গল্পটা নিশ্চুপ বালিকা’র(০৮)

0
1786
গল্পটা নিশ্চুপ বালিকা'র(০৮)
গল্পটা নিশ্চুপ বালিকা'র(০৮)

গল্পটা নিশ্চুপ বালিকা’র(০৮)

রচনায়- অনামিকা ইসলাম ‘অন্তরা

ক্যাম্পাস থেকে ফিরে ক্লান্ত দেহটাকে বিছানায় এলিয়ে দিয়েছিল নীলিমা। পাখির ঢানা’র মত’ই দু’হাত দু’দিকে ছড়িয়ে ছিল। পাশে থাকা ফোনটা বেজে উঠে তখন’ই। কাছে আনতে আনতে’ই সেটা কেটে যায় কল। কে কল দিয়েছে সেটা না দেখে’ই ফোনটা রাখতে যাচ্ছিল নীলিমা।বেজে উঠে আবারো কল। এবার ছো মারা’র ন্যায় কলটা রিসিভ করে কানে ধরে নীলিমা। ওপাশ থেকে নীলিমা’র খালা’র স্বর শুনা যাচ্ছে। ধীর গলায় সালাম দেয় নীলিমা। — আসসালামু আলাইকুম। — ওয়ালাইকুম আসসালাম। — কে নীলিমা? — হ্যাঁ,(গম্ভীর স্বরে) — বাড়িতে কথা বলছিলে আজকে? — নাহ!(গম্ভীর স্বরে) — তোর বাবা এসব কি শুরু করেছে? আর কত! আর কত কথা শুনতে হবে আমাকে? তোর বাপে’র জন্য এখন তো মনে হচ্ছে শ্বশুর বাড়িতে মুখ’ই দেখাতে পারবো না… — কি হয়েছে? — গতকাল বিকেলে আমার শ্বশুর বাজারে বসেছিল। তোর বাপ তখন নেশায় বিভোর হয়ে হেলেদুলে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। একপর্যায়ে তোর বাপ ঐ মহিলা’র উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে যায়। তখন বাজার ভর্তি মানুষের সামনে ঐ মহিলা তোর বাপকে তার পায়েক্যাম্পাস থেকে ফিরে ক্লান্ত দেহটাকে বিছানায় এলিয়ে দিয়েছিল নীলিমা। পাখির ঢানা’র মত’ই দু’হাত দু’দিকে ছড়িয়ে ছিল। পাশে থাকা ফোনটা বেজে উঠে তখন’ই।র জুতা দিয়ে পিটাইছে। আমার শ্বশুর রেগে গিয়েছিল এই ভেবে একটা মহিলা, যে কি কিনা বাজারের বেশ্যা নামে পরিচিত সে কিভাবে তোর বাপের গায়ে হাত তুলে। তাই প্রতিবাদ করতে গিয়েছিলেন ওনি। সেখান থেকে নিজেই লজ্জা পেয়ে আসে। বাজারের মানুষজন তোর বাবা’র কুকৃর্তি’র খবর জানিয়ে দেয়। শুন! একটা কথা বলি। বাপরে তো এ জন্মে আর ভালো করতে পারলি’ই না। তাই বলি কি লেখাপড়া যেটুকু করছিস করছিস’ই। এইবার শহরে কোন পোলা ধইরা বিয়ে বসে পর। না হয় গ্রামে এসে বাপ বেটি তিনজনে মিলে বিষ খেয়ে মরে যা। মা’রে তো আগেই খাইছস! — আচ্ছা, খালা! রাখছি… ফোন কান থেকে নামিয়ে ছুঁড়ে ফেলে বিছানায়। তারপর বালিশে মুখ ঢুকিয়ে গুমড়ে কেঁদে উঠে নীলিমা। ‘বাবা! এ তুমি কি করলা? আমার কথা নাইবা ভাবলা। কিন্তু লিমা! ওর কি হবে? ওর ভবিষ্যতের কথা কি করে একটা বারের জন্য ভাবলে না। কেন বাবা? কেন এতটা স্বার্থপর হয়ে গেলে তুমি!’ ফুপিয়ে কাঁদছিল আর বিলাপ করে কথাগুলো বলছিল নীলিমা। দরজা’য় ঠকঠক আওয়াজ হয়। দ্রুত চোখের জল মুছে নিয়ে দরজা’র দিকে এগিয়ে যায় নীলিমা। ‘আসসালামু আলাইকুম, মেম! বাহিরে দাঁড়িয়ে কেন? ভেতরে আসুন।’ সালামের জবাব দিয়ে স্মিতহাস্যে রুমে আসে প্রিন্সিপাল মেম। — তারপর! কেমন চলছে পড়াশুনা? পরীক্ষা কেমন হচ্ছে। — আলহামদুলিল্লাহ মেম! ভালো’ই… — পরীক্ষা’য় কিন্তু 1st class চাই…! — ইনশাআল্লাহ মেম! — আচ্ছা, টেবিলে খাবার দিয়েছে। নিচে আসো। — জ্বী, মিম! আসছি… — আর হ্যাঁ! কোন কিছু’র দরকার পরলে অবশ্যই আমাকে জানাবে। — জ্বী, মেম! — ওকে, আসো তবে… — আচ্ছা… প্রিন্সিপাল মেম চলে গেলে ওয়াশরুমে যায় নীলিমা। জামাকাপড় চেঞ্জ করে চোখে মুখে পানির ছিটা দিয়ে নিচে নামে নীলিমা। খাবার টেবিলে পূর্ব থেকে’ই শুভ্র বসে। শুভ্র’কে দেখে চেয়ার টেনে বসতে বসতে নীলিমা’র প্রশ্ন, মেম কোথায়! মেম’কে যে দেখছি না? খাবার খেতে খেতে শুভ্র’র জবাব, — মেম ভার্সিটি থেকে লাঞ্চ করে আসছে। তাই আর খেতে চাচ্ছে না… — ওহ! — তারপর? কেমন চলছে পরীক্ষা? — আলহামদুলিল্লাহ! ভালো… — হতে’ই হবে… — (নিশ্চুপ) — আচ্ছা, তোমার সেন্টার কোথায় যেন পরেছে? — মহিলা কলেজ। — ওহ, আচ্ছা! — (নিশ্চুপ) — আচ্ছা, কাল কি আমরা কোথাও ঘুরতে যেতে পারি? — পরীক্ষা আছে তো! — কয়টায় শেষ হবে পরীক্ষা? — বিকেল ৫টায়। — সমস্যা কোথায়? তখন’ই না হয় আমরা ঘুরে আসবো! — কিন্তু মেম বাসা’য়…(….)…??? — আচ্ছা, এককাজ করো! — জ্বী… — তুমি কালকে পরীক্ষা দিয়ে সরাসরি বাসা’য় চলে আসো। — এই না বললেন ঘুরতে যাবেন? — যাবো তো! — আমরা যাবো রাতের শহর দেখতে! — মেম যদি কিছু বলে? — সে চিন্তা তোমার করতে হবে না। আমি মেম’কে ম্যানেজ করবো। আর এমনিতেও কিচ্ছু বলবে না। দেখে নিও… — তাই যেন হয়…

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here