ওয়াদা ৩৬

0
3715

ওয়াদা৩৬
নিচে যাওয়ার পরে সান আর মুন আমার কাছে এলো। ওদের সাথে অনেক সময় ধরে কথা বললাম। আমি ওদের যেমনটা ভেবেছিলাম ওরা তেমন নয়। অনেক ভালো। সত্যি মানুষের পোষাক দেখে কখনো কাউকে বিচার করতে নেই। মানুষের মনটাই আসল। ওদের সাথে কথা বলতে ভালোই লাগছে। খুব মজার কথা বলে ওরা। ওদের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম সান এর আসল নাম সোনিয়া আর মুন এর আসল নাম মুনিয়া। লন্ডনে যাওয়ার পর ওখানকার ফ্রেন্ডরা ওদের নাম সর্ট করে সান আর মুন ডাকে আর সেখান থেকেই সবাই এই নামেই ডাকে। একটু পরেই অনুষ্ঠান শুরু হলো। আমি আর ইরা ভাবি পাশাপাশি বসলাম। আর মেঘরা সবাই স্টেজ এ অরুপ ভাইয়ার কাছে।
-ভাবি তখন আপনি না বলে কোথায় চলে গিয়েছিলেন?
-আরে আমিতো দাড়িয়েই ছিলাম কিন্তু মেঘ ভাইয়াইতো বললো উনি দাড়াচ্ছেন আমি যেন চলে আসি। তাইতো চলে এসেছিলাম। কেন মেঘ ভাইয়া ছিলো না ওখানে?(ইরা ভাবি)
-না ছিলো।
-তাহলে?
-এমনিতেই জিজ্ঞাসা করলাম।
-ওহ্ আচ্ছা। তবে একটা জিনিস খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছি।
-কি?
-মেঘ ভাইয়া তোমায় একদম চোখে হারায়। না হলে ওয়াশরুমের সামনে তোমার জন্য দাড়িয়ে থাকে। আমার উনি তো কখনই এমনটা করবেন না। হি হি হি।
আমি ভাবির কথায় শুধু হাসলাম। অরুপ ভাইয়ার কাজিনরা সবাই এক এক করে স্টেজ এ নাচ গান করলো। মেঘও একটা গান গাইলো। সবার নাচ গান শেষে মেঘরা সব ফ্রেন্ডসরা একসাথে স্টেজ এ উঠলো। তারপর সবাই মিলে একসাথে নাচতে লাগলো। এটাকে কি নাচ বলে আমি জানি না। আদেও এটা কোনো নাচ বলে আমার মনে হয় না। যে যার ইচ্ছামতো লাফালাফি করছে। একজন আর একজনের গায়ের উপর পরতেছে, একজন আর একজনের জামা ধরে টানাটানি করছে। সবাই উরাধুরা ডান্স করছে। অরুপ ভাইয়াতো ফ্লোরের উপর শুয়ে নাগিন ডান্স শুরু করে দিলো। নিজের বিয়েতে কাউকে এইভাবে নাচতে প্রথমবার দেখলাম আমি। নাচতে নাচতে একসময় মেঘ অরুপ ভাইয়ার পান্জাবীটাই ছিড়ে ফেললো। তারপর সবাই মিলে হামলা করলো অরুপ ভাইয়ার পান্জাবীর উপর। ওনার গায়ে এখন কিচ্ছু নেই। ওদের কান্ড দেখে সবাই হাসতে হাসতে পাগল প্রায়। তবে মেঘকে যে আজ এই অবস্থায় দেখবো সেটা ভাবতেও পারিনি। হয়তো বেস্ট ফ্রেন্ডের বিয়ে তাই এতো মজা করছে। ওতো সব সময় এমনই মজার মানুষ ছিলো। সব সময় এমন ফাজলামিই করতো ও কিন্তু হঠাৎ করেই এতো বদলে গেলো। তবে ও যে আস্তে আস্তে আবার আগের মতো হয়ে যাচ্ছে এটা দেখেই ভালো লাগছে। আল্লাহ ও যেন আবার আগের মতো হয়ে যায় প্লিজ। অনুষ্ঠান শেষে সবাই চলে গেলো। আমি আর মেঘও চলে যাওয়ার জন্য গাড়িতে উঠে বসলাম। এবার আমি নিজেই সিট বেল্টটা বেধে নিলাম।
-লোকজন যে এতো সুন্দর ডান্স করতে পারে আমার জানা ছিলো না।(বলে মিটি মিটি হাসতে লাগলাম)
-মজা নিচ্ছো?
-হায় আল্লাহ মজা নিতে যাবো কেন? আমিতো আপনার প্রশাংসা করছিলাম।
-সে খুব ভালো করেই জানি তুমি কি করছিলে। আসলে এতোদিন পর সবাই একসাথে হলাম তার উপর বেস্ট ফ্রেন্ডের বিয়ে তাই নিজেকে কান্ট্রল করতে পারিনি।
-হুম বুঝতে পেরেছি। এবার চলুন।
তারপর আমরা বাড়ি ফিরে এলাম। বাড়িতে এসে ফ্রেশ হতে গেলাম। ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে দেখি মেঘ ফ্রেশ না হয়েই ঘুমিয়ে পরেছে। বেচারা যে ডান্সই না দিলো। খুব ক্লান্ত হয়ে গেছে। হি হি হি। তারপর আমিও মাঝখানে কোলবালিশ দিয়ে ঘুমিয়ে পরলাম। সকালে ঘুম ভাঙার পর দেখলাম আমি মেঘের বুকে মাথা দিয়ে আছি। একটা জিনিস কিছুতেই বুঝতে পারছি না এতোদিনতো আমি কখনো বডার ক্রস করে মেঘের কাছে আসিনি। তাহলে এই কয়দিন এমন হচ্ছে কেন। আল্লাহই জানে কি করে রোজ মেঘের কাছে চলে আসি। তারপর উঠে ফ্রেশ হয়ে নামাজ পরে মায়ের কাছে গিয়ে কোরান তেলওয়াত করতে গেলাম। মেঘ আর বাবাও মসজিদে চলে গেছেন। কোরান তেলওয়াত শেষে আমি আর মা মিলে সকালের নাস্তা রেডি করলাম। তার মধ্যই বাবা আর মেঘ চলে এলো। সবাই মিলে নাস্তা করে আমি আর মেঘ একসাথে ভার্সিটিতে গেলাম। অরুপ ভাইয়ার হলুদ অনুষ্ঠান তিনদিন ধরে হবে। গতকাল প্রথম দিন ছিলো আর আজ সন্ধ্যায় দ্বিতীয় দিন। ভার্সিটি থেকে ফিরে গোসল করে খাওয়া দাওয়া করে রুমে এলাম। মেঘ খেয়েই ঘুমিয়ে পরেছে। খাওয়ার পর আমায় বলে দিয়েছে সন্ধ্যার আগে যেন রেডি হয়ে যায়। আমার ঘুম আসছে না আর ভালও লাগছে না তাই মায়ের রুমে গেলাম গল্প করতে। বাবা অফিসে মা একাই আছে এখন। মায়ের রুমে যেতেই দেখলাম বিছানার উপর মায়ের সব শাড়ি ছড়ানো ছিটানো। আমি দরজায় দাড়িয়ে বললাম।
-কি করছো মা?
-ওহ্ নাশু আয় ভেতরে আয়।
তারপর আমি ভেতরে গিয়ে বিছানায় বসলাম।
-বললে না তো কি করছো?
-তেমন কিছু না আলমারিটা একটু গুছিয়ে রাখছিলাম। সব এলোমেলো হয়ে ছিলো তাই।
-ও আচ্ছা। আমি তোমায় হেল্প করি।
-কিচ্ছু করা লাগবে না তুই শুধু চুপচাপ বসে থাক।
-করি না মা প্লিজ। এইভাবে বসে থাকতে ভালো লাগছে না।
-আচ্ছা ঠিক আছে। তুই তাহলে আমায় এই শাড়ি গুলো ভাজ করে দে।
-ঠিক আছে।
আমি মায়ের শাড়ি গুলো ভাজ করতে লাগলাম আর মা সেগুলো আলমারিতে গুছাতে লাগলো। হঠাৎ একটা শাড়ি দেখে চোখ আটকে গেলো। সবুজ রঙের উপর সাদা সুতার কাজ করা জামদানি শাড়ি। আমি শাড়িটা নেড়েচেড়ে দেখতে লাগলাম।
-কি রে শাড়িটা তোর পছন্দ হয়েছে?
-হ্যা মা শাড়িটা খুব সুন্দর।
-তাহলে তুই শাড়িটা নিয়ে নে।
-আমি শাড়ি নিয়ে কি করবো আমিতো শাড়ি পরি না। আর পরতেও পারিনা।
-পরতে পারিস না তো কি হয়েছে। আয় আমি তোকে পরিয়ে দিচ্ছি।
-এখন?
-হুম এখনই।
-কিন্তু,,,,,
-কোন কিন্তু নয়। বাড়ির বৌ মাঝে মাঝে শাড়ি পরলে ভালো লাগে বুঝলি।
তারপর মা আমায় শাড়িটা পরিয়ে দিলো। শাড়িটা পরে আয়নার সামনে দাড়ালাম। বাহ্ বেশ সুন্দর লাগছেতো আমাকে। হি হি হি। নিজের প্রশাংসা নিজেই করছি। তারপর অনেকটা সময় ধরে মায়ের সাথে গল্প করে রুমে এলাম। রুমে এসে দেখি মেঘ তখনো ঘুমাচ্ছে। বাইরে খুব বাতাস হচ্ছে তাই জানালাটা খুলে দিয়ে জানালার পাশে দাড়ালাম। চুল খুলে বাতাসে দাড়াতে খুবই ভালো লাগে। আমি একমনে জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছি। হঠাৎ করেই আমার পেটে কারোর হাতের স্পর্শ পেলাম। বুঝতেই পারছি এটা মেঘ। কারণ ওর গায়ের গন্ধটা আমি খুব ভালো করেই চিনি। ও আমায় পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে চুলে মুখ গুজে দাড়িয়ে আছে। আমি কিছুই বলিনি। জানি কিছু বললে আরও বাড়াবাড়ি করবে। তার থেকে ও যা করছে করুক।
-কি হলো চুপ করে আছো যে?(মেঘ চুলে মুখ গুজে রাখা অবস্থায় ফিস ফিস করে বললো)
-কি বলবো?
-যা খুশি বলো।(বলে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো)
-সত্যি বলতে আমার পেটে না খুব শুড়শুড়ি লাগছে।
-কিহ্?(আমায় ছেড়ে দিয়ে অবাক হয়ে বললো)
-যা সত্যি তাই তো বললাম।(মাথা নিচু করে)
-তোমার শুড়শুড়ি লাগছে?(ভ্রু কুচকে বিরক্তিভাব নিয়ে বললো)
-না আসলে এর আগে কেউ আমার পেটে হাত দেইনি তো জামার নিচ দিয়ে খালি পেটে আর কি।(আমতা আমতা করে বললাম)
-ওহ্ আচ্ছা। কেন আর কারোর দেওয়ার কথা ছিলো কি? শুভর দেওয়ার কথা ছিলো তাই না। কিন্তু তার জায়গায় আমি দিচ্ছি এটা তোমার সহ্য হচ্ছে না। আমার স্পর্শ ভালো লাগছে না তাই না?(ও রেগে রেগে কথাটা বললো)
ওর কথা শুনে রাগে আমার কান্না চলে আসলো। ও কেন আমার আর ওর মধ্য শুভকে টানছে। আমিতো কখনো ওকে রাত্রির কথা বলিনি। তাছাড়া ও শুভর ব্যাপারে সব কিছু জেনেও আমায় এমন কথা বলতে পারলো। আমার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পরতে লাগলো তাই আমি ওখানে থেকে চলে আসতে লাগলাম। আমি যখনই চলে আসবো মেঘ আমার হাত ধরে টান দিয়ে ওর বুকে টেনে নিলো। আর আমি কেঁদেই যাচ্ছি।
-এই কাঁদছো কেন? সরি প্লিজ কেঁদো না।(বলার সাথে সাথে আমার কান্নার গতি আরও বেড়ে গেলো)
-বললামতো সরি। আর কখনো এমনটা করবো না প্লিজ কান্না থামাও।
আমি তাও কেঁদেই যাচ্ছি।
-দেখি তাকাওতো আমার দিকে।(বলে আমার মুখটা ওর দিকে করে ধরে রাখলো।)
তারপর চোখের পানি মুছে দিয়ে আমার দু’চোখে চুমু খেয়ে বললো
-এবার অন্তত কান্নাটা থামাও প্লিজ। আমার ভুল হয়ে গেছে। প্লিজ?
-হুম। ঠিক আছে।
-থ্যাংকস। এবার রেডি হয়ে নাও। আমরা বেরোবো।
-আমার আজ যেতে ইচ্ছা করছে না। আমি যাবো না।
-কিন্তু,,,?
-প্লিজ জোর করবেন না। আমার সত্যি ইচ্ছা করছে না যেতে।
-ঠিক আছে। জোর করছি না।
তারপর ও রেডি হয়ে বেরিয়ে পরলো। একটু পরেই আযান দিলো আমিও নামাজ পরে একটু বই পড়তে বসলাম। রাতে খাবার খেয়ে শুয়ে রইলাম। রাত প্রায় ১২:০০ টার দিকে মেঘ বাড়ি ফিরলো। ও রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পরলো।
-তুমি কি ঘুমিয়ে পরেছো।(মেঘ ওর পাশে শুয়ে থেকে কথাটা বললো। কিন্তু আমার কেন জানিনা এখন কথা বলতে ভালো লাগছে না। তাই ঘুমের অভিনয় করে চুপ করে থাকলাম)
-তুমি কি ঘুমিয়ে পরেছো নাকি জেগে আছো।(এবারও কোন উত্তর দিলাম না)
একটু পরে বুঝতে পারলাম মেঘ আমায় আস্তে করে ওর দিকে টেনে নিলো।)
তারপর আমার কপালে একটা চুমু খেয়ে নিজেই ওর বুকে আমার মাথাটা রাখলো আর ফিস ফিস করে বলতে লাগলো।
-পাগলী সকালে উঠে যখন দেখবে আমার বুকে মাথা রেখে শুয়ে আছে তখন সে ভেবে ভেবে খুজেই পাবে না সে কিভাবে আমার বুকে এলো। রোজই ভাবে আমি জানি।(বিড় বিড় করে বললো)
তারমানে এই ব্যাপার। উনি রোজ আমায় নিজের কাছে নিয়ে আসেন। আর আমি সকালে টেনশন করে মরি। ধুর আমি এতো ঘুমকাতুরে যে কোনদিন বুঝতেই পারলাম না ও আমায় রাতে ওর কাছে নিয়ে আসে। অনেকটা সময় ধরে ওর বুকে মাথা দিয়ে শুয়ে আছি। আর ও আমার চুলে বিলি কেটে দিচ্ছে। আমি সারাজীবন এইভাবেই তোমার বুকে মাথা রেখে ঘুমাতে চায় মেঘ। জানিনা নিজের এই ইচ্ছাটা কখনো তোমার সামনে প্রকাশ করতে পারবো কি না। মানুষের সুখী হতে ঠিক কি কি প্রয়োজন আমি জানি না কিন্তু আমায় নিজেকে সুখী রাখতে শুধুমাত্র তোমাকে প্রয়োজন মেঘ। শুধুমাত্র তোমাকে প্রয়োজন। এসব ভাবতে ভাবতে মেঘ আমার কপালে একটা চুমু খেয়ে বললো
-I Love You মেঘপরী।(বলে আর একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো)
আমিও একটা ঘোরের মধ্য আছি নিজের অজান্তেই আমিও
– I Love You Too
বলে ওর বুকে একটা চুমু খেয়ে ওকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম।
-এই তুমি ঘুমাওনি?(মেঘের কথায় আমার হুশ ফিরলো)
এমা এটা আমি কি করলাম। আমার তো মনেই নেই মেঘ জেগে আছে। আমি তাড়াতাড়ি মেঘকে ছাড়িয়ে দিয়ে উঠে বসে পরলাম। মেঘও উঠে বসলো।
-তারমানে তুমি এতো সময় জেগে ছিলে?(মেঘ)
-না না না,,, আ,,,মি,,,তো ঘু,,মিয়ে ছিলাম।(তুতলিয়ে)
-ঘুমিয়ে ছিলে তাই না?
-হুম।
-সত্যিই ঘুমিয়ে ছিলে?
-হ্যা সত্যি ঘুমিয়ে ছিলাম।
-তুমি জানো তুমি ঘুমের মধ্য কি কি করেছো?
আল্লাহ বাচাও আমাকে।
-কি হলো জানো কি করেছো?(মেঘ)
-ঘুমের মধ্য কি করেছি সেটা কিভাবে জানবো।
-আমি বলি কি করেছো?
-কি,,,কি করেছি আমি?(তুতলিয়ে বললাম)
শোন তাহলে আমি শুয়ে আছি হঠাৎ দেখি তুমি আমায় জড়িয়ে ধরেছো। খুব শক্ত করে। তোমায় ছাড়ানোর কত চেষ্টা করলাম কিন্তু তুমি আমায় কিছুতেই ছাড়ছিলে না। আমি তোমায় জিজ্ঞাসা করলাম তোমার কি হয়েছে তখন তুমি কিছু না বলে আমায় কিস করতে লাগলে(ওর কথা শুনে আমি ওর দিকে অবাক হয়ে তাকালাম) আমি তোমায় যত বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম ততো তুমি আমায় জোর করছিলে। আমি আবার তোমার কাছে জিজ্ঞাসা করলাম কি হয়েছে তোমার কি চাও তুমি? তখন তুমি বললে মেঘ আমি তোমাতে হারাতে চায় আমায় তোমাতে হারাতে দেবে প্লিজ। বলেই আমার উপর ঝাপিয়ে পরলে। আমার সবকিছু কেড়ে নিয়েছো তুমি। আমার সব শেষ করে দিয়েছো। এবার আমি সবার সামনে মুখ দেখাবো কিভাবে। লোকে তো আমায় দেখে ছিঃ ছিঃ করবে একটা ছেলে হয়ে নিজের ইজ্জত রক্ষা করতে পারলাম না। কেন করলে আমার সাথে এমনটা কেন করলে। এবার আমার কি হবে?(বলে ন্যাকা কান্না কাঁদতে লাগলো)
হায় আল্লাহ কি ড্রামাটাই না করছে। আর কি সব বাজে বকছে। এর মাথায় সত্যি সত্যিই গন্ডগোল আছে। যতসব পাগল ছাগল আমার ঘারে এসেই পরে। রাগে শরীর জ্বলে যাচ্ছে।
-কি হলো বলো কেন করলে আমার এতো বড় সর্বনাশ? কেন করলে?(ন্যাকা কান্না করেই যাচ্ছে)
এবার রাগ পুরো আমার মাথায় উঠে গেলো।
-আমি এমন কিছুই করিনি ওকে। শুধু I Love You too বলেছি, আপনার বুকে একটা চুমু খেয়েছি আর একটু জড়িয়ে ধরেছি আর কিছুই না ওকে।(বলে রাগে ফুঁসতে লাগলাম)
-তুমি না একটু আগে বললে তুমি ঘুমিয়ে ছিলে, তুমি কি করেছো তোমার মনে নেই তাহলে এগুলো কিভাবে বললে।(বলে মুচকি মুচকি হাসতে লাগলো)
ইস পাজি ছেলে একটা। ইচ্ছা করে ওই কথাগুলো বলে আমায় রাগিয়ে দিলো যাতে আমি রেগে সত্যি কথাটা বলে দি। ধ্যাত এইভাবে ধরা খেয়ে গেলাম। ভীষণ লজ্জা লাগছে। কি একটা বিশ্রী ব্যাপার হয়ে গেলো। কি ভাবছে এখন ও। ধ্যাত ভালো লাগে না। আমি লজ্জায় মাথা নিচু করে বসে আছি। মেঘ পেছন থেকে আমার চুল গুলো একপাশে সরিয়ে দিয়ে ঘারে একটা চুমু খেয়ে আমার পেটে হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরলো। তারপর আমার ঘারে মুখটা রেখে কানে কানে ফিস ফিস করে বলতে লাগলো
-এখনো সত্যিটা শিকার করবে না?
-কোন সত্যি?(মাথা নিচু করেই বললাম)
-কোন সত্যি সেটাও এখন বলে দিতে হবে?
-বুঝতে না পারলে বলতেতো হবেই।
-তাই না?
-হুম।
-থাক বলতে হবে না।
-কেন? শুনতে চান না বুঝি?
-না চাই না।
-মানে?
-সব কথা শুনতে নেই। অনুভবে বুঝে নিতে হয়।
-আচ্ছা তো কি বুঝেছেন আপনি শুনি।
-এটাই যে তুমি আমায় ভালোবাসো।
-আপনায় কি কখনো এটা বলেছি।
-ওই যে বললাম সব কিছু শোনা লাগে না অনুভাবে বুঝতে হয়।
-আপনি কি অনুভব করেছেন।
-অনেক কিছু।
-যেমন?
-আমি যখন প্রথম তোমায় কিস করেছিলাম তখন কিন্তু তুমি আমায় বাধা দাওনি পরে এটা নিয়ে কিছু বলোওনি, দ্বিতীয় বারও কিছু বলো নি। আজ যখন তোমায় আমার কাছে টেনে নিলাম তখন তুমি ঘুমের অভিনয় করে আমার বুকে শুয়ে ছিলে কিচ্ছু বলোনি। উল্টা আমি I love you বলাতে তুমি I love you too
বললে।
-ব্যাচ এইটুকুতেই বুঝে নিলেন আমি আপনায় ভালোবাসি?
-নাহ্
-তাহলে?
-আমার শাশুড়ি আম্মা সবসময় আছেন না আমার পাশে।(বলে হাসতে লাগলো)
আমি ওর হাত সরিয়ে দিয়ে ওর দিকে ফিরে অবাক চোখে তাকালাম।
-তার মানে কি?
-যেদিন রাতে তুমি আমার শাশুরি আম্মাকে কেঁদে কেঁদে বলেছিলে তুমি আমায় ভালোবাসো সেদিন রাতেই শাশুড়ি আম্মা আমায় এই সংবাদটা দিয়েছিলেন।
-মা আপনায় বলে দিয়েছিলো?
-হুম।
-সে জন্যই ওইদিনের পর থেকে আপনি এমন বদলে গেলেন তাই না?
-ধরে নাও তাই।
আমি মাথা নিচু করে ওর সামনে বসে আছি। ও আমায় আবার উল্টাদিকে ঘুরিয়ে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে চুলে মুখ গুজে দিয়ে বললো
-মেঘপরী?
-হুম।
-একটা জিনিস চাইবো দেবে?
-কি?
-মেঘপরী আমি তোমাতে হারাতে চাই। দেবে আমায় তোমাতে হারাতে?
আমি মাথা নিচু করে চুপ করে বসে আছি। আমি নিজেও মেঘকে চাই কিন্তু ভীষন লজ্জা লাগছে।
-চুপ করে থাকা কিন্তু সম্মতির লক্ষন তাহলে আমি কি ভাববো?
-(চুপ করে মাথা নিচু করেই আছি)
-বুঝেছি।(বলে ও আমার খুব কাছে কাছে এলো)
সকালে ঘুম ভাঙার পর দেখলাম আমি মেঘের বুকে মাথা দিয়ে শুয়ে আছি। ওর কপালে একটা চুমু খেয়ে আবার ওর বুকে মাথা রাখলাম।
-থ্যাংক ইউ।(মেঘ)
-আপনি কখন উঠলেন?
-তুমি যখন ভালোবাসলে তখন।
-ওহ্। কিন্তু থ্যাংক ইউ কিসের জন্য?
-এতো সুন্দর একটা রাত উপহার দেওয়ার জন্য। আজ আমাদের ভালোবাসা পূর্ণতা পেয়েছে। আমি তোমায় নিজের করে পেয়েছি।
-হয়েছে এখন ছাড়ুন আর উঠে ফ্রেশ হয়ে নামাজ পরতে যান।
-তুমি আগে যাও তারপর আমি যাচ্ছি।
-আচ্ছা ঠিক আছে।
তারপর আমি ওয়াশরুমে গিয়ে গোসল করে বাইরে আসলাম। এসে দেখি ও আবার ঘুমিয়ে পরেছে। ওকে ডাকতে যাবো তখনই ওর ফোনে একটা মেসেজ এলো। আমি ফোনটা হাতে নিয়ে দেখি অনেকগুলো মিসড কল উঠে রয়েছে রাত্রির আর একটা মেসেজও। মেসেজটা ওপেন করে দেখি তাতে লেখা
-মেঘ মেসেজটা পাওয়ার সাথে সাথে আমার এখানে এসো প্লিজ। দরকার আছে।
মেসেজটা পরেই নিজের অজান্তে চোখ দিয়ে পানি পরতে লাগলো। আমি আর মেঘ যখনই এক হতে যায় তখনই রাত্রি কেন আমাদের মাঝে চলে আসে।
চলবে,,,

#মেহজাবিন_নাশরাহ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে