Friday, June 5, 2026







Dangerous_Crazy_Lover part-4

#Dangerous_Crazy_Lover_?.
#Sumaiya_Moni”.
#Part-4.

এদিকে আরিয়া কোচিং সেন্টারে এসেছে। সাথে লিলি ও রাইমা আছে । স্যারের আসতে দেরি হচ্ছে দেখে আরিয়া লিলি ও রাইমা কে বলে ছাদে চলে আসে। ছাদে এসেই বিদ্যুতের নাম্বারে কল দেয়। প্রথম বার ধরে নি। আরিয়া বিরক্তি নিয়ে দ্বিতীয় বার কল দেয়। এবার বিদ্যুত ফোন ধরার সাথে সাথে আরিয়া ঝাড়তে শুরু করে।

আরিয়া: ওই আমি তোর বউ লাগি যে তোকে বার বার কল দেবো? এক বার কল দিলে রিসিভ করতে পারিস না। পরের বার এমন ভুল করলে থাবরাইয়া তোর নানা বাড়ির রাস্তা ভুলিয়ে দেবো? শালা পঁচা আমসত্ত্বা।

টু…টু…টু….

ঝাড়ি দেবার সাথে সাথে ফোন কেঁটে সিম বের করে ভেঙ্গে ফেললো। বড় একটা নিশ্বাস নিয়ে পিছনে ঘুরতেই লিলি ও রাইমা কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতে পেল।
লিলি কিছুটা গম্ভীর মুড নিয়ে বললো ।

লিলি: কী কথা বলা শেষ ?

রাইমা: নাকি আরো বাকি আছে?

আরিয়া: না আর বাকি নাই। কথা বলা শেষ ।

মুড নিয়ে বলে নিচে নামতে নিলে লিলি আরিয়ার এক হাত ধরে বললো।

লিলি: শনি আর কাঁধে নিস না আরিয়া। তোর কঁপালে শনি আছে দেখে নিস।

আরিয়া: হাত ছাড়…[ হাত ছাড়িয়ে নিল ] আমাকে জ্ঞ্যান দিতে আসবি না। সামনে কি হবে সেটা তোরাও দেখতে পাবি।…….[ বলেই নিচে চলে যায় ]

রাইমা: আরিয়া কে বুঝিয়ে লাভ নেই লিলি।

লিলি: কবে যে মেয়েটা একটু সিরিয়াস হবে।

পরের দিন।

আরিয়া,লিলি,রাইমা কলেজ থেকে ফেরার পথে একটা মেয়ে ওদের সামনে‌ এসে দাঁড়ায়। মেয়েটি মর্ডান ড্রেস পড়া। গায়ের রং ফর্সা। চোখে কালো সানগ্লাস পড়া ছিল।আরিয়া মেয়েটির দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো।

আরিয়া: কিছু বলবেন কী?

মেয়েটি: ইয়েস।

আরিয়া: কী বলবেন বলুন?

মেয়েটি তার সাইড ব্যাগ থেকে একটা মেগাজিনের বই বের করে ওদের সামনে ধরলো।

মেয়েটি: এই যে আমাদের ব্লু-রেড ক্লাব। আমরা নতুনে এই ক্লাবটি খুলেছি। তাই সবাই কে আমাদের ক্লাবে ইনভাইট করছি। প্রথম ২০ জন কে আমরা ফ্রিতে টিকিট দেবো। আপনাদের এই টিকিট তিনটি দিলাম । নিলে খুশি হবো।…….[ তিনটি টিকিট ব্যাগ থেকে বের করে ওদের সামনে ধরলো ]

মেয়েটির কথা শুনে ওরা হা করে তাকিয়ে আছে। ওরা এত টুকু বুঝতে পেরেছে মেয়েটি একটা নাইট ক্লাবের কথা বলছে। টিকিট নিবে কী নিবে না সেটাই ভাবতে লাগলো ওরা তিন জন। মেয়েটি ওদের তিন জন কে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে মৃদ হেসে বললো।

মেয়েটি: কী হল? আমাকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। আরে আমিও তো আপনাদের মত একজন মেয়ে। নিন এই টিকিট তিনটি….[ আরিয়ার হাতে টিকিট তিনটি দিয়ে বললো ] আজকে রাতে ১০টায় আপনারা চলে আসবেন । আমি আপনাদের জন্য ওয়েট করলো। খুব মজা করবো এক সাথে ঠিক আছে,বাই।…….[ বাই বলেই মেয়েটি আর এক মিনিট ও দাঁড়াল না সোজা হেঁটে চলে গেল ]

ওরা তিন জন ঠিক একি ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। সব ওদের মাথার উপর দিয়ে গেছে। আরিয়া টিকিটের এর দিকে তাকিয়ে বললো।

আরিয়া: এটা কি সপ্ন নাকি?

লিলি আরিয়ার হাতে একটা চিমটি দিল।

আরিয়া: আউচচ….হারামি চিমটি দিলি কেন?

লিলি: এটা সপ্ন না সত্যি ।

আরিয়া: তার মানে ক্লাবের টিকিট এখন আমার হাতে………ইয়েয়য়য়য়য়…..আজকে রাতে ক্লাবে যাবো….কি মজা কি মজা..[ রাস্তার মধ্যে ডান্স করতে লাগলো ]

রাইমা: আরিয়া তোর এই জঙ্গলি ডান্স বন্ধ কর। আসে পাসের লোক জন দেখলে বেহুস হয়ে যাবে।

আরিয়া: হুরর…। আজকে ক্লাবে যাবো আমার অনেক খুশি লাগতেছে।…….[ খুশি মুডে ]

লিলি: দেখ আরিয়া…..।

আরিয়া: ওই দাঁড়া রাস্তার মধ্যে কিছু দেখতে পারবো না । বাসায় গিয়ে যা দেখাবার দেখাস।

লিলি: আরিয়া….একটু সিরিয়াস হ। এই মেয়েটাকে আমার মোটেও ঠিক মনে হচ্ছে না। কোন একটা গাবলা আছে এর মধ্যে ।

আরিয়া: এখন কততা বের হবে। সবে গাবলা বের হইছে,পরে বালতি,হাতা,খুনতি,লাঠি….তারপর আমার ঠেঙ্গাটাও বের হবে…।

লিলি: আরিয়া…….[ বেশ রেগে ]

রাইমা: তোরা রাস্তার মধ্যেই শুরু হয়ে গেছিল। তোদের নিয়ে আর পারি না।

আরিয়া: তুমি কত ভালো‌ তাই না…. সাদুর ঘরে কদু……[ রাইমার উদ্দেশ্যে ঢং করে বললো ]

রাইমা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে আরিয়ার দিকে…।

লিলি: আল্লাহ্ ও আল্লাহ্….. আমারে উঠাইয়া নেও…..।

আরিয়া: আমি ঠেলা ধাক্কা দিয়ে উঠিয়ে দেই?…..[ হেসে ]

লিলি রাগে ফোস ফোস করতে করতে চলে যেতে লাগলো। রাইমাও চলে যেতে লাগলো লিলির সাথে ।

আরিয়া: আরে দাঁড়া কই যাস।
.
.
.
.
.
ক্রিং….ক্রিং…..ক্রিং

–হ্যালো!

—স্যার কাজ হয়ে গেছে।

— ভেরি গুড। তোমার পেমেন্ট এসে নিয়ে যাও।

— ওকে স্যার ।

টু..টু..টু….
.
.
.
.
.
সন্ধ্যায়….

আরিয়া: কেন তোরা যেতে চাইছিস না? গেলে কী তোদের জাত,পাত,মান সন্মান,নাম কাম সব চলে যাবে।

রাইমা: চুপ কর….।

লিলি: দেখ আরিয়া ওই মেয়েটিকে আমার ভালো মনে হচ্ছে না। আর এত মানুষ থাকতে আমাদের তিন জন কে এই‌ ক্লাবের টিকিট কেন দিল?

আরিয়া: তুই হয়তো ভুলে গিয়েছিস ওই মেয়েটা কি বলেছে । ২০ জন কে ওরা ফ্রি টিকিট দিবে বলেছে। তার মধ্যে আমরা তিন জনও‌ চিপায় পড়ে গিয়েছিলাম । তাই হয়তো আমাদের দের কে দিয়েছে ।

রাইমা: তার পরও একটা ডাউট থেকেই যায়।

আরিয়া: ডাউট কে নীল ডিব্বায় ভরে সাইডে রাখ। এখন বল যাবি কি না।

লিলি: যাবো না আমি ।

রাইমা: আমিও যাবো না।

আরিয়া: এ্যা…এ্যা..এ্যা…….আমার সাথে তোরা সব সময় এমন করিস। আমি কখনোই ক্লাবে যাই নি। এখন একটা চান্স আছে যাবার,সেটাও তোরা যেতে চাচ্ছিস না। ……….[ কান্নার ভান করে ]

লিলি: নটাঙ্কি শালি….।

আরিয়া আরো জোরে জোরে কান্না করতে লাগলো এই কথা শুনে।

রাইমা: বেশি করে কান্না কর। তারপরও রাজি হব না।

আরিয়া: আল্লাহ্ আমার দুঃখ কেউ বুঝে না। আমি এ‌ই জীবন আর রাখবো না। …….[ কান্নার ভান করে ]

লিলি: ছাদ থেকে লাফ দিবি নাকি বিষ খাবি কোনটা?

আরিয়া ভালো করেই বুঝে গেছে কান্নার নাটক করলে হবে না। অন্য ভাবে ওদের মানাতে হবে।

আরিয়া: প্লিজ তোদের সামনে হাত জোর করছি চল না প্লিজ?………[ হাত জোত করে ]

রাইমা: গেলে কি দিবি?….[ মুড নিয়ে ]

আরিয়া: [ আচ্ছা আমারটা আমাকেই ফেরত দেওয়া হচ্ছে – মনে মনে ] কি নিবি?

রাইমা: বিদ্যুত কে আর কল দিয়ে জ্বালাবি না‌ প্রমিজ কর।

আরিয়া: কী?

লিলি: প্রমিজ কর,প্রমিজ না করলে যাবো না।

আরিয়া: আচ্ছা আচ্ছা বিদ্যুত কে আর কল দিয়ে জ্বালাবো না প্রমিজ।

লিলি: ঠিক আছে ।

আরিয়া: যাবি তো?

লিলি: হ্যাঁ!

আরিয়া: ইয়া হু…..।

রাইমা: এক ঘন্টার বেশি থাকবো না ওকে?

আরিয়া: আচ্ছা আচ্ছা ।
.
.
.
.
রাত ১০টা….

আরিয়া,লিলি,রাইমা চুপি চুপি ঘর থেকে বের হয়ে বাসার বাহিরে চলে আসে। এক সাথ হয়ে সোজা হাঁটতে লাগলো। ওরা তিন জন কালো রঙের জিন্সেট প্যান্ট আর সাদা টিশার্ট পড়েছে। একটা সি এন জি নিয়ে ব্লু-রেড ক্লাবের উদ্দেশ্যে যেয়ে লাগলো। আরিয়া মনে মনে অনেক খুশি। কিন্ত লিলি ও রাইমার মনে ভয় কাজ করছে। কিছুক্ষনের মধ্যে ওরা ক্লাবে পৌঁছে যায়। ভাড়া মিটিয়ে ক্লাবের ভিতরে প্রবেশ করলো ওরা। লাউড স্পিকার বক্সের গান শুনে আরিয়া সেই লেভেলের খুশি। সবার সাথে তাল মিলিয়ে ডান্স করতে লাগলো। লিলি ,রাইমা পাশে দাঁড়িয়ে আছে। আরিয়া ওদের হাত ধরে টেনে ডান্স করতে বললো। লিলি ও রাইমা আরিয়ার সাথে তাল মিলিয়ে এক সাথে ডান্স করতে লাগলো…………।

কিছুক্ষন ডান্স করার পর হয়রান হয়ে যায় ওরা তিন জন।সেখানে পাতান সোফায় গিয়ে ধপ করে বসে পড়ে।

আরিয়া: অনেক হয়রান হয়ে গেছি?

লিলি: আমিও! আচ্ছা সেই মেয়েটিকে কোথাও দেখতে পাচ্ছি না।

আরিয়া: আছে হয়তো কোথাও।

রাইমা: আচ্ছা আমার সাথে একটু ওয়াশরুমে চল না।

আরিয়া: এই রাক্ষনী কোনো জায়গায় গেলেই ওর ওয়াশরুম চাপে। কেন রে বাসা থেকে ওয়াশরুমের কাজটা ভালো করে সেরে আসতে পারিস না?

লিলি: বদ অভ্যাব একটা।

রাইমা: তোরা দুই জন আমার সাথে এমন করছিস কেন? মনে হচ্ছে আমি ইচ্ছে করে ওয়াশরুমে যাই?

আরিয়া: তা নয়তো কী তোকে কেউ টেনে নিয়ে যায়? আসলাম কতক্ষন হইছে? তার মধ্যেই……..।

রাইমা: থাম আর বলার দরকার নেই জাবি কিনা বল।

লিলি: চল….।

আরিয়া,লিলি বিরক্তি নিয়ে রাইমার সাথে ওয়াশরুমে যেতে লাগলো। ওয়াশরুম থেকে এসে সোফায় বসার পর ওরা তিন জন খেয়াল করলো আসে পাসে কোন মানুষ জন নেই। অথচ কিছুক্ষন আগেও ওরা ছেলে মেয়ে দের ডান্স করতে দেখে গিয়েছে। লিলি অবাক হয়ে বললো ।

লিলি: কিরে সবাই কই গেল?

রাইমা: কেমনে বলবো? ক্লাব বন্ধ হয়ে গেছে নাকি?

আরিয়া: এত তাড়াতারি তো বন্ধ হবার কথা নয়। নিশ্চয় কোন গন্ডগোল আছে। তাড়াতারি চল এখান থেকে।…….[ কিছুটা ভয়ে নিয়ে বললো ]

উঠে চলে যেতে নিলে‌ পিছন থেকে একটি ছেলের কন্ঠের স্বর শুনতে পায় ওরা। থেমে গিয়ে পিছনে ঘুরে তাকাবার সাথে সাথে ভয়তে ওদের গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যায়। ওদের সামনের সোফায় বিদ্যুত হাতে ড্রিঙ্কের গ্লাস নিয়ে পায়ের উপর পা উঠিয়ে বসে আছে।

বিদ্যুত: এতো তাড়া কিসের? সবে তো এলে তোমরা?……[ বাঁকা হেসে ]

আরিয়া,লিলি,রাইমা ওরা এখনো সেখানে ঠাই দাঁড়িয়ে আছে। ভয়তে গেট খুলে বের হবার সাহসও পাচ্ছে না।

বিদ্যুত রবিন কে চোখের ইশারা করার সাথে সাথে লিলি ও রাইমা কে জোর করে ক্লাবের অন্য একটা রুমে নিয়ে যেতে লাগলো। আরিয়া অনেক বার বাধা দিতে গিয়েও বাধা দিতে পারে নি বিদ্যুতের ভয়তে। বিদ্যুত ও আরিয়া একা আছে হল রুমে। বিদ্যুতের ভয়তে আরিয়ার কলিজার পানি শুকিয়ে গেছে। চুপ চাপ মাথা নিচু করে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে আছে ।

বিদ্যুত: হেই আরিয়া নূর! এখানে এসে বসো?…….[ নরম স্বুরে ]

আরিয়া ঠিক আগের মত দাঁড়িয়ে আছে। আরিয়া এটা বুঝতে পারছে না বিদ্যুত ওর নাম কি করে জানলো। বিদ্যুত ওকে কিভাবে চিনলো? আরিয়া কে চুপ করে থাকতে দেখে বিদ্যুত কিছুটা রাগী কন্ঠে বলে উঠলো।

বিদ্যুত: আরিয়া বসো বলছি ।

আরিয়া ধীরে পায় হেঁটে বিদ্যুতের অপর পাশের সোফায় বসে পড়লো। বিদ্যুত কিছুটা মৃদ হেসে বললো ।

বিদ্যুত: সো আরিয়া….এটাই ভাবছো আমি তোমার নাম কী করে জানলাম? আর আমি এই ক্লাবে কী করে আসলাম? ওয়েট আমি তোমার ডাউট ক্লিয়ার করে দিচ্ছি?

আরিয়া ঠিক আগের মতই বসে আছে মাথা নিচু করে ।

বিদ্যুত: প্রথমত ক্লাবে আসার‌ জন্য যেই ফাদ টা আমি পেতে ছিলাম,তুমি সেই ফাদে পা দিয়েছ। ওই মেয়েটা আমার কথায় তোমাদের কে টিকিট দিয়ে ছিল। ডাউট নাম্বার টু…… তুমিই সেই মেয়ে যে আমাকে রোজ কল দিয়ে গালা গালি করতো,ঝাড়ি দিয়ে কথা বলতো।

আরিয়া এই কথা শুনে মাথা তুলে বিদ্যুতের দিকে চোখ বড় বড় করে তাকায়।

বিদ্যুত: অবাক হবার কিছুই নেই আরিয়া? তুমি একজন লইয়ারের সাথে গেম খেলেছো। তোমার গেমে তুমি নিজেই ফেসে গেছ?..[ মুচকি হেসে ] প্রথম দিন তুমি যখন আমাকে কল করে আমার ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিয়ে আমার সাথে ঝাড়ি দিয়ে কথা বলেছো…বিশ্বাস কর তখন যদি তোমাকে সামনে পেতাম না,তাহলে একদমি খুন করে ফেলতাম। বাট ইউ লাকি…বেঁচে গেছ। দ্বিতীয় বার যখন কল দিয়েছিলে….কী যেন বলে ছিলে…..[ চোখ বন্ধ করে মনে করার চেষ্টায় ] ও হ্যাঁ! আমাকে থাবরিয়ে ভর্তা বানাবে। আমি কালায় কালো কিতো। এই কথা গুলো শুনে খুব রাখ হয়েছিল বাট খুব হাসিও পেয়েছিল । দ্বিতীয় বার কী বলেছিলে? আমি তোর বউ না যে তোকে বার বার কল দিবো। তার পরের বার ও সেই একি থাপ্পরের কথা বলেছিলে রাইট?…..[ ভ্রু নাচিয়ে ]

আরিয়া ঠিক আগের মতই চোখ বড় বড় করে বিদ্যুতের দিকে তাকিয়ে আছে । মনে মনে ঢোক গিলেই যাচ্ছে ।

আরিয়া: এবার প্রশ্ন হল তুমি সেই মেয়ে কিভাবে বুঝলাম আর তোমাকে কিভাবে খুঁজে পেলাম । প্রথম দিন তুমি আমাকে থাপ্পর দেবার কথা বলেছিলে। দ্বিতীয় বার যখন কল দিয়েছ তখনও সেই একি থাপ্পরের কথা বলে ছিলে।তখনি আমার ডাউট হয় তোমাকে নিয়ে। কেননা আমি এখন পর্যন্ত কোন মেয়ের গায়ে হাত তুলিনি। এট ফাস্ট তুমিই সেই মেয়ে ছিলে যাকে আমি ফাস্ট থাপ্পর মেরেছিলাম। তৃতীয় বার যখন তুমি আমাকে কল দিয়েছিলে, তখন আমি পোরা সিউর হয়ে যাই তুমি সেই কলেজের মেয়েটি। আর আমার লোকেরা তোমার লাস্ট কলের লোকেশন ট্রেস করে তখনি তোমার সেই কোচিং সেন্টারে পৌঁছে যায়। আর তোমাকে ও তোমার বান্ধবিদের ছাদে দেখতে পায়। তবে তোমাদের ছাদে নয় অন্য ছাদে গিয়ে দূরবিন দিয়ে দেখে তোমাদের কে। তারপর আর কী তোমার সম্পর্কে আমি সব খোঁজ খবর নেই। তারপর আমার প্লান অনুজাই এখন তুমি আমার সামনে। ডাউট ক্লিয়ার ?

আরিয়া:……………

বিদ্যুত: তবে তুমিও খুব ভালো প্লান করে গেম খেলেছ আমার সাথে ।নিউ সিন দিয়ে কল দিয়েছ আমার ফোনে। কল কেঁটে দেবার সাথে সাথে সিম বন্ধ করে ফেলেছ। তারপর আবার নতুন সিম দিয়ে আমাকে কল দিয়েছ, বাহ্! খুব চালাকির সাথে গেমটা খেলেছ! তবে এক দিন থেকে হেরে+ধরা পড়ে গেলে। আর সেটা হচ্ছে থাপ্পর কথাটা বলে? গেম ওভার করে দিয়েছি আমি মিস আরিয়া নূর ।………..[ টেডি স্মাইল দিয়ে বললো ]

এতক্ষন বিদ্যুতের কথা গুলো মন দিয়ে শুনছিল। বিদ্যুতের কথা শুনে আরিয়া কিছুই বলতে পারছে না। ভয়তে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছে।

বিদ্যুত: একটা থাপ্পরের শোদ এবাবে নিবে সেটা আমার জানা ছিল না। বাট তুমি খুব সাহসি মেয়ে। আমার সাথে আজ পর্যন্ত উঁচু কন্ঠে কথা তো দূর লড়াই করতেও কেউ আসে নি। আর সেখানে তুমি আমার সাথে উঁচু কন্ঠে ঝাড়ি দিয়ে কথা বলেছ। সত্যিই তোমার সাহসের তারিফ করতে হয় দেখছি।…….[ কিছুটা রাগী কন্ঠে ]

আরিয়া: স….স..স্যরি আ… আমার ভুল হয়ে গিয়েছে মা…মাফ করে দিন প্লিজ ।………[ কাপা কাপা স্বুরে ]

বিদ্যুত রেগে সোফা থেকে উঠে আরিয়ার সামনে এসে ওর দু বাহু সোফার সাথে চেপে ধরে আরিয়ার ভিতু চোখে চোখ রেখে রাগি কন্ঠে বলতে লাগলো।

বিদ্যুত: নো…..মাফ তোমাকে আমি করবো না। তুমি আমার নজরে পড়ে গেছ আরিয়া। আজকে থেকে আমার নজর তোমার উপরে থাকবে। অলরেডি তুমি বিদ্যুতের হয়ে গিয়েছ । এন্ড একটা কথা মাথায় গেথে নেও। আমি তোমার ক্রেজি লাভার। শুধু ক্রেজি লাভার বললে ভুল হবে…..I’m Your #Dangerous_Crazy_Lover_?………[ রেগে চিৎকার দিয়ে বলে উঠলো ]

আরিয়া হতভম্ব হয়ে যায় বিদ্যুতের কথা শুনে। ভয়তে আরিয়ার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়তে লাগলো। বিদ্যুত বাকা হেসে আরিয়ার চোখের এক ফোটা জল ওর আঙুলে নিয়ে কিস করে বললো।

বিদ্যুত: আকাশ যখন ঘন কালো মেঘে ছেয়ে যায় তখন বিদ্যুৎ চমলায় আর বৃষ্টি পড়ে! তাই না আরিয়া?……[ রেগে ]

আরিয়া মাথা দুলিয়ে হ্যাঁ সূচক জবাব দেয়।

বিদ্যুত: আরিয়া ডোন্ট ক্রায়…..[ চোখের পানি মুছে ]

আরিয়া: আ…আমি বাসায় যাবো। আমাকে বাসায় যেতে দিন….[ কাপা কাপা স্বুরে ]

বিদ্যুত: হ্যাঁ! অবশ্যই যাবে মাই কুইন। রবিন রবিন….[ জোরে চিৎকার দিয়ে ডাকছে ]

বিদ্যুত আরিয়ার কাছ থেকে সরে আসে।

রবিন: জ্বী স্যার বলুন।

বিদ্যুত: ওদের তিন জন কে বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসো ।……..[ গম্ভীর কন্ঠে ]

রবিন: ওকে স্যার ।

লিলি ও রাইমা কে রুম থেকে হল রুমে নিয়ে আসে । তারপর রবিনের সাথে ওরা ক্লাব থেকে বেরিয়ে যায়। রবিন ওদের গাড়িতে উঠে বসতে বললে ওরা অপত্তি না করে গাড়িতে উঠে বসে। আরিয়া,লিলি,রাইমা ওরা চুপ চাপ বসে আছে । কারো মুখে কোন কথা নেই। ভয়ের রেশ এখনো কাঁটে নি ওদের । কিছুক্ষন পর ওদের বাসার সামনে এসে গাড়ি থেমে যায় । ওরা তাড়াতারি করে গাড়ি থেকে নেমে এক প্রকার দৌড়ে যে যার বাসার ভিতরে ঢুকে যায়। রবিন ওদের কে এবাবে যেতে দেখে মৃদ হেসে চলে আসে।

এদিকে বিদ্যুত খুশি মুডে ক্লাব থেকে বাসায় যেতে লাগলো। বিদ্যুতের প্লান আজ সাকসেস হয়েছে। অচেনা মেয়েটিকে খুঁজে পেয়েছে।

বাসায় এসে আরিয়া বিছানার উপর উঠে গুটিশুটি মেরে বসে বিদ্যুতের বলা কথা গুলো ভাবতে লাগলো। আরিয়া যে নিজের পায়ে নিজেই কুঁড়াল মেরেছে সেটা ও ভালো করেই বুঝতে পেতেছে। হঠাৎ করে আরিয়ার ফোন বেজে উঠলো। হুট করে ফোন বাজার শব্দে আরিয়া ভয় পেয়ে কেঁপে উঠে। আরিয়া ফোনের স্ক্রীনে তাকিয়ে দেখে অচেনা নাম্বার । ফোন না ধরেই সাইলেন্ট করে রাখলো। কিছুক্ষন পর আবার ফোন বেজে উঠলো। এবার আরিয়া বিরক্ত নিয়ে ফোন রিসিভ করলো ।

আরিয়া: হ্যালো কে…..[ কিছুটা জোরে ]

–বিদ্যুত আরিয়ান চৌধুরী।

আরিয়া নামটা শুনেই ভয় পেয়ে যায়। চুপ করে ফোন কানে ধরে বসে থাকে।

বিদ্যুত: ফাস্ট টাইম তাই মাফ করে দিলাম….পরের বার এই ভুল যেনো না হয় ফোনটা যেন তাড়াতারি রিসিভ করা হয়। Remember that ?……[ রাগী কন্ঠে ]

আরিয়া:……হ্যাঁ……।

বিদ্যুত: এখন শুয়ে পড় বাই……[ বলেই ফোন কেঁটে দেয় ]

আরিয়া ফোন পাশে রেখে কম্বল মুড়া দিয়ে শুয়ে পড়ে।

সকালে আরিয়ার ঘুম ভাংঙে ফোনের শব্দে । আধো আধো চোখ মেলে তাকিয়ে ফোন খুঁজতে থাকে। রিসিভ করে কানের কাছে ধরতেই অপর পাশ থেকে ঝাঝাল কন্ঠের স্বর শুনে আরিয়ার চোখ থেকে ঘুম পালিয়ে যায়। লাফ দিয়ে বিছানায় উঠে বসে।

বিদ্যুত: ফোন ধরতে দেরি হয় কেন? এখনো ঘুমিয়ে আছ?…..[ রেগে ]

আরিয়া: না মানে ইয়ে মানে ওই মানে….. না না…..[ ভয় পেয়ে আমতা আমতা করে বললো ]

বিদ্যুত: কী মানে ইয়ে‌ ওই না না শুরু করেছ ? সোজা সোজি উওর দেও?……[ ধমক দিয়ে ]

আরিয়া: ঘু….ঘুমাচ্ছি না ঘুমাচ্ছি না।……[ কাপা কাপা স্বরে ]

বিদ্যুত: উঠে তাড়াতারি ব্রেকফাস্ট করে কলেজে যাবে। মনে থাকবে?….. [ ঝাড়ি দিয়ে বললো ]

আরিয়া: হ্যাঁ হ্যাঁ… [ ভয় ভয় ]

বিদ্যুত: গুড গার্ল বাই….।

টু…টু…টু..

আরিয়া ফোন কান থেকে সরিয়ে তাড়াতারি করে ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে নাস্তা করে কলেজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লো। সাথে লিলি ও রাইমা কে নিয়ে।

রাইমা: আরিয়া কালকে কী হয়েছিল?

লিলি: কালকে বিদ্যুত তোর সাথে খারাপ কিছু করে নি তো?

আরিয়া বড় একটা নিশ্বাস ফেলে কাল রাতের কথা ওদের কে সব খুলে বললো। ওরা আরিয়ার কথা শুনে রাস্তার মাঝ খানে দাঁড়িয়ে গেল।

আরিয়া: দাঁড়ালি কেন?

লিলি: আমাদের কথা তো শুনিস নাই এবার একদম উচিত হইছে । শনি এসে গেছে তোর কঁপালে ।

রাইমা: হ্যাঁ! নিজের পায়ে নিজে কুঁড়াল মেরে আহত হয়েছে ।

আরিয়া: এবাবে বলিস নারে দিলে ভোট মানে চোট লাগে।

লিলি: বেশি করে লাগুক।

রাইমা: এখন কী করবি তুই?

আরিয়া: এখন কী করবো সেটা পরে দেখা যাবে। ক্লাস শুরু হয়ে যাবে তাড়াতারি ক্লাসে চল।

আরিয়া,লিলি,রাইমা এক প্রকার দৌড়িয়ে দৌড়িয়ে হাঁটরে লাগলো। আরিয়া লিলি ও রাইমার সামনে ছিল ,কলেজের গেট দিয়ে ঢোকার সময় আরিয়া ধপ করে মাটিতে পড়ে যায়। কলেজের সব ছাএ-ছাএী রা এটা দেখে আরিয়ার দিকে তাকিয়ে উঁচু স্বর হাসতে লাগলো। আরিয়া অনেকটা লজ্জা পায় এবং হাতের কনু কিছুটা ছিলে যায়। হঠাৎ করে পড়ে যাবার কারনটা ঠিক বুঝতে পারছে না। আরিয়া উঠে বসে উপরের দিকে তাকিয়ে দেখে……….?
.
.
.
.
.
.
Continue To…….

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ