছু হতে পারে না। কিন্তু ওর ফোন এখনো অফ কেন। আমার মাথায় কিচ্ছু আসছে না। আমিতো শুভর পরিচিত কাউকে চিনিও না যার কাছ থেকে ওর খবর নিবো। কি করবো এখন কোথায় পাবো শুভর খবর। এইসব ভাবতে ভাবতে নিশাত রুমে এলো।
-কিরে পাস নি?
-পেয়েছি।
-এতো সময় লাগে।
-না একটু কথা বলছিলাম।
এই বলে রুম থেকে বেরিয়ে আমার রুমে গিয়ে জামা কাপড় সব গুছিয়ে চলে আসছিলাম তখন মা বললো
-কি রে এভাবে না বলে চলে যাচ্ছিস যে। এসে তো কিছু খেলিও না।
-আমি খেয়েই এসেছিলাম। আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে আসছি।
-এক দিনেই আমরা পর হয়ে গেলাম।
-পর তো তোমরা আমায় করে দিয়েছো মা। তোমরা শুধু নিজেদের কথায় ভেবেছো আমার কথাটা একবারও ভাবো নি।
-বিশ্বাস কর মা। যা কিছু করেছি তা তোর ভালোর জন্যই করেছি। আজ না হয় কাল এটা তুই ঠিকই বুঝবি।
আমি আর কথা না বাড়িয়ে চলে এলাম। বাড়িতে ঢুতকেই অনুকাকিমা মানে মা বললো
-কি রে কোথায় গিয়েছিলি।
-মায়ের কাছে। আমার কিছু জিনিসপত্র আনতে।
-ওহ আচ্ছা। যা রুমে গিয়ে সব গুছিয়ে রাখ।
-ঠিক আছে।
আমি রুমে গিয়ে দেখি মেঘ নেই। ওর ফোনটা বিনাছার উপর একি ভাবে আছে যে ভাবে আমি যাওয়ার আগে ছিলো। আমি আলমারি খুলে একপাশে আমার জামা কাপড় গুলো রাখতে লাগলাম। জানিনা এটা নিয়ে আবার কিছু বলবে কিনা। কিন্তু এখানে না রাখলে আমার কাপড়গুলো আর কোথায় বা রাখবো। মেঘের ফোনটা আবার বেজে উঠলো। আমি সেদিকে মন না দিয়ে নিজের কাজ করছি। কিন্তু ফোনটা বার বার বেজেই যাচ্ছে। এই মেঘটা ফোন রেখে কোথায় যে গেলো। বিরক্তিকর। ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলাম অচেনা নাম্বার থেকে কল করেছে। বার বার কল করছে আর মেঘও এদিকে নেই তাই ফোনটা রিসিভ করলাম। রিসিভ করতেই,
-সরি মেঘ ছেলেটার বিরুদ্ধে আমরা কোনো প্রমাণ জোগার করতে পারিনি। আর ছেলেটিকেও আমরা কোথাও খুজে পাচ্ছি না। তবে একটা উপায় আছে মেঘ। যেটার দ্বারা আমরা ছেলেটিকে ধরতে পারি। ছেলেটির বাবা আজই,,,,,,
কথাটা শোনার আগেই কেউ আমার হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিলো। তাকিয়ে দেখি মেঘ।
-সিফাত আমি তোর সাথে পরে কথা বলছি।(বলেই ফোনটা কেটে দিলো)
-তোমার সাহস হয় কি করে আমার ফোন ধরার?(দাতে দাত চেপে খুব রেগে বললো)
-না মানে,,,,,,,,
-মাঝে মাঝে তোমার সাহস দেখে আমি অবাক হয়ে যাই। ফোন ধরার আগে তোমার দু বার ভাবা উচিত ছিলো তুমি কার ফোন ধরছো।
-আপনার ফোনে বার বার কেউ কল দিচ্ছিলো তাই,,,,,
-চুপ। একদম মুখে মুখে কথা বলবে না। আর নেক্সট টাইম এই ভুল যেন না হয়।(বলেই চলে গেলো)
ধুর এমনিতেই টেনশনে আছি তার মধ্য,,,,, শুভকে কল দিতে লাগলাম। কিন্তু এখনো বন্ধ। সকাল থেকে কল করছি এখন দুপুর হয়ে গেছে কিন্তু এখনো ফোনটা অন করেনি। এবার আমার অনেক বেশি টেনশন হচ্ছে। শুভ প্লিজ একবার অন্তত ফোনটা অন করো। আমি একবার তোমার গলার আওয়াজটা শুনতে চায়। আমি যে আর পারছি না শুভ পারছি না। দুপুর দুইটার বেশি বাজে। আমি ফ্লোরের উপর খাটের সাথে হেলান দিয়ে বসে আছি। তখন মা রুমে এলো।
-কি রে নাশু তুই এইভাবে নিচে বসে আছিস কেন?
-না মা। এমনিতেই।
-শরীর ঠিক আছে তো?
-হ্যা। শরীর ঠিক আছে।
-তোর চোখ মুখ এমন লাগছে কেন আর তুই এখনো গোসল করিস নি?
-না এই যাচ্ছিলাম।
-কি হয়েছে সত্যি করে বলতো?
-কিছু হয়নি।
-সকালে ও বাড়ি থেকে আসার পর থেকে একবারও রুম থেকো বের হসনি। দুপুর হয়ে গেছে তাও বেরচ্ছিস না দেখে তোকে ডাকতে এলাম।
-(আমি চুপ করে আছি)
-আচ্ছা যা গোসল করে খেতে আয়। অনেক বেলা হয়ে গেছে। তাড়াতাড়ি আয়।
-আচ্ছা।
মা চলে গেলেন আর আমি আলমারি থেকে একটা জামা বের করে বাথরুমে গেলাম। গোসল সেরে খাবারের টেবিলে গেলাম। মা খাবার নিয়ে বসে আছে। আমি আর মা একসাথে খেলাম। খেতে মোটেই ইচ্ছা করছে না। কিন্তু না খেলে মা হাজারটা প্রশ্ন করবে তাই চুপচাপ খেয়ে নিলাম। খাওয়া শেষে রুমে এসে আবার শুভর ফোনে কল দিলাম। এখনো বন্ধ। টেনশন এ আমার হাত পা কাপছে। বিকাল হয়ে গেছে তাও ওর ফোন বন্ধ। না এইভাবে আর ওয়েট করতে পারছি না। এইভাবে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না। আমায় কিছু একটা করতে হবে। কিন্তু কি করবো। কিভাবে পাবো শুভর খোজ। শুভর বাড়িতে যাবো? কিন্তু ওর বাড়ির লোক কি ভাববে। আগে কখনো শুভর বাড়িতে আমরা কেউ যায়নি। শুভ অবশ্য আমায় ঠিকানাটা বলেছিলো আর রাস্তা থেকে ওদের বাড়িটা দেখিয়েছিলো। কিন্তু যাওয়াটা কি ঠিক হবে। না ঠিক ভুল পরে দেখা যাবে। আগে আমায় শুভর খোজ পেতে হবে। কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করলে বলবো শুভর ফ্রেন্ড এতে এতো ভাবার কি আছে। কেউ কিছু মনে করবে না। তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে মাকে বান্ধবির বাড়িতে যাবো বলে বেরিয়ে এলাম। একটা রিক্সা নিয়ে সোজা শুভদের বাড়ির সামনে এলাম। ভাড়া মিটিয়ে বাড়ির সামনে দাড়িয়ে আছি। ও বলেছিলো ওদের বাড়িতে শুধু ও, ওর মা, বাবা, আর ছোট দুই বোন থাকে। আর ওর বাবা একজন বিজনেসম্যান। ওদের বাড়িতে শুধু ওরাই থাকে কোনো ভাড়াটে নেই। আমি বাড়ির ভেতরে যাবো তখনই দারোয়ান আটকালো
-কাকে চাই।
-জ্বি আমি শুভর সাথে দেখা করতে এসেছি। আমি শুভর ফ্রেন্ড।
-সরি ম্যাডাম এখানে শুভ নামে কেউ থাকে না।
ওনার কথা শুনে আমি অবাক হলাম। শুভতো এই বাড়িটাই দেখিয়েছিলো আর ঠিকানাটাও তো এটাই বলেছিলো। তাহলে উনি একথা কেন বলছেন যে শুভ নামে কেউ এখানে থাকে না। নাকি শুভর অন্য কোনো নাম আছে। ওনারা হয়তো শুভকে অন্য নামে ডাকেন।
-আচ্ছা আংকেল এটা বিজনেসম্যান শফিউর রহমানের(শুভর বাবা) বাড়িতো। আমি ওনার ছেলের সাথে দেখা করতে এসেছি।
-না মা এটা কোনো বিজনেসম্যান শফিউর রহমানের বাড়ি নয়। এটাতো পুলিশ অফিসার সিফাত চৌধুরির বাড়ি। তুমি হয়তো ভুল ঠিকানায় এসেছো।
ওনার কথা শুনে এবার আমার মাথা ঘুরছে। এটা কিভাবে সম্ভব আমার স্পষ্ট মনে আছে শুভ এই বাড়িটাই দেখিয়েছিলো। ওরা কি তাহলে বাসা পালটিয়েছে। হতেও পারে।
-আংকেল ওনারা এই বাড়িতে কতদিন ধরে আছেন?
-তা প্রায় ১২-১৩ বছর।
তারমানে শুভ আমায় মিথ্যে বলেছিলো। কিন্তু কেন? ও কেন আমায় মিথ্যে বলেছিলো। কি লাভ আমায় মিথ্যে বলে। কিচ্ছু বুঝতে পারছি না। আমার সাথে এগুলো কি হচ্ছে কেন হচ্ছে। শুভ কোথায় তুমি। আমি কি সত্যি তোমায় চিরকালের মতো হারিয়ে ফেললাম। তোমার সাথে কি আমার আর কখনো দেখা হবে। আমায় যে তোমায় অনেক কিছু বলার আছে অনেক কিছু জানানোর আছে। তুমি কোথায় শুভ কোথায় তুমি। সন্ধ্যা হয়ে গেছে। ওখান থেকে বেরিয়ে রাস্তায় আনমনে হাটছি আর এসব ভাবছি। হঠাৎ করে কেউ আমার হাত ধরে খুব জোড়ে টান দিলো আর আমার পাশ দিয়ে খুব জোড়ে একটা গাড়ি চলে গেলো। সে আমায় জড়িয়ে ধরে দাড়িয়ে আছে। আমি অনেক ভয় পেয়ে গেছি। আমিও তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে দাড়িয়ে আছি। যখন হুশ ফিরলো তাড়াতাড়ি নিজেকে ছাড়িয়ে দেখলাম মেঘ।
-পাগল হয়ে গেছো তুমি? এইভাবে কেউ রাস্তায় হাটে। এখন যদি তোমার কিছু হয়ে যেত তাহলে? তুমি বুঝতে পারছো কি হতো? (আমার দুই কাধে হাত দিয়ে ঝাকিয়ে চিল্লিয়ে কথাগুলো বললো)
-কি হতো মরে যেতাম তো আমি? সেটাই অনেক ভালো ছিলো। আমি মরে গেলেই ভালো হতো।(আমিও অনেক জোড়ে চিল্লিয়ে বললাম)
-আর একবারও যদি মরার কথা বলো তাহলে আমি নিজেই তোমায় মেরে ফেলবো।
-সেটাই করুন। মেরে ফেলুন আমায়। যেই মুহূর্তে আপনার সাথে আমার বিয়েটা হয়েছে আমার মনটাতো সেই সময়ই মরে গেছে। শুধু শরীরটাই আছে। নিজেকে জীবন্ত লাশ মনে আমার। আমার সব স্বপ্ন, ইচ্ছা, ভালোলাগা, ভালোবাসা, ভালোবাসার মানুষ সব কিছু হারিয়েছি আমি। আপনিতো সবটা জানতেন। আপনিতো জানতেন আমি শুভকে ভালোবাসি তারপরও আপনি কেন এই বিয়েটা হতে দিলেন। কেন শুভ আর আমাকে আলাদা করে দিলেন। কেন আমার জীবনটা এইভাবে নষ্ট হতে দিলেন। আমি যে শুভকে চিরকালের মত হারিয়ে ফেললাম। চিরকালের মত হারিয়ে ফেললাম।(বলতে বলতে মাটিতে বসে পরলাম আর জোড়ে জোড়ে কাদতে লাগলাম) চারিপাশে অনেক লোকজন জড় হয়েছে।
মেঘ কোন কথা বলছে না। চুপচাপ দাড়িয়ে আছে। কিছুক্ষন পর মেঘ বললো।
-গাড়িতো ওঠ।
-(আমি কেদেই যাচ্ছি)
-দেখ রাত হয়ে গেছে। আর সবাই দেখছে। চুপচাপ উঠে গাড়িতে গিয়ে বসো।
-আমি কোথাও যাবো না।
-দেখ অনেক ড্রামা হয়েছে। কোনো কথা না বলে গাড়িতে গিয়ে বসো।
-বললাম তো আমি বাড়িতে যাবো না। আর আপনার সাথেতো নই।
-আমি তোমায় শেষ বারের মতো বলছি গাড়িতে গিয়ে বসো।
-যাবো না আমি কি করবেন কি আপনি। জোড় করে তুলে নিয়ে যাবেন।
-হ্যা সেটাই করবো।
বলেই আমায় কোলে তুলে নিলো।
-আরে করছেনটা কি? নামান বলছি আমায়।
-আরে ভাইয়া এইসব কি হচ্ছে এখানে। কখন থেকে দেখছি আপনি ওনাকে বিরক্ত করছেন। আর এখনতো সব সীমা পার করে ফেলেছেন। ছেড়েদিন ওনাকে।(মেঘের বয়সেরই একটা ছেলে)
-এতো সময় ধরেতো দাড়িয়ে দাড়িয়ে ফ্রিতেই নাটক দেখছিলেন। এখন হিরো সাজতে না এসে বাকি সময়টুকুও চুপচাপ দাড়িয়ে নাটকটা দেখলেই পারতেন। আর হিরো সাজতে এসেও লাভ নেই এখানে হিরোটা আমিই। কারণ আমি ওর হাজবেন্ড। ওকে।(মেঘ আমায় কোলে রেখেই কথাগুলো ওই ছেলেটিকে বললো)
আর তারপর আমায় কোলে করেই গাড়িতে নিয়ে গিয়ে বসালো। আমি ওর দিকে হা করে তাকিয়ে আছি। ও কতো স্বাভাবিক ভাবেই কথাগুলো বললো। আর এমন সময় মানুষ এমন কথা বলতে পারে আমি ভাবতেই পারছি না। ও কি সত্যিই পাগল নাকি।
-সুন্দর ছেলেদের দিকে ওইভাবে হা করে তাকিয়ে থাকতে নেই। এর আগেই বলেছি।(গাড়ি স্ট্রাট দিতে দিতে সামনের দিকে তাকিয়ে বললো)
-কিহ্?(অবাক হয়ে)
-তোমায় এর আগেও বলেছি আমি জানি আমি দেখতে অনেক সুন্দর। তাই বলে আমি যখনই তোমার সামনে আসবো তখনই আমার দিকে হা করে তাকিয়ে থাকবে?(এবার আমার দিকে তাকিয়ে বললো)
ওর কথা শুনে আমি পুরো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। বলে কি পাগলটা। এত কিছু হয়ে যাওয়ার পরও ওর মুখ দিয়ে এমন কথা বেরচ্ছে কিভাবে। এমন ভাব করে আছে মনে হচ্ছে কিছুই হয়নি।
-উফ হা টা বন্ধ করো মেহজাবিন নাশরাহ। নাহলে শহরের সব মাছি তোমার পেটের ভেতর ঢুকে বসবাস করবে।
ওর কথা শুনে আমি তাড়াতাড়ি অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে নিলাম। আজব মানুষ একটা। এর সাথে সারাজীবন কাটাবো কি করে। ধুর এর সাথে থাকতে থাকতে আমার মাথাটাও খারাপ হয়ে গেছে। সারাজীবন থাকতে যাবো কোন দুঃখে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমি ওকে ডির্ভস দিয়ে দিবো।
চলবে,,,

#মেহজাবিন_নাশরাহ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here