?ভোর? পর্বঃ ১৩।

0
651

?ভোর? পর্বঃ ১৩।
লেখিকাঃ আয়sHa?
|
|
আজ প্রায় একমাস আলোর সাথে ভোর কথা বলে না। আলো বলতে চাইলেও ভোর বলে না। ইগনোর করে। ভোরের ইগনোরই আলোকে আরও উইক করে তুলে ভোরের প্রতি ভালোবাসায়। কিন্তু আলো এতটা অবহেলা সহ্য করতে পারছে না। এখন আর আলোকে সিকিউরিটির ভিতর থাকতে হয় না। আলো যখন ইচ্ছা বাহিরে যেতে পারে।
|
আজ ভোর অফিস থেকে রাতে বাসায় আসার পর ডিনার করে অন্যরুমে চলে গেলো। এই একমাস ভোর অন্যরুমে ঘুমায়। আলো অবশ্য অনেক চেষ্টা করেছিলো ওদের রুমে নেওয়ার জন্য। কিন্তু ভোর রীতিনীতি আলোকে ইগনোর করেই গিয়েছে।
|
ভোর অন্যরুমে গিয়ে মাত্র শুয়ে পড়ছে এরমধ্যে আলো এসে লাইট অন করে দরজায় দাঁড়িয়ে ভোরের দিকে তাঁকিয়ে রইল… লাইট অন হওয়াতে ভোর চোখ খুলে আলোকে দেখে….
|
ভোরঃঃ সমস্যা কি আপনার? প্রতিদিন রাতে এমন এক-একটা নাটক করেন কেন? লাইট অফ করে চলে যান। ফালতু।
|
আলোঃঃ আমার আগামীকাল Abortion…
|
বলেই আলো লাইট অফ করে নিজের রুমে চলে গেলো। আর আলোর কথাটা ভোরের কানে বাজতে লাগলো। ভোর যখন বুঝতে পারলো আলোর কথাটা ভোর সাথে সাথে দৌড় দিয়ে আলোর রুমে গেলো। গিয়ে দেখে আলো চুপচাপ বেডে আধোশোয়া হয়ে বসে পা নাড়াচ্ছে।
|
ভোরঃঃ আআআপনি কি বললেন? কিসের Aaaaabortion?
|
আলোঃঃ আমি বেবি রাখবো না। Abortion করবো আগামীকাল। ডক্টরের সাথে কথা বলেছি আজ।
|
ভোর আলোর দুই বাহু শক্ত করে চেপে ধরে….
|
ভোরঃঃ এমন কথা বলার বা চিন্তা করার সাহস কোথা থেকে পাও তুমি? ((রাগী মুডে))
|
আলোঃঃ মানুষের অবহেলায়। আমাকেই এতো অবহেলা করা না জানি আমার বেবি কতো অবহেলা পায়। ((মুখ মলিন করে))
|
ভোরঃঃ তোমার কোনো অসুবিধা যেনো না হয় তাই ঐ সার্ভেন্ট দুজনকে তোমার সাথে রেখেছি তোমাকে ২৪ঘন্টা দেখাশোনা করার জন্য। আর তুমি বলছো বেবির প্রতি অবহেলা হবে?? ((দাঁতে দাঁত চেপে))
|
আলোঃঃ আমার বেবি তার বাবার কোনো যত্ন পাচ্ছে না। আমি দোষ করেছি আমাকে শাস্তি দিন। বেবি তো দোষ করেনি তাহলে সে কেনো সার্ভেন্টদের সেবা পাবে? তার বাবার যত্ন কেন পাবে না? তাই ডিসিশন নিয়েছি বেবিকে দুনিয়ার আলো দেখাবো না। ((কান্না করে))
|

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share


ভোরঃঃ কি চাচ্ছো তুমি এখন?
|
আলোঃঃ কিছু না। আগামীকাল বেবি Abortion করে আমি বাবার বাসায় চলে যাবো। আপনি ডিভোর্স পেপার পাঠিয়ে দিয়েন। অবহেলায় থাকার চেয়ে বাবার ওখানে থাকা ভালো। ((চোখ মুছতে মুছতে))
|
ভোরঃঃ একদম জানে মেরে ফেলবো আর একবার আজেবাজে কথা বললে। ((রাগীমুডে))
|
আলোঃঃ তাও ভালো মেরে ফেলুন। আমারও বাঁচার শখ মিটে গেছে।
|
ভোর কিছু না বলে আলোর দিকে অগ্নিদৃষ্টিতে তাঁকিয়ে রইল। আলোও ভোরের দিকে মায়াময়ী দৃষ্টিতে তাঁকিয়ে রইল। ভোর অগ্নিদৃষ্টিতে তাঁকিয়ে থাকতে থাকতে আলোর দিকে একটাসময় দৃষ্টিতে অগ্নিভাব চলে গেলো।
আলো ধীরে ধীরে ভোরের কাছে চলে গেলো। ভোরের কাছে গিয়ে ভোরের একটা হাত নিয়ে আলোর পেটে রেখে…
|
আলোঃঃ আমি আর আমার বেবি কি এমন অবহেলায় থাকব? ভুল তো সবারই হয়। ক্ষমা করা যায় না?
|
আলোর কথা শুনে ভোর নিজের হাতটা সরিয়ে নিয়ে উঠে যাচ্ছিলো….. আলো ভোরের হাতটা ধরে হ্যাচকা টান দিয়ে নিজের উপর ফেলে ভোরকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো।
|
আলোর কান্না ভোরের বুকে তীরের মতো লাগলো।
|
ভোরঃঃ এসময় এভাবে কান্না করা উচিৎ না। আমার বেবির সমস্যা হবে। ঘুমিয়ে পড়ুন।
|
আলোঃঃ আপনার বুকে নিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিবপন? ((কান্না করতে করতে))
|
ভোরঃঃ এতদিন যখন একা ঘুমাতে পেরেছেন আজও পারবেন।
|
বলেই আলোকে ছেড়ে যাচ্ছিলো..ভোরকে শক্ত করে ধরে….
|
আলোঃঃ প্লিজ…
|
ভোর কিছু না বলে আলোর পাশে শুয়ে পড়লো। আলো ভোরের বুকে শুয়ে ভোরকে শক্ত করে ধরে কান্না করতে লাগলো আরও। কেন যেন আলোর অনেক কান্না পাচ্ছে ভোরের বুকটা পেয়ে। আলোর কান্নায় ভোরের চোখ ভিজে উঠলো কিন্তু আলোকে বুঝতে দেওয়ার আগেই ভোর চোখ মুছে ফেললো..… তারপর নিজেকে শক্ত করে….
|
ভোরঃঃ এভাবে কান্না করলে আমি চলে যেতে বাধ্য হবো।
|
আলো দাঁতে দাঁত চেপে মুখ বুঝে কান্না করছে খুব সাবধানে যেন কান্নার শব্দ ভোরের কানে না পৌঁছে। কিন্তু আমরা যখন মুখ বুঝে কান্না করি তখন কষ্ট আরও বেশি হয় আর কিছু সময় পর পর একটা একটা করে কষ্টের দীর্ঘশ্বাস ফেলতে হয়। যা আরও বেশি কষ্টের হয়। আলোর এমন ৩/৪ টা দীর্ঘশ্বাস পড়াতে ভোর আলোকে বুকের উপর থেকে সরিয়ে আলোকে ভোরের নিচে রেখে আলোর দিকে তাঁকিয়ে আর আলো ভোরের টি-শার্ট ধরে ফুঁপিয়ে কান্না করছে….
|
ভোরঃঃ সমস্যা কি? আছি না এখানে? চলে গেছি? এত কান্নার কি আছে? ((রাগীমুডে))
|
আলোঃঃ আপনার চোখে পানি কেন? ((কাঁদতে কাঁদতে))
|
আলোর কথা শুনে ভোর সাথে সাথে নিজের চোখে হাত দিয়ে দেখে পানি। তাড়াতাড়ি মুছে….
|
ভোরঃঃ রাগে। আপনার কান্না শুনতে শুনতে অসহ্য হয়ে রেগে পানি এসেছে।
|
আলোঃঃ আমার চোখের দিকে তাঁকিয়ে বলুন…
|
ভোরঃঃ কি বলবো? ((আলোর চোখের দিকে তাঁকিয়ে))
|
আলোঃঃ আপনার চোখে রাগে পানি এসেছে.. ((কান্নায় ভাসানো দুটো চোখ আর একটা কন্ঠ নিয়ে))
|
ভোরঃঃ হ্যাঁ.. আপনার উপর রাগে পাপাপা…..
|
আর বলতে পারলো না ভোর। আটকে গেলো ভোর কন্ঠ। আলো ভোরের এমন অবস্থা দেখে এবার ভোরকে নিজের বুকের সাথে ভোরকে শক্ত করে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো। |
|
ভোরের বুকটা ফেটে যাচ্ছে। ভোরেরও ইচ্ছা করছে আলোর মতো হাউমাউ করে কাঁদতে। কিন্তু পুরুষদের যে কাঁদতে বারন। তাই অনেক কষ্টে নিজের কষ্ট বুকে চেপে রেখে কঠোর চেহারা ধারন করলো…
|
ভোরঃঃ উফফফ কি হচ্ছে?? ছাড়ুন আমি ঐ রুমেই ভালো ছিলাম।
|
আলো ভোরকে ছেড়ে ভোরের চোখের দিকে তাঁকিয়ে…
|
আলোঃঃ আমাকে কষ্ট দিয়ে কি পাচ্ছেন একটু বলবেন? ((এবার শুধু চোখ দিয়ে পানি পড়ছে))
|
ভোরঃঃ আপনার জন্য আমার কোনো ফিলিংস নাই। জাস্ট আমার বেবির জন্য সব কিছু। মাইন্ড ইট…
|
ভোরের কথা শুনে আলোর এবার কষ্টে দুঃখে রাগ উঠলো তাই ভোরকে নিজের উপর থেকে সরিয়ে দিয়ে বেড থেকে নেমে….
|
আলোঃঃ না থাকবো আমি? না থাকবে বেবি?
|
বলেই দৌড় দিলো দরজা চাপানো ছিলো। ভোর আলোর কথাটা বুঝতে পেরেই সাথে সাথে আলোর পিছন পিছন দৌড় দিলো। আলো দৌড়ে ছাদে চলে গেলো। ছাদের রেলিং এর উপর এক পা দিয়েছে তখন ভোর এসে আলোকে হ্যাচকা টান দিয়ে নিজের কাছে নিয়ে একটা গালে চড় বসিয়ে দেয়। তারপর আলোর গলা চেপে ধরে আর উচ্চস্বরে বলতে থাকে….
|
ভোরঃঃ কি করতে যাচ্ছিলি তুই মরতে? মরতে যাচ্ছিলি? তোর মরার খুব সখ তাই না? আমি নিজের হাতেই তোকে মেরে ফেলবো। একদম জানে শেষ করে দিবো।
|
বলে আলোকে ছেড়ে দিয়ে পাশের মাটির টবে একটা পাঞ্চ দেয় আর ভোরের হাতটা কেটে রক্ত পড়তে থাকে। ভোর ধুপ করে দোলনাটাতে বসে পড়ে। আলো ভোরের হাতটা দেখে নিজের কামিজটার শেষের অংশ ছিড়ে ভোরের হাতটা জোর করে ধরে বেঁধে দেয়। তারপর আলো ভোরের পায়ের কাছে বসে ভোরের পায়ের উপর মাথা রেখে…
|
আলোঃঃ আপনার বেবিকে দুনিয়াতে নিয়ে এসে আপনাকে দিয়ে আমি চলে যাবো। বেঁচে যদি থাকি ভয় নেই কোনোদিন আসবো না বেবির মায়ের অধিকার নিয়ে। শুধু একটা চাওয়া থাকবে আমার বেবি ভূমিষ্ঠ হবার পর একটা ঘন্টা আমার বুকের উপর রাখবেন। বেবি জন্ম দিতে গিয়ে অনেক সময় ক্রিটিক্যাল সিচুয়েশনে পড়তে হয় মা না হলে সন্তানকে বাঁচানোর কথা আসে। আপনি সন্তানকেই চাবেন জানি কিন্তু হয়তো আমার বাবা-মা আমাকে জীবিত চাইতে পারে তাই ডেলিভারির দিন বাবা-মাকে খবর দিবেন না। আমি যদি ডেলিভারি বেডেই মারা যাই তবুও আমার বুকের উপর আমার সন্তানকে একটা ঘন্টা রাখবেন। আমি জীবিত থাকলেও আমার সন্তানকে বলবেন আমি ওকে জন্ম দিতে গিয়ে মারা গিয়েছি।
বেবি যেনো সুস্থ ভাবে দুনিয়াতে আসে তার জন্য আমি সব করবো ভয় নেই। কিন্তু ঘুম না আসলে কি করব? ও হ্যাঁ ঘুমের ওষুধ খাবো। ঘুমের ওষুধ খেলে কি বেবির কোনো সমস্যা হয়? কালই জেনে নিবো ডক্টরকে কল করে। বমি আসলেও জোর করে খাবো আর বেশি বেশি খাবো। আপনাকে একদম বেবিকে নিয়ে টেনশন করতে হবে না। আপনার দুনিয়া আপনাকে দিয়ে যাবো। আর কখনো উত্তেজিত হবো না। আর কান্না করবো না। আমার ঘুমাতে হবে এখন তা না হলে বেবির সমস্যা হতে পারে। এখন আমার ঘুমাতে হবে। অনেক ঘুমাতে হবে। অনেক….
|
কথাগুলো বলে আলো আস্তে করে উঠে ধীরে ধীরে হেঁটে নিচে সিঁড়ি বেয়ে নেমে গেলো। ভোর আলোর যাওয়ার পানে তাঁকিয়ে রইল।
|
আলো রুমে গিয়ে চুপটি করে চোখ বন্ধ করে শুয়ে পড়লো। চোখ দুটো বন্ধ কিন্তু তা দিয়ে অশ্রুঝরা ঠিকিই ঝড়ছে। আর ঐদিকে ভোর ছাদেই রয়েছে আকাশপানে তাঁকিয়ে। শুধু নিস্তব্ধভাবে দুটো চোখ বারং বার ভিজে উঠছো আর মনটা শুধু অনেক কথা বলে যাচ্ছে। সবশেষে একটা কথাই বলে ভোরের মনটা…. আলো তুমি আমার ভালোবাসা পায়ে ঠেলে দিয়ে চলে গিয়েছিলে। আমার বেবি এসেছে তা জানার পরও কীভাবে তুমি যেতে পারলে? কীভাবে? কীভাবে বলো?
না আমি তোমাকে কোনদিন ক্ষমা করতে পারব না। আমার বেবির অস্তিত্ব তোমার মাঝে ধারন না করলে তখন তুমি চলে গেলো হয়তো নিজের মনকে মানাতে পারতাম কিন্তু তুমি জানার পর কি করে যেতে পারলা আমার বেবিসহ? আমাকে তোমার এই অবহেলাটাই কুড়েকুড়ে খেয়ে তোমার থেকে দূরে সরাতে বাধ্য করছে। আমার ভালোবাসার মূল্য তুমি এভাবে নর্দমাতে ফেলে দিয়ে চলে গিয়েছিলে কি করে? কি করে? কি করে আলো? কি করে??
|
ভোরের চোখ দুটো আবারও ভিজে উঠলো।
|
এদিকে আলো ঘুমিয়ে পড়লো আর ভোরও দোলনায় ঘুমিয়ে পড়লো।
|
|
|
চলবে………
((ভুল-ত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন। ধন্যবাদ ?)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here