?ভোর? পর্বঃ ২৫।

0
578

?ভোর? পর্বঃ ২৫।
লেখিকাঃ আয়sHa?
|
|
আলো গিয়ে দরজা ধাক্কা দিয়ে ভিতরে ঢুকে সিঁড়ির দিকে পা বাড়াতেই একজন মহিলা এসে বললো…
|
মহিলাঃঃ থামো………..
|
আলো পিছন ঘুরে একজন মহিলাকে দেখে দাঁড়িয়ে পড়লো।
|
আলোঃঃ আপনি? (প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে)
|
ঃঃ উনি আমার মম আর ভোরের ফুপি।
|
আলোঃঃ ওহ। আসসালামুওয়ালাইকুম ফুপি। (মুচকি হাসি দিয়ে)
|
ভোর জিনিসপত্র নিয়ে ভিতরে ঢুকতেই..
|
ঃঃ Hey ভোর! এই তোমার চয়েজ? শেষ অবধী এমন এক জিনিসকে বিয়ে করলা.. যা রাতে খুঁজেও পাওয়া যাবে না। মম ভোর এই জিনিস নিয়ে তোমার সাথে আর্গুমেন্ট করছিলো? how funny.. ( বলেই মা-মেয়ে মিলে হাসি শুরু)
|
ভোরঃঃ Just shut up রিওনা। ফুপি তুমি কিছু রিওনাকে বলছো না কেন? ও আজেবাজে কথা বলছে কেন?
|
ফুপিঃঃ রিওনাতো ঠিকিই বলছে ভোর। তুই এমন একটা মেয়েকে বিয়ে করবি ভাবতে পারিনি। কি দেখলি এর মাঝে?
|
ভোরঃঃ যা দেখেছি তা তোমাদের চোখে পড়বে না। আমি ওয়ার্নিং দিচ্ছি নেক্সট টাইম আলোকে নিয়ে কোন প্রকার বাজে কথা যেন না শুনি।
|
রিওনাঃঃ এ জিনিসের নাম আবার আলো? ওহ মম আমি তো হাসতে হাসতে শেষ হয়ে যাবো। (হাসি দিয়ে)
|
আলোঃঃ আমি উপরে যাচ্ছি। (ছলছল নয়নে কান্না কন্ঠে)
|
বলেই আলো উপরে রুমে চলে গেলো। বেবিকে শুয়েই দিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো। কিছুক্ষণ পর ভোর এসে আলোর পাশে বসে আলোর দুহাত শক্ত করে ধরে…
|
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share

ভোরঃঃ আমি এজন্যই তোমাকে বাড়িতে নিয়ে আসতে চাইনি। ওরা চলে যাবার পর নিয়ে আসতে চেয়েছিলাম কারন আমি জানতাম ওরা তোমার সাথে কখনোই ভালো বিহেভ করবে না। উনি আমার ফুপি। বাবার বড় বোন। আমার ঐ একটাই ফুপি। ফুপির স্বপ্ন ছিলো রিওনার সাথে আমাকে বিয়ে দিবে। বাবা বেঁচে থাকতেও বাবাকে বহুবার বলেছে.. ভোর দেশে ফিরলে রিওব্নার সাথে বিয়ে দিবো ভাইয়া। কিন্তু বাবা প্রতিবারই ফুপি না বলে দিয়েছে। বাবা সবসময় বলতো.. আমার ছেলে একটা অন্ধ.. প্রতিবন্ধী মেয়ে… যেই হোক.. আমি আমার ছেলের পছন্দকেই মেনে নিবো। আর বাবা জানতে আমি রিওনাকে পছন্দ করি না। আমি ওকে বোনের মতোই দেখেছি। বাবা আমাকে বলতো… ভোর তোর ফুপির নজর আমার প্রোপার্টি দিকে। সে চায় রিওনাকে তোর সাথে বিয়ে দিয়ে সব রিওনার নামে করতে। আমার মায়ের পেটের বোন তো আমি চিনি। আমি যদি না থাকি দরকার হলে প্রোপার্টি সব দান করে দিবি তবুও রিওনাকে বিয়ে করে তার নামে দিবি না। বাবার কথাগুলো আমার কানে আজও বাজে। আমি দেশে আসার পর থেকে ফুপি আমাকে এনিয়ে-বিনিয়ে রিওনার সাথে মিশতে বলতে আর মাঝে বিয়ের কথা বলতো। আগে ওরা এ বাসাতেই পরে থাকতো কিন্তু ওদের এসব বিহেভিয়ার আমাকে দিন দিন অতিষ্ট করে তুলছিলো তাই একদিন ফুপাকে ফোন করে বলি ওদেরকে যেভাবে হোক নিয়ে যেতে। ফুপা ওদের স্বভাব জানতো তাই এসে নিয়ে গিয়েছিলো লন্ডনে। ফুপা অনেক ভালো মানুষ। এই কিছুদিন ওরা হলো এসেছে। ওরা আমাকে অনেক কল করতো কিন্তু আমি রেসপন্স করতাম না। ওরা এখন কেন এসে এমন করছে আমি জানি না আলো। আলো প্লিজ ওরা যাই বলুক তুমি কখনো আমাকে ভুল বুঝবে না কথা দাও? কথা দাও আমাকে ছেড়ে যাবে না?
|
আলোঃঃ কথা দিলাম আপনাকে ছেড়ে যাব না। আর আমার বাড়ি থেকে আমি যাবো কেন? (চোখ মুছতে মুছতে)
|
ভোরঃঃ I love you.. (আলোর কপালে চুমু খেয়ে) যাও ফ্রেশ হয়ে নাও।
|
আলোঃঃ হুমমম….
|
আলো উঠে ফ্রেশ হতে গেলো। ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে ভোরকে ফ্রেশ হতে বলে নিচে গেলো।
|
আলোঃঃ শিউলি.. শিউলি..( সার্ভেন্ট)
|
রিওনাঃঃ এতো চিল্লাছো কেন? দেখছ না টিভি দেখছি?
|
আলো শুনেও না শোনার ভান করে…
|
শিউলিঃঃ জ্বী ম্যাডাম… কিছু লাগবে?
|
আলোঃঃ কেমন আছো তাই বলো?
|
শিউলিঃঃ জ্বী ভালো। আপনি?
|
আলোঃঃ আলহামদুলিল্লাহ। দুপুরে রান্না কত দূর?
|
শিউলিঃঃ এই তো ম্যাডাম হচ্ছে।
|
আলোঃঃ তুমি কষ্টো করে আমার রুমে গিয়ে একটু জিনিসপত্রগুলো আলমারিতে গুছিয়ে রাখো। আমি রান্নাঘরে জোৎস্নার সাথে আছি।
|
শিউলিঃঃ আচ্ছা ম্যাডাম….
|
রিওনাঃঃ শিউলি.. (উচ্চস্বরে)
|
শিউলিঃঃ জ্বী?
|
রিওনাঃঃ যা আমার জন্য এক কাপ কফি নিয়ে আয়।
|
আলোঃঃ শিউলি তুমি যাও আমার রুমে। আমি ওনাকে কফি দিচ্ছি।
|
শিউলি উপরে রুমে চলে গেলো আলোর। আর আলো রান্নাঘরে ঢুকে…
|
আলোঃঃ কেমন আছো জোৎস্না?
|
জোৎস্নাঃঃ ভালো। আপনি? বাবু?
|
আলোঃঃ আলহামদুলিল্লাহ। রান্না কতদূর?
|
জোৎস্নাঃঃ এইতো আর বেশিক্ষণ বাকি নেই। আপনি কেন রান্নাঘরে এলেন এই শরীর নিয়ে? ম্যাডাম আপনি রুমে যান আমি আছি তো।
|
আলোঃঃ আরেহ ঠিক আছে ব্যাপার না। তুমি রান্না করো আমি কফি বানাতে এসেছি।
|
আলো কফি বানিয়ে রিওনাকে দিলো। রিওনা কফিটা হাতে নিয়ে…
|
রিওনাঃঃ তোমাদের এসবে মানায়।
|
আলো চুপচাপ চলে এলো। আর একটা কফি নিয়ে উপরে চলে গেলো।
|
আলোঃঃ শিউলি তুমি যাও। বাকিটুকু আমি গুছিয়ে নিবো। (মুচকি হাসি দিয়ে)
|
শিউলিঃঃ আচ্ছা ম্যাডাম।
|
ভোর ওয়াশরুম থেকে বের হলো। আলো কফিটা ভোরের দিকে এগিয়ে দিলো। ভোর কফিটা একহাতে নিয়ে অন্যহাত দিয়ে আলোকে হ্যাঁচকা টান দিয়ে আলোকে পিছন দিকে জড়িয়ে ধরলো।
|
আলোঃঃ কি হচ্ছে?
|
ভোরঃঃ কফিতে মিষ্টি কম হয়েছে। (কফির মগে চুমুক দিয়ে)
|
আলোঃঃ কোথায় দেখি।
|
কফির মগটা হাতি নিয়ে চুমুক দিয়ে…
আলোঃঃ কই ঠিকই তো আছে।
|
ভোরঃঃ হুম এবার ঠিক আছে। তুমি চুমুক দিছো তাই। (কফিতে চুমুক দিয়ে)
|
আলোঃঃ যা তা তাই না?
|
ভোরঃঃ একটুও যা তা না। তুমি এসব বুঝবে না। রসকষহীন মাইয়া একটা।
|
আলোঃঃ আসছে আমার রসকষযুক্ত ছেলেটা। (হুহহ.. কনুই দিয়ে খোঁচা দিয়ে)
|
ভোরঃঃ আউচ… এভাবে বরকে মারে?
|
আলোঃঃ ইশশশশ ব্যথা পেয়েছেন? দেখি দেখি.. (ভোরকে কাতুকুতু দিয়ে)
|
ভোরঃঃ মুহাহাহাহাহা মিসেস চৌধুরী আমার কোনো কাতুকুতু নাই। কিন্তু অনেক আছে তাই এখন আপনাকে কাতুকুতু দিয়ে শেষ করে দিবো। (আলোর দিকে হাত বাড়িয়ে)
|
আলোঃঃ একদম না বলছি। (আলো বেডের অন্যপাশে চলে গেলো)
|
ভোরঃঃ কে বাঁচায় তোমাকে দেখবো।
|
আলোঃঃ হিহিহি আমার মেয়ে উঠে গিয়েছে। টাটা মিস্টার চৌধুরী। (চোখ টিপি দিয়ে)
|
ভোরঃঃ My princes… আর একটু ঘুমালে কি হতো? (মুখ গোমড়া করে)
|
আলোঃঃ আপনার princes এর খুদা লেগেছে তাই উঠেছে। এখন আপনি রুম থেকে বের হন.. বেবিকে খাওয়াবো।
|
ভোরঃঃ কেন আমি থাকলে খাওয়ানো যাবে না? (অবাক হয়ে)
|
আলোঃঃ না। যাবে না। যান বেবি কাঁদছে।
|
ভোরঃঃ ওকে। (মুখ ভেঁংচি কেটে)
|
ভোর বের হচ্ছে তখন রিওনাও চলে এসে..
|
রিওনাঃঃ এই ভোর কোথায় যাচ্ছো?
|
ভোরঃঃ নিচে…
|
রিওনাঃঃ আমি আসলাম তোমার সাথে একটু আড্ডা দিবো আর তুমি কিনা নিচে যাচ্ছো?
|
ভোরঃঃ হ্যাঁ। কারন এখন আমার বেবিকে আলো খাওয়াবে তাই। চলো নিচে চলো।
|
রিওনাঃঃ কত যে আধিক্যেতা দেখবো। ওহ গড। চলো।
|
আলোঃঃ ভোর? (একটু উচ্চস্বরে)
|
ভোরঃঃ হুমমম বলো…
|
আলোঃঃ আমি যেন উল্টাপাল্টা কিছু দেখি না নিচে গিয়ে… (দাঁত কিটিমিটি দিয়ে মুচকি হাঁসি)
|
ভোরঃঃ ok….
|
রিওনাঃঃ এই মেয়ে তুমি কি বুঝাতে চাইলে?
|
ভোরঃঃ ওর নাম আলো। আর আমি তোমার বড় যেহেতু.. সেহেতু তুমি ওকে ভাবী বলবে। আর আলো সম্পর্কে রিওনা তোমার ননদ হয় আর তুমি চাইলে ওকে নাম ধরে তুই তুই করেও বলতে পারো কারন তুমি তো ওর বড় ভাবী সম্পর্কে। (মুচকি হেসে)
|
আলোঃঃ আচ্ছা। ওকে রিওনা তাহলে এবার তোর ভাইকে নিয়ে নিচে গিয়ে গল্প কর। আমি বেবিকে খাওয়াবো। লজ্জা শরম আমার আছে।
|
রিওনাঃঃ Stupid…
|
বলে রাগে গজগজ করতে করতে চলে গেলো। আর ভোর হাসতে হাসতে আলোর দিকে তাঁকালো.. আলো একটা চোখ টিপি দিয়ে দিলো। তারপর ভোর নিচে চলে গেলো।
|
|
|
চলবে…………
((আপনারা যারা ?ভোর? গল্পটা পড়েন.. মন থেকে পড়েন তো? মনে হয় না। কারন প্রথম পর্বেই বলা হয়েছে ভোর এতিম। ওর বাবা-মা মারা গিয়েছে আর ভোরের মা’তো ছোটবেলায় মারা গিয়েছে। তারপর এই মহিলাকে কি করে ভোরের মা বল্লেন? কষ্ট লাগলো গতকালকের কমেন্ট দেখে.. আপনারা গল্পটা মনের মাধুর্য দিয়ে পড়েন না বলে। মনে হচ্ছে গল্প লেখাটা বৃথা তাই অতি শীঘ্রই গল্পটা শেষ করে দিবো। ?))
|
((ভুল-ত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন। ধন্যবাদ?))

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here