Angry_Husband Season_2_Part_22

0
2110
 Angry_Husband Season_2_Part_22
 Angry_Husband Season_2_Part_22

 Angry_Husband
Season_2_Part_22
Written by Avantika Anha
আরাভ রিপোর্ট হাতে নিয়ে বসে আছে হাসপাতালে। তার সামনে আনহার বাচ্চাদের ভালোবাসা থেকে শুরু করে বাচ্চা চাওয়া। বাচ্চার নাম ঠিক করা সব মনে পড়ছে। সব তার সামনে ভাসতে লাগলো। তার চিন্তার পরিমাণ বেড়ে গেলো সেই সাথে কান্নাও। ছেলেরা নাকি কাঁদতে পারে না। কিন্তু আজ এই কথাটা আরাভের সহ্য হচ্ছে না। আরাভ ভাবছে কি করবে। সেদিন আরাভ একটু রাত করেই বাড়ি ফিরলো।
আমি- কি মি. এতো লেট যে।
.
আরাভ কোনো জবাব দিলো না। কোনো রকমে ফ্রেশ হয়ে কাপড় চেঞ্জ করে শুয়ে পড়লো। ওর এমন বিহেভ দেখে আমি কিছুটা স্তম্ভিত। কিন্তু ভাবলাম হয়তো কিছু হয়েছে।‌ আমি গিয়ে ওর হাত ধরে টানতে লাগলাম।
আমি- ওই কি হইছে?
আরাভ- উইল ইউ যাস্ট স্টপ? (জোড়ে)
আমি- কিচ্চে এতো এংরি মুড কেনো?
আরাভ- তুমি কি যাবা?
আমি- না আমি যাবো না।
আরাভ- ওকে ফাইন আমি যাচ্ছি।
আমি- আরে আরে কি হলো?
.
আরাভ জবাব না দিয়ে চলে গেলো ঘরের বাইরে। আমি একটু শকড হলাম। কারণ ওর রাগ অনেক জানি কিন্তু এতো পরিমাণ কোনোদিন ছিলো না। হঠাৎ এমন বিহেভের কারণ কি?
.
আমি নিজের পেটের উপর হাত রেখে বলতে লাগলাম, “কিরে বাবু তুইও বাবার মতো হবি নাকি?” “একদম রাগী হবি না বুঝলি? তুই আম্মুর মতো পাগলি হবি। তখন তুই আর আমি একসাথে আব্বুর রাগ ভাঙ্গাবো।” এসব বলে আমি বিছানায় হেলানি দিয়ে আরাভের অপেক্ষা করতে লাগলাম।
এদিকে আরাভ ভাবতে লাগলো ও কি করবে? ওর প্রচুর কষ্ট হচ্ছে। ও ঠিক করলো ও এই বিষয়ে কাউকে কিছু বলবে না।
.
ও ওর পরিচিত একজন উকিলকে আর্জেন্ট ডিভোর্স পেপার বানাতে বললো। এদিকে এসব নিয়ে অজানা আমি আরাভের অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়লাম। মাঝরাতে আরাভ ঘরে আসলো। এসে দেখলো আমি কাচুমাচু হয়ে ঘুমিয়ে আছি। আরাভ আমার পাশে বসলো। বসে আমার কপালে চুমু খেলো। ওর কান্না পেলো। ওর চোখের দুই ফোটা পানি আমার মুখে পড়লো। আমি কিছুটা নড়ে উঠলাম। আরাভ তাড়াতাড়ি চোখের পানি মুছে ফেললো। আমাকে ঠিক করে দিলো। আর বলতে লাগলো, “তোমার ভালোর জন্য আমার দূরে যাওয়াটাই শ্রেয় রে পাগলি। খুব ভালোবাসি তোকে।” আমি জানিও না আমার জীবনে কতোগুলো বিপদ আসতে চলেছে।
.
.
পরেরদিন সারাদিন আরাভ আর আমার সাথে কথা বললো না। সেদিনই আমি ঠিক করছিলাম আমার আর ওর বাবুর কথা আরাভকে বলবো বলে। কিন্তু জানতাম না তা বলা হবে না।
.
সেদিন আরাভের অপেক্ষা করছিলাম আমি। কিছুটা সেজেই। কিন্তু আরাভ আসছে না। কিছু সময় পর আরাভ এলো। আরাভ আসতেই আমি ওকে জড়িয়ে ধরলাম।
আমি- এই শুনো তোমাকে কিছু বলার আছে। কাল তো তোমার জন্মদিন। রাতের গিফ্ট।
আরাভ- আমার কিছু চাওয়ার আছে আনহা।
আমি- না আগে আমি।
আরাভ- প্লিজ আমাকে বলতে দেও।
আমি- উহু।
আরাভ- আনহা প্লিজ।
আমি- উকে উকে কও কও। আমি আগে আর পরে কি।
আরাভ- আনহা আমি যা বলছি মনোযোগ দিয়ে শুনো। এটা বলা জরুরী।
আমি- উকে উকে শুনতেছি।
আরাভ- আমার ডিভোর্স চাই।
আমি- ও আচ্ছা। (প্রথমে মাথায় ঢুকে নি)
আরাভ- কি বললাম শুনলা?
আমি- হু মজা করছো। আচ্ছা কবে লাগবে এখন? দেখি পেপারে সাইন করি।(মজা ভেবে)
আরাভ- এই নেও।
.
আরাভ সত্যি পেপার আগায় দিলো। আমি ওটাকে ফেক পেপার ভাবলাম।
আমি- আহা কত্ত মজা। ভালা ভালা। এখন আমার কথা শুনো তোমার এক জোক্সে মজা নাই।
আরাভ- আনহা আমি সিরিয়াস পেপার চেক করো।
আমি- হাহা তাই নাকি।
.
.
আমি পেপার নিয়ে দেখি সত্যি রিয়েল পেপার। তাহলে কি সত্যি আরাভ আমাকে ডিভোর্স দিতে চায়। আমার চোখে পানি চলে আসলো।
আমি- কেনো আমাকে ছাড়তে চাও? আমি কি জানতে পারি?
আরাভ- আমার আর ভালো লাগছে না তোমাকে। আজকাল আমি একটা মেয়ের সাথে অনেক ক্লোজ হয়ে আসছি। আমি তার সাথে থাকতে চাই।
আমি- তুমি কি মনে করো আমি বিলিভ করবো? আই বিলিভ ইউ। হুহ। হইছে ঢং করছো কেনো? (তবুও আশা নিয়ে বললাম)
আরাভ- সে মা হতে চলেছে। আর আমি তাকে ছাড়তে পারবো না। একটা ভুল হয়েছে। কিন্তু আমি ওকে এখন ছাড়তে পারছি না। মেয়েটার কেউ নাই। তুমি এখনো জীবন শুরু করতে পারবা। কাউকে বিয়ে করে নিও। সব খরচ আমি দিতে রাজি। তোমার সারাজীবনের।
আমি- আচ্ছা কাল সাইন করে দিবো। আর কিছু বলতে হবে না।
আরাভ- আচ্ছা। ও ফ্লাটে একা আছে। আমি গেলাম। (যদিও কেউ নাই পুরোই মিথ্যা বললো আরাভ)
আমি- আচ্ছা।
.
.
আরাভ চলে গেলো। এদিকে আমার প্রচুর কান্না পাচ্ছিলো। সারারাত ভাবছিলাম কি করা যায়। ঠিক করে নিলাম কি করবো? অপর দিকে আরাভ সারারাত রাস্তায় বসে কাটালো। তার মনেও কষ্ট কিন্তু সে আমার সুখ চায়।
.
সকালের দিকে আরাভ বাড়ি ফিরলো। ফিরতে দেখেই….
মা- কি রে সকালে কই ছিলি? নাকি রাতেই আসিস নি?
আরাভ- না মানে মা‌ কাজ ছিলো।
মা- চোখ লাল কেনো কাঁদছিলি নাকি?
আরাভ- না কাজ ছিলো।
মা- এতো কাজ। আনহা কই রে? ও ঠিক আছে? এখনো আসে নি যে।
আরাভ- ওর মাথা ব্যাথা।
.
আরাভ ভাবলো আনহা রাগ করেছে। হয়তো কাঁদছে এই জন্যই উঠে নি। আরাভ ঘরে গেলো,
ঘরে দেখে আনহা নাই। ও ভাবছে আমি ওয়াশরুমে। অনেক সময় অপেক্ষা করেও খুলতে না দেখে ও চেক করলো। কিন্তু ওখানে পেলো না। ও ভাবছে আনহা কি চলে গেলো নাকি? ও ডিভোর্স পেপারে সাইন করছে কি না? চেক করতে গিয়ে দেখে সাইন নাই। কিন্তু ওখানে একটা চিঠি রাখা,,,
“প্রিয়,
.
আমার কাছে চিরকাল প্রিয়ই থাকবে তুমি। হুম জানি তোমার ভুল। হয়তো কোথাও ভুল আমারো। আচ্ছা তোমার সুখই আমার কাছে বড়। জানো আমার না কিছু বলার সাহস হচ্ছে না। প্রচুর কান্না পাচ্ছে। আচ্ছা সত্যি কি তোমার শরীরে অন্য নারীর গন্ধ মিশেছে? আচ্ছা সত্যিই কি ওই বুকে অন্য কেউ মাথা রেখেছে? কেনো দিলে। আমার না খুব খারাপ লাগছে। কিন্তু থাক না। তুমি আমার কাছে একটা গিফ্ট চাইলা। কিভাবে না দিয়ে থাকি বলো? তোমার চাওয়াই পূরণ হলো। আমি চলে যাচ্ছি। কিন্তু একটা প্রাপ্তি নিয়ে যাচ্ছি। থেংকু। অনেক বেশি ধন্যবাদ। ভালোবাসি আমার প্রিয় রাগী মানুষটাকে। নিজের খেয়াল রেখো। আর চিন্তা করো না। কোনোদিন অধিকার ফলাতে আসবো না। তুমি বিয়ে করে ফেলো ওই মেয়েটাকে। তোমার সন্তান আসছে। সুখের ব্যাপার তোমার। আর শুনো রান্নাঘরে আরেকটা চিঠি আছে। মা জানবে আমি অন্যের সাথে পালিয়েছি। কিছু বলো না তাকে কষ্ট পাবে। আমি কিন্তু সাইন করলাম না। কারণ সাহস নেই। সমস্যা নেই বিয়ে করো। সুখী হইয়ো।
.
ইতি,
অপ্রিয় একজন আনহা।
চিঠিটা পড়ে আরাভের কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু ও খুশি যে আনহা এখন ওর অতীতকে ভুলাতে পারবে। কিন্তু ওকে কারো কাছে খারাপ হতে দিবো না। আরাভ তাড়াতাড়ি যায় চিঠিটা সরিয়ে ফেলতে। কিন্তু আগেই তার মা পড়ে ফেল। সবাই আনহাকে খারাপ ভাবতে শুরু করে। কেউ জানলো না অপর চিঠির সত্যি। কিন্তু আনহা খারাপ হয়ে গেলো সবার কাছে। আরাভ চেষ্টা করেও আনহাকে কারো কাছে ভালো করতে পারলো না। আনহা তার বাবার পরিবারের কারো সাথেও যোগাযোগ করলো না। করলো না তার প্রিয় বান্ধবীর সাথে যোগাযোগ।
.
.
চলবে……

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে