Shadow in love Part-13(Last Part)

"এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে। আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার। আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন "

#Shadow_in_love

Part-13

#ফাবিহা_নওশীন

আরহান আয়েশাকে দু’হাতে চেপে বুকে জড়িয়ে আছে।আয়েশা আরহানের পিঠের শার্ট খামচে ধরে রেখেছে।আয়েশার সারা শরীর কাপছে।বুক ধুকপুক করছে।শরীর যেনো অসার হয়ে আসছে।জোরে শ্বাস উঠানামা করছে।আরহান আয়েশার কাপুনি অনুভব করতে পারছে।আয়েশাকে উঠিয়ে পানি নিয়ে ওর সামনে ধরলো।আয়েশার হাত কাপছে ও গ্লাস ধরতে পারছেনা।আরহান এক হাতে আয়েশাকে ধরে অন্য হাতে ওর মুখের কাছে পানি নিয়ে পানি খাওয়ালো।আয়েশার মুখে একটু পানি যেতেই আয়েশা ঢলে পড়লো।আরহান দুহাতে আয়েশকে ধরে কোলে তুলে নিলো।আয়েশাকে বাড়িতে নিয়ে যাবে।নিজের কাছে রাখবে।এখানে আর রাখবেনা।
আয়েশাকে গাড়িতে বসিয়ে সিট বেল্ট লাগিয়ে দিলো।

~ফ্ল্যাশব্যাক~
আরহান ফ্রেশ হয়ে বের হয়েছে আর তখনই ওর চোখের সামনে একটা স্কিন ভেসে উঠে।আর সেই স্কিনে দেখতে পাচ্ছে আয়েশাকে কালো হুডি পড়া এক লোক গলা চেপে ধরেছে।আরহান আয়েশার সেফটির জন্য টুইংকেলকে আয়েশার কাছে এতোদিন যাবত রেখেছে।আয়েশার সব খোজ খবর আরহান এভাবেই নিয়ে এসেছে এতোদিন।আর আজও টুইংকেল ঠিক সময় মতো খবর দিয়ে দিয়েছে।
আরহান সাথে সাথে এঞ্জেলের সাহায্য নিয়ে আয়েশার কাছে পৌছায় আর আয়েশাকে রিসকিউ করে।কিন্তু হুডি পড়া লোকটি পালিয়ে যায়।আরহান তাকে ধরতে পারেনি।আয়েশার অবস্থা খারাপ ছিলো তাই ওকে রেখে যেতে পারেনি।

তারপর আরহান আয়েশাকে বাড়িতে নিয়ে আসে।

আরহানের কোলে আয়েশাকে দেখে সবাই ছুটে আসে।
আরহান আয়েশাকে সোফায় শুইয়ে দিয়ে সবাইকে সব খোলে বলে আর এটাও জানায় আয়েশা এখানেই থাকবে।

আয়েশার জ্ঞান ফিরতেই আয়েশা নিজেকে আরহানের বাড়িতে আবিষ্কার করলো।বড় দেয়াল ঘড়ির দিকে চেয়ে দেখে ৭টা বাজে।সকাল হয়ে গেছে।আয়েশার গতরাতের কথা মনে পড়লো।আরহান ওকে সেভ করে তারপর অজ্ঞান হয়ে যায়।
আয়েশা ভাবছে,
“আরহান আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে?এ বাড়িতে?কিন্তু কেন?আরহান তো চায়না আমি এবাড়িতে থাকি।আর বাবা?বাবা কি জানে আমি এখানে? ”

আয়েশা আশেপাশে ফোন খোজছে কিন্তু পেলোনা।তার মানে আরহান ওকেই তুলে নিয়ে এসেছে ফোন আনেনি।আয়েশা ল্যান্ডলাইন থেকে বাবাকে ফোন
করলো।
ওপাশ থেকে ফোন রিসিভ হতেই আয়েশা বললো,
—–বাবা আমি?

—–হ্যা আয়শু তুই কোথায়? আমাকে ফোন দিচ্ছিস মানে বুঝলাম না কিছু।

—–বাবা আমি এ বাড়িতে।তোমার জামাই আমাকে নিয়ে চলে এসেছে।

—–জামাই দেখছি আমার মেয়েকে ছাড়া থাকতেই পারছেনা।আমাকে না বলে সকাল সকাল মেয়েকে নিয়ে চলে গেলো।আর মেয়েও কিছু….

আয়েশা লজ্জা পেয়ে বললো,
—–বাবা আমিও জানতাম না।চোখ খোলে দেখি এ বাড়িতে।

আয়েশার বাবা উচ্চস্বরে হাসছে।
—–বাবা রাখছি।নিজের খেয়াল রেখো।আমি পরে ফোন করবো।
আয়েশা ফোন রেখে দিলো।

আয়েশা ফ্রেশ হয়ে নিচে গেলো।সবাই নাস্তার টেবিলে আয়েশার জন্য অপেক্ষা করছে।আয়েশা আরহানের পাশে গিয়ে বসে।নাস্তা শেষে আরহানকে সবার আড়ালে নিয়ে গিয়ে বললো,
—–আমি এখানে কেন?

—–আমি নিয়ে এসছি তাই।

—–কিন্তু কেন?আপনি তো চাইতেন না আমি এখানে থাকি।

—–দেখো আয়শু তুমি এখানে সেফ না তাই তোমাকে ও বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি।কিন্তু তুমি ওখানেও সেফ না।তাই তুমি এখানেই থাকবে।আমার চোখের সামনে আমার কাছে।

আয়েশা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে চলে গেলো।আয়েশা ভাবছে,
জানি না আমার কি হবে।কেউ আমার পেছনে পড়ে আছে।আরহানের থেকে আজীবনের জন্য সরিয়ে দিতে চাইছে।আরহানের সাথে সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখেছিলাম কিন্তু বিয়ের পর একটা না একটা ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে।

আয়েশা ড্রয়িংরুমে যেতেই দেখলো সেই হজুর এসেছে।তার সাথে আরেকজন।তাকে আয়েশা কখনো দেখেনি।আয়েশাকে দেখে আরহানের মম বললো,
—-আয়েশা এদিকে এসো।
আয়েশার পেছনে আরহান ছিলো আরহানের মম আরহানকেও ডাকলো।
আয়েশা মাথায় ঘোমটা টেনে সেখানে গিয়ে উপস্থিত হলো।
ওই লোকটা ব্যাগ থেকে দুটো তাবিজ বের করলো।
একটা আরহানকে পড়িয়ে দিলো।আরেকটা আয়েশার হাতে পড়িয়ে দিলো।
আরহান জিজ্ঞেস করলো,
—–এটা কিসের তাবিজ?আয়শুকেও পড়ালো যে?

সেই হজুর লোকটা বললো,
—–এই ভাই আমার পরিচিত।তিনি খুব কামিলদার।জ্বিন বশ কর‍তে পারেন।জ্বিন নিয়ে তিনি কাজ করেন।তোমাদের যে তাবিজ দিয়েছে তাতে তোমাদের কোনো জ্বিন ছুতে পারবেনা।কিন্তু সাবধান এই তাবিজ কোনো ভাবেই খোলবেনা।

আরহান আয়েশা দুজনেই মাথা নাড়িয়ে হ্যা বললো।

.
.

আরহান রুমে ঢুকে ফ্রেশ হওয়ার জন্য গায়ের শার্ট খোলে বিছানায় ছুড়ে মারে।আর তখনই আয়েশাকে বিছানার উপরে দেখতে পায়।আয়েশা শার্ট হাতে নিয়ে আরহানকে ছুড়ে মারলো।আরহান টিশার্ট ক্যাচ করে নেয়।তারপর শার্ট পড়ে দুটো বোতাম লাগালো।

আয়েশা উঠে দাড়িয়ে বললো,
—–ছিহ! এতো নোংরা আপনি।এই ময়লা দুর্গন্ধ শার্ট আমার উপর ছুড়ে মারলেন?

আরহান আমতা আমতা করে বললো,
—–আমি তোমাকে দেখিনি।তুমি এখানে আছো আমি সত্যিই জানতাম না।তুমি এই রুমে কেন?

আয়েশা বিছানায় আয়েশ করে বসে বললো,
—–আমি এখানেই ঘুমাবো আজ।উহু শুধু আজ না যতদিন বাচবো ততদিন।আমি এখানেই থাকবো এখানেই ঘুমাবো।

আরহান আয়েশার পাশে গিয়ে বসে বললো,
—–কিন্তু আয়শু?

আয়েশা ভ্রু কুচকে বললো,
—–কিন্তু কি?দেখুন আমি দূরে থাকলেও আমার উপর হামলা হয়।আমাদের বাড়িতে চলে গিয়েছিলাম সেখানেও হামলা হয়েছে।আপনার থেকে দূরে থেকে অন্যের হাতে মরার চেয়ে আপনার হাতে মরা ভালো।

আরহান আয়েশার মুখ চেপে ধরলো।
—–আয়শু কি বলছো এসব?একদম এসব বলবেনা।

আয়েশা আরহানের হাত সরিয়ে দিয়ে শীতল কণ্ঠে বললো,
—–আরহান,আমি আপনার কাছে থাকতে চাই।আপনার পাশেই থাকতে চাই।ওরা যদি আমাকে মেরে ফেলতে সক্ষম হয় তবে আমি যেনো আপনার কাছেই মারা যাই আমি শুধু এটাই চাই।
এটা আপনার কাছে আমার শেষ চাওয়া।

আরহান আয়েশার মুখে বারবার মরার কথা শুনতে পারছেনা।আয়েশার গাল চেপে ধরে বললো,
—–এই মেয়ে বারবার মরে যাওয়ার কথা কেন বলছিস?আমাকে ছেড়ে যাওয়ার জন্য আমি তোকে ভালোবেসেছি?বিয়ে করেছি?আমাকে ছেড়ে তুমি কোথাও যেতে পারোনা।

আরহান আয়েশার গাল থেকে হাত সরাতেই আয়েশা ভ্যা ভ্যা করে কেদে দিলো।
—–আপনি আমাকে মারলেন?আমার চাপা ভেঙে ফেলেছেন।আমার গালদুটো ব্যথা করছে।আমি সবাইকে বলে দেবো আপনি আমাকে মেরেছেন।

আরহান পড়ে গেলো আরেক মসিবতে।আয়েশা থামছেইনা।
—–আয়েশা যদি কান্না না থামাও তোমাকে পিপড়া বানিয়ে দেবো।

আয়েশা সাথে সাথে চুপ হয়ে গেলো।দুহাতে মুখ চেপে ধরে ইনোসেন্ট ফেস করে রাখলো।আয়েশার ফেস দেখে আরহানের খুব হাসি পাচ্ছে।আয়েশাকে কেমন বাচ্চাদের মতো লাগছে।
আরহান ফিক করে হেসে দিলো।আয়েশা তবুও ওভাবেই আছে।আরহান আয়েশার মুখ থেকে হাত সরিয়ে দিলো।
আয়েশাকে কাছে টেনে ওর ঠোঁট দখল করে নেয়।
আরহান আয়েশার ঠোঁট ছেড়ে দিয়ে জড়িয়ে ধরে বললো,
—–আমার পরীকে কি আমি পিপড়া বানাতে পারি?আর কখনো মরার কথা বলবেনা।তুমি ছাড়া আমি অচল।তোমার কিছু হবেনা।ভুলে গেলে তাবিজ আছে।

আয়েশা এতোক্ষণ চোখ নামিয়ে রেখেছিলো।তাবিজের কথা শুনে আরহানকে ছাড়িয়ে নিয়ে হাতের তাবিজটা দেখলো তারপর আরহানের দিকে তাকালো।ওর দৃষ্টিতে হাজারো প্রশ্ন।আর তার উত্তর আরহান দিয়ে দিলো।
আরহান শার্টের দুটো বোতাম খোলে আয়েশার গালে হাত রাখে।আয়েশা চোখ বন্ধ করে নেয়।আয়েশাকে বালিশে শুইয়ে দিয়ে ওর বন্ধ চোখে মুখে চুমু খায়।
দুজন হারিয়ে গেলো ভালোবাসার সীমান্তে।

আয়েশা চোখ খোলে পিটপিট করে চোখ মেলে নিজেকে আরহানের বুকে আবিস্কার করে।আরহানকে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে।তারমানে ওরা ঠিক আছে ওদের সাথে খারাপ কিছু হয়নি।আয়েশার চোখে মুখে খুশীর ঝলক।আয়েশা আরহানের মুখের দিকে চেয়ে আছে।তখনই আরহানের ঘুম ভেঙে যায়।আরহান চোখ খোলে আয়েশাকে এভাবে চেয়ে থাকতে দেখে ভ্রু নাচায়।
তারপর আয়েশার ঠোঁটে কিস করে বললো,
—–এভাবে চেয়ে আছো কেন?

আয়েশা উচ্ছ্বসিত হয়ে বললো,
—–আরহান আমরা ঠিক আছি।তাবিজে কাজ হয়েছে।আমাদের উপর কোনো আক্রমণ হয়নি।

আরহান আয়েশাকে বুকে নিয়ে বললো,
—–বলেছিলাম না কিছু হবেনা।আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া।আমাদের জীবন থেকে কালো ছায়া চলে গেছে।নাও দিস ইজ পাওয়ার অফ লাভ।

এভাবে চলে গেছে অনেক দিন।আরহান কিংবা আয়েশা কারো উপর আক্রমণ হয়নি।ওরা স্বাভাবিক ভাবেই জীবন যাপন করছে।তবে দিন দিন আরহানের ম্যাজিক পাওয়ার কমতে শুরু করে।আয়েশা প্রেগন্যান্ট হওয়ার পর আরহানের ম্যাজিক পুরোপুরি চলে যায়।

আরহান আর আয়েশার ছেলে আইয়ান।আয়েশা আইয়ানের সাথে খেলছে।আইয়ান বসে, হামাগুড়ি দেয় মাঝেমধ্যে উঠে দাড়ানোর চেষ্টা করে।আয়েশা আইয়ানের সাথে বল দিয়ে খেলছে।আরহান অফিস থেকে এসে ফ্রেশ হয়ে আইয়ানের গালে চুমু খায়।আয়েশা আরহানকে মুখ ভেংচি দেয়।আরহান মুচকি হেসে আয়েশার সামনে বসে ওর দুগালে ঠোঁট ছুইয়ে বলে,
—–আমার হিংসুটে বউ।
আয়েশা চোখ বড়বড় করে আইয়ানের দিকে তাকালো।আইয়ান হাসছে।
—–আপনার কি মাথা গেছে ছেলের সামনে?

—–বাচ্চা ছেলে কি বুঝে?

—–তাহলে হাসছে কেন?

—–বাচ্চারা সব সময় হাসে।এখন চোরের মন পুলিশ পুলিশ হলে কার দোষ?

আরহান আইয়ানের সাথে খেলতে বসে।আয়েশা উঠে আইয়ানের জামাকাপড় ভাজ করছে আর ওদের দেখছে।
আইয়ানের বল দূরে চলে যায়।আইয়ান হাত বাড়ায় বলের দিকে।কিন্তু বল অনেক দূরে।আরহান বল আনতে যাবে তখনই আইয়ান হাত বাড়ায় আর বল আইয়ানের হাতে চলে আসে।
সেটা দেখে আয়েশা আর আরহান দুজনই আতংকিত হয়ে একে অপরের দিকে চাওয়াচাওয়ি করছে।
আইয়ান কি তাহলে জ্বিন?ওরও কি ম্যাজিক আছে?

-সমাপ্ত

#Shadow_in_love

Part-13

#ফাবিহা_নওশীন

আরহান আয়েশাকে দু’হাতে চেপে বুকে জড়িয়ে আছে।আয়েশা আরহানের পিঠের শার্ট খামচে ধরে রেখেছে।আয়েশার সারা শরীর কাপছে।বুক ধুকপুক করছে।শরীর যেনো অসার হয়ে আসছে।জোরে শ্বাস উঠানামা করছে।আরহান আয়েশার কাপুনি অনুভব করতে পারছে।আয়েশাকে উঠিয়ে পানি নিয়ে ওর সামনে ধরলো।আয়েশার হাত কাপছে ও গ্লাস ধরতে পারছেনা।আরহান এক হাতে আয়েশাকে ধরে অন্য হাতে ওর মুখের কাছে পানি নিয়ে পানি খাওয়ালো।আয়েশার মুখে একটু পানি যেতেই আয়েশা ঢলে পড়লো।আরহান দুহাতে আয়েশকে ধরে কোলে তুলে নিলো।আয়েশাকে বাড়িতে নিয়ে যাবে।নিজের কাছে রাখবে।এখানে আর রাখবেনা।
আয়েশাকে গাড়িতে বসিয়ে সিট বেল্ট লাগিয়ে দিলো।

~ফ্ল্যাশব্যাক~
আরহান ফ্রেশ হয়ে বের হয়েছে আর তখনই ওর চোখের সামনে একটা স্কিন ভেসে উঠে।আর সেই স্কিনে দেখতে পাচ্ছে আয়েশাকে কালো হুডি পড়া এক লোক গলা চেপে ধরেছে।আরহান আয়েশার সেফটির জন্য টুইংকেলকে আয়েশার কাছে এতোদিন যাবত রেখেছে।আয়েশার সব খোজ খবর আরহান এভাবেই নিয়ে এসেছে এতোদিন।আর আজও টুইংকেল ঠিক সময় মতো খবর দিয়ে দিয়েছে।
আরহান সাথে সাথে এঞ্জেলের সাহায্য নিয়ে আয়েশার কাছে পৌছায় আর আয়েশাকে রিসকিউ করে।কিন্তু হুডি পড়া লোকটি পালিয়ে যায়।আরহান তাকে ধরতে পারেনি।আয়েশার অবস্থা খারাপ ছিলো তাই ওকে রেখে যেতে পারেনি।

তারপর আরহান আয়েশাকে বাড়িতে নিয়ে আসে।

আরহানের কোলে আয়েশাকে দেখে সবাই ছুটে আসে।
আরহান আয়েশাকে সোফায় শুইয়ে দিয়ে সবাইকে সব খোলে বলে আর এটাও জানায় আয়েশা এখানেই থাকবে।

আয়েশার জ্ঞান ফিরতেই আয়েশা নিজেকে আরহানের বাড়িতে আবিষ্কার করলো।বড় দেয়াল ঘড়ির দিকে চেয়ে দেখে ৭টা বাজে।সকাল হয়ে গেছে।আয়েশার গতরাতের কথা মনে পড়লো।আরহান ওকে সেভ করে তারপর অজ্ঞান হয়ে যায়।
আয়েশা ভাবছে,
“আরহান আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে?এ বাড়িতে?কিন্তু কেন?আরহান তো চায়না আমি এবাড়িতে থাকি।আর বাবা?বাবা কি জানে আমি এখানে? ”

আয়েশা আশেপাশে ফোন খোজছে কিন্তু পেলোনা।তার মানে আরহান ওকেই তুলে নিয়ে এসেছে ফোন আনেনি।আয়েশা ল্যান্ডলাইন থেকে বাবাকে ফোন
করলো।
ওপাশ থেকে ফোন রিসিভ হতেই আয়েশা বললো,
—–বাবা আমি?

—–হ্যা আয়শু তুই কোথায়? আমাকে ফোন দিচ্ছিস মানে বুঝলাম না কিছু।

—–বাবা আমি এ বাড়িতে।তোমার জামাই আমাকে নিয়ে চলে এসেছে।

—–জামাই দেখছি আমার মেয়েকে ছাড়া থাকতেই পারছেনা।আমাকে না বলে সকাল সকাল মেয়েকে নিয়ে চলে গেলো।আর মেয়েও কিছু….

আয়েশা লজ্জা পেয়ে বললো,
—–বাবা আমিও জানতাম না।চোখ খোলে দেখি এ বাড়িতে।

আয়েশার বাবা উচ্চস্বরে হাসছে।
—–বাবা রাখছি।নিজের খেয়াল রেখো।আমি পরে ফোন করবো।
আয়েশা ফোন রেখে দিলো।

আয়েশা ফ্রেশ হয়ে নিচে গেলো।সবাই নাস্তার টেবিলে আয়েশার জন্য অপেক্ষা করছে।আয়েশা আরহানের পাশে গিয়ে বসে।নাস্তা শেষে আরহানকে সবার আড়ালে নিয়ে গিয়ে বললো,
—–আমি এখানে কেন?

—–আমি নিয়ে এসছি তাই।

—–কিন্তু কেন?আপনি তো চাইতেন না আমি এখানে থাকি।

—–দেখো আয়শু তুমি এখানে সেফ না তাই তোমাকে ও বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি।কিন্তু তুমি ওখানেও সেফ না।তাই তুমি এখানেই থাকবে।আমার চোখের সামনে আমার কাছে।

আয়েশা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে চলে গেলো।আয়েশা ভাবছে,
জানি না আমার কি হবে।কেউ আমার পেছনে পড়ে আছে।আরহানের থেকে আজীবনের জন্য সরিয়ে দিতে চাইছে।আরহানের সাথে সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখেছিলাম কিন্তু বিয়ের পর একটা না একটা ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে।

আয়েশা ড্রয়িংরুমে যেতেই দেখলো সেই হজুর এসেছে।তার সাথে আরেকজন।তাকে আয়েশা কখনো দেখেনি।আয়েশাকে দেখে আরহানের মম বললো,
—-আয়েশা এদিকে এসো।
আয়েশার পেছনে আরহান ছিলো আরহানের মম আরহানকেও ডাকলো।
আয়েশা মাথায় ঘোমটা টেনে সেখানে গিয়ে উপস্থিত হলো।
ওই লোকটা ব্যাগ থেকে দুটো তাবিজ বের করলো।
একটা আরহানকে পড়িয়ে দিলো।আরেকটা আয়েশার হাতে পড়িয়ে দিলো।
আরহান জিজ্ঞেস করলো,
—–এটা কিসের তাবিজ?আয়শুকেও পড়ালো যে?

সেই হজুর লোকটা বললো,
—–এই ভাই আমার পরিচিত।তিনি খুব কামিলদার।জ্বিন বশ কর‍তে পারেন।জ্বিন নিয়ে তিনি কাজ করেন।তোমাদের যে তাবিজ দিয়েছে তাতে তোমাদের কোনো জ্বিন ছুতে পারবেনা।কিন্তু সাবধান এই তাবিজ কোনো ভাবেই খোলবেনা।

আরহান আয়েশা দুজনেই মাথা নাড়িয়ে হ্যা বললো।

.
.

আরহান রুমে ঢুকে ফ্রেশ হওয়ার জন্য গায়ের শার্ট খোলে বিছানায় ছুড়ে মারে।আর তখনই আয়েশাকে বিছানার উপরে দেখতে পায়।আয়েশা শার্ট হাতে নিয়ে আরহানকে ছুড়ে মারলো।আরহান টিশার্ট ক্যাচ করে নেয়।তারপর শার্ট পড়ে দুটো বোতাম লাগালো।

আয়েশা উঠে দাড়িয়ে বললো,
—–ছিহ! এতো নোংরা আপনি।এই ময়লা দুর্গন্ধ শার্ট আমার উপর ছুড়ে মারলেন?

আরহান আমতা আমতা করে বললো,
—–আমি তোমাকে দেখিনি।তুমি এখানে আছো আমি সত্যিই জানতাম না।তুমি এই রুমে কেন?

আয়েশা বিছানায় আয়েশ করে বসে বললো,
—–আমি এখানেই ঘুমাবো আজ।উহু শুধু আজ না যতদিন বাচবো ততদিন।আমি এখানেই থাকবো এখানেই ঘুমাবো।

আরহান আয়েশার পাশে গিয়ে বসে বললো,
—–কিন্তু আয়শু?

আয়েশা ভ্রু কুচকে বললো,
—–কিন্তু কি?দেখুন আমি দূরে থাকলেও আমার উপর হামলা হয়।আমাদের বাড়িতে চলে গিয়েছিলাম সেখানেও হামলা হয়েছে।আপনার থেকে দূরে থেকে অন্যের হাতে মরার চেয়ে আপনার হাতে মরা ভালো।

আরহান আয়েশার মুখ চেপে ধরলো।
—–আয়শু কি বলছো এসব?একদম এসব বলবেনা।

আয়েশা আরহানের হাত সরিয়ে দিয়ে শীতল কণ্ঠে বললো,
—–আরহান,আমি আপনার কাছে থাকতে চাই।আপনার পাশেই থাকতে চাই।ওরা যদি আমাকে মেরে ফেলতে সক্ষম হয় তবে আমি যেনো আপনার কাছেই মারা যাই আমি শুধু এটাই চাই।
এটা আপনার কাছে আমার শেষ চাওয়া।

আরহান আয়েশার মুখে বারবার মরার কথা শুনতে পারছেনা।আয়েশার গাল চেপে ধরে বললো,
—–এই মেয়ে বারবার মরে যাওয়ার কথা কেন বলছিস?আমাকে ছেড়ে যাওয়ার জন্য আমি তোকে ভালোবেসেছি?বিয়ে করেছি?আমাকে ছেড়ে তুমি কোথাও যেতে পারোনা।

আরহান আয়েশার গাল থেকে হাত সরাতেই আয়েশা ভ্যা ভ্যা করে কেদে দিলো।
—–আপনি আমাকে মারলেন?আমার চাপা ভেঙে ফেলেছেন।আমার গালদুটো ব্যথা করছে।আমি সবাইকে বলে দেবো আপনি আমাকে মেরেছেন।

আরহান পড়ে গেলো আরেক মসিবতে।আয়েশা থামছেইনা।
—–আয়েশা যদি কান্না না থামাও তোমাকে পিপড়া বানিয়ে দেবো।

আয়েশা সাথে সাথে চুপ হয়ে গেলো।দুহাতে মুখ চেপে ধরে ইনোসেন্ট ফেস করে রাখলো।আয়েশার ফেস দেখে আরহানের খুব হাসি পাচ্ছে।আয়েশাকে কেমন বাচ্চাদের মতো লাগছে।
আরহান ফিক করে হেসে দিলো।আয়েশা তবুও ওভাবেই আছে।আরহান আয়েশার মুখ থেকে হাত সরিয়ে দিলো।
আয়েশাকে কাছে টেনে ওর ঠোঁট দখল করে নেয়।
আরহান আয়েশার ঠোঁট ছেড়ে দিয়ে জড়িয়ে ধরে বললো,
—–আমার পরীকে কি আমি পিপড়া বানাতে পারি?আর কখনো মরার কথা বলবেনা।তুমি ছাড়া আমি অচল।তোমার কিছু হবেনা।ভুলে গেলে তাবিজ আছে।

আয়েশা এতোক্ষণ চোখ নামিয়ে রেখেছিলো।তাবিজের কথা শুনে আরহানকে ছাড়িয়ে নিয়ে হাতের তাবিজটা দেখলো তারপর আরহানের দিকে তাকালো।ওর দৃষ্টিতে হাজারো প্রশ্ন।আর তার উত্তর আরহান দিয়ে দিলো।
আরহান শার্টের দুটো বোতাম খোলে আয়েশার গালে হাত রাখে।আয়েশা চোখ বন্ধ করে নেয়।আয়েশাকে বালিশে শুইয়ে দিয়ে ওর বন্ধ চোখে মুখে চুমু খায়।
দুজন হারিয়ে গেলো ভালোবাসার সীমান্তে।

আয়েশা চোখ খোলে পিটপিট করে চোখ মেলে নিজেকে আরহানের বুকে আবিস্কার করে।আরহানকে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে।তারমানে ওরা ঠিক আছে ওদের সাথে খারাপ কিছু হয়নি।আয়েশার চোখে মুখে খুশীর ঝলক।আয়েশা আরহানের মুখের দিকে চেয়ে আছে।তখনই আরহানের ঘুম ভেঙে যায়।আরহান চোখ খোলে আয়েশাকে এভাবে চেয়ে থাকতে দেখে ভ্রু নাচায়।
তারপর আয়েশার ঠোঁটে কিস করে বললো,
—–এভাবে চেয়ে আছো কেন?

আয়েশা উচ্ছ্বসিত হয়ে বললো,
—–আরহান আমরা ঠিক আছি।তাবিজে কাজ হয়েছে।আমাদের উপর কোনো আক্রমণ হয়নি।

আরহান আয়েশাকে বুকে নিয়ে বললো,
—–বলেছিলাম না কিছু হবেনা।আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া।আমাদের জীবন থেকে কালো ছায়া চলে গেছে।নাও দিস ইজ পাওয়ার অফ লাভ।

এভাবে চলে গেছে অনেক দিন।আরহান কিংবা আয়েশা কারো উপর আক্রমণ হয়নি।ওরা স্বাভাবিক ভাবেই জীবন যাপন করছে।তবে দিন দিন আরহানের ম্যাজিক পাওয়ার কমতে শুরু করে।আয়েশা প্রেগন্যান্ট হওয়ার পর আরহানের ম্যাজিক পুরোপুরি চলে যায়।

আরহান আর আয়েশার ছেলে আইয়ান।আয়েশা আইয়ানের সাথে খেলছে।আইয়ান বসে, হামাগুড়ি দেয় মাঝেমধ্যে উঠে দাড়ানোর চেষ্টা করে।আয়েশা আইয়ানের সাথে বল দিয়ে খেলছে।আরহান অফিস থেকে এসে ফ্রেশ হয়ে আইয়ানের গালে চুমু খায়।আয়েশা আরহানকে মুখ ভেংচি দেয়।আরহান মুচকি হেসে আয়েশার সামনে বসে ওর দুগালে ঠোঁট ছুইয়ে বলে,
—–আমার হিংসুটে বউ।
আয়েশা চোখ বড়বড় করে আইয়ানের দিকে তাকালো।আইয়ান হাসছে।
—–আপনার কি মাথা গেছে ছেলের সামনে?

—–বাচ্চা ছেলে কি বুঝে?

—–তাহলে হাসছে কেন?

—–বাচ্চারা সব সময় হাসে।এখন চোরের মন পুলিশ পুলিশ হলে কার দোষ?

আরহান আইয়ানের সাথে খেলতে বসে।আয়েশা উঠে আইয়ানের জামাকাপড় ভাজ করছে আর ওদের দেখছে।
আইয়ানের বল দূরে চলে যায়।আইয়ান হাত বাড়ায় বলের দিকে।কিন্তু বল অনেক দূরে।আরহান বল আনতে যাবে তখনই আইয়ান হাত বাড়ায় আর বল আইয়ানের হাতে চলে আসে।
সেটা দেখে আয়েশা আর আরহান দুজনই আতংকিত হয়ে একে অপরের দিকে চাওয়াচাওয়ি করছে।
আইয়ান কি তাহলে জ্বিন?ও কি তাহলে ওর বাবার শক্তি পেয়েছে?

-সমাপ্ত

Fabiha Nowshin

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......

Related Articles

আঁধার পর্ব-১৩ | ১৮+ এলার্ট

আঁধার ১৩. ( ১৮+ এলার্ট ) ঘুটঘুটে অন্ধকারে পড়ে আছি আমি। অন্ধকারের ঘনত্ব এতো বেশি হতে পারে জানা ছিলো না আমার। এতো অন্ধকারে চোখ...

আঁধার পর্ব-১২

আঁধার ১২. " রান্না ভালো হয়নি? " প্রশ্নটা না করে পারলাম না। " হ্যাঁ, ভালো হয়েছে। আমি নিজেও এতো ভালো রান্না করতে পারিনা। বিয়ের...

আঁধার পর্ব- ১১

আঁধার ১১. " তুমি ঠিক এভাবে নিয়ম করে হাসলে আমি তোমার প্রেমে পড়তে বাধ্য হবো। " মুখ ফসকে কথাটা টুক করে বের হয়ে গেল। সাথে...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -
- Advertisement -

Latest Articles

আঁধার পর্ব-১৩ | ১৮+ এলার্ট

0
আঁধার ১৩. ( ১৮+ এলার্ট ) ঘুটঘুটে অন্ধকারে পড়ে আছি আমি। অন্ধকারের ঘনত্ব এতো বেশি হতে পারে জানা ছিলো না আমার। এতো অন্ধকারে চোখ...
error: ©গল্পপোকা ডট কম