Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"দুপাতার পদ্মদুপাতার পদ্ম পর্ব-১৬+১৭+১৮

দুপাতার পদ্ম পর্ব-১৬+১৭+১৮

#দুপাতার_পদ্ম
#পর্ব_১৬
#Writer_Fatema_Khan

আয়াতের মামার বাড়িতে তার মামারা দুই ভাই একসাথে থাকে। অনেক বড় একটা টিনের ঘর। নিচের ফ্লোর পাকা তবে পাশের দেয়াল আর উপরের ছাদ টিনের তৈরি। বড় মামার এক মেয়ে এক ছেলে বিথী আর বিহান। বিহান নিজের ব্যবসা দেখে আর বিথী ইন্টার পাশ করলো এবার। আর ছোট মামার এক ছেলে রিয়ান ক্লাস এইটে পড়ে৷ আয়াতের একটাই খালা, তিনিও এসেছেন চট্টগ্রাম থেকে। তার আবার দুই মেয়ে আনিকা আর কনিকা। আনিকা এবার অনার্স ১ম বর্ষে পড়ে আর কনিকা ক্লাস সিক্সে। মামা মামি সবার সাথে কুশল বিনিময় করে তাদের সবাইকে ঘর দেওয়া হয়। মেহের আর মাহি বিথীর সাথে থাকবে, আনিকা, কনিকা আর কাসফি একঘরে আর আয়াত থাকবে বিহান আর রিয়ানের সাথে। গ্রামে আসতেই মেহেরের খুব ভালো লাগা কাজ করতে লাগলো। গ্রামের মানুষ এখনো কত উদার, কেমন তারা আসতেই জড়িয়ে ধরেছে আয়াতের মামীরা। সবার চেহারা দেখেই বুঝা যাচ্ছে সকাল থেকে কাজ করে যাচ্ছে মেহেররা আসবে বলে। মেহের আলতোভাবে হাসলো। তারপর ব্যাগ থেকে কাপড় বের করে মাহিকে ফ্রেশ করিয়ে দিল। দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকালো মেহের দুপুর ২টা বাজে। তারপর নিজের কাপড় বের করে কলপাড়ে গেলো ফ্রেশ হওয়ার জন্য।
“এই তপ্ত দুপুরে গোসল না করলেই না৷ মাকে বলে গোসলে চলে যাই।”
মাহিকে কোলে করে মায়ের কাছে দিয়ে বললো,
“মা মামীরা খাবারের জন্য ডাকলে তোমরা খেতে চলে যেও আর মাহিকে আগে কিছু খাইয়ে দিও। আমার অনেক খারাপ লাগছে আমার গোসল করা দরকার। আমি না হয় গোসল সেড়ে একেবারে খাব।”
“ঠিক আছে।”
তারপর মেহের কলপাড়ে চলে গেলো৷ সুন্দর একটা গোসলখানা। চারপাশে টিন দিয়ে ঘেরাও করা আর দরজায় টিনের দরজা তার সাথে একটা কাপড়ের পর্দা। চারপাশে টিন থাকলেও উপরে খোলা। পরিস্কার আকাশ দেখা যাচ্ছে কলপাড় থেকে। কলপাড়ে থাকা একটা রশির উপর কাপড় রেখে গোসল করে নিল মেহের। গোসল সেড়ে চুল মুছতে মুছতে ঘরের দিকে এগিয়ে যায়। সবার খাওয়া ইতোমধ্যে শেষ বিধায় আয়াতের বড় মামী বিথীকে দিয়ে মেহেরের খাবার ঘরেই পাঠিয়ে দিল। বিথী মেহেরের পাশে বসে আর বলে,
“আপু মা খাবার পাঠিয়ে দিয়েছে তুমি খেয়ে নাও। অনেক বেলা হয়ে গেছে নিশ্চই খিদে পেয়েছে। এই নাও আমি বেড়ে দিচ্ছি।”
“বাকিরা সবাই খেয়েছে?”
“হুম, সবাই খেয়ে নিয়েছে। শুধু তুমি বাকি আছো, খেয়ে নাও আপু।”
আর বাক্যব্যয় না করে মেহের খাবার খেয়ে নিল। খাওয়া শেষ করে মেহের বাড়ির বাইরে বের হলো। বরাবরই মেহেরের গ্রামের বাড়ি পছন্দের তালিকায়। ছোট বেলা থেকেই শহরে থাকার কারণে গ্রামে তেমন আসাও হয় না। গ্রামের বাড়িতে তাদের কোনো আত্মীয়ও নেই যে গ্রামে এসে থাকবে। আয়াতের মামার বাড়িতে এসেছিল তাও আয়াত দেশের বাইরে যাওয়ার অনেক আগে।
“আচ্ছা বিথী বাকিরা কই?”
“সবাই মনে হয় যার যার ঘরে ঘুমাচ্ছে।”
“হুম সেটাই হবে, সকালে উঠেছে সবাই তাই হয়তো ক্লান্ত। আমি আবার গাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলাম। তাই এখন গোসলের পর অনেকটাই ফ্রেশ লাগছে। এখন একটু বাড়িটা ঘুরে আসি৷”
“আচ্ছা যাও। কিন্তু একা যেতে পারবে তো?”
“চিন্তা করো না, আমি পারব।”
বিথী ঘরে গিয়ে নিজের মোবাইল নিয়ে বসে পরলো। মেহের ভেজা চুল খুলে বাড়ির বাইরের রাস্তা দিয়ে হাটা শুরু করলো। কিছুদূর যেতেই তার নজরে এলো আয়াতের ছোট মামা বাড়ির সামনে থাকা টঙের দোকানে বসে চা খাচ্ছেন। মেহের সেদিকেই এগিয়ে গেলো৷ মেহের দৃষ্টিগোচর হতেই আয়াতের মামা এগিয়ে এলেন৷
“কি হলো আম্মু, তুমি বিশ্রাম না নিয়ে এখানে কি করছো!”
খানিকটা অবাক হয়েই জিজ্ঞেস করলেন তিনি। মেহের হাস্যোজ্জ্বল মুখ নিয়ে বললো,
“ভাবলাম অনেকদিন পর গ্রামে আসলাম তাই একটু ঘুরে দেখি। আর আজ তেমন সূর্যের তাপও নেই তাই হাটাই যায়।”
“তা ঠিক। চলো আম্মু তুমি আমার সাথে আসো।”
দুইজনেই সামনে এগিয়ে গেলো। টুকটাক কথা হচ্ছে দুইজনের মধ্যে। মাঝে মাঝে হেসে উঠছে মেহের। দূর থেকে তার এই মিষ্টি হাসির দিকে তাকিয়ে আছে একজন। কারণ মেহেরের এই প্রাণখোলা হাসি তার কাছে অমবস্যার চাঁদের মতোই৷
“মেহের।”
“জি মামা।”
“ওই মাঠের দিকে চলো, ওইখানে বিহান, আয়াত আর রিয়ান আছে৷ ওরা ওইখানে ক্রিকেট খেলছে।”
মেহের কিছুটা অবাক হয়েই তাকালো মাঠের দিকে। তবে কাউকেই তার নজরে এলো না। তবুও মাথা নেড়ে সায় জানালো সে। মাঠের কাছে আসতেই তাদের তিনজনকেই দেখতে পেলো মেহের।
“আশ্চর্য তো! এই ছেলে সেই সকাল থেকে গাড়ি ড্রাইভ করে গ্রামে এলো কোথায় একটু রেস্ট নিবে তা না খেলতে চলে এসেছে৷”
আয়াত বল করায় ব্যস্ত, তাই এদিকে তার নজর নেই। এতক্ষণ সে মেহেরের দিকেই তাকিয়ে ছিল যার দরুন তার একটা ক্যাচ মিস গেলো। তাই এবার পুরো মনোযোগ খেলায় দিচ্ছে সে। মেহের শুনতে পেলো আর মাত্র ১০রান লাগবে অন্য টিম জেতার জন্য। আর এটাই নাকি লাস্ট অভার। মেহেরও খেলা দেখায় মনোযোগ দিল। তবে তারা কায়দা করতে পারলো না বেশি একটা। আয়াতের প্রথম বলেই আউট হয়ে গেলো। তারপরের বলে ছয়, আর মাত্র চার রান হলেই অপর পক্ষ জিতে যাবে। বাকি তিন বলে কোনো রান না দিলে শেষ বলে চার মেরে জিতে গেলো অপর পক্ষ। মেহেরের মন খারাপ হয়ে গেলো৷ আয়াত নিজের মাথায় হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। তারপর একপলক মেহেরের দিকে তাকিয়ে আচমকা হেসে দিলো। মেহের আয়াতের দিকেই তাকিয়ে ছিলো, আচমকা আয়াতের তাকিয়ে হেসে দেওয়া তার বোধগম্য হলো না।
“হেরে গিয়ে এই ছেলের মাথা খারাপ হয়ে গেছে মনে হয়। না হলে কেউ হেরে এভাবে হাসে নাকি!”
“আপু।”
কারো ডাকে পাশে তাকিয়ে দেখে কনিকা দাঁড়িয়ে আছে। কনিকার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হেসে বলে,
“আরে তুমিও আছো এখানে!”
“শুধু আমি না আনিকা আপুও আছে। আপু তো স্পেশালি আয়াত ভাইয়ার খেলা দেখার জন্য এসেছে। শুনেছি ভাইয়া নাকি অনেক ভালো খেলে। কিন্তু শেষে এসে কি হলো একটা ক্যাচ ছেড়ে দিল আবার চার আর ছয় দিয়ে জেতা ম্যাচটাই হেরে গেলো।”
“ওহ।”
মুখে কিছু প্রকাশ না করলেও বারবার মেহেরের মনে একটাই প্রশ্ন,
“স্পেশালি আয়াতের খেলা দেখতে আসার মানে কি?”
“কি ভাবছো আপু?”
“না তেমন কিছু না।”
“আপু চলো ওই দিকটায়। ওইখানেই সবাই আছে।”
আয়াতের মামা বলে উঠলো,
“হ্যাঁ কনিকা মেহেরকে নিয়ে যা তোদের সাথে আর আমি একটু কাজে যাই। আর হ্যাঁ মেহেরে কাল কিন্তু খুব সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠবে। মামা তোমাকে কিছু দেখাব।”
মাথা নেড়ে সায় জানায়৷ আয়াতের মামা সেখান থেকে চলে যায়। মেহের কনিকার সাথে যায়। ওইখানে আয়াতসহ আনিকা বিহান আর রিয়ান আছে৷ আনিকা আর আয়াত খুব হেসে কথা বলছিলো। মেহের আর কনিকা যেতেই সবাই মেহেরকে বললো কখন এসেছে? আয়াত তাদের বলে একটু দূরে গিয়ে সবার জন্য ফুচকার অর্ডার দিলো। কিছুক্ষণ পর একটা পিচ্চি এসে সবার হাতে এক প্লেট ফুচকা দিয়ে গেলো। কিন্তু নিজের জন্য নিলো না। আয়াত নিজের জন্য ফুচকা নেয় নি বলে আনিকা নিজের প্লেট থেকে একটা ফুচকা নিয়ে আয়াতের মুখের কাছে নিয়ে ধরলো। অনিচ্ছা সত্ত্বেও আয়াত আনিকার হাত থেকে নিজের হাতে নিয়ে ফুচকা মুখে তুলে নিলো। আনিকার এতটা কাছে আসা মেহেরের ভালো না লাগলেও আয়াত যে আনিকার হাতে না খেয়ে নিজের হাতে নিয়ে খেয়েছে এতে মেহের একটু হাসলো। আয়াত এগিয়ে গেলো মেহেরের কাছে। মেহেরের পেছনে দাঁড়িয়ে কিছুটা ঝুকে ফিসিফিসিয়ে বললো,
“আমার খেলা শেষ হওয়ার পর আসলে কি এমন ক্ষতি হতো তোমার? তোমাকে সামনে দেখলে যে আমি তোমার চোখে হারিয়ে যাই আর এই খেলায় হারাতো সামান্য জিনিস। এভাবে সব জায়গায় আমাকে না হারালে হয় না? আর তোমার হাত ছাড়া আমি অন্য কারো হাতে খাব না নিশ্চিন্ত থাকতে পারো।”
বলেই মেহেরের প্লেট থেকে একটা ফুচকা নিয়ে মুখে পুরে সবার উদ্দেশ্যে বললো,
“সবার জন্য চা দিবে একটু পর। খেয়ে সবাই বাড়িতে চলে যাবি। আমি আর বিহান পরে বাড়িতে আসব। বিহান চল।”
মেহের যেনো জমে গেছে আয়াতের কথায়,
“কি বলে গেলো এই ছেলে!”

চলবে,,,,,,

#দুপাতার_পদ্ম
#পর্ব_১৭
#Writer_Fatema_Khan

আনিকার দিকেই নিবদ্ধ মেহেরের দৃষ্টি। আড়চোখে বারবার আনিকাকে দেখে যাচ্ছে মেহের। আয়াত আর বিহান যাওয়ার পর থেকে যে আয়াতের কত কথা বলছে এই মেয়েটা। মনে হয় আয়াত মেহেরদের সাথে নয় ছোট বেলা থেকেই আনিকাদের সাথেই ছিল।
“এই আনিকা বারবার আয়াতকে নিয়েই কেনো কথা বলছে, আর আয়াতের সম্পর্কে এই আনিকা কতকিছুই না জানে? আর আমি কিনা এসব জানিই না। তবে গ্রামের বাড়ি যখন আয়াত আসছিল তখনের কথা তাই হয়তো আমি জানি না।”
মনে মনে নিজেকে নিজে সান্ত্বনা দিচ্ছে মেহের। কিন্তু তার মনে তো হিংসার ফুল্কি জ্বলে উঠছে আয়াতকে নিয়ে।
“এই মেহের আপু তাড়াতাড়ি তোমার প্লেট খালি করো, আমাদের আবার ফিরতে হবে তো।”
হাতের কনুই দিয়ে হালকা ধাক্কা দিয়ে কনিকা মেহেরকে খেতে বললো। আনিকা মেহেরের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে বলে,
“আর আপু তোমার দিনকাল কেমন যাচ্ছে?”
“এইতো ভালো।”
“মা বললো তুমি নাকি অফিস জয়েন করেছো?”
“হুম বছরখানেকের মতো অফিস জয়েন করেছি।”
“জানো তো আমারও ইচ্ছা পড়ালেখা কমপ্লিট করে আমিও নিজের পায়ে নিজে দাড়াবো।”
“এটা তো খুব ভালো চিন্তা আনিকা।”
“ধন্যবাদ আপু৷ আচ্ছা আপু তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও বাড়ির দিকে পা বাড়াতে হবে আমাদের।”
“আনিকা কত সুন্দর করে কথা বলে, কি সুন্দর হাসি! নির্দ্বিধায় মনের কথা বলে যাচ্ছে৷ গায়ের রঙ কত উজ্জ্বল, আবার ঘন কালো লম্বা স্ট্রেইট চুল। হাসলে বা গালে কি সুন্দর টোল পরে। যতটুকু বুঝলাম আয়াতকে পছন্দও করে। দুইজনের বয়সও ঠিক আছে। মানাবে খুব দুইজনকে।”
ফুচকা খেতে ভাবে মেহের এসব৷ তারপর তারা বাড়ির দিকে এগিয়ে যায়। রাস্তায় টুকটাক কথা হয় তাদের। বাড়িতে এসে সবাই ঘরে চলে যায়। মেহের মাহিকে তার মায়ের কাছ থেকে নিয়ে ঘরে যায়। মাহি ঘুম থেকে উঠেছে নাকি অনেকক্ষণ হলো কিছু খাইয়ে দিবে মেহের। তাহলে অনেকটা সময় খেলবে। মাহিকে খাইয়ে মেহের বাইরে বেড়িয়ে যায় উঠোনে। রিয়ান এক প্রকার দৌড়ে আসে মেহেরের কাছে।
“মেহের আপু মাহিকে আমার কাছে দাও। আমি ওকে নিয়ে কিছুক্ষণ খেলি।”
“ঠিক আছে।”
রিয়ান মাহিকে কোলে নিয়ে সামনে এগিয়ে যায়। বিথী ঘর থেকে বের হয়ে বলে,
“মেহের আপু তুমি এখানে একা দাঁড়িয়ে কেনো, আমার সাথে এসো সবাই পাকের ঘরে পিঠা বানাচ্ছে।”
“তাই!”
“হুম সবাই ওইখানেই আছে চলো।”
মেহের বিথীর পেছনে রান্নাঘরের দিকে গেলো। সবাই মোরা পেতে বসে আছে। আয়াতের দুই মামী পিঠা বানাতে ব্যস্ত আর বাকিরা গল্প করতে৷ তবে সবার হাতেই একটা করে পিঠা৷ খাচ্ছে আর গল্প করছে। মেহের সামনে এগিয়ে একটা মোরায় গিয়ে বসলো৷ মেহেরকে দেখে আয়াতের বড় মামী একটা প্লেটে করে পিঠা এগিয়ে দেয়।
“এই নাও মেহের একটা গরম পিঠা খেয়ে নাও ভালো লাগবে। ঠান্ডা হলে তখন আর এই স্বাদটা পাবে না।”
মেহের হাত বারিয়ে বড় মামীর কাছ থেকে পিঠা নিয়ে নেয়৷ আর খাওয়া শুরু করে।
“খুব ভালো খেতে মামী।”
“আরেকটা দিব?”
“ধন্যবাদ, তবে আর খেতে পারব না।”

সন্ধ্যার পর আয়াত আর বিহান ফিরেছে বাড়িতে৷ দুইজনেই ঘেমে একাকার৷ বিহান নিজের কাপড় নিয়ে বাড়ির পাশের পুকুরে চলে গেলো গোসলে। আয়াত তার মাকে ডেকে বললো,
“মা আমার কাপড় দাও তো গোসল করবো। পুরো শরীর ভিজে গেছে এভাবে থাকা যাবে না।”
আয়াতের মা মেহেরের মা আয়াতের খালা আর দুই মামী বসে কথা বলছিলেন৷ এরা যেনো পুরোনো বান্ধুবিদের খুঁজে পেয়েছে এভাবেই আড্ডা দিচ্ছে সারাদিন৷ পাশে মেহের, আনিকা, কাসফি আর কনিকাও ছিল৷ রিয়ান দাঁড়িয়ে মাহিকে নিয়ে খেলছে। এই বাচ্চা ছেলেটা বরাবরই বাচ্চা খুব পছন্দ করে। আয়াতের মা ভ্রু কুচকে ফেলে ছেলের ডাকে। এখন আবার গেলে আড্ডা মিস হয়ে যাবে৷ তিনি মেহেরের দিকে তাকিয়ে বলে,
“মেহের মা তুই গিয়ে আয়াতের ব্যাগ থেকে ওর কাপড় দিয়ে আয় না।”
মেহেরের যাওয়ার ইচ্ছা না থাকলেও সবার সামনে তো মানা করা যায় না। তাই সে উঠে দাঁড়িয়ে বললো,
“আমি দিয়ে আসছি আয়াতকে তুমি কথা বলো।”
মেহের আয়াত যে ঘরে থাকবে ওই ঘরের দিকে পা বাড়ালো।
আয়াতের বড় মামী বললো,
“আচ্ছা আপা আপনারা কি মেহেরের আবার বিয়ে দেওয়ার কথা কিছু ভেবেছেন? মানে মেয়েটা দেখতে মাশাল্লাহ এই বয়সে এমন কিছু ঘটে যাবে কে ই বা ভেবেছে। কিন্তু এভাবে বাসায় রেখে দিলে তো হবে না ভবিষ্যৎ তো পুরাই রয়ে গেছে৷ তাই বললাম আর কি।”
“আমরা যে ভাবি নি এমনটা নয় ভাবি। আমরা মেহেরের মনের অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যখন মেহের প্রস্তুত থাকবে নতুন সম্পর্কে যাওয়ার জন্য তখনই ওর বিয়ের ব্যাপারে ভাববো।”
“কত চঞ্চল মেয়েটা এখন একদম চুপচাপ থাকে। প্রয়োজন ছাড়া একটা কথাও বলে না। সত্যি মানুষের জীবন মুহূর্তে পালটে যায়৷”
বলেই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন আয়াতের মামী। তারপর প্রসঙ্গ পালটে অন্য কথা শুরু করলেন তারা৷ এসব শুনে মেহেরের মায়ের মনটা খারাপ হয়ে গেলো। তিনি ভাবতে লাগলেন,
“সত্যি তো মেয়েটা কবে নিজের ভালো বুঝবে, আয়াত তো সারাক্ষণ তার খেয়াল রাখতেই ব্যস্ত থাকে। মেয়েটা যদি ছেলেটাকে একটু বুঝতো আর নিজের জীবনকে আরেকটা সুযোগ দিত কতই না ভালো হত।”
মেহেরের মায়ের চিন্তা বুঝতে পেরে তার কোলের উপর রাখা হাতের উপর হাত রেখে আয়াতের মা মুচকি হাসি দিলেন। যার মানে সব ঠিক হয়ে যাবে৷ কিন্তু মায়ের মন তো আর সান্ত্বনা মানে না।

ঘরে ঢুকে আয়াতের ব্যাগ থেকে আয়াতের ব্যবহার করা টাওয়েল, ট্রাউজার আর একটা টি-শার্ট নিয়ে নিল। পেছনে ফিরতে গিয়ে কারো সাথে ধাক্কা খেয়ে খাটের উপর পরে গেলো৷ খাটের উপর কাপড় হাতের ভাজে ভরে কোলে নিয়ে বসে আছে। মায়ের দেরি দেখে আয়াত নিজেই কাপড় আনতে ঘরে আসে৷ কিন্তু আয়াত ঘুনাক্ষরেও ভাবে নি মেহের এখানে থাকবে আর তাকে দেখে এভাবে ভয় পেয়ে যাবে৷
“তুমি ঠিক আছো তো, লেগেছে কোথাও?”
আয়াত অস্থির হয়ে হাটুর উপর ভর দিয়ে বসে জিজ্ঞেস করতে লাগলো৷ আজ সকাল থেকে আয়াত একের পর এক কথা বলে মেহেরকে বারবার লজ্জায় ফেলছে তাই সে কোনো উত্তর দিতে সক্ষম হলো না৷ একবার তার সামনে থাকা অস্থির মানুষটার দিকে তাকিয়ে আবার চোখ নামিয়ে ফেললো৷ হাতে থাকা কাপড়গুলো আয়াতের হাতে দিয়ে উঠে দাঁড়ায়৷ সাথে সাথে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়৷ এই ছেলের লাগাম ছাড়া কথা আবার কখন শুরু হয়ে যায় তাই সে তাড়াতাড়ি চলে আসে৷ আয়াত মেহেরের যাওয়ার পানে তাকিয়ে থাকে।
“এই মেহেরের আবার কি হলো?”
হাতের কাপড় গুলোর দিকে তাকিয়ে হেসে দেয় আয়াত।
“ইস না আসলেও পারতাম, তাহলে মেহের নিজে গিয়ে কাপড় দিয়ে আসতো আমাকে।”
আয়াত উঠে দাঁড়ায়৷ তারপর বিহানের সাথে পুকুরে গোসলে চলে যায়। অনেকক্ষণ গোসল করার পর তারা ঘরে চলে আসে৷ রাতের খাবার সবাই একসাথে খেয়ে যার যার ঘরে চলে যায়৷ তবে মুরব্বিরা সবাই বাড়ির উঠোনে বসে গল্প গুজব করছে৷ আয়াত ঘরে গিয়েই ঘুমের দেশে পারি দেয়৷ সারাদিনের ক্লান্ত শরীর বিছানায় লাগানোর সাথে সাথেই চোখে ঘুমেরা ভর করে নিয়েছে৷ রাতে কারো সাথে তেমন একটা কথা হয়নি আয়াতের। রিয়ান এখনো মেহেরের কাছেই বসে আছে মাহিকে কোলে নিয়ে৷ এই ছেলেটা সারাদিন মাহির সাথেই ঘুরঘুর করেছে। মেহের রিয়ানের মাথার চুলগুলো নেড়ে দিয়ে বলে,
“তোমার কি ঘুম আসছে না রিয়ান! আর কত খেলবে মাহিকে নিয়ে?”
“মেহের আপু জানো তো আমার না বাচ্চাদের খুব ভালো লাগে। আমিতো ভেবেছি আমার যখন বিয়ে হবে আমি আর আমার বউ অনেকগুলো বাচ্চা নিব। সার বাড়ি আমার বাচ্চা কাচ্চা দিয়ে ঘিরে থাকবে।”
ক্লাস এইটে পড়ুয়া রিয়ানের কথা শুনে মেহেরের দম ফাটানো শব্দের হাসিতে যেনো পুরো বাড়ি কাপিয়ে তুলছে৷ মেহের আর বিথীর ঘরের পাশের ঘরটায় আয়াত ঘুমিয়ে আছে৷ হাসির শব্দে আয়াত মাথার নিচে থাকা বালিশ টেনে মাথার উপর দিয়ে বলে,
“এই মেয়েটা আমাকে ঘুমাতেও দিবে না। এই মেয়েটা এভাবে হাসলে শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যাব আমি কেন বুঝে না।”
বলেই মুখে হাসির রেখা টেনে আবার ঘুমিয়ে পরলো আয়াত৷

চলবে,,,,

#দুপাতার_পদ্ম
#পর্ব_১৮
#Writer_Fatema_Khan

ফজরের নামাজ শেষে মাত্র শুয়েছিল মেহের৷ সাথে সাথে ঘরের দরজায় কড়া নাড়লো কেউ।
“এত সকাল বেলা কে হতে পারে?”
মেহেরের ভাবনার মাঝেই আবার দরজায় কড়া নাড়া শুরু হলো। মেহের পাশে তাকিয়ে দেখে বিথী আর মাহি বেঘোরে ঘুমাচ্ছে৷ হবু বরের সাথে অর্ধেক রাত অবদি কথা বলছিল বিথী তাই তার ঘুম ভাঙছে না। মেহের ধীরে বিছানা ছেড়ে উঠে দরজা খুলে দিল৷ সামনে কাসফি আর কনিকাকে দেখে ভূত দেখার মতো কিছু দেখে ফেললো মনে হয়। কাসফি তাও এত সকালে ঘুম থেকে উঠে পরেছে৷ কাসফির কপালে গলায় হাত দিয়ে দেখতে লাগলো জ্বর আছে কিনা।
“এই আপু কি করছো এসব?”
“দেখছি আমাদের কাসফির জ্বর এলো কিনা, যে মেয়েকে জোর করে কেউ ঘুম থেকে উঠাতে পারে না সেই মেয়ে কিনা এত ভোরে আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে!”
“আচ্ছা আপু ফাজলামি ছাড়ো তো। এখন আমাদের সাথে চলো।”
“কোথায় যাব এত ভোরে?”
কনিকা বললো,
“মামা তো বললো তোমাকে নাকি কাল বলে রেখেছে সকাল সকাল তোমাকে কিছু দেখাবে।”
“ওহ হ্যাঁ, মনে আছে। তা কি দেখাবে?”
“তুমি চলো তো আমাদের সাথে।”
“এক মিনিট দাড়া ওড়না টা নিয়ে নেই।”
মেহের ঘরের ভেতর ঢুকে মাহি আর বিথীর গায়ে কাথা টেনে দিয়ে ওড়না ভালো মত মাথায় আর গায়ে জড়িয়ে নিল। শহরে শীতের আভাস না থাকলেও সকাল সকাল ভালোই ঠান্ডা পরছে৷ চারপাশে হালকা কুয়াশাও দেখা দিচ্ছে৷ মেহের কাসফি আর কনিকার সাথে বেড়িয়ে গেলো৷ বাড়ির বাইরে বেড়িয়ে গেলো তারা তিনজন। কিছুটা দূর যেতেই কাসফি আর কনিকা ছুটে রাস্তার পাশে থাকা বড় পুকুরের কাছে চলে গেলো৷ মেহের আস্তে আস্তে এইদিকে যেতে থাকে৷ অনেক মানুষের সমাগম দেখা যাচ্ছে৷ এত সকালে একমাত্র গ্রামেই এত মানুষ দেখা যায়। শহরে এত সকালে মানুষ ঘুমে বিভোর থাকে৷ কিছুটা এগিয়ে পুকুরের সামনে দাঁড়ালো মেহের। পাশেই আনিকা, কনিকা আর কাসফি। আনিকা মেহেরকে দেখে মন মুগ্ধকর একটা হাসি দিয়ে বললো,
“এসেছো তুমি, আমি তো তোমার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম।”
মেহের সৌজন্যমূলক হাসি দিয়ে সামনে তাকালো। পুকুরে মাছ ধরছে গ্রামের ছেলেরা৷ পুকুরটা আয়াতের মামাদের। পুকুরে রিয়ানও আছে৷ তবে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো বিহান আর আয়াতও মাছ ধরায় যোগ দিয়েছে৷ আয়াতের পরনে একটা লুংগি গায়ে কিছুই নেই। তবে এরা তিন ভাই মাছ ধরছে কম কাদা মাখামাখি করছে বেশি। জেলেরা মাছ ধরাতে ব্যস্ত সাথে উপর থেকে আয়াতের বড় মামা আর ছোট মামা বলে যাচ্ছেন কোন মাছ রাখবেন আর কোন মাছ আবার পানিতে ছেড়ে দিবেন৷ সেখানে আনিকার বাবা আর মেহেরের বাবা আর চাচাও উপস্থিত ছিলেন৷ মেহের এক দৃষ্টিতে আয়াতের দিকে তাকিয়ে আছে৷ এই প্রথম আয়াতকে এমন ভাবে দেখলো মেহের। আয়াত বরাবরই পরিপাটি ছেলে, নিজের সবকিছু একদম পারফেক্ট রাখে সবসময়। কিন্তু আজ ছেলেটা বড্ড অগোছালো বড্ড চঞ্চল। প্রায় ঘন্টাখানেক পর আয়াতের বড় মামা মাছ ধরা বন্ধ করতে বললেন৷ জেলেরা সবাই নিজেদের জাল নিয়ে উঠে আসলো আর মাছ আয়াতের মামার কাছে দিয়ে গেলো। কয়েকজন লোক মিলে মাছগুলো বাড়িতে নিয়ে গেলো। আয়াত, বিহান আর রিয়ান পুকুরে সাঁতার কাটছিল৷ মেহেররা এখনো পুকুরের কাছেই দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ কারো গলার শব্দে পেছনে তাকায় সবাই। বড় মামা দাঁড়িয়ে আছেন।
“কিরে তোরা সব এখানে কেন, বাড়িতে যা দেখ গিয়ে কত মাছ পাঠিয়েছি বাড়িতে৷ আমার একটু বাজারে কাজ আছে ওইখানেই যাব, তোরা বাড়ি যা।”
বলেই উনি হাটা ধরলেন। মেহেররাও বাড়ির দিকে যেতে লাগলো। তাদের পেছনে আয়াত, বিহান আর রিয়ানও আসছে। তাদের গায়ে সব কাদামাটি। বাড়ির ভেতর ঢুকতেই আয়াত মেহেরের কাছে গিয়ে বললো,
“আমার কাপড়গুলো তুমি বা কাউকে দিয়ে একটু বাড়ির ভেতরের পুকুরের ঘাটে পাঠিয়ে দিও। এই অবস্থায় তো আর ঘরের ভেতর যেতে পারব না৷”
আয়াত আর কথা না বাড়িয়ে পুকুরের দিকে এগিয়ে গেলো। মেহের আয়াত যে ঘরে থাকে সেই ঘরে গিয়ে ওর কাপড় নিয়ে বেড়িয়ে এলো। দরজার সামনেই আনিকা দাঁড়িয়ে আছে। আনিকা কাচুমাচু করতে করতে মেহেরের হাত থেকে কাপড় নিয়ে বললো,
“আমিই দিয়ে আসছি আয়াত ভাইয়াকে কাপড়, তুমি বরং সবার সাথে কথা বলো।”
মেহের আর কথা বাড়ালো না হাসিমুখে দরজা ছেড়ে উঠোনের দিকে যেতে লাগলো। আনিকা খুশিতে পুকুরের ঘাটে চলে গেলো। মেহের উঠোনে গিয়ে দেখলো মেহেরের মা, চাচী, আয়াতের বড় আর ছোট মামী, খালা সবাই মিলে মাছ কাটায় ব্যস্ত। ছোট বড় অনেক মাছ ধরা পরেছে জালে। এত মাছ যে সবাই মিলেও অনেক সময় লেগে যাবে কাটতে। মেহের পাশেই দাঁড়িয়ে দেখছিল। পাশেই হাই তুলতে তুলতে বিথী এসে দাড়ালো। মেহের বিথীকে দেখে মুচকি হাসলো।
“আমিও ঠিক এভাবেই রাত জেগে আবিরের সাথে কথা বলতাম বিয়ের আগে। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে সবকিছুই মরিচিকা। সবকিছুই বাচ্চামো ছিল, না হলে কি আর মানুষ চিনতে ভুল করি।”
নিজেই নিজের উপর হাসছিল তাও তাচ্ছিল্যের হাসি। মেহেরকে এভাবে হাসতে দেখে বিথী বললো,
“কি হলো আপু তুমি এভাবে হাসছো কেনো, কিছু কি ভাবছো? আমাকেও বলনা কি নিয়ে হাসছো! আর তোমরা নাকি সকালে মাছ ধরা দেখতে গিয়েছিলে আমাকে নেও নি কেনো?”
“তুমি তো রাতভর জেগে ছিলে তাই তোমার আরামের ঘুম আমি নষ্ট করতে চাই নি। তাই সকালে ডাকি নি।”
বিথী যেনো কিছুটা লজ্জা পেলো তা বিথীর লাল হওয়া গাল দেখেই বুঝা যাচ্ছে। হয়তো তাদের ভালোবাসার কোনো কথা মনে পরে গেছে৷ মেহের বিথীর লজ্জা মাখা মুখ দেখে নিজের অতীতে ডুব দিল।
“আমিও তো কত শত রাত না ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিয়েছি। ছোট্ট কাসফি পাশে পরে পরে ঘুমাতো। কাসফির যেনো ঘুম না ভাঙে সেই দিকে খেয়াল রেখে বারান্দায় গিয়ে বসে বসে কথা বলতাম৷ আবিরের সাথে কথা বলতে বলতে কখন যে ভোর হয়ে যেত সেই খেয়ালই থাকত না। আজানের শব্দে ফোন রাখতাম দুইজনেই৷ তারপর নামাজ পড়ে তাকে নিজের করে পাওয়ার জন্য দোয়া করতাম। আর সে দোয়াও একদিন পূরণ হলো।”
মেহেরের ভাবনার মাঝেই কাসফি এসে মেহেরের হাত টেনে ধরে। মেহের চমকে যায় কাসফির হঠাৎ এসে হাত ধরাতে। মেহের আশ্চর্যজনক ভাবে কাসফির দিকে তাকালো। কাসফি মেহেরকে আর বিথীকে তার সাথে টেনে নিয়ে বললো,
“আপু চলনা আমার সাথে একটা মজার জিনিস দেখাব।”
আর বাক্যব্যয় না করে মেহের আর বিথী কাসফির সাথে গেলো। বাড়ির ভেতরেই ছোট একটা পুকুর৷ এটাতে বাড়ির মহিলা পুরুষ তাদের কাজ করে থাকে। আর গোসলের জন্য আলাদা কলপাড় তো আছেই। তাদেরকে নিয়ে কাসফি সেই পুকুর ঘাটেই গেলো৷ সেখানে আয়াত, বিহান আর রিয়ান সাতার কাটছে৷ আর আনিকা আয়াতের কাপড় হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, পাশেই কনিকা হাতে তালি দিচ্ছিলো তাদের সাঁতার দেখে৷ মেহেররাও যোগ দিল তাদের সাথে। মেয়েরা সবাই ঘাটে বসে আছে৷ আয়াতের মামা পুকুরের উপর বসার জন্য পাকা করে দিয়েছে। সেখানেই সবাই বসে আছে৷ মেহের যে এসেছে সেদিকে আয়াত এখনো খেয়াল করেনি৷ সে নিজ আনন্দে সাঁতার কেটে যাচ্ছে৷ গোসল শেষে তারা উপরে উঠে আসলে আনিকা এগিয়ে গিয়ে আয়াতকে তার কাপড় দেয়৷ বিহান বিথীকে বললো,
“বিথী আমার কাপড় গুলো ওইখানে একটু নিচে নিয়ে আয়৷”
বিথী হাসি মুখেই বিহানকে কাপড় এগিয়ে দিল। রিয়ান মুখ বাকিয়ে বললো,
“বাব্বাহ! সবাই সবাইকে দিল আর বলিনি বলে কেউ আমার কাপড় এগিয়ে দিল না।”
বলেই উপরে উঠে নিজের কাপড় নিয়ে চেঞ্জ করতে লাগলো৷ সবাই তার কথা শুনে হেসে উঠলো। বিহান বললো,
“তুই এত হিংসুটে কেন রে?”
মেহের রিয়ানকে কাছে টেনে নিজের কাছে বসিয়ে বললো,
“রিয়ান একদম হিংসুটে নয় ভাইয়া, ও তো অনেক লক্ষী আর আদুরে ছেলে।”
বলেই রিয়ানের হাত থেকে গামছা নিয়ে মেহের রিয়ানের চুল মুছে দিল। আয়াত মেহেরের দিকে তাকিয়ে ছিল যতক্ষন সে ঘাটে ছিল৷ ছেলেরা চলে গেলেও মেয়েরা ঘাটে বসে অনেকক্ষণ যাবত গল্পে মজে থাকল। কখন যে বেলা ১০টা পেরিয়ে গেছে কারো কোনো খেয়ালই নেই। তারা সবাই বিভিন্ন কথা বলাতে ব্যস্ত। তবে সবচেয়ে বেশি বকবক করছিল কাসফি আর কনিকা৷ এরা নিজেদের স্কুলের কথা বলছিল আর বাকিরা টুকটাক কথা বলছিল৷ আয়াতের মা এসে সবাইকে খাবার ঘরে যেতে বললো। সকালের খাবার এখনো কেউ খায় নি৷ সবাই মাছ নিয়ে এতক্ষণ ব্যস্ত থাকায় সকালের খাবারের দিকে নজর দিতে পারেনি। মেয়েরা সবাই আয়াতের মায়ের কথামতো খাবার ঘরে খাবার খেতে গেলো৷ তবে অবাক করার বিষয় হলো সকালের নাস্তার বদলে দুই ধরনের ছোট মাছ গরম ভাত সাথে ডাল আর টাকি মাছের ভর্তা করা হয়েছে। সবাই এত মজার খাবার দেখে তাড়াতাড়ি খেতে বসে পরলো৷ সবাই খেতে আসলেও আয়াত আর বিহানকে দেখা গেলো না৷ মেহের বিষয়টি খেয়াল করেও কিছুই বললো না৷ তবে আনিকা জিজ্ঞেস করেই ফেললো,
“খালামনি আয়াত ভাইয়া আর বিহান ভাইয়া খাবে না? ওনারা তো এলো না।”
আয়াতের মা মুচকি হেসে উত্তর দিল,
“ওরা খেয়ে বেড়িয়ে গেছে৷ কি নাকি কাজ আছে এদের। আমি বুঝি না বাপু বোনের বিয়েতে এসে এদের কাজের শেষ নেই।”
খাওয়া শেষ করে সবাই যে যার ঘরে চলে গেলো৷ মেহের নিজের ঘরে যায় নি বেশি একটা। সারাদিন মা, চাচী আর মামীদের সাথেই ছিল৷ ওনারা কত শত গল্প গুজব করে কাজ করে। এত কাজ করছে তাতে তাদের কোনো ক্লান্তি নেই যেন। আর দুইদিন পরেই শুরু হবে বিথীর বিয়ের আয়োজন। প্রথমে গায়ে হলুদ, বিয়ে, বউ ভাত সবকিছু নিয়েই আলাপ হচ্ছিল সবার মাঝে। তবে মেহের খেয়াল করলো আজ সারাদিন আয়াতকে একবারের জন্যও বাড়ির ধারে কাছে দেখা গেলো না। বিহান দুপুরের দিকে এসে খেয়ে গেছে কিন্তু আয়াত আসে নি৷ দুপুর গড়িয়ে রাত হয়ে এলো আয়াত এখনো ঘরে ফিরে নি। মেহের চিন্তা করলেও কাউকে কিছুই জিজ্ঞেস করেনি৷ কারণ সে জানে তার মা বা চাচীকে জিজ্ঞেস করলেই তারা আবার আকাশ পাতাল চিন্তা করে খুশি হয়ে উঠবেন। এই বুঝি মেহের আয়াতকে মেনে নিয়েছে৷ তাই মেহের আর যেচে কিছুই জানতে চায় নি। রাতে মাহিকে খাইয়ে নিজেও রাতের খাবার খেয়ে ঘরে এসে শুয়ে পরলো। বিথী আসলো তার কিছু সময় পর৷ মাহি ততক্ষণে ঘুমিয়ে পরেছে৷ বিথী আস্তে আস্তে কথা বলায় ব্যস্ত। মেহের সেদিকে কান দিল না। কারো ব্যক্তিগত জীবনে সে একদম হস্তক্ষেপ করতে চায় না। তাদের ব্যক্তিগত কথা তারা নিজেরাই বলুক সে এগুলোতে কান দিতে চায় না। রাত তখন ১২টা বাজতে চললো মেহেরের চোখে আজ ঘুম নেই। আসলে সে আয়াতের জন্য চিন্তা করছে।
“আয়াত বাড়িতে এসেছে নাকি আসেনি কে জানে? ভালো লাগছে না কিছু, কই গেলো আয়াত? সারাদিন তার দেখা নেই ভালো আছে তো সে?”
এত ভাবনার মাঝেই বিথীর ডাকে তার দিকে তাকালো মেহের৷
“কি হয়েছে আপু? তুমি এখনো ঘুমাও নি যে কিছু কি হয়েছে তোমার?”
” না সেরকম কিছুই না ঘুম আসছিল না আমার তাই জেগে আছি৷ তুমি ঘুমিয়ে পর আমিও ঘুমিয়ে যাব এখন।”
বিথীর কথা শেষ তাই সে বালিশের কাছে মোবাইল রেখে পাশ ফিরে শুয়ে পরলো৷ মেহের মোবাইল চেক করে দেখলো রাত ১টা বাজতে চললো। হঠাৎ মেহেরের ফোনে একটা মেসেজ আসলো।

চলবে,,,,

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ