?ভোর? পর্বঃ ২৪।

0
889

?ভোর? পর্বঃ ২৪।
লেখিকাঃ আয়sHa?
|
|
ভোর রেডি হচ্ছে অফিসে যাবে তাই। আলো ভোরের সামনে এসে ভোরের টাই টা হাতে নিয়ে এসে….
|
আলোঃঃ আমি পড়িয়ে দেই টাই টা?
|
ভোরঃঃ ওকে.. দাও।
|
আলোঃঃ কিন্তু আমি তো টাই বাঁধতে পারিনা। (মন খারাপ করে)
|
ভোরঃঃ আমি শিখিয়ে দিচ্ছি দেখো।
|
আলোঃঃ আচ্ছা…
|
ভোর আলোকে দেখিয়ে দিলো কীভাবে টাই বাঁধতে হয় এরপর আলো বেঁধে দিয়ে…
|
আলোঃঃ ইহহহহ কি বাজে হইছে। দিন আবার বেঁধে দেই।
|
ভোরঃঃ থাক আর লাগবে না আমার দেড়ি হয়ে যাচ্ছে।
|
আলোঃঃ না। বলেছি না বেঁধে দিবো আর দেড়ি হলে হোক। হুহহ।
|
ভোর চুপ করে রইল আর আলো টাই বাঁধতে ব্যস্ত হয়ে গেলো। পাক্কা বিশ মিনিট পর…
|

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share


আলোঃঃ হুম এবার একদম ঠিক আছে। আচ্ছা এখন যান।
|
ভোরঃঃ টাইয়ের আয়রন নষ্ট হয়ে গেছে।
|
আলোঃঃ এতো ভাব দিয়ে যেতে হবে কেন? একটু নষ্ট হয়েছে তাতে কি? হুহহ
|
ভোরঃঃ একজন এমডি’কে অবশ্যই পার্ফেক্টভাবে অফিসে যেতে হয়।
|
আলোঃঃ হুমম সুন্দরী স্টাফ’রা আছে।
|
ভোরঃঃ হুসসসসস… ফালতু কথা।
|
আলোঃঃ জানেন আমি গতকাল একটা বোকামী করেছি।
|
ভোরঃঃ কি?
|
আলোঃঃ আমি গতকাল নামাজ পড়েছি ফজরের।
|
ভোরঃঃ তো কি হয়েছে?
|
আলোঃঃ বেবি হলে ৪০দিনের আগে নামাজ পড়া যায় না। যেখানে আজ বেবির বয়স ৬দিন চলে।
|
ভোরঃঃ ওহ তাহলে ৪০দিন পর নামাজ পড়বো?
|
আলোঃঃ আপনি কেন ৪০দিন পড়বেন?
|
ভোরঃঃ কেন? বেবি তো আমারও হয়েছে।
|
আলোঃঃ বেবি কি আপনার গর্ভে ছিলো? (কোমড়ে হাত দিয়ে)
|
ভোরঃঃ না কিন্তু আমারও তো বেবি তাই না?
|
আলোঃঃ এখন আপনার দেড়ি হচ্ছে না? আর আপনি নামাজ পড়ে আমার আর বেবির জন্য দোয়া করবেন এতদিন।
|
ভোরঃঃ হুম। এখন যাই?
|
আলোঃঃ হুম যান।
|
ভোর বেবির কপালে পাপ্পি খেয়ে আলোকে বায় বলে চলে গেলো।
|
এমন ভাবেই আলো আর ভোরের খুনসুটিতে যাচ্ছিলো দিন। আজ ২০দিন পর আলো অনেক সুস্থ। আগামীকাল ওরা ওদের বাসায় ফিরবে রাতে আলোর বাবা-মা কে অনেক কষ্টে আলো রাজি করালো। ভোর আলোকে বাঁধা দিচ্ছিলো। ভোরও চাচ্ছিলো আর ক’টা দিন আলো থাকুক এখানে। কিন্তু আলো শুনলো না কারো কথা। আলোর একটাই কথা ও এখন অনেক সুস্থ। রাতে….
|
আলোঃঃ আপনি এমন করলেন কেন? আপনার শ্বশুর বাড়ি থাকতে খুব ইচ্ছে করছে?
|
ভোরঃঃ না। আমি চাচ্ছিলাম আর কয়টা দিন থাকলে ভালো হতো। তুমি পুরোপুরিভাবে সুস্থ হওয়ার পর গেলে ভালো হতো।
|
আলোঃঃ না। আমরা আগামীকাল সকালেই যাবো।
|
ভোর কিছু না বলে ফোনটা নিয়ে বাহিরে গেলো। আলো বেবির কাছে গিয়ে বসলো।
প্রায় ৩০মিনিট ভোর এখনো রুমে আসছে না তাই আলো উঠে বেলকনিতে গেলো। গিয়ে দেখে ভোর কার সাথে যেন কথা বলছে আর পাঁয়চারী করছে। ভোরকে দেখে আলো বুঝতে পেরেছে ভোর কারো সাথে তর্কতর্কি করছে কিন্তু আলো কিছুই শুনতে পাচ্ছে। ভোর ঘাড় বাঁকিয়ে তাকাতেই আলোকে দেখে। ভোর আর একটু দূরে সরে গিয়ে আলোকে ইশারায় বললো… ঘুমাতে.. ও আসছে। কিন্তু আলোও রাগীলুক নিয়ে বললো এখনি আসতে। ভোর সাথে সাথে কল কেটে দিয়ে চলে এলো রুমে। ভোর রুমে ঢুকতেই আলো দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে….
|
আলোঃঃ আপনি কার সাথে ওভাবে তর্ক করছিলেন ফোনে?
|
ভোরঃঃ তুমি শুনতে পেয়েছে?
|
আলোঃঃ এতদূর থেকে কি শোনা যায়? বলুন কার সাথে কথা বলছিলেন?
|
ভোরঃঃ ঐ আমার এক ক্যালাইন্টের সাথে। ঘুমাবে না?
|
আলোঃঃ হুম। আপনি শুয়ে পড়ুন আমি আসছি।
|
ভোরঃঃ হুমমম…
|
ভোর শুয়ে পড়লো। আলো চুলটা বেঁধে এসে ভোরের বুকের উপরে মাথাটা দিলো। পাঁচ মিনিট পর….
|
আলোঃঃ কার সাথে কথা বলছিলেন? এত কি নিয়ে ভাবছেন?
|
ভোরঃঃ কই কি ভাববো? কিসের টেনশন হবে? ঘুমাও। (চোখ বুঝে)
|
আলোঃঃ আপনি টেনশনে আছেন এটা স্পষ্ট কারন আপনি আমাকে জড়িয়ে ধরেননি। হাত আপনার কপালেই আছে।
|
ভোরঃঃ ওহ। একটু মাথা ব্যথা করছে। কিছু না। ঘুমাও।
|
আলোঃঃ না বলতে চাইলে জোর করবো না।
|
বলে আলো চুপ হয়ে গেলো। একটুপর ভোর আলোকে জড়িয়ে ধরলো। কিন্তু অনেক শক্ত করে। তাই আলো চোখগুলো তাঁকিয়ে দেখে ভোরের চোখের পাতা নড়ছে আর আলোকে ক্রমশ শক্ত করে ধরছে যেন চাইছে আলোকে ভোর নিজের বুকের ভিতর ঢুকাতে চাইছে। আলো কিছু না বলে চুপচাপ চোখ বন্ধ করে রাখলো।
|
আলো ঠিকিই চোখ বন্ধ করে রাখছে কিন্তু ভোরের আলোকে শক্ত করে বুকের সাথে জড়িয়ে নেয়া আরও বাড়ছে তাই আলো ভোরের হাত ছাড়িয়ে দিলো। সাথে সাথে ভোর চোখ খুলে….
|
ভোরঃঃ কি হলো?
|
আলো পাশে শুয়ে ভোরের মাথাটা নিজের বুকে নিয়ে…
|
আলোঃঃ ঘুমান…
|
ভোর কিছু না বলে আলোকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়লো আর আলো চোখ বুঝে ভোরের মাথায় বিলি কাটতে লাগলো। আর মনে মনে নিজের সাথে নিজেই বলতে লাগলো…
|
আলোঃঃ মানুষটা হঠাৎ এমন বাচ্চাদের মতো স্বভাব করছে কেন? এমন ভাব করছে যেন আমি হারিয়ে যাবো। কিসের ভয় মানুষটার মাঝে বাসা বাঁধলো? সে কি হানে ভোরহীনা আলো অন্ধকার? আমি এমন একটা পাগলকে রেখে কীভাবে চলে যাবো? যখন তার ভালোবাসা বুঝিনি তখন ভুল করেছি কিন্তু এখন? এখন তো আমি জানি এই মানুষটা আমাকে কতটা ভালোবাসে? তাহলে তার এতো ভয় কিসের? তাকে এখন এসব জিজ্ঞেস করলে আরও হয়তো বাচ্চাপনা করবে। আমি চাই না এই মানুষটা আমাকে নিয়ে কোনো প্রকার হারনোর ভয় করুক। হুমমম হয়তো তার মাঝে এখনো আমি বিশ্বাসের বাঁধটা মজবুত করতে পারিনি যে আমি তাকে ছেড়ে কোথাও যাবো না কখনো। কিভাবে যাবো আমি যে ভালোবাসি মানুষটাকে। মানুষটা যে আমার অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। উহুমম অভ্যাসে না। বদ অভ্যাসে। আচ্ছা ভোর.. আপনি এই কালো.. কুৎসিত মেয়েটাকে এতো ভালোবাসলেন কি করে? যেখানে আপনি এত সুন্দর.. স্মার্ট.. ড্যাশিং.. রিচ..কত মেয়েরা আপনার জন্য পাগল। আর আমি? মধ্যবিত্ত। আপনার জন্য পাগলও ছিলাম না অবশ্য। তবে আপনাকে প্রথম যেদিন দেখেছিলাম ঐ আমিও মনে মনে ক্রাশ খেয়েছিলাম। এটা আপনাকে কোনদিন বলবো না কারন বললে আপনার ভাব বেড়ে যাবে। পাগলটা কি ঘুমিয়ে পড়লো? (মাথা উঁচু করে ভোরকে দেখে) হ্যাঁ ঘুমিয়ে পড়েছে। পাগল একটা। ভালোবাসি। এখন আমার দুটো বাবু.. একটা বড়..একটা ছোট।
((আলো মনে মনে কথাগুলো বললো আর হাসলো)) তারপর ঘুমিয়ে পড়লো।
|
সকালে উঠে নাস্তা খেয়ে ভোর সব জিনিসপত্র গুছিয়ে সব গাড়িতে রাখলো। আলো রেডি হচ্ছে। বেবিকে অনেক আগেই রেডি করিয়েছে আলোর মা। ভোর রুমে ঢুকে বেডে বসে আছে…
|
আলোঃঃ কি ব্যাপার মুখ কালো কেন?
|
ভোরঃঃ না মানে আর কয়টা দিন থাকলে হতো না?
|
আলোঃঃ মানে?
|
ভোরঃঃ না। বাবা-মা’কে দেখে খারাপ লাগছে তাই আর কি।
|
আলোঃঃ এখন যাচ্ছি অল্প খারাপ লাগবে। এরপর গেলে আরও বেশি খারাপ লাগবে।
|
ভোরঃঃ হুমমম। তুমি আসো। আমি গাড়িতে ওয়েট করছি। (ফোনের দিকে তাঁকিয়ে)
|
আলোঃঃ ওকে।
|
ভোর বেড়িয়ে গেলো। আলো রেডি হয়ে বাবা-মার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বেবিকে কোলে নিয়ে গাড়িতে উঠলো। আলোর বাবা-মা তো কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো এতদিন মেয়েটা যে কাছে ছিলো। বিশেষ করে প্রভাতীর জন্য তাদের বেশি কষ্ট হচ্ছে। শুনেছি নাতি-নাতনি হলে নাকি সন্তানের প্রতি ভালোবাসা কমে যায়.. ভালোবাসা পায় নাতি-নাতনিরা। আলোরও বুকটা ফেঁটে যাচ্ছিলো কিন্তু বাবা-মায়ের সামনে কান্না করলে তারা আরও ভেঙ্গে পড়বে বলে আর তাদের সামনে কাঁদেনি। গাড়ি স্টার্ট দিয়ে আলোর বাড়ি থেকে বের হতেই আলো কেঁদে দিলো।
|
ভোরঃঃ এতো খারাপ লাগলে চলো ফিরে যাই। আর কয়টা দিন থেকে আসো।
|
আলোঃঃ না। আ–আপনি চলুন।
|
ভোর আর কিছু বললো না। গাড়ি চালাতে লাগলো। আলো কিছুক্ষণ পর থেমে গেলো বেবির কান্না শুনে। বেবিকে ঠান্ডা করলো নিজের কান্না থামিয়ে।
|
প্রায় ২ ঘন্টা পর ওরা বাড়ির এসে পৌঁছালো। আলো বেবিকে নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে…
আলোঃঃ আপনি আসুন। আমি রুমে যাচ্ছি বেবিকে শুয়েই দিবো।
|
ভোরঃঃ হুমমম (চিন্তিত কন্ঠে)
|
আলো গিয়ে দরজা ধাক্কা দিয়ে ভিতরে ঢুকে সিঁড়ির দিকে পা বাড়াতেই একজন মহিলা এসে বললো…
|
মহিলাঃঃ থামো………..
|
আলো পিছন ঘুরে মহিলা দেখে দাঁড়িয়ে পড়লো।
|
|
|
চলবে……….
((ভুল-ত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন। ধন্যবাদ?))

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here