অবেলার_মেঘ পর্ব_৫

"এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে। আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার। আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন "

#অবেলার_মেঘ
#পর্ব_৫
#জীহানুর

-গোলাপকে বন্দী করবেন কিভাবে!ওরা তো বাগানে আছে।এখন আপনি যাবেন আমার সাথে?নইলে এ ঘরে আর আসা হবে না আমার।
-আচ্ছা চলো যাচ্ছি।
-সত্যি তো?
-হ্যা চলো।

ওরা সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসতেই হিরক মেঘকে দেখে চমকে যায়।সায়লাও দূর থেকে ওকে দেখে একটা ফাকা ঢোক গেলে।হিরক এগিয়ে এসে সংকুচিত কণ্ঠে বলে-

-ছোট সাহেব, আপনি..
-মার্জিয়ার সাথে বাগানে যাচ্ছি। কোনো নিষেধ আছে?
-না না।আপনি যেতে পারেন।

বাগানের সীমানার কাছে গিয়ে মেঘ দাঁড়িয়ে পড়ে।মার্জিয়া কিছুটা দূরে এগিয়ে গিয়ে পিছন ফিরে দেখে মেঘ কোথায় যেন স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। ওর ডাকে ঘোর ভাঙে মেঘের।

-ওখানে থেমে গেলেন কেন?এদিকে আসুন।
-আসছি।

মার্জিয়া ফুল গাছের একের পর এক বর্ণনা দিয়ে চলেছে। কিন্তু মেঘের সেদিকে কোনো খেয়াল নেই।ও তাকিয়ে আছে লাল গোলাপের গাছগুলোর দিকে। হঠাৎ মার্জিয়ার ডান হাত টা নিজের হাতে জড়িয়ে নিয়ে গোলাপ গাছটার কাছে নিয়ে গিয়ে দাঁড়ায়।মার্জিয়া কিছু বলতে যাবে তখনি মেঘ একটা আঙুল ওর ঠোঁটে চেপে দেয়।

-মানুষ এতো কথা বলে না কি!তোমার মুখ ব্যথা হয় না?এখন একটু চুপ করে দাঁড়াও তো।

মার্জিয়া আর কথা বলে না।মেঘ ওর ঠোঁট থেকে আঙুল সরিয়ে নিজের চশমাটা হাত দিয়ে ঠেলে একটু উপরে তোলে।তারপর গাছের দিকে ঝুকে গিয়ে এক এক করে ফুলগুলো ধরে দেখতে থাকে।মনে হচ্ছে গাছের সবচেয়ে সুন্দর নিখুঁত যে ফুলটা সেটা ওর চাই।অবশেষে মিনিট চার-এক পরে পিছনের দিক থেকে একটা ফুল ছেড়ে। সত্যিই বড় নিখুঁত ফুল!টকটকে লাল, যেন কেবল ই রক্ত মাখানো হয়েছে। ফুলটা হাতে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ফুলটা মার্জিয়ার হাতে দেয়।মার্জিয়া একটু মুচকি হাসলে ও বলে

-আমি তোমাকে ফুলটা ধরার জন্য দিয়েছি, নেওয়ার জন্য না।এটা হাতে ধরে দাঁড়িয়ে থাকো।

এরপর পিছনে গিয়ে মেঘ ওর খোঁপা খুলে দেয়।খোঁপা খুলে দিতেই মার্জিয়ার মেঘকালো লম্বা চুলগুলো কোমর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। মার্জিয়া বলে উঠে-

-কি করছেন আপনি!??
-চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকো।
-কিন্তু বলবেন তো।চুল খুললেন কেনো?
-আর একটাও কথা বললে ভালো হবে না বলছি।

মার্জিয়া চুপ হয়ে যায়।বেশ কৌশলে মেঘ ওর চুলগুলো ছাড়িয়ে গুছিয়ে দেয়, যেন ও মেয়ে-মানুষের চুল বাধায় পটু একজন। এরপর ওর বাম কানের পাশ থেকে কিছুটা পিছনে খুব যত্ন করে গোলাপ টা লাগিয়ে দিয়ে মার্জিয়ার সামনে এসে দাঁড়ায়। হলুদ বর্ণ গায়ে কালো সালোয়ারকামিজ।আর খোলা চুলে রক্তবর্ণ লাল গোলাপটায় ওকে খুব মায়াবী দেখাচ্ছিল। মেঘ ওর দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে।ওকে সেদিনের মতো লাগছে যেদিন মেঘ প্রথম ওর দিকে তাকিয়েছিল।সেদিনও এভাবে কালো ড্রেসে লাল গোলাপ চুলে গুঁজে একটা মেয়ে বৃষ্টির মধ্যে ছাতি নিয়ে দাঁড়িয়েছিল। রাস্তার অপর সাইডে ট্রাফিকে বড় গাড়িতে বসেছিল মেঘ।লন্ডন ফিরে যাচ্ছিল।এখানে আর মন বসছিল না।যে কাজের জন্য এখানে এসেছিল তা হয়ে গেছে।তখন ফেরার পালা।কিন্তু ফিরতে পারেনি মেঘ।গাড়ির কাচের ভিতর থেকে ঐ কালো ড্রেসের মায়াবী মেয়েটার দিকে চোখ আটকে যায়। কাচ নামিয়ে শুধু তাকিয়ে ছিল,যেন ওর কোনো ঘোর লেগে গেছে। পিটপিট করে কি যেন বলছিল মেয়েটা একা একা। হয়তো কোথাও জরুরী যেতে হবে, কিন্তু বৃষ্টিতে আটকে গেছে।তাই হয়তবা দোয়া করছিল বৃষ্টি থামার জন্য।মেঘের খুব ইচ্ছে হচ্ছিল মেয়েটাকে কাছ থেকে দেখার।গাড়ির দরজাটা খুলে বাইরে পা বাড়ায় মেঘ।আর তখনি একটা অটো এসে থামে মেয়েটার সামনে, চলে যায় সে সেখান থেকে। মেঘের আর মন ভরে দেখা হয়নি তাকে।তাই আজ মগ্ন হয়ে দেখছে সেই মেয়েটাকে।আজ সে মেঘের সামনেই দাঁড়ানো। চাইলেই মনভরে দেখে তাকে।

হিরক এদিকে মেঘের বাবার নাম্বারে ডায়াল করেছে।কিছুক্ষণ রিং বাজার পরে ফোন রিসিভ করে আমির সাহেব।

-হ্যা হিরক, বলো কি খবর।
-বড় সাহেব, আজ ছোট সাহেব ঘড় থেকে বের হয়েছে।
-আবারো ভাঙচুর করেছে ও?
-না সাহেব।কিছুই করেনি।একেবারেই শান্ত। আমার সাথেও খুব ঠাণ্ডা গলায় কথা বলেছে।আর বাগানে এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে।
-কিহ! ও ওদিকে কি করে গেলো?ওখানে তো..
-ঐ যে মেয়েটাকে সে নিয়ে আসতে বলেছিল, তার সাথেই গিয়েছে বাগানে।
-আচ্ছা ও যেভাবে আছে ওকে সেভাবেই থাকতে দেও।
-আচ্ছা সাহেব।

হিরকের কথায় আমির সাহেব একোটু চিন্তায় পড়ে গেলেন। কারণ ও বাড়িতে যাওয়ার পরে মেঘ কখনো ঘর থেকে বের হয়নি। এমন একটা দিন যায়নি যখন মেঘ অশান্তভাবে ভাঙচুর না করেছে। কিন্তু হঠাৎ ওর এই পরিবর্তন একটু সন্দেহজনক মনে হচ্ছে।

পরদিন ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে মার্জিয়া ওজু করে নামাযে দাঁড়ায়।সালামা ফেরানোর পর দেখে ওর ঘরের দরজার সাথে হেলান দিয়ে মেঘ দাঁড়িয়ে আছে। ওর দিকে তাকিয়ে আছে। ও একটু ঘাবড়ে গিয়ে বলে

-আপনি এই সময়ে এখানে?!
-আমি তো এখানেই ছিলাম। না মানে একটু আগে এখান থেকে যাচ্ছিলাম।তোমাকে নামাজে দেখে দাঁড়িয়ে পড়েছি।
-ওহ! আমার তাই রাতের মতো অস্বস্তি হচ্ছিল।
-রাতের মতো?
– হ্যা, এখানে আসার পর থেকেই মনে হয় কে যেন রাতে ঘুমানোর সময় আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। কেন এমন মনে হয় জানি না।হয়ত মনের ভুল।
-মনের ভুল না।আমি জানি কে তোমায় দেখে…

#জীহানূর

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......

Related Articles

আঁধার পর্ব-১৩ | ১৮+ এলার্ট

আঁধার ১৩. ( ১৮+ এলার্ট ) ঘুটঘুটে অন্ধকারে পড়ে আছি আমি। অন্ধকারের ঘনত্ব এতো বেশি হতে পারে জানা ছিলো না আমার। এতো অন্ধকারে চোখ...

আঁধার পর্ব-১২

আঁধার ১২. " রান্না ভালো হয়নি? " প্রশ্নটা না করে পারলাম না। " হ্যাঁ, ভালো হয়েছে। আমি নিজেও এতো ভালো রান্না করতে পারিনা। বিয়ের...

আঁধার পর্ব- ১১

আঁধার ১১. " তুমি ঠিক এভাবে নিয়ম করে হাসলে আমি তোমার প্রেমে পড়তে বাধ্য হবো। " মুখ ফসকে কথাটা টুক করে বের হয়ে গেল। সাথে...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -
- Advertisement -

Latest Articles

আঁধার পর্ব-১৩ | ১৮+ এলার্ট

0
আঁধার ১৩. ( ১৮+ এলার্ট ) ঘুটঘুটে অন্ধকারে পড়ে আছি আমি। অন্ধকারের ঘনত্ব এতো বেশি হতে পারে জানা ছিলো না আমার। এতো অন্ধকারে চোখ...
error: ©গল্পপোকা ডট কম