ওয়াদা২০

0
3316

ওয়াদা২০
-আরে ভাইয়া তুই কখন এলি? আয় বয় এখানে সবাই মিলে আড্ডা দিবো।(তন্নি)
-না থাক। তোরা তোদের মতো ইনজয় কর। আমি নিচে যাচ্ছি।
-আরে না না আপনি এখানে বসুন না স্যার। প্লিজ।(জয়া ওর পাশে বসার জায়গা করে দিয়ে বললো)
-না আমি ঠিক আছি।
-কই ঠিক আছেন। বসুন না প্লিজ। আমাদের সবার খুব ভালো লাগবে।(জয়া)
-হ্যা স্যার আপনি থাকলে আমাদের সবারই খুব ভালো লাগবে।(নিয়ন)
-ওকে। সবাই যখন বলছে তাহলে থাকছি।(বলে তন্নির পাশে বসে পরলো। জয়ার তাতে একটু মন খারাপ হলো। হাজার হলেও ওর ক্রাশ।)
-স্যার কিছু মনে না করলে আপনি এখানে। ঠিক বুঝতে পারছি না।(শুভ)
-হ্যা স্যার আমিও ঠিক বুঝতে পারছি না।(অনিক)
-আমি বলছি। মেঘ ভাইয়া মানে তোদের শাফিন স্যার হলো আমার কাজিন। বলতে পারিস আমার নিজের ভাই। নাশুকে তো আমি ভাইয়ার জন্যই চিনি। ভাইয়ারা আর নাশুরা তো পাশাপাশি ফ্লাটে থাকে। আমি তোদের বলেছিলাম না আমি মেঘ ভাইয়াদের বাসায় থেকে পড়ি? এটাই সেই মেঘ ভাইয়া।(তন্নি)
-সত্যি?(জয়া)
-হুম সত্যি।
-তারমানে তুমি স্যার কে অনেক আগে থেকেই চিনো। কিন্তু আমাদের বলোনি কেন নাশু(শুভ)
-আরে চেনে মানে ওরা তো এক,,,,,(তন্নি)
-আসলে পাশাপাশি থাকি কিন্তু আমাদের কখনো কথা হয়না। তন্নি আমাদের বাসায় আসার পর ওরা একি স্কুলে পরতো তাই ওরা ভালো বন্ধু হয়। (মেঘ)
-হ্যা। ঠিক সেইভাবে কখনো কথা বলিনিতো তাই আর তোদের কাউকে বলিনি।(আমি)
-ওহ আচ্ছা।(শুভ)
-স্যার আমি শুনেছি আপনি খুব ভালো গান গাইতে পারেন। আজ আমাদের একটা গান শুনাবেন প্লিজ?(জয়া)
-না মানে আমি তেমন ভালো পারি না গান গাইতে।(মেঘ)
-না স্যার মিথ্যা বললে হবে না। আমরা সবাই শুনেছি আপনি গান গাইতে পারেন। স্যার এমন সুযোগ হয়তো আর নাও পেতে পারি। প্লিজ স্যার আমরা আপনার গলায় একটা গান শুনতে চাই।(জয়া)
-কিন্তু আমি গিটার ছাড়া গান গাই না।(মেঘ)
-কোনো ব্যাপার না স্যার। আমার কাছে গিটার আছে। আপনি একটু বসুন আমি এখনি নিয়ে আসছি।(নিয়ন)
-তুমি কি গান গাও?(মেঘ)
-ওই একটু আধটু গায় আরকি। আপনি বসুন স্যার আমি এখনই আসছি।(নিয়ন)
-ওকে।
নিয়ন গিটার আনতে নিচে গেলে। ছেলেটা যেখানেই যাক না কেন গিটার ছাড়া যাবে না।
-স্যার খুব ভালো তাই না? (শুভ আমার কানে কানে বললো)
-হুম ভালো।
-তুমিতো স্যারকে অনেক দিন থেকেই চিনো।
-হুম ছোট বেলা থেকেই।
-ওহ্।(বলে আবার আমার হাত ধরলো)
আমি হাতটা জোড় করেই ছাড়িয়ে নিলাম।
-কি হলো? ছাড়িয়ে নিলে যে?
-তোমার মাথাটা কি খারাপ হয়ে গেছে। এতক্ষন না হয় আমরা বন্ধুরা ছিলাম কিন্তু এখন স্যারও আছেন। আর তুমি তার মধ্য,,,,,,
-সমস্যাটা কোথায়? স্যার যথেষ্ট ইয়াং। উনি নিজেও এইগুলো হয়তো করেন।
-না করে না। তুমি ওনাকে ঠিক মতো চেনো না। আমরা একসাথে,,,,,
-কি একসাথে?
-না কিছু না।
-কিছু না মানে? নাশু তুমি কি আমার কাছ থেকে কিছু লুকাচ্ছো?
-কি লুকাবো?
-জানি না। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে তুমি কিছু লুকাচ্ছো।
-আমি কিচ্ছু লুকাচ্ছি না শুভ।
-কেন মিথ্যে বলছো। তোমার চোখ বলছে তুমি মিথ্যা বলছো।
-আমি কিছুতেই এটা বুঝতে পারছি না তোমার এমনটা কেন মনে হচ্ছে।
-নাশু তুমি কি আমায় বলবে?
-আজব কি বলবো আমি?
-তুমি আমার কাছ থেকে যেটা লুকাচ্ছো সেটা।
-শুভ। বার বার একি কথা বলো না। আমার ভালো লাগছে না শুনতে।
-আমার কোনো কথাইতো তোমার ভালো লাগে না।
-মানেটা কি?
-কিছু না।
-কিছু না মানে।
-বলছিতো কিছু না। চুপ করে বসে থাকো।(একটু রাগ দেখিয়ে)
আজবতো এখানে রাগার কি হলো। ধুর ভালো লাগে না। তারপর ওখান থেকে উঠে জয়ার পাশে বসলাম। মুড টাই অফ হয়ে গেলো। ভালো লাগছে না কিছু। সামান্য একটা ব্যাপার নিয়ে এমন রাগ দেখানোর কি আছে। শুভ আমার দিকে ইশারায় সরি বলছে আর ওর কাছে গিয়ে বসতে বলছে। আমার মুডটা অফ করে দিয়ে এখন ঢং করা হচ্ছে। আমি রাগ দেখিয়ে মুখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে নিলাম। নিয়নও গিটার নিয়ে চলে এসেছে।
-স্যার এই নিন।(নিয়ন)
-ধন্যবাদ।(গিটার টা নিয়ে)
-স্যার এবার তারাতাড়ি শুরু করুন।(জয়া)
-ঠিক আছে কিন্তু কি গান গাইবো?(মেঘ)
-আপনার ইচ্ছা।(তুবা)
-না। আমি যে গান গাইবো তোমাদেরতো ভালো নাও লাগতে পারে তাইনা। তোমরা কেমন গান পছন্দ করো সেটাতো আমি জানি না। তাই তোমারই বলো কেমন ধরনের গান গাইবো?(মেঘ)
-স্যার আপনি যেটা গাইবেন আমাদের সবার সেটাই ভালো লাগবে। আপনার যেটা ভালো লাগে আপনি সেটা গান।(জয়া)
-ওকে। ঠিক আছে।(বলে শুভ গলাটা একটু ঝেড়ে নিয়ে গিটার টা বাজাতে শুরু করলো) সুরটা বেশ চেনা চেনা লাগছে। গানটা হয়তো আমি শুনেছি। মেঘ গাইতে শুরু করলো।
*এ মন ব্যাকুল যখন তখন, এ মন ব্যাকুল যখন তখন ডেকে যায় বারে বারে। এ মন ব্যাকুল যখন তখন ডেকে যায় বারে বারে তবু স্তব্ধতা এসে ধরা দেয় আমার বিনার তারে। এ মন ব্যাকুল যখন তখন ডেকে যায় বারে বারে তবু স্তব্ধতা এসে ধরা দেয় আমার বিনার তারে। জানিনা জানিনা জানিনা কি কারণ। জানিনা জানিনা জানিনা কি কারণ। এ মন কেন দেয় নাকো সাড়া মানে না বারন মন কেন দেয় নাকো সাড়া মানে না বারন মন। জানিনা জানিনা জানিনা কি কারণ। শুধু ভাবোনারা মেলে ডানা।
কে জানে আজ কেন মন। কে জানে আজ কেন মন দূর আকাশ ছুতে চায়। কে জানে আজ কেন মন দূর আকাশ ছুতে চায় তবু দু’পায়ে কিসের বাধা যেন থমকে দাড়ায়। কে জানে আজ কেন মন দূর আকাশ ছুতে চায় তবু দু’পায়ে কিসের বাধা যেন থমকে দাড়ায়। জানিনা জানিনা জানিনা কি কারণ, জানিনা জানিনা জানিনা কি কারন। এ মন কেন দেয় নাকো সাড়া মানে না বারণ মন কেন দেয় নাকো সাড়া মানে না বারন মন। জানিনা জানিনা জানিনা কি কারণ। জানিনা জানিনা জানিনা কি কারণ। জানিনা জানিনা জানিনা কি কারণ। জানিনা জানিনা জানিনা কি কারন।*
গানটা শেষ হওয়ার সাথে সাথে সবাই হাত তালি দিতে শুরু করলো। আমিও দিলাম। গানটা আমি এর আগে শুনেছি। এটা নচিকতা স্যারের গান। গানটা সত্যিই খুব সুন্দর। অনেক নিরিবিলি আর মন ছুয়ে যাওয়ার মতো গান। নচিকতা স্যারের সব গান গুলাই এমন মন ছুয়ে যাওয়ার মতো। সবাই মেঘের অনেক প্রসংশা করলো। তারপর আমরা সবাই মিলে আরো কিছু সময় আড্ডা দিলাম। আড্ডা দেওয়া শেষে নিচে এসে সবাই মিলে ডিনার করে যে যার রুমে চলে গেলো। আমি আর তন্নি তন্নির রুমে এলাম। দরজা বন্ধ করে শুয়ে পরেছি এমন সময় দরজায় কেউ কড়া নারলো। তন্নি ঘুমিয়ে পরেছে তাই আমি গিয়ে দরজা খুললাম। দেখলাম শুভ দাড়িয়ে আছে।
-সরি জান।(শুভ)
-তুমি এতো রাতে এখানে কেন এসেছো?
-সরি বলতে। প্লিজ। আমার তখন ওইভাবে রাগ করাটা উচিৎ হয় নি।
-আচ্ছা ঠিক আছে। এখন যাও কেউ দেখে ফেলবে।
-যাচ্ছি তার আগে বলো ক্ষমা করেছো?
-হুম করেছি। এখন যাও।
-কাল তুমি কি পরবে?
-কি পরবো মানে?
-মানে শাড়ি নাকি অন্য কিছু?
-শাড়ি পরবো। তুমি?
-আমি পান্জাবি পরবো।
-ও।
-শোনো শাড়ি পরে রুম থেকে বেরোবে না। ওকে?
-কেন?
-কারণ শাড়ি পরা অবস্থায় সবার আগে আমি তোমায় দেখতে চায়।
-ওকে বাবা ঠিক আছে। সবার আগে তুমিই দেখবে এখন যাও।
-ওকে। শুভ রাত্রি।
-শুভ রাত্রি।
ও চলে গেলো। পাগল একটা। ওর শুভ রাত্রি বলাতে রাত্রির কথা মনে পড়ে গেলো। এতোদিন হয়ে গেলে অথচ আমি রাত্রির ব্যাপারে কিছুই জানতে পারলাম না। ভার্সিটি খুললে ব্যাপারটা খুব জোড়ালো ভাবে দেখতে হবে। এইসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পরলাম। সকালে কারোর ডাকে ঘুম ভাঙলো। উঠে দেখি মা ডাকছে।
-কি রে কখন থেকে ডাকছি। বিয়ে বাড়িতে কত কাজ থাকে এই ভাবে শুয়ে থাকলে লোকজন কি ভাববে।
-আমি আবার কি কাজ করবো?
-মেয়ের কথা শোনো। ফ্রেশ হয়ে নিচে আয় তারপর দেখিস কি কাজ করতে হবে।(বলে চলে গেলো)
আমিও উঠে ফ্রেশ হয়ে নিচে গেলাম। দেখি সবাই মিলে ফুলের মালা গাথছে। আমায় দেখে আমাকেও সবাই বসিয়ে দিলো গাথতে। সন্ধ্যার হলুদ অনুষ্ঠানের জন্য লাগবে তাই। সবাই মিলে অনেক মজা করে মালা গাথছিলাম। ছেলে মেয়ে সবাই। মেঘ আমাদের পাশ দিয়ে বাইরের দিকে যাচ্ছিলো আর ওই সময় একটা মেয়ে আসছিলো। দু’জনে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেলো। কিছুটা সিমেমাটিক স্টাইল এ। মেঘের উপর মেয়েটি পরেছে। দু’জন দুজনের দিকে অপলক ভাবে তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছে কত চেনা একে ওপরের। কিন্তু মেঘ বেশ অবাক হয়েই তাকিয়ে আছে। আর মেয়েটা একদম স্বাভাবিক।
-কি রে তোরা এইভাবে পরে গেলি কিভাবে?(তন্নি)
-কিভাবে পরলাম সেটা শুনবি নাকি আগে আমায় তুলবি?(মেয়েটি)
-ওহ সরি।(বলে তন্নি মেয়েটিকে তুললো)
তারপর মেঘও উঠে দাড়ালো। মেয়েটি মেঘকে কিছু বলবে তার আগেই মেঘ অনেক রাগি ভাব নিয়ে চলে গেলো। মেয়েটির মন খারাপ হয়ে গেলো। মেয়েটি যেমন সুন্দর তেমনি মডার্ন। যেকোনো ছেলে ওকে দেখে ক্রাশ খাবে। তন্নি মেয়েটিকে আমাদের সামনে এনে বললো।
-এরা হলো আমার স্কুল আর কলেজ লাইফ এর বুন্ধুরা। একে একে সবার নাম বলে চিনিয়ে দিলো।
-আর ও হলে রাত্রি। ভার্সিটিতে আমার একমাত্র ফ্রেন্ড।
নামটা শুনে আমি অনেক অবাক হলাম। রাত্রি? মেঘ যেই মেয়েটিকে ভালোবাসে তাট নামও রাত্রি। একটু আগে মেঘ মেয়েটিকে দেখে রাগ করলো তার মানে এই রাত্রি মেঘের সেই রাত্রি নয়তো। হতে পারে নাহলে মেঘ ওকে দেখে রেগে যেতো না। রাত্রি সবার সাথে কথা বলছে আর আমি ওকে দেখছি। মেয়েটি দেখতে অনেক সুন্দর কিন্তু অনেক বেশি মডার্ন যেটা মেঘ একদমি পছন্দ করে না।
চলবে,,,,

#মেহজাবিন_নাশরাহ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে