Angry_Husband Season_2_Part_16

0
2012
Angry_Husband Season_2_Part_15
Angry_Husband Season_2_Part_15

Angry_Husband
Season_2_Part_16
Written by Avantika Anha
আমি আলো জালিয়ে দিলাম। চারপাশ ফুল আর নেটে সাজানো। সাথে মোমবাতিও আছে। আর বেলুনও লাগিয়েছি সাদা রং এর। একে একে আমি সব মোম জ্বালিয়ে দিলাম যা আই লাভ ইউ লিখা ফুটে তুলতেছে।সাথে আমার আর আরাভের নাম লাভ মার্ক এর সাথে। আরাভ সবকিছু দেখে অবাক হচ্ছে কারণ ওর ধারনা ছিলো না যে আমি‌ এভাবে সব সাজাতে পারবো।
আমি- কেমন হলো?
আরাভ- আমার বউ এর মতো কিউট।
.
তারপর আরাভ আমার দিকে তাকিয়ে আমাকে ভালো করে দেখতে লাগলো। ওর এভাবে অবাক চোখে তাকিয়ে থাকতে দেখে আমার অনেক লজ্জা লাগছতবুও
আমি- কি হইছে? ক্রাশ খাইলেন নাকি?
আরাভ- হুমমম অনেক বড় ক্রাশ খাইছি।
আমি- ওমা ক্রাশ খাইলে এতো খাবার যে রেডি করা ওগুলো কে খাবে?
আরাভ- দূররর। সব রোমান্টিক জিনিসের মাঝে কি সব আনো।
আমি- কই কি আমি কি করলাম আবার?
আরাভ- না কিছু করো নি। আমি নিচে গেলাম।
.
এই বলে আরাভ রাগ করে নিচে যাইতে লাগলো। আমি ভাবছি, যাহ মজাটা কি বেশি হয়ে গেলো নাকি? তাড়াতাড়ি আরাভের হাত ধরে ফেললাম।
আরাভ- কি হইছে? হাত ছাড়ো। (কিছুটা রাগী স্বরে)
আমি- বাব্বাহ এতো রাগ কিনু আপনার?
আরাভ- চুপপপপ।
আমি- ওকে আমি চুপই আছি।
আরাভ- আমি নিচে যাবো হাত ছাড়ো।
আমি- না মি. হাজবেন্ড আজ আমি কোনো রাগ দেখতে চাই না।
আরাভ- হাত ছাড়বা কি না?
আমি- আপনি যদি এখন যান তাহলে আমি ছাদ থেকে লাফ দিবো।
আরাভ- আবার?
আমি- এবার দিমুই।
আরাভ- হুহ।
আমি- বিলিভ হয় না। ওকে দাড়ান তাহলে দেখুন খালি আমি পারি কি না?
.
এইটা বলে আমি আবার ছাদের কোণার দিকে আগালাম। “ওমা গো ছাদ এতো উপরে কেনো?” এটা ভাবতেছি। ভয়ে ভয়ে পিছুতে যাবো এমন সময় পা জমে গেলো আমার। না না ঠান্ডায় না ভয়ে। আমি ভয়ের কারণে ওই জায়গা থেকে নড়তে পারছিলাম না। পিছনে ফিরে দেখি আরাভ আমার পিছনেই দাড়িয়ে ২ হাত দূরে।
আরাভ- কি ভয় লাগে?
আমি- না মানে একটু।
আরাভ- তা সবসময় ছাদ থেকে লাফ দিতে চাও কেনো?
আমি- হিহি মজা লাগে।
আরাভ- দূরর পাগলি। চলো ওদিক। (হেসে)
আমি- বাই দি রাস্তা আমি ক্রাশ খাইছি আপনার স্মাইলে। চলুন।
.
এই বলে পা বাড়াতে গিয়ে পিছলে গেলো। আমি ধরেই নিলাম আমি মরে যাবো। তাই তাড়াতাড়ি চোখ বন্ধ করে নিলাম। কিছু সময় পর ভাবলাম আমি মরেই গেছি। চোখ খুলে দেখি আরাভ ধরে আছে আমাকে আর ও রেগে গেছে। ওর দিকে টান দিলো। আমার মাথা ওর বুকে চলে গেলো। ওর বুকের ধুকধুক শব্দ কানে আসছিলো। খুব জোড়ে চলছিলো হয়তো ও ভয় পেয়ে গেছে। নাহয় রাগে।
আমি- সরি।
আরাভ- না না সরি বলছেন কেনো? উচ্চতা যে ভয় পান একটু তা জেনেও সাইডে যান কেনো?
আমি- না মানে।
আরাভ- চুপ।
আমি- রাগলেও আপনাকে কিউট লাগে।
আরাভ- পাম মারে লাভ নাই।
আমি- হুহ। এইখান থেকে যাই প্লিজ। আমার ভয় করছে।
আরাভ- চলো।
.
এই বলে আরাভ আমার হাত ধরে টান দিলো। কিন্তু আমি গেলাম না। ও আমার দিকে ফিরে জিজ্ঞেস করলো কেনো যাবো না? পরিবর্তে আমি মুচকি হাসি দিলাম।
আরাভ- কি হাসছো কেনো?
আমি- কোলে নেন।
আরাভ- কিহ?
আমি- হুম নইলে যাবো না।
আরাভ- এখন আবার কি হলো? এতো রোমান্টিক?
আমি- ইয়ে মানে। হেটে যেতে ইচ্ছে করছে না। এসব আমি সাজিয়েছি। এখন বাকীটা আপনি করবেন। ইট্টু রোমান্স।
আরাভ- একটু কেনো বেশিই করবো দেখবা নাকি?
আমি- দেখান।
.
আরাভ আমাকে কোলে তুলে নিলো।
আরাভ- পাগলি।
আমি- হুম কিন্তু আপনাকে কে বললো, আমি যে উচ্চতা একটু ভয় পাই‌ এটা।
আরাভ- তোমার বোন।
আমি- ওই হারামিকে আমি ছাড়বো না। নামান আমাকে।
আরাভ- না তোমার যা ইচ্ছা হবে সবসময় তা-ই যে হবে তা তো না। মাঝে মাঝে আমার ইচ্ছাও চলবে ম্যাডাম। আর এখন আমি রোমান্টিক মুডে আছি রাগালে ফল কতোটা ভয়ানক হতে পারে তা কি বলা লাগবে?
আমি- নাহি নো রাগগগগগ আজঙ
আরাভ- হুমমম।
.
আরাভ আমাকে একটা চেয়ারে বসিয়ে দিলো।
আমি- দেখেন কতো কিছু করছি। এর জন্য আমাকে গিফ্ট দিবেন না?
আরাভ- তুমি কি গিফ্ট এর জন্য এমন করছো?
আমি- না আবার হুম।
আরাভ- মানে?
আমি- প্রপোজ করমু তাই।
আরাভ- তাইলে? তবুও গিফ্ট চাও কেনো?
আমি- হুহ। ওকে থাক লাগবে না।
আরাভ- তাই?
আমি- হুমম।
আরাভ- ভালো তো এক মিনিট দাড়াও আমার গরম লাগছে ব্লেজারটা খুলে আসছি।
আমি- উকে। জ্বলদি আসেন।
.
আরাভ উঠে আমার পিছনে দাড়ালো। তারপর আমার সামনে একটা পেনডেন্ড মেলে ধরলো।
আমি- ও মা গিফ্ট?
আরাভ- হুমম।
আমি- কার লাইগা?
আরাভ- আমার যে ২নাম্বার বউ আছে তার জন্য।
আমি- আপনার আরো বউ আছে?
আরাভ- হুম ২টা বউ আমার জানো না?
আমি- সত্যি?
আরাভ- হুম কেনো বিশ্বাস হয় না?
আমি- আচ্ছা। (মন খারাপ করে বসলাম। দুই ফোটা চোখের জলও গড়িয়ে পড়লো। আরাভ আমার সামনে দাড়িয়ে গেলো। এটা দেখেই ও হাসতে লাগলো। আর আমাকে বলতে লাগলো এমন কিছুই নাই। ও নাকি শুধুই মজা করে বলছে)
আমি- না। আপনার জীবনে অন্য কেউ আছে।
আরাভ- আরে গাধী নাই।
আমি- তাহলে বললেন কেনো?
আরাভ- তুমি গাধীর মতো প্রশ্ন করলা কেনো? আমি আর কাকে দিবো হা?
আমি- আমি তো গিফ্ট এখন চাইলাম আপনি কেমনে এখনি আনলেন?
আরাভ- হাহা এটা আরাভ স্টাইল।
আমি- ওই আপনি আমাকে কপি করছেন?
আরাভ- তোমার সাথে থাকে থাকে আমিও যে পাগল হয়ে যাচ্ছি।
আমি- ওহো তাহলে তো আমরা পাগল পাগলি কাপল।
আরাভ- হুমমম।
আমি- তাহলে আমার বাচ্চা কাচ্চা কি পাগল হবে নাকি পাগলি?
আরাভ- পাগলি হবে কারণ আমার মেয়ে চাই।
আমি- না আমার ছেলে চাই।
আরাভ- আগে মেয়ে-ই হবে।
আমি- না ছেলে।
আরাভ- আমার মেয়ে চাই। আল্লাহ যদি দেন তাহলে।
আমি- ওটাই বাট আমার ইচ্ছা ছেলের। আমি আজ থেকে এটার জন্য দোয়া করবো।
আরাভ- না একদম না।
আমি- দূরররর কইছি না আমার পোলা হবে।
আরাভ- ও রেলি?
আমি- হ্যা হ্যা হ্যা।
.
ঝগড়ার আওয়াজ শুনে আভা উপরে আসলো।
আভা- কিরে তোরা ঝগড়া করছিস কেনো?
আমি- দেখো তোমার ভাই বলে তার নাকি মেয়ে চাই কিন্তু আমার যে ছেলে চাই।
আরাভ- শুন আমি বলছি আমার প্রথম মেয়ে হবে মানে মেয়ে।
আভা- গাধার দল থামবি? আগে ভাবি প্রেগনেন্ট তো হোক তারপর প্লান কর। এখনি ঝগড়া।
.
এই কথা শুনে আমি আর আরাভ দুজনেই লজ্জায় পড়ে গেলাম। আভা আমাদের ভালোভাবে থাকতে বলে নিচে চলে গেলো। কিছু সময় দুজনেই লজ্জায় চুপ থাকলাম । তারপর আরাভ আমাকে পেনডেন্টটা পড়িয়ে দিলো।
আমি- মি. আরাভ আপনাকে আমি অনেক ভালোবাসি। কিভাবে বাসলাম জানি না। কিভাবে এই রাগী মানুষটার প্রেমে পড়লাম জানি না। এখন আমার আর কিছু চাওয়ার নাই। যতোদিন বেঁচে আছি শুধু আপনার সাথে থাকতে চাই। আর চাই আপনার আর আমার সংসারে ছোট্ট সদস্যকে। চাই প্রতি সকাল আপনার চেহারা দেখে যেনো হয়। চাই মাঝরাতে খুনশুটি করতে। আমার সবটা জুড়ে শুধু আপনাকে চাই আর কিছুই না। চাই আপনি যে মাঝে মাঝে থাপ্পড় মারেন তারপর ওই জায়গায় যেনো হাতের স্পর্শ দিয়ে সরি পাগলি বলেন।
আরাভ- আই লাভ ইউ টু।
আমি- কেমন হইলো?
আরাভ- সেই। আজ বুঝছি তুমি রোমান্টিকও আছো।
আমি- ভালো হবে না নাকি? মিমি আভা সবার হেল্প নিয়া লিখছি। ভালো তো হতেই হবে।
আরাভ- মানে নিজে লিখো নি?
আমি- আমিই তো লিখছি।
আরাভ- শয়তান।
আমি- ফিমেল ভার্সনে গালি দেন। শয়তান তো ছেলে ওটা হলে তো আপনি হবেন।
আরাভ- হুহ।
আমি- চলেন আবার রোমান্টিক মুডে যাই।
.
অতঃপর আমি আর আরাভ একে অপরকে খাইয়ে দিলাম। আরও অনেক্ষণ গল্প করলাম। তারপর আমি আরাভের কাধে মাথা রেখে ছিলাম। শেষ মুহূর্তে আরাভ আমাকে কোলে করে রুমে নিয়ে গেলো।
.
পরেরদিন…..
ফোনে কল আসলো…
জান্নাত- আনহা।
আমি- জ্বী বলুন কে?
জান্নাত- জান্নাত।
আমি- ও ভিলেন আপু।
জান্নাত- হোয়াট?
আমি- কি?
জান্নাত- নিজের ভালো চাও তো আরাভকে ছেড়ে দেও।
আমি- সরি পারবো না।
জান্নাত- এখনো সময় আছে ভেবে বলো।
আমি- ভাবার কিছু নাই। আমি ওকে ছাড়বো না।
জান্নাত- হাহাহা। রেডি থাকো। তোমাদের লাইফে ঝড় আসতে চলেছে।
.
এই বলে জান্নাত ফোন কেটে দিলো।
.
চলবে……

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে