অভিমান হাজারো পর্বঃ১৬

0
702

অভিমান হাজারো পর্বঃ১৬
আফসানা মিমি

যতবারই স্পন্দনের চোখে চোখ পড়ছে ততবারই লজ্জায় চোখ সরিয়ে নিচ্ছে অতশী। ব্যাপারটা খেয়াল করার পর স্পন্দন বুঝতে পারলো অতশী কেন এমন এবনরমাল বিহেভ করছে। সবাই একসাথে বসে গল্প করছিল স্পন্দন। অতশী এখানে নেই অনেকক্ষণ। স্পন্দন যেন ওকে চোখে হারাচ্ছে। তাই গল্প করা রেখেই উঠে দাঁড়ায় রুমে যাওয়ার জন্য। রুমে গিয়ে দেখে অতশী শুয়ে আছে। কাছে গিয়ে দেখে অতশী কাঁদছে। মুহূর্তেই যেন স্পন্দনের দুনিয়াটা উল্টে যাওয়ার উপক্রম। দ্রুত তাকে শুয়া থেকে উঠে বসিয়ে উদগ্রীব হয়ে জানতে চায়
—“অতশী! এই অতশী! কী হয়েছে তোমার? কাঁদছো কেন সোনা?”
অতশী কাঁদতে কাঁদতেই জবাব দেয়
—“কিছু হয়নি। আমি ঠিক আছি।”
—“কিছু না হলে এভাবে কাঁদছো কেন?” স্পন্দনের চিন্তা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।
—“হালকা মাথা ব্যথা করছে।”
—“কখন থেকে?”
—“ঘুম থেকে উঠার পর থেকেই।”
—“তুমি আমাকে আগে বলোনি কেন? সকাল থেকে মাথা ব্যথা আর তুমি আমাকে বলছো এখন? এই কয়েক ঘন্টা যাবৎ সহ্য করে যাচ্ছো। অথচ আমাকে একবারও বলার প্রয়োজন মনে করোনি। এতোই পর ছিলাম তোমার আমি? আমাকে বলতে পার…..” স্পন্দনের কথা শেষ হবার আগেই অতশী মুখ চেপে দৌড় লাগায় বেসিনের উদ্দেশ্যে। ঝুঁকে গরগর করে বমি করা শুরু করে। স্পন্দন তাড়াহুড়ো করে দৌড়ে গিয়ে অতশীর দুই বাহু শক্ত করে ধরে পিছন থেকে। বেশ কিছুক্ষণ লাগাতার বমি করে অতশী। বমি করা শেষে কুলি করার পর স্পন্দন ওর চোখেমুখে পানি দিয়ে দাঁড় করায়। অতশীর দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হচ্ছে। নেতিয়ে পড়ে স্পন্দনের বুকে ভার দিয়ে। স্পন্দন ওকে দু’হাতে আঁকড়ে ধরে বিছানা পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে শুইয়ে দেয়।

চোখ বন্ধ করে অবশ হয়ে পড়ে থাকে অতশী। স্পন্দন অতশীর শিয়রে বসে ওর চুলের গভীরে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। চোখ বন্ধ থাকাবস্থায়ই অতশীর চোখের দুই পাশ বেয়ে অশ্রুকণা গড়িয়ে পড়ছে। কাল থেকে ঔষধ খাওয়া হচ্ছে না তার। স্পন্দন তাকে না বলেই এখানে নিয়ে আসায় ঔষধগুলো সাথে আনতে পারেনি। ঔষধ সেবন করলে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়। নয়তো অবনতির দিকেই যায়। ঝুঁকি এড়াতে এই স্বল্পমেয়াদী পদ্ধতি অবলম্বন করেছিল সে। ডাক্তার বলেছিল এই ঔষধগুলো নিয়মিত সেবন করলে সমস্যাটা আস্তে আস্তে কেটে গেলেও যেতে পারে। তবে পুরোপুরি শিউরিটি দেননি। তার নিজের জীবনের গ্যারান্টি নেই বলেই তো সে তার এই অনাকাঙ্ক্ষিত জীবনের সাথে স্পন্দনকে জড়াতে চায়নি। কিন্তু সে না চায়লেই বা কী! কলকাঠি নাড়ার ক্ষমতা যে একমাত্র ঐ উপরওয়ালার হাতে। তার চাওয়ায় না চাওয়ায় তো কিছুই হবে না। মহান আল্লাহ্ সুবহানাহু তা’আলা যা চান তা-ই হবে।
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share

জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্টটা আজ পেয়েছে সামির। কখনো ভাবতেও পারেনি ভালবাসার মানুষটার কাছ থেকে এমনতর অপমান পাবে। চব্বিশ বছরের জীবনে এই প্রথমবার তার গায়ে কেউ হাত তুলেছে। তাও কিনা সে যাকে ভালবাসে। মনে দাগ কেটে গেছে আজ লাবণ্যর করা ব্যবহারে। এ দাগ কখনো মুছবে কিনা সামির জানে না। তবে ক্ষণে ক্ষণে মনে করিয়ে দিবে এ দাগ লাবণ্যর দেওয়া। তা মনে হলেই বুকটা জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।

বেশ রাত হয়ে এসেছে। সামির এখনো বাসায় ফিরেনি। মা বলেছিল তাড়াতাড়ি বাসায় যেতে। কিন্তু এ পোড়া মনটা ক্ষান্ত করতে উদ্দেশ্যহীনভাবে হেঁটে যাচ্ছে। বাসায় যাওয়া দরকার। মা হয়তো দুশ্চিন্তা করছে। এই ভেবে রওয়ানা দেয় বাড়ির পথে। হাঁটতে হাঁটতেই হঠাৎ একটা নিরিবিলি জায়গাতে কারো আর্তনাদের
আওয়াজে থেমে যেতে বাধ্য হয়। তারপর আচমকা কেউ এসে তার সাথে ধাক্কা খায়। তাল সামলাতে না পেরে পড়ে যেতে নেয়। যথাসময়ে সামির উক্ত মানুষটাকে ধরে ফেলে দু’হাতে। সোজা করে দাঁড় করার কর বুঝতে পারে ভুক্তভোগী একজন মেয়ে। এদিকটায় বেশ অন্ধকার থাকায় মেয়েটার চেহারা দেখা যায় না। হঠাৎই মেয়েটা সামিরের একটা বাহু ধরে অনুনয় করে বলে উঠে
—“প্লিজ ভাইয়া আমাকে রক্ষা করেন ওদের হাত থেকে। আমাকে ইজ্জত ভ্রষ্ট করার চেষ্টা করছিল তারা সবাই মিলে। প্লিজ এখান থেকে তাদের চোখের আড়ালে নিয়ে যান একটু।”

মেয়েটির কণ্ঠ শুনে সামির চমকে উঠে। সেইসাথে তার আসন্ন বিপদের কথা শুনে তড়িঘড়ি করে একটু অদূরে ভাঙা প্রাচীরের আড়ালে নিয়ে যায় মেয়েটিকে। বিপরীতমুখী হওয়ায় রাস্তা থেকে তাদের দেখা যাবে না। কিন্তু আশপাশ থেকে হালকা আলো এখানে এসে পড়ছে। সেই আধো আলোতে মেয়েটি সামিরের মুখ দেখে যারপরনাই বিস্মিত হয়ে যায়। সামিরও ভালো রকমের শক খায় মনে মনে লাবণ্যকে এই বিধ্বস্ত অবস্থায় এতো রাতে এভাবে দেখে। তবে সে তা প্রকাশ করছে না। নির্বিকার ভঙিতে অন্যদিকে মুখ করে তাকিয়ে থাকে। একমাত্র আল্লাহ্ তা’আলা জানেন তার ভিতরে কেমন চুরমার হচ্ছে। লাবণ্য মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে নিঃশব্দে কাঁদতে থাকে। ঠিক তখনই বেশ বড় সাইজের একটা নোয়া এসে ঘুরঘুর করে রাস্তায়। তা দেখে লাবণ্য কাঁপতে থাকে। সে কখনো ভাবতেও পারেনি রনক তার সাথে এভাবে বিট্রে করবে। তার ভালবাসায় কমতি রাখেনি সে। সবটা দিয়ে অন্ধভাবে ভালবেসে গেছে রনককে। কিন্তু আজ তার ভালবাসার এই প্রতিদান দিল রনক তাকে! তাকে অপদস্থ করতে দুবার ভাবেনি। বরং আরো কয়েকজন রেপিস্ট নিয়ে তার সম্মান ভ্রষ্ট করতে চেয়েছিল। ছিঃ! ভাবতেও ঘৃণা হচ্ছে রনক এমন। কেন সে এতোদিনেও রনকের আসল চেহারা চিনতে পারেনি! তার চোখে কি কালো কাপড়ের পর্দা পড়ে গিয়েছিল! যাতে ভালো লোক আর দুষ্ট লোকের তফাৎ সে বুঝতে পারেনি।

হঠাৎ সামিরের কথায় লাবণ্যর ঘোর কাটে। নিজেকে সামিরের সামনে একজন অনাহূত ছাড়া আর কিছুই মনে হচ্ছে না। সকালেও কত বাজে ভাষায় তাকে সে অপমান করেছে। আবার থাপ্পড়ও মেরেছিল পাবলিক প্লেসে। ছিঃ! নিজেকে নিজে ধিক্কার জানাচ্ছে। কেমন ছোটলোকের মতো কাজ করেছে সে। কেন সে মানুষ চিনতে ভুল করলো! এখন সামিরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতেও যেন তার লজ্জায়, অনুশোচনায় মাথা কাটা যাচ্ছে। ভুলকে ফুল ভেবে মালা বানিয়ে গলায় পরার পর তা কাঁটার মতোই বিঁধছে এখনো সর্বাঙ্গে।

কোন ব্যক্তিগত প্রশ্ন না করে শুধু এটুকু বললো
—“বাসায় যেতে পারবেন?”
লাবণ্য জানে না কেন জানি তার বুকের ভিতরটায় হঠাৎ ফাঁকা অনুভব করতে লাগলো সামিরের কথাটা শুনে। কত অপমানই না করেছে সে মানুষটাকে। তবুও সব ভুলে তার সামনে গিয়ে ঠিকই হাজির হয়েছে ভালবাসা জাহির করতে। অক্লান্ত ভাবে সবসময় হাসিমুখে তার সকল অবহেলা, অপমান, গালমন্দ মুখ বুজে সহ্য করেছে। কখনো কোন টুঁশব্দ করেনি। আর আজ কিনা……!

সামিরের কথায় কোন জবাব দিতে পারলো না লাবণ্য। কথা আটকে যাচ্ছে তার। গলায় আসার পরই কে যেন চেপে ধরে রেখেছে। সামির আবারো বললো
—“বেশ রাত হয়েছে। এখানে থাকাটা বোধহয় নিরাপদ হবে না। আর আমারও বাসায় যাওয়ার দরকার। আপনি কি একা যেতে পারবেন?”
লাবণ্য ইতস্তত করে বলতে চায়লো যে সে একা যেতে পারবে না। কিন্তু গলা দিয়ে এখনো কথা বের হচ্ছে না। সামির বোধহয় বুঝতে পারলো।
—“আপনার আপত্তি না থাকলে আপনাকে সাহায্য করতে পারি। তবে আমাকে আবার তাদের মতো রেপিস্ট ভাববেন না। আমার ঘরেও মা বোন আছে। মেয়েদেরকে যথেষ্ট রেসপেক্ট করতে জানি। এখন বলুন সাহায্য লাগবে?”

সামিরের একেকটা কথা যেন একেকটা তীরের ফলা। একেবারে বুকের ভিতর গিয়ে আঘাত করেছে কেন যেন। সে জানে না এরকমটা কেন ফিল করছে সে। কোনমতে মাথা উপর নিচ করে সায় জানিয়ে দিল যে তার সাহায্য লাগবে। সামির আর দ্বিতীয় বাক্য খরচ না করে লাবণ্যর কাছ থেকে এড্রেস জেনে তাকে নিয়ে সে পথে রওয়ানা দিল।

অরুনিমা অস্থিরচিত্তে পায়চারি করছে আফরাদের ড্রয়িংরুমে। তারা এ বাড়িতে এসেছে বিকেলের দিকে। আসার পর থেকে মানুষটাকে একবার চোখের দেখাও দেখতে পায়নি। বেশ রাত হয়ে এসেছে। অথচ কাঙ্ক্ষিত মানুষটার দেখা নেই। নানারকম দুশ্চিন্তায় তার চোখের কোলে ঘুম এসেও যেন আসছে না। মনে কু ডাক ডাকছে। মানুষটা ঠিক আছে তো! কোন বিপদআপদ হয়নি তো আবার! ভাবতেই যেন ঘাম বের হয়ে যাচ্ছে অরুনিমার। আবার ঝপ করেই সকালের ঘটনাটা চোখের পর্দায় যেন বারবার রিপিট হতে লাগলো। মনে হতেই অশ্রুসিক্ত হয়ে এলো তার আঁখিযুগল। শত চেষ্টা করেও তা রুখতে পারলো না। নিঃশব্দে কেঁদে দিল। মানুষটা আজকে অনেক কষ্ট পেয়েছে। সে যদি পারতো তাহলে এক লহমায় সব কষ্ট ভ্যানিস করে দিত কোন অদৃশ্য জাদুর কাঠির ছোঁয়ায়। ইশ মানুষটা যদি তাকে এভাবে ভালবাসতো!

আফরা অরুনিমার কাছেই যাচ্ছিল। কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা ঘুমাতে তা জিজ্ঞাসা করতে যাচ্ছিল। একে তো নতুন মানুষ তার ওপর আবার নতুন জায়গায় অনেকেই কম্ফর্টেবল ফিল করে না। সেটাই জানতে চায়তে তার কাছে যাচ্ছিল। ড্রয়িংরুম পেরিয়েই গেস্টরুমে যেতে হয়। তাই ড্রয়িংরুম পার হওয়ার সময় একটা মেয়ে অবয়ব দেখে সে থমকে দাঁড়ায়। অন্ধকার হওয়ায় মুখ দেখা যাচ্ছে না। সে ছাড়া এ বাড়িতে দ্বিতীয় কোন মেয়ে নেই। তার কাজিন আছে তাও পাশের ফ্ল্যাটে। কিন্তু এ বাসায় সে ছাড়া আর কেউ নেই। হঠাৎ মাথায় এলো এই মুহূর্তে এ বাড়িতে অরুনিমাও আছে। সে নয়তো এটা!

ধিমি পায়ে এগিয়ে যায় সে অবয়বটার নিকট। পিছন থেকে কাঁধে হাত রাখে। অবয়বটা চমকে উঠে চোখের পানিটা দ্রুত মুছে পিছন ফিরে তাকায়। আফরাকে দেখে খানিকটা জড়তা কাজ করে ভিতরে।
—“কী ব্যাপার ননদিনী? এতো রাত পর্যন্ত এখনো জেগে যে! আর ড্রয়িংরুমেই বা কি করছো?”
অরুনিমা আমতা আমতা করতে থাকে। কি বলবে বুঝতে পারছে না।
—“পাপ্…পানি, হ্যাঁ পানি খেতে এসেছিলাম।” জোর করে মুখে হাসি ফুটিয়ে জবাব দেয় অরুনিমা। কিন্তু আফরার কেন যেন তার কথাটা বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হলো না। তবুও সে ব্যাপারে কিছু না বলে শুধু বললো
—“তাহলে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে কী করছিলে?”
—“না মানে… আসলে বৌমণি…..” অরুনিমার কথার মাঝখানেই দরজা খুলার আওয়াজ হলো খুট করে। দুজনেই চমকে তাকালো দরজার দিকে। দেখলো সামির বিধ্বস্ত অবস্থায় হেলেদুলে ঘরে ঢুকছে। একদম আচমকা অরুনিমার কলিজায় যেন একটা অদৃশ্য তীর বিঁধেছে গিয়ে সামিরকে এই অবস্থায় দেখে। প্রচণ্ড অস্থির লাগা শুরু করলো ভিতরে। নাম না জানা একটা কষ্ট এসে যেন হৃদপিণ্ডে বিরতিহীন ভাবে খোঁচানো শুরু করলো।

কয়েক কদম এগোনোর পর দুজন মানবীকে দেখে হঠাৎ সামির থমকে দাঁড়ালো। অপ্রস্তুত হয়ে জিজ্ঞাসা করলো
—“এতোরাতে এখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন তোরা?”
আফরা কাছে এগিয়ে গিয়ে বললো
—“ভাইয়া তার আগে তুমি বলো এতোরাত অবধি কোথায় ছিলা?”
—“আসলে মানে আমি… আমার একটু কাজ ছিল তাই। তুই কখন এসেছিস?”
—“আমি তো সেই বিকেলবেলা-ই এসেছি। কিন্তু আসার পর থেকে তোমাকে একবার চোখের দেখাও দেখিনি। মা বললো তুমি নাকি নাস্তা করেই বেরিয়েছো। আর নাকি বাসায়ই ফিরোনি। এতোক্ষণ কি কাজ ছিল তোমার?” অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টি হেনে কথাটা জিজ্ঞেস করে আফরা।
সামির আর কথা বাড়ায় না। আফরার প্রশ্নটা সন্তর্পণে এড়িয়ে বলে
—“অনেক রাত হয়েছে। যা ঘুমা গিয়ে।” বলেই চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়িয়েছিল। আফরা পিছন থেকে বলে উঠলো
—“তোমার মুখ দেখে তো মনে হচ্ছে সারাদিন কিছুই খাওনি। টেবিলে ভাত বাড়বো?”
থেমে গিয়ে সামির জবাব দেয়
—“নাহ খাবো না। ঘুমিয়ে পড় গিয়ে যাহ।” বলেই হনহন করে চলে গেল।

অরুনিমা এতোক্ষণ নীরব দর্শক হয়ে সবকিছু অবলোকন করছিল। সামিরের যাওয়ার পানে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। আফরার কথায় তার ঘোর কাটে।
—“ঘুমিয়ে পড়ো গিয়ে যাও। অনেক রাত হয়েছে। নয়তো মাথা ব্যথা করবে তোমার।”
অরুনিমা সামান্য মুচকি হেসে সামিরের রুমের বন্ধ দরজার দিকে এক পলক তাকিয়ে তার রুমে পা বাড়ায়। অরুনিমার মনের লুকানো অনুভূতিটা আফরা বুঝতে পারছে। এ ব্যাপারে ওর সাথে কথা বলতে হবে। ব্যাপারটা সত্যি সত্যিই হলে মন্দ হয় না। অরুনিমা অনেক লক্ষ্মী একটা মেয়ে। একদম সরল সোজা। কোন প্যাঁচগোচ নেই ভিতরে। একটু মুচকি হেসে নিজের রুমে চলে যায় আফরা।

চলবে…….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here