গল্প:-দুলহানীয়া পর্ব:-(০৮)
লেখা:- AL Mohammad Sourav
!!
রাতে ঘুমানো সময় নিচে শুয়ে ছিলাম একা কিন্তু এখন তো দেখছি আমি খাটের উপর শুয়ে আছি তাও আবার আশফিকে জড়িয়ে ধরে। চোখ গুলি বন্ধ করে আশফিকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতেছি কিন্তু ছাড়াতে পারছিনা। তখনি দেখি আশফি কুল বালিশের মত পেচিয়ে আমাকে ধরেছে। নাহ এভাবে কতক্ষন থাকলে আশফির প্রেমে পড়ে যাবো ঠিক তখনি এক জাটকাই নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়েছি আর আশফি নিচে পড়ে গেছে সাথে সাথে চিৎকার দিয়েছে।
আশফি:- ওমা মরে গেলাম! তখনি লাফ মেরে গিয়ে ওর মুখ চেপে ধরেছি।
আমি:- এই চেচাচ্ছো কেনো?
আশফি:- (আমার হাতটা সরিয়ে বলে) আমাকে ফেলে দিলেন কেনো?
আমি:- খাটের উপর আমি গেলাম কি করে?
আশফি:- আমি কি করে বলবো? রাতে তো আপনি নিচে ঘুমিয়ে ছিলেন। আপনি খাটের উপর এলেন কি কখন?
আমি:- আমারো তো কথা আমি খাটের উপর কি করে এলাম?
আশফি:- রাতে ঘুমের মাঝে হাটার অব্যাশ আছে নাকী?
আমি:- এই এসব ফালতু অব্যাশ আমার নেই। সামথিং কিছু একটা আছে!
আশফি:- এবার আমাকে টেনে তুলেন?
আমি:- নিজেই উঠতে পারবে বলে উয়াশ রুমে চলে গেছি। ফ্রেশ হয়ে এসে একদম রেডি হয়ে নিচে গেছি দেখি ভাইয়া আর ভাবি খাবার টেবিলে বসে রোমান্টিক মুডে খাবার খাচ্ছে। আমি কাছে গিয়ে কাশি দিলাম তখনি দুজনে নরে চরে বসেছে।
ভাবি:- আরে আলিফ এসো খাবার খাবে।
ভাইয়া:- কিরে রাতে কেমন ঘুম হলো?
আমি:- ভাইয়া তুই কি রে ছোট ভাইয়ের সাথে মজা নিস?
ভাইয়া:- বারে আমি কি করেছি। (তখনি আব্বা এসেছে)
আব্বা:- আলিফ তাহলে তুই আর আমাদের সাথে ব্যবসায় দেখা শুনা করবিনা?
আমি:- নাহ আমি নিজে কিছু করবো এখন কিছু দিন চাকরি করি পরে দেখে বুঝে কিছু একটা করবো।
আব্বা:- তাহলে আমি অফিসে নতুন লোক নিয়োগ দিয়ে দেয় কেমন।
আমি:- ঠিক আছে!
ভাবি:- আলিফ কি করছো তুমি? নিজেদের ব্যবসা থাকতে কেনো অন্যের কাছে চাকরি করতে যাবে।
ভাইয়া:- আলিফ অনেক হয়েছে সব ভুলে আবার চল অফিসে। আমার একা অফিস সামলাতে কষ্ট হয়।
আমি:- নাহ ভাইয়া আমি নিজে কিছু করবো তুই সব কিছু মানিয়ে নিতে পারবি। আম্মা আমি গেলাম তখনি আশফি এসেছে সাদা একটা চুড়িদার পড়ে! বাহ সাদা চুড়িদারে আশফিকে একটু বেশি সুন্দর লাগছে।
আম্মা:- আলিফ শুন আশফিকে যাবার সময় কলেজে নামিয়ে দিয়ে যাস কেমন।
আমি:- পারবোনা ওকে বলো ওর গাড়ি নিয়ে যেতে। আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে বলে বেড়িয়ে চলে এসেছি। আশফি আমার পিছু পিছু এসেছে কিন্ত আমি কোনো কথা বলিনি বাইক বের করে এনেছি।
আশফি:- আমাকে একটু কলেজে নিয়ে গেলে কি হবে আপনার?
আমি:- অনেক কিছু হবে! তুমি গাড়ি নিয়ে চলে যাও। তখনি আশফি এসে আমার বাইকে বসেছে।
আশফি:- প্লিজ আমাকে একটু কলেজে নামিয়ে দিয়ে যান।
আমি:- পারবোনা নামো বলছি তাও আশফি বাইকে বসে আছে! আমি বাইক থেকে নেমে ওকে টেনে নামিয়ে দিয়েছি আশফি অভাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আমি বাইক নিয়ে সোজা চলে এসেছি মাঝ রাস্তায় আসার পর দেখি স্নেহা দাঁড়িয়ে আছে বাসের জন্য! আমি এগিয়ে গেছি আমাকে দেখে স্নেহা অনেকটা খুশি হয়েছে। মিস স্নেহা অফিসে যাবেন আসেন আমার সাথে।
স্নেহা:- ধন্যবাদ ঠিক সময় আসার জন্য!
আমি:- আপনার সাথে আমার পার্সনাল কিছু কথা আছে।
স্নেহা:- কি কথা বলেন?
আমি:- এখন নয় তবে সব কিছু শুনে না করতে পারবেন না প্লিজ।
স্নেহা:- ওকে রাজি আছি! (বাইক নিয়ে আসতেছি তখনি চেয়ে দেখি আব্বা ভাইয়া রাস্তায় জ্যামে। আমাকে দেখে ভাইয়া তাকিয়ে আছে কিন্তু হ্যামলেটে কারনে ঠিক বুঝতে পারছেনা। আমি কিছুটা পাছ কাটিয়ে চলে এসেছি অফিসে)
আমি:- স্নেহা তাহলে আপনি যান আমি আসতেছি। বাইকটা পার্কিং করে অফিসে গেছি।
জুয়েল:- কিরে তোর বউ রেখে স্নেহার পেছনে পড়েছিস কেনো?
আমি:- তাতে তোর সমস্যা কোথায়? তুই তোর মত করে সময় কাটা। জুয়েল মন খারাপ করে চলে গেছে আমি কাজ করতেছি। হাতের কাজ গুলি শেষ করে স্নেহাকে নিয়ে মার্কেটে কাজে বেড়িয়ে গেছি।
স্নেহা:- আচ্ছা স্যার আপনার পরিবারে কে কে আছে?
আমি:- বাবা, মা, ভাই, ভাবি আর আমি।
স্নেহা:- অনেক সুন্দর পরিবার। আপনার কোনো গ্রালফ্রেন্ড আছে?
আমি:- খেজুরে আলাপ বন্ধ করে কাজে মনোযোগী হন। চাকরিতে জয়েন করেছেন মাত্র ৪দিন এখুনি সব জানতে এসেছেন। স্নেহা চোখ গুলো পানিতে টলমল করছে আমি সামনে থেকে চলে গেছি। কিছু কাজ করে নিলাম মুটা মুটি ভালোই কাজ হলো।
স্নেহা:- সরি স্যার কিছু মনে করবেন না আর অফিসে স্যারকে কিছু বলবেন না কারন আমার চাকরিটা চলে গেলে আমাদের পথে বসতে হবে।
আমি:- ঠিক আছে! চলেন কফি খাওয়া যাক স্নেহাকে নিয়ে কফি হাউসে গেলাম। স্নেহাকে কিছু কথা বলেছি স্নেহা শুনে অভাক আর মন ভালো হয়ে গেছে। সন্ধার দিকে অফিসে গেলাম কাজ গুলি গুচিয়ে নিয়েছি। কাল শুক্রবার অফিস বন্ধ তাই আজকে স্নেহাকে নিয়ে কিছু কেনাকাটা করে দিলাম।
স্নেহা:- কিন্তু এই গুলি আমি নিতে পারবোনা!
আমি:- ভালোবেসে দিতেছি নেন আমি অনেক খুশি হবো।
স্নেহা:- ঠিক আছে!
আমি:- ধন্যবাদ আর এই চাবিটা রাখেন এইটা একটা ফ্লাটের নিউ টাউনের। কাল থেকে ঐখানে থাকবেন আপনারা।
স্নেহা:- কিন্তু এত কিছু কেনে দিতেছেন আমাকে?
আমি:- আমি যা যা বলছি ঠিক সেই কাজটা করবেন।
স্নেহা:- তার জন্য এত কিছু দিতে হবে?
আমি:- হ্যা! আচ্ছা রাত অনেক হয়ছে আসেন আপনাকে বাড়ীতে দিয়ে স্নেহাকে নিয়ে বাড়ীতে দিয়ে এসছি।
স্নেহা:- আপনি সত্যি অনেক ভালো আমার জন্য যা করছেন আমি সারা জীবন মনে রাখবো।
আমি:- ঠিক আছে বাই! স্নেহার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ীতে এসেছি দরজার ফোকা দিয়ে দেখি আশফি বসে আছে। কলিং বেল বাজাতেই দৌরে এসে দরজা খুলে দিয়েছে।
আশফি:- আজকে তাড়া তাড়ি চলে এসেছেন?
আমি:- কেনো তোমার কোনো সমস্যা?
আশফি:- সমস্যা হবে কেনো? ফ্রেশ হয়ে আসেন খাবার রেডি করা আছে।
আমি:- ঠিক আছে! আমি রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে এসেছি। আশফি খাবার বেড়ে দিয়েছে আমি খাবার খাচ্ছি। তুমি বসো পরে তো মাথা ঘুরে পরবে আর দোষ হবে আমার।
আশফি:- হ্যা বসতেছি! আশফি আমার সাথে বসে খাবার খেয়েছে। খাবার শেষে দুজনে রুমে গেছি আশফি খাটের উপর শুইতে যাবে তখনি বলি।
আমি:- তুমি খাটের উপর শুইতে যাচ্ছো কেনো?
আশফি:- তাহলে কোথায় শুইবো?
আমি:- নিচে শুইবে কাল খাটের উপর শুইতে দিয়েছি তাই বলে প্রতিদিন দিবো নাকী। এই নাও বালিশ আর চাদর নিচে গিয়ে শুয়ে পড়ো। তখনি মোবাইলে ফোন আসছে চেয়ে দেখি স্নেহার নাম্বার। আশফি আমার দিকে তাকিয়ে আছে আমি মোবাইল নিয়ে বাহিরে চলে এসেছি। স্নেহার সাথে দুই মিনিট কথা বলে ফোন কেটে দিয়েছি কিন্তু ছাদের উপর এমনিতেই ঘুরা ঘুরি করে ২ ঘন্টা পর রুমে গেছি।
আশফি:- এতক্ষন কার সাথে ফোনে কথা বলছেন?
আমি:- তা জেনে তুমি কি করবে?
আশফি:- আমার জানার অধিকার আছে।
আমি:- সেই অধিকার আমি তো দেয়নি তোমাকে! মাত্র তো কিছু দিনের অতীথী সমেয়র ব্যপার। আর ২৫ দিন পরে তোমাকে বাড়ী থেকে বের করে দিবে তুমি কি ভাবছো আমি কিছুই বুঝিনা।
আশফি:- হ্যা আমি এখন যাই বলিনা কেনো তার সব কিছু আপনার কাছে খারাপ মনে হবে। আপনি কি ভাবছেন আমি এত সহজে হার মেনে নিবো?
আমি:- হারমানতে কে বলছে হারিয়ে দিবো! এত কথা না বলে ঘুমাতে দেন তো সকালে আমার কাজ আছে। আশফি কিছু বলতে চাইছে কিন্তু বলার সাহোস হয়নি আমি শুয়ে পড়েছি।
আশফি:- আমিও দেখবো আমাকে আপনি ভালো না বেসে থাকেন কি করে?
আমি:- এখন ঘুমাতে দাও আর যেইটা হবেনা সেইটা জোর করে নিতে চাচ্ছো তাও হবে না।
আশফি:- যদি আপনি আমাকে না ভালোবাসেন তাহলে আমি সারা জীবনের জন্য দূরে সরে যাবো। আর আপনি যদি ভালোবাসেন তাহলে আমাদের বাড়ীতে আমার সাথে যাবেন। আর বাবা মার সাথে সুন্দর করে ব্যবহার করবেন এবং আমার নামে কম্পানিটা আপনি দেখা শুনা করবেন রাজি আছেন?
আমি:- তাহলে তুমি হেরে গেছো তুমি এখনি বাড়ী ছেড়ে চলে যাও।
আশফি:- সময় তো আছে তাইনা এরপর চলে যাবো এখন আমার কথায় রাজি আছেন?
আমি:- ওকে ডান রাজি আছি। তখনি আশফি আমাকে জড়িয়ে ধরেছে আমার বুকের ধুকবুকনি বেরে গেছে। ওকে ছাড়িয়ে এক থাপ্পড় দিয়েছি। তোমার সাহোস হয় কি করে আমাকে জড়িয়ে ধরার আরো কিছু বকা দিয়েছি। আশফি রাগ করে বেড়িয়ে গেছে আমি শুয়ে আছি কিন্তু ঘুম আসছেনা অনেক্ষন হয়ে গেছে আশফি রুমে আশার নাম নেই। আমি ওর মোবাইলে ফোন করেছি দেখি মোবাইলটা রুমে আছে স্কনে আমার ওর সেই ছবিটা দেওয়া। রুম থেকে বেড়িয়ে নিচে গেলাম দেখি নেই হেটে ছাদের উপরে গেছি দেখি আশফি আঁকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। আমি কাছে গিয়ে তারা গননা করতে আরম্ভ করেছি আশফি তাকিয়ে আছে। কি হলো এমন করে এত রাতে ঠান্ডার মাঝে দাঁড়িয়ে আছো কেনো?
আশফি:- আমি মরে গেলে আপনার তো কিছু হবে না! আমার জন্য এত চিন্তা করে লাভ নেই আমি তো আপনার কেও না।
আমি:- যতদিন এই বাড়ীতে থাকবে ততদিন তোমাকে সুস্থ ভাবে রাখা আমার কাজ। আর তোমার কিছু হলে বাবা মা সবাই আমার উপর রাগ করে। এখন এসো রুমে যাবে?
আশফি:- যাবোনা আপনি যান! তখনি আশফিকে কুলে তুলে নিয়েছি। কি হলো কুলে নিলেন কেনো? আমাকে নামান বলছি তা না হলে চেচাবো কিন্তু।
আমি:- চেচাও বলে আশফিকে কুলে করে রুমে নিয়ে এসেছি। রুমে নামিয়ে দিয়ে আমি শুইতে যাবো তখনি আশফি বলে।
!!
To be continue,,,