আংটি পর্ব ৭

0
1264

#গল্পপোকা_ধারাবাহিক_গল্প_প্রতিযোগিতা_২০২০
লেখনীতেঃ- অনামিকা ভট্টাচার্য্য

আংটি পর্ব ৭

এক সপ্তাহ পর অরণ্য জুয়েলার্সে গিয়েছে আংটি নিয়ে আসতে।কিন্তু গিয়ে শুনলো কারিগর নাকি চার/পাঁচ দিন ধরে দোকানে আসছে না।ওর ছেলেটা নাকি খুব অসুস্থ।ছেলেকে নিয়ে ডাক্তারখানায় ছুটাছুটি করতে হচ্ছে।আর ও জানিয়ে দিয়েছে সে ঐ আংটি বানাতে পারবে না।তাই অরণ্যের এডভান্সের টাকাটা ওরা ফেরত দিয়ে দেয়।অনেক বলার পরও অরণ্যকে ওরা ঐ কারিগরের বাড়ির ঠিকানা কিংবা ফোন নাম্বার কিছুই দেয় নি।অগত্যা অরণ্যকে বাধ্য হয়ে চলে আসতে হয়।তবে এডভান্সের টাকাটা সে ফেরত আনে নি।বলেছে এই টাকাটা যেন ঐ কারিগরের ছেলের চিকিৎসা বাবদ ব্যয় করার জন্য দেওয়া হয়।উপমাকে এতোকিছু বলে নি অরণ্য।শুধু বলেছে কারিগর অসুস্থ থাকায় আপাতত বানাতে পারবে না।উপমা যা বুঝার বুঝে নিয়েছে।তাই আর কোন প্রশ্ন করে নি।

অরণ্য নিজের দেখা স্বপ্নের বিষয়েও উপমাকে কিছু বলে নি।উপমা বিষয়টা কিভাবে নেবে কে জানে।যদি ঘাবড়ে যায়।যদি বিয়েটা না করতে চায়।অরণ্য কি পারবে উপমাকে ছেড়ে থাকতে?নাকি পারবে অন্য কোন মেয়েকে বিয়ে করতে?অথচ বিয়ে না করলেও যে ওর বাবা-মা খুব কষ্ট পাবে।তার চেয়ে উপমাকে এখন কিছু না জানানোই ভালো হবে।বিয়ের পর না হয় বলবে স্বপ্নের কথাটা।

**************

রিকশায় পাশাপাশি বসে আছে অরণ্য আর উপমা।ওদের কলেজ ঈদের ছুটি দিয়েছে।তাই ওরা যে যার বাসায় যাবে।উপমা আজকে রওয়ানা হয়েছে।অরণ্য আগামীকাল যাবে।উপমাকে বাসে তোলে দিতে অরণ্য এসেছে।অনলাইনে টিকিট কেটে নিয়েছে।

-এই যে প্রতিদিন তোমাকে দেখে দেখে অভ্যাস হয়ে গিয়েছে,এখন একদিন তোমাকে না দেখতে পেলেই কষ্ট হবে।তোমারও কি এমন লাগছে উপমা?

-আমার আনন্দ-বেদনার মিশ্র অনুভূতি হচ্ছে।

-সেটা কেমন গো?

-এতোদিন পর বাবা-মাকে দেখতে পাবো তাই খুব আনন্দ হচ্ছে।আবার তোমাকে না দেখে থাকতে হবে সেজন্য মন খারাপ লাগছে।তবে এই ছুটিতেই তো বিয়ে হয়ে যাবে সেটা ভেবে ভালোও লাগছে।

-বাহ!বেশ বললে তো।

উপমাকে বাসের সীটে বসিয়ে দেয় অরণ্য।তারপর সে নীচে নেমে যায়।পাশের দোকান থেকে দুই প্যাকেট চিপস,কিছু চকলেট,এক প্যাকেট কেক,এক প্যাকেট টিস্যু এবং এক বোতল পানি কিনে নিয়ে আসে।বাসে উঠে উপমার হাতে এগুলো দেয় সে।সাথে একটা বড় খাম ওর হাতে দেয়।দিয়ে অরণ্য বলেঃ-

-উপমা,এই খামটা তুমি বাসায় গিয়ে খুলে দেখো।আর ফোনে কথা হবে সবসময়।সাবধানে যেও।বাসায় পৌঁছে সাথে সাথে আমাকে টেক্সট করে দিও।যাত্রা শুভ হোক।আসছি আমি।

-তুমিও সাবধানে যেও।আমাকে আপডেট জানিও।টাটা।

**************

বাসায় পৌঁছেই অরণ্যকে টেক্সট করে দেয় উপমা।এতোদিন পর মাকে দেখে জড়িয়ে ধরে ও।বাবা তো স্টেশনে গিয়ে ওকে বাসায় নিয়ে এসেছেন।স্নান করে মায়ের হাতে পেট ভরে ভাত খায় সে।তারপর নিজের বেডে এসে শুয়ে থাকে।ওর জানালায় নতুন পর্দা টানানো হয়েছে।ধুয়া বিছানার চাদর।সারা ঘর পরিপাটি করে গুছানো আছে।বুকশেলফে এতোটুকুও ধূলো জমে নেই।কে বলবে এই রুমে এতোদিন কেউ ছিলো না।এই না হলে মাই সুইট হোম।মনে মনে বলে উপমা।তারপরই অরণ্যের দেওয়া খামটা খুলে উপমা।খুলে তো পুরোই অবাক!খুব সুন্দর সুন্দর চারটে ছবি আছে উপমার।সেই যে বিছানাকান্দি ভ্রমণের সময় অরণ্য তুলেছিলো।ছবি দেখে অরণ্যকে ফোন দেয়।

-হ্যালো।ছবি দেখেছো উপমা।স্যরি।তোমার অনুমতি ছাড়াই ছবিগুলো তুলেছিলাম সেদিন।যদিও এটা খুব অনুচিত কাজ করেছি।তবু ক্ষমা করো আমায়।

-তুমি এতো সুন্দর ছবি তুলতে পারো আগে জানলে তো আর শুধু শুধু নিজের পকেটের টাকা খরচ করে ছবি উঠানোর জন্য লোক ভাড়া করতাম না।বলেই হেসে দেয় উপমা।

-ওয়াও!তোমার পছন্দ হয়েছে?

-ভীষণ ভালো হয়েছে ছবিগুলো।আমি ফ্রেম করে ঘরে বাঁধিয়ে রাখবো।

-আমি ধন্য হলাম ম্যাডাম।এবার ভিডিও কলে তোমার রুম দেখাও তো।

ভিডিও কলে কথা হয় দুজনার।ব্লু টপস আর পিংক কালারের লং স্কার্টে উপমাকে পিচ্চি একটা মেয়ে দেখাচ্ছে।অরণ্যর সেটা দেখে খুব ভালো লাগে।

পরদিন অরণ্য নিজের বাড়ি চলে যায়।অন্যবার সারা রাস্তা কানে হেডফোন গুঁজে গান শুনতে শুনতে যেতো।এবার একটু পরপর উপমার সাথে ফোনে,মেসেজে কথা বলতে বলতে গিয়েছে।বাড়ি পৌঁছে উপমাকে জানায় অরণ্য।কথা হয় দুজনেই আগামীকাল নিজেদের ফ্যামিলিতে দু’জনার কথা বলবে।

*************
পরদিন মায়ের কাছে অরণ্যের কথা বলে উপমা।এ টু জেড সবটাই জানায় উপমা।এমনকি আংটি খুলতে পারার কথাও বলে।সব শুনে মনে মনে খুশীই হোন উর্মিলা দেবী।রাতে উপমার বাবার সাথে কথাটা শেয়ার করেন।উপমার বাবাও খুশী হোন খুব।অনেক বছর আগে সন্ন্যাসীর বলা সেই কথাটা মনে পড়ে উনাদের।সন্ন্যাসী বাবা তো বলেইছিলেন যে এই আংটিই একদিন উপমার সঠিক সঙ্গীকে খোঁজে নেবে।তবে কি অরণ্যই সেই ছেলে?

এদিকে অরণ্য ওর বাবা-মায়ের কাছে উপমার বিষয়টা জানায়।তবে আংটি প্রসঙ্গে কিছু বলে না।উপমার ছবি দেখেই মেয়েটাকে খুব বেশী পছন্দ হয় উনাদের।আর অরণ্যের মুখে ওর নানাবিধ গুণের কথা শুনে তো উনারা উপমাকে বৌমা হিসেবে পাবার জন্য আকুল হয়ে আছেন।

দু পক্ষ মিলে ঠিক হয় আগামী শুক্রবার উনারা উপমাকে দেখতে যাবেন।অরণ্যও সাথে যাবে।সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ঐ দিনই ছেলে-মেয়েকে আশীর্বাদ করে বিয়ের দিনতারিখ ঠিক হয়ে যাবে।অরণ্য আর উপমা অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকে।

উপমা মনে মনে ভাবে কি থেকে কি হয়ে গেলো।ভালোবাসা বুঝি এমনই হয়।কখন কার জীবনে প্রেম আসে তা কেউ বলতে পারে না।তা না হলে ছোটবেলা থেকেই কতো প্রেমের অফার পেয়েছে সে।কই,কাউকেই তো মনে ধরে নি।সবসময় নিজের পড়াশুনা নিয়েই থেকেছে।অথচ অরণ্যের চোখের দিকে তাকিয়েই এক মুহূর্তে প্রেমে পড়ে গেলো।গিয়েছিল চাকরি করতে।অথচ সেখানে গিয়ে জীবনসাথীকেও পেয়ে যাবে তা কি আর জানতো?

অরণ্যও এমনটাই ভাবছে।এতোগুলা বিয়ের আলাপ এসেছে ওর।অথচ একজনকেও পছন্দ হয় নি ওর।আর উপমা?সম্পূর্ণ অপরিচিত একটা মেয়েকে এই কদিনেই এতো আপন করে নিলো।মনে হয় উপমা যেন ওর কতো চেনা।এখন সবকিছু ভালো ভালোয় হয়ে গেলেই হয়।ঈশ্বরের কাছে এই প্রার্থনাই করে অরণ্য আর উপমা।

#চলবে

#পরবর্তী_পর্ব
https://www.facebook.com/groups/golpopoka/permalink/963511327412920/

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে