হারিয়ে যাওয়া পথ খুঁজে পাওয়া part:16

13
495
হারিয়ে যাওয়া পথ খুঁজে পাওয়া

হারিয়ে যাওয়া পথ খুঁজে পাওয়া part:16হারিয়ে যাওয়া পথ খুঁজে পাওয়া

লেখা –সুলতানা ইতি

রাতে আনুশা মনে হলো কেউ ওর পাশে বসে কাঁদছে ,
চোখ না মেলেই বুঝার চেষ্টা করছে,কে কাদছে,কিছুক্ষন পর বুঝতে পারলো মা কাদছে
আসলে আমাকে ছেড়ে মা কখনো থাকেনি তো তাই,, আনুশা কি করবে বুঝতে পারছে না,এখন যদি আমি কান্না করি তা হলে মা আর ও বেশি কান্না করবে,আর কাঁদতে কাদতে শরির খারাফ করে পেলবে,, না আমি যে জেগে আছি এটা মাকে কিছুতেই বুঝতে দেয়া যাবে না,,তাই চুপ করে শুয়ে থাকলাম

অন্নি: উফফ আজ উঠতে দেরি হয়ে গেছে, আজকে মেয়েটা চলে যাবে ওর জন্য ভালো কিছু রান্না করা দরকার,

আনুশার আম্মু আর অন্নি মিলে গেলো কিচেন এ আজ সব আনুশার পছন্দের রান্না হবে।

আনুশা: ভালো লাগছে না কিছু সব কেমন উলট পালট লাগছে,,কি করে থাকবো আমি এতো দূরে গিয়ে,,।

অন্নি: আনু তুই উঠে গেছিস আয় ফ্রেস হয়ে নাস্তা খাবি চল, কিন্তু আনুশার খেতে ভালো লাগছে না,এই ভাবেই কেটে গেলো সারা দিন,

সন্ধায় আপুদের সাথে ফোনে কথা বলে নিয়েছে আনুশা,অন্নি,মা সবাইকে নিয়ে এয়ারপোর্ট এ রওনা হলো, রাত ৮ ফ্লাইট, একটু আগে যাওয়া উছিত তাই ওরা সন্ধার ৬ টায় গেলে

আনুশা:বুকের বিতরে মনে হচ্ছে কেউ হাতুড়ি পেটাচ্ছে, শুধু কান্না পাচ্ছে তবুও নিজেকে কন্ট্রোল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি কিন্তু কতোক্ষন পারবো নিজেকে কন্ট্রোল করতে

সবাই মিলে অপেক্ষা করছে ৭:২৫ ইমিগ্রেশনে এনাউন্সমেন্ট শুরু হয়ে গেছে,

অন্নি: আনু তুই একটু বস আমি আসছি

আনুশা: একটু পরেই আমি চলে যাচ্ছি তুই এখন কই যাবি,

অন্নি: তুই বস তো, আন্টি আপনি আমার সাথে একটু আসুন তো

আনুশা: তুই মাকে নিয়ে কোথায় যাচ্চিস

অন্নি: আরে বলছি তো একটু পরে এ আসছি,

আনুশা: যাক বাবা কিছু না বলেই মাকে নিয়ে চলে গেলো,পাশে ফিরতেই দেখলাম তানভীর
,লাফিয়ে উঠলাম ওকে দেখে, তানভীর এখানে কি করছে

তানভীর : আনুশা আমাকে দেখে মনে হয় ভুত দেখেছে এমন ভাবে দাঁড়িয়ে গেলো,

আনুশা: আপনি, আপনি এখানে কি করছেন

তানভীর : কিছুই না দেখতে এলাম,হয়তো আর কোন দিন আমাদের দেখা হবে না তাই শেষবার দেখতে এলাম

আনুশা: আমি চাইনা কোন দিন আপনার সাথে আমার দেখা হোক

তানভীর : সেটা আমি জানি,আফসোস আমি যাকে ভালোবেসেছি তার মন পাথরের থেকে ও কঠিন, পাথরের ও ক্ষয় হয়,বাট তার মনে আমার জন্য একটুও ক্ষয় আসেনি

আনুশা: স্টপ,যথেষ্ট হয়েছে চুপ করুন আপনি, আনুশা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো টাইম হয়ে গেছে তাই চলে যেতে চাইলে অন্নি এসে বাধা দেয়

অন্নি: কিরে আমাদের না বলেই চলে যাচ্ছিস

আনুশা: তুই কোথায় গিয়েছিলি মাকে নিয়ে

অন্নি: এই নে এটা আনতে গিয়েছিলাম,

আনুশা: কি আছে এতে

অন্নি: যাই থাকুক এখন খুলিস না,জায়গাতে পৌছে খুলে দেখিস কেমন এবার যা লেইট হয়ে যাচ্ছে,বাই দ্যা য়ে, এই ছেলেটা কেরে

আনুশা: তানভীর এর দিকে তাকিয়ে কিছু না বলে,মাকে জড়িয়ে কান্না করা শুরু করলো

আনুশার আম্মু: কাঁদিস না মা, সবই আল্লাহর ইচ্ছে, উনি যা চায় তাই তো হয়,কাঁদিস না লক্ষি মা আমার

আনুশা: মা আমি থাকবো কি করে তোমাকে ছেড়ে
কথাটি শুনে আনুশার মা ও মেয়ের সাথে কাদতে শুরু করলো, কাদবে না কেনো,জীবন কঠিন সময় গুলো মা মেয়ে এক সাথে পার করেছে,আর এখন মেয়েকে একা একটা দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে,

অন্নি: আনু পরে কাঁদিস দেরি হয়ে যাচ্ছে চল

আনুশা: মাকে ছেড়ে দিলাম জীবনের কঠিন বাস্তবতা কে মেনে নিয়ে অজানা দেশে পা বাড়ালাম

কিছুক্ষন পরেই ফ্লেন ছেড়ে দিলো,, ফ্লেন এর সিটে বসে একটা কথাই শুধু ভাবছি,যদি আমার জীবন টা অন্যরক হতো, তা হলে আজ মাকে ছেড়ে আসতে হতো না

অন্নি: আন্টি কাদবেন্না আপনি যদি এতো কান্না করেন তা হলে আপনি অসুস্থ হয়ে পড়বেন,আর সেটা শুনে আনুশা আমার আস্ত ও রাখবে না

আনুশার আম্মু: মেয়েটা আমার পারবে তো সব কিছু সামলে নিতে

অন্নি: আন্টি আপনি আনুশাকে জানেন না,ও কেমন মেয়ে ও সব কিছু ঠিক সামলে নিবে
আনুশার আম্মু: হুম
অন্নি: এতো হুম হুম করবেন না তো আন্টি,চলুন আমরা বাসায় যাই,আম্মু ফোন করেছিলো বলেছে আপনাকে নিয়ে তাড়া তাড়ি ফিরতে

তানভীর : আনুশা তো চলে গেলে এই লক্ষকোটি মানুষের ভিড়ে আমাকে একা করে দিয়ে গেলো
কি করবো আমি এখন বসে পড়লাম মাটিতে, এখান থেকে উঠে যাওয়ার মতো শক্তি আমার নেই

তানিম: উফফ এই তানভীর কোথায় গেলো এখন ওকে কই পাই,,ওকি জানে না ওর আম্মু কতো টা টেনশন করছে ওকে না পেয়ে, আমি যত টুকু জানি,ওতো এয়ারপোর্ট এর দিকে আসার কথা, কিন্তু দেখতে পাচ্ছি না কেনো,এই আনুশা মেয়েটা আমার বন্ধুটার মাথা পুরো খেয়ে নিয়েছে, ঐ তো পেয়েছি তানভীর কে

তানভীর : কেউ একজন আমার পাশে এসে বসলো, কে আনুশা নয়তো, পাশে তাকিয়ে আশার আলোটা নিভে গেলো, ও তুই
তুই এখানে কি করছিস

তানিম: আন্টির তোর জন্য চিন্তা করছে চল বাসায় চল

তানভীর : তুই যা আমি পরে আসছি,আম্মুকে বলিস আমি ভালো আছি

তানিম: পরে আসছিস মানে, তোকে এখনি আমার সাথে যেতে হবে চল তো

তানভীর তানিম কে জড়িয়ে কান্না শুরু করে দিলো

তানিম: মনে মনে একটা ছেলে একটা মেয়েকে কতোটা ভালোবাসলে এই ভাবে কাঁদতে পারে, শুনেছি মেয়েদের মন খুব নরম,কিন্তু এই মেয়ের মন কি দিয়ে তৈরি কে জানে,, মুখে তানভীর কে কিছু বলে শান্তনা দেয়ার ভাষা আমার নেই, কাঁদুক কাদলে মন হালকা হবে

to be continue

Comments are closed.