Angry_Husband Season_2___Part_11

0
2016

Angry_Husband
Season_2___Part_11
Written by Avantika Anha
.
আমি- বান্দরের মতো হাসছেন কেনো ?
আরাভ- কি বললা ?
আমি- না কিছু না তো আমি তো চুপ আছি। ফ্রেশ হন জ্বলদি। আমার সেই ঠান্ডা লাগছে।
আরাভ- হাহা হিটার অন করে নেও।
আমি- চুলটা আগে শুকাই।
আরাভ- ড্রায়ার আনো নি?
আমি- আনছি কিন্তু আমার ওইটা ইউজ করতে ভাল্লাগে না।
আরাভ- হাহা। তো ভিজা চুলেই থাকো।
আমি- কেনো আমাকে ভিজা চুলে খারাপ লাগে নাকি।
.
আরাভ আমার এই কথা শুনে আমার দিকে তাকালো। কিছু সময় তাকিয়েই রইলো, মনে মনে ভাবছে, “ভিজা চুল এলোমেলো করা। মুখে কোনো প্রকার আধুনিকতা লেগে নেই। একদম সদ্য ফোটা ফুলের মতো লাগছে ওকে।” আরাভকে একদৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে আমার কেমন যেন লাগছিলো। এটা লজ্জা নাকি আজব লাগা বুঝতেছিলাম না।
আমি- কি এমন করে তাকিয়ে আছেন কেনো ?
আরাভ- না কিছু না। ভালো লাগছে থাকো তুমি আমি ফ্রেশ হবো। (আমার কথায় হকচকিয়ে পালানোর জন্য গেলো)
আমি- হু ওকে।
.
কিছুদিন ভালোই ঘুরলাম আমরা। শেষ দিন দুপুরে আমি আর আরাভ আরও কিছু জায়গা ঘুরলাম। গিয়ে একটা নদীর সামনে দাড়ালাম। হোটেলের কাছাকাছিই নদীটি। নদীটির পানিগুলো অনেক পরিষ্কার। আমি আরাভের হাত টা ধরে ফেললাম। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই অনেক মোহিত করে। আমি আরাভের গা ঘেষে দাড়ালাম। ওর কাছাকাছি থাকলে আজকাল আমার অনুভূতিগুলো ভিন্ন হয়। কিছুটা লজ্জা লাগে আবার ভালোও লাগে। আমি যে ওকে ভালোবাসি এতে কোনো সন্দেহ নাই।
আরাভ- বাহ আজকাল মিস পকপকানি রোমান্টিক হচ্ছে।
আমি- কি বললেন ?
আরাভ- না কিছু না। ফানুস উড়িয়েছো কখনো ?
আমি- না কেনো?
আরাভ- উড়াবে?
আমি- হুম।
আরাভ- ওকে রাতে উড়াবো।
আমি- মি. আরাভ।
আরাভ- হুম বলো।
আমি- উ আই নি।(জাপানি ভাষায় আই লাভ ইউ)
আরাভ- মানে?
আমি- কিছু না।(এতো সহজে মানে বলবো না)
আরাভ- পাগলি তুমি সত্যি। কি যে ভাষায় কথা বলো আল্লাহ জানেন।
আমি- হিহিহি। আমি আইসক্রিম খাবো।
আরাভ- ঠান্ডা করছে এখন খেলে জ্বর আসবে।
আমি- প্লিজ। আমি খাবো।
আরাভ- ওকে দাড়াও।
আমি- আছি আছি দাড়িয়েই আছি।
.
আরাভ আইসক্রিম আনতে গেলো। আমি দাড়িয়েই ছিলাম। কিন্তু একপাশে অনেক গুলো ফুলগাছ দেখতে পেলাম। এমনি আমার ফুল অনেক ভালো লাগে। সেই সাথে ওই ফুলগুলো নিতে খুব ইচ্ছে করলো। যেই ভাবা সেই কাজ আমি চলে গেলাম ফুলগুলো পারতে। কিন্তু গাছের ডালটি একটু বেশিই উচুতে ছিলো। আমি নিতে পারছিলাম না। তবুও অনেক কষ্টে কয়েকটা নিলাম। কিন্তু আমার আরও নিতে ইচ্ছে করছিলো। এমন সময় আরাভ আইসক্রিম এনে দেখে আমি ওখানে নেই। আমাকে ওখানে না দেখে আরাভ কিছুটা চিন্তিত হয়ে গেলো। ওর কিছুটা রাগ হলো আবার চিন্তাও। আরাভ ভয় পেয়ে গেলো আমি আবার নদীর পানিতে পড়ে গেলাম নাকি এটা ভেবে। ও খুব ভালো করেই জানে যে আমি সাতার পারি না। আরাভের চিন্তা আরো বেড়ে গেলো। ও কয়েকবার আমাকে ডাক দিলো। আমি হালকা শুনতে পেলাম। তাই আবার নদীর পাড়ের দিকে গেলাম। গিয়ে দেখি আরাভ নদীতে নামতে যাচ্ছে। আর হেলে নদীর পানির দিকে তাকিয়ে আমাকে ডাকছে।
আমি- ওইদিক আমাকে খুঁজছেন কেনো? আমি কি নদীর পানিতে থাকবো নাকি? আমি তো সাতারও পারি না
আরাভ- কই গেছিলে? (রেগে বললো)
আমি- না মানে ওই দিকে ফুল ছিলো আরকি।
আরাভ- আবা ফুল। তুমি পাগল নাকি। তোমাকে না বললাম এখানে থাকতে।
.
এই বলে আরাভ আমার হাতদুটো অনেক শক্ত করে ধরলো। সেই সময় ভাগ্যিস গাছগুলো কিছুটা দূরে ছিলো। নইলে ওর ভরসা একদম নাই। কিন্তু আরাভ আমার হাত দুটোকে এতোটাই শক্ত করে ধরেছিলো যে আমার অনেক লাগছিলো। আরাভের নখগুলোও আমার হাতে লাগছিলো। ব্যাথা করছিলো খুব।
আরাভ- ইচ্ছা করছে তোমাকে এখনি দুইটা থাপ্পড় দেই। ভেবেছিলাম ঘুরতে এসেছি মুড খারাপ করবো না। কিন্তু তুমি সেই সুযোগ করে দিচ্ছো। এই মেয়ে তুমি আমার কথা শুনো না কেনো?
আমি- আমি তো ফুল..
আরাভ- চুপ একদম চুপ। কোনো কথাই বলবা না আর। চুপ থাকো।
আমি- বকেন। বকবেনই তো। আর কি পারেন? একটুও নরম না। এমনকি ভালোও বাসেন না আমাকে। সবসময় যাস্ট বকা আর থাপ্পড়।
আরাভ- ভালোবাসি কি না তুই তো বুঝবি না। বুঝলে আমাকে চিন্তায় ফেলতি না।
আমি- এমা আপনি তুই তুই বলছেন।
আরাভ- হ্যা বলবো। তোকে তুই ই বলবো আমি কোনো সমস্যা?
আমি- না না কোনো সমস্যা নাই। (ওর চোখ রাগে লাল হয়ে গেছে)
আরাভ- কি বললি তখন আর?
আমি- কি কিছুই না তো।
আরাভ- তোকে ভালোবাসি না তাই না?
আমি- না মানে বাসেন তো।
আরাভ- ওহ। ভালো।
আমি- হাত ছাড়েন।
আরাভ- ছাড়বোনা প্রব্লেম।
আমি- দূররররর সব কিছুতে রাগ রাগ রাগ। দেখান আরও রাগ। যে ভালোবাসা দেখাতে পারে না সে তো রাগ দেখাবেই।
.
আরাভ কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই আমার ঠোঁটজোড়া ওর ঠোঁটে আবদ্ধ করে নিলো। মিনিট খানেক পরে ও ছেড়ে দিলো। আমি ভাবতেও পারি নি ও এমন করে বসবে। জীবনে প্রথম এক প্রকার আলাদা অনুভূতি ছিলো ওটা। কিন্তু এমন একটা নির্জন জায়গায় আর প্রকৃতির মাঝে কেমন একটা আজব লাগছিলো। লজ্জা লাগছিলো প্রকৃতির কাছেই।
আরাভ- দেখলি ভালোবাসা আরও দেখবি?
আমি- (নিশ্চুপ লজ্জায়)
আরাভ- কথা বল।
আমি- এইডা কি করলেন?
আরাভ- (আরাভের রাগ থেকে হুস ফিরলো। ও ভাবতে লাগলো, ঠিকই তো আমি হঠাৎ করে কি করে বসলাম।) সরি।
আমি- আপনি আমার ফুলগুলো নষ্ট করে ফেললেন।
আরাভ- কিহ ।(আরাভ ভেবেছিলো কিস নিয়ে কথা বলছে)
আমি- আমাকে এখন ফুল এনে দেন আমি কিছু জানি না। (ওই বিষয়ে আর কথা বাড়ালাম না। কারণ আমার খুব বেশিই লজ্জা লাগছিলো।)
আরাভ- হুম ওকে।
আমি- আমার আইসক্রিম কই?
আরাভ- ওহ ওখানে রেখে ছিলাম। মে বি গলে গেছে।
আমি- দূরররররররররর।
আরাভ- দাড়াও তোমাকে ফুল এনে দিই।
.
আমি আর আরাভ ওখানে গেলাম। কিন্তু আরাভও কয়েকটাই ফুল নিতে পারছিলো। বাকীগুলো ওর হাতেও আসছিলো না।
আমি- নিজেও তো পারছেন না। ওই ডালের ফুলগুলো সুন্দর একটু চেষ্টা করেন তো।
আরাভ- না হাতে আসছে না। (চেষ্টা করার পর)
আমি- ওহো। আইডিয়া। আমাকে কোলে উঠান তো একটু তাহলে মনে হয় পারবো।
আরাভ- ও হুমমম পারবো। আইডিয়া টা আগে আসলো না।
আমি- আপনি যে বোকা আর আমি যে চালাক প্রমাণ।
আরাভ- হুম আর মেইন বিষয়ে উনি বোকা। (বিড়বিড় করে)
আমি- কিছু বললেন নাকি ?
আরাভ- না কিছু না।
.
এরপর আমাকে আরাভকোলে তুলে নিলো। এবার অনেকগুলো ফুলই নিতে পারলাম। অনেক ফুল ছিড়ে সেগুলোকে ওড়নায় নিয়ে নিলাম।
আরাভ- এতো ফুল দিয়ে কি করবা?
আমি- পরে বলবো। হোটেলে চলেন তো।
আরাভ- ওকে।
.
এরপর আমি আর আরাভ হোটেলের রুমে চলে গেলাম। কিছু সময় পর আরাভ চলে গেলো ফানুস আনতে। আমি গাছের সাথে ধরাধরি করায় জামাটা একটু নোংরা হয়ে গিয়েছিলো। তাই তাড়াতাড়ি করে জামা পাল্টে ফেললাম। ফুলগুলো সাদা রং এর ছিলো তাই আমি একটা সাদা গাউন থ্রি-পিস গুলো পড়ে ফেললাম। তারপর ফুল গুলো দিয়ে একটা ক্রাউন, দুল, হাতের ব্রেসলেট সব বানিয়ে ফেললাম। তাড়াতাড়ি করে সেগুলো পড়ে ফেললাম। তারপর আয়নায় দাড়িয়ে নিজের অয়রবটাকে দেখতে লাগলাম। মোটামোটি ভালোই লাগছিলো। হঠাৎ দরজা খুলার শব্দ পেয়ে আমি পিছনে তাকালাম। দেখি আরাভ এসেছে। আমাকে এভাবে দেখে ও হা করে ফেললো।
আমি- মি. আরাভ আমাকে কেমন লাগছে।
আরাভ- প্রকৃতির মেয়ে যেন আমার সামনে। তার স্নিগ্ধতার চাদর যেন তোমাকে আবদ্ধ করে লিখেছে। হাজারো কবির মায়াকন্যা যেন তোমার রূপ নিয়েছে।
আমি- হিহিহি। আমি কিচ্ছু বুঝি নি। ইট্টু ভালো করে কন তো।
আরাভ- দূরররর। কিছু না। দারুণ লাগছে। এর জন্য ফুল নিয়েছিলে?
আমি- হুমমম।
আরাভ- নিচে চলো ফানুস উড়াবো।
আমি- খাড়ান ফোনটা নেই। ইট্টু পিক তুলমু। মিমি আর প্রেয়সিরে পাঠামু।
আরাভ- দুররর পাগলি। চলো।
.
আমি আর আরাভ নিচে গেলাম। কিছুটা নির্জন জায়গায় গেলাম।
আমি- মি. আরাভ আমার না ভয় করছে।
আরাভ- আরে চলো। কিছু হবে না। শেষ দিন এখানে একটু স্মৃতির পাতায় রাখি। দেখি ওদিক দুটো চেয়ার টেবিল রাখা। আরো লাগানো আছে। হয়তো কাপলদের জন্যই জায়গাটা।
আমি- ওয়াও সেইরাম তো।
আরাভ- জানি ম্যাম অল ক্রেডিটস গোস টু মি।
আমি- এইরাম ফুল ফিল্মি। কতো টাকা গেলো?
আরাভ- তুমি ইঞ্জয় করো। টাকার কথা ভাবো কেনো?
আমি- কয়েকটা পিক তুলেন জ্বলদি। মিমিরে জ্বলামু।
আরাভ- হায় রে।
আমি- তুলেন তুলেন।
.
আরাভ আমার কয়েকটা পিক তুলে দিলো। তারপর আমি ওরও ছবি তুলে দিলাম। আমরা একসাথেও কয়েকটা ছবি তুললাম। দেখলাম ওখানে একটা ছোট পেস্ট্রি কেক রাখা।
আমি- এটা কেনো?
আরাভ- এমনিই আনলাম। আজ আমাদের বিয়ের ৮মাস হয়ে গেছে।
আমি- ওয়াও আমি ৮ মাস ধরে আপনাকে সহ্য করতেছি।
আরাভ- কি বললা?
আমি- হিহি মজা করলাম। আসেন কেক কাটি।
.
আরাভ আর আমি মিলে পেস্ট্রি কেকটাই কাটলাম।
আমি- মি. আরাভ আপনি না মেলা রোমান্টিক।
আরাভ- ও তাই নাকি?
আমি- হিহি হুমমম। চলেন ফানুস উড়াই।
আরাভ- আরে আগে খেয়ে তো নেও।
আমি- আচ্ছা।
.
কিছুটা খেয়ে…
আমি- আমার খাওয়া শেষ চলেন ফানুস উড়াই।
আরাভ- আগে সব শেষ করো। নইলে উড়াবো না।
আমি- হুহ আচ্ছা আচ্ছা।
.
তারপর খেয়ে নিয়ে আমি আর আরাভ মিলে ফানুসটা উড়ালাম।
আরাভ- আনহা এদিক কয়েকজন বিলিভ করে এটা উড়ানোর সময় কাপলরা উইশ করলে পূরণ হয়।
আমি- সত্যি?
আরাভ- হুম।
আমি- আমিও উইশ করবো।
.
আমি আর আরাভ যেনো একসাথে থাকি। আমাদের যেনো ২০টা বাচ্চা হয়। তাদের মাঝে যেনো জমজ বাবুও থাকে। আমরা যেনো ভালো থাকি। এই বলে উড়ায় দিলাম। তারপর আরাভের দিকে তাকালাম। আমার উইশ শুনে আরাভ থ।
আমি- কি?
আরাভ- ২০ টা বাচ্চা?
আমি- হু।
আরাভ- হায়রে।
আমি- হিহি।
তারপর আমি ফানুসটার দিকে তাকিয়ে থাকলাম। তারপর হঠাৎ করে আরাভকে জড়িয়ে ধরলাম, “আজকের দিনটা কখনো ভুলবো না। থেংক ইউ মি. হাজবেন্ড।”আরাভ ভাবে নি আমি ওকে জড়িয়ে ধরবো। তারপর আরাভও আমাকে জড়িয়ে ধরলো।
হঠাৎ একটা জিনিস মাথায় আসতে আমি তাড়াতাড়ি ওকে ছেড়ে দিলাম।
আরাভ- কি হলো?
আমি- ফুলগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। এই জন্য ছেড়ে দিলাম।
আরাভ- দূরররর মাইয়া।
আমি- হিহিহি
.
চলবে…..

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে