?ভোর?পর্বঃ ২৬।

0
592

?ভোর?পর্বঃ ২৬।
লেখিকাঃ আয়sha?
|
|
আলো বেবিকে গোসল করাবে তাই বেবির বাথটাবে হাল্কা গরম পানি.. তার ভিতর সেভলন দিয়ে.. রুমে এসে বেবিকে নিয়ে ছাদে গেলো। আজ প্রথম আলো বেবিকে গোসল করাতে যাচ্ছে তাই একটু নার্ভাস ফিল করছে। বেবিকে ঠিক কীভাবে ধরতে হবে বুঝতে কষ্ট হচ্ছে তবুও চেষ্টা করছে আর বেবি কান্না করছে। এরমধ্যে পিছন থেকে….
ঃঃ একটা বাচ্চাকে গোসল করাতে পারো না.. তুমি আবার চৌধুরী পরিবারের বৌ হবার যোগ্যতা দেখাও? সরে যাও। আমি গোসল করিয়ে দিচ্ছি…
|
আলোঃঃ ফুপি আমি পারবো। প্রথম প্রথম তো তাই একটু সমস্যা হচ্ছে।
|
ফুপিঃঃ তুমি কি তর্ক ছাড়া আর কিছুই জানো না? বেয়াদব মেয়ে কোথাকার। সরো..
|
বলেই বেবিকে কোলে নিয়ে সুন্দর করে গোসল করিয়ে দিয়ে.. টাওয়াল দিয়ে বেবির শরীরের পানি মুছছে।
|
আলোঃঃ ফুপি আপনি গোসল করানোর সময় প্রভাতী হাসছিলো একটুও কান্না করেনি। আর আমি পানিতে নিতেই ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কান্না জুড়ে দিলো। দেখুন এখন আপনার কোলে হাসছে।
|
ফুপিঃঃ বেবিকে কিভাবে আগলাতে হয় তোমরা জানো? না বুঝো? এগুলো গুছিয়ে আসো.. আমি ওকে নিয়ে রুমপ গেলাম।
|
ফুপি চলে গেলো আর আলো মনে মনে বললো….. ফুপি আপনি অতোটাও খারাপ না। যতটা আপনি দেখান। আমার শ্বশুর যদি একজন অমায়িক মানুষ হয় তাহলে আপনার ভিতরও একজন ভালো মানুষ আছে।
|
বলে আলো সব কিছু গুছিয়ে রুমে গেলো। গিয়ে দেখে ফুপি বেবিকে ঘুম পড়াচ্ছে।
|
আলোঃঃ ফুপি ঘুমিয়ে পড়েছে?
|
ফুপিঃঃ আস্তে কথা বলো। দেখছো না আমার নাতনি ঘুমাচ্ছে।
|
আলোঃঃ ওহ হ্যাঁ সরি.. ফুপি ও কার মতো হয়েছে?
|
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share

ফুপিঃঃ একদম আমার ভাবীর মতো। আমার ভাবীর মতো চেহারা পেয়েছে। গায়ের রং ও আমার ভাবীর মতো। ( চোখে পানি চিকচিক করছে)
|
আলোঃঃ আমার শাশুড়ি সুন্দরী ছিলো? (বেডে বসে)
|
ফুপিঃঃ হ্যাঁ আমার ভাবী অনেক সুন্দরী ছিলো। ভাইয়া কালো ছিলো তাই ভাবী সুন্দরী দেখে এনেছিলো আমার মা। আমার মা আবার কালো ছিলো কিন্তু আমার বাবা ফর্সা ছিলো।
|
আলোঃঃ আমি আর ভোর যেমন ফুপি?
|
ফুপিঃঃ তুমি কালো কিন্তু আমার মায়ের মতো না। সব জায়গায় বেশি কথা বলো কেন? (রাগীমুডে)
|
আলোঃঃ ওহ। তা আমার শাশুড়ির সাথে আপনার কেমন সম্পর্ক ছিলো?
|
ফুপিঃঃ ভাবী আমার ছোট ভাইয়ের বৌ ছিলো কিন্তু তার কথা ছিলো একজন মায়ের মতো। সে বড় ভালো মানুষ ছিলো কিন্তু…. (দীর্ঘশ্বাস)
|
আলোঃঃ কিন্তু আপনার কারনেই আমার শাশুড়ি মারা গিয়েছিলো আর তার মৃত্যুর পর আপনি অনেক অনুতপ্ত হয়েছেন কিন্তু ভুল সময়ে।
|
ফুপিঃঃ ভোরকে তুমি তাবিজ করেছো? তোমাকে সব ভোর বলছে? শোন মেয়ে তুমি আমার মেয়ের জায়গাটা নষ্ট করছো। তোমার মেয়ে ভাবীর মতো তাই ধরেছি কিন্তু ভুলে যেও না তুমি আমার চোখে খারাপ। আমি তোমার জন্য ভোরের সাথে আমার মেয়ের বিয়ে দিতে পারি নি। এই তোমার মেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে গেলাম আমি। বেয়াদব মেয়ে কোথাকার.. আমার ছেলেটাকে বশ করে রাখছে। (রাগে গজ গজ করতে করতে চলে গেলো)
|
আলোঃঃ যা বাবা.. ওনার তাড়ে সমস্যা আছে। (মুখ ভেঁংচি কেটে)
|
তারপর আলো শাওয়ার নিতে চলে গেলো। শাওয়ার শেষে বের হয়ে দেখে রিওনা বেবির পাশে বসে বেবির দিকে তাঁকিয়ে আছে……
|
আলোঃঃ রিওনা এখানে কেন?
|
রিওনাঃঃ মম বললো এই মেয়েটা নাকি মামনির মতো দেখতে ছিলো তাই মামনির ছবি দেখে মিল্লাচ্ছি। কিন্তু হাল্কা মিল পাচ্ছি।
|
আলোঃঃ ওহ.. তো দেখা শেষ?
|
রিওনাঃঃ দেখা সেদিন শেষ হবে যেদিন তোমাদের দুজনকে এই বাড়ি ছাড়া করবো। (রাগীলুকে)
|
আলোঃঃ বের হও রুম থেকে এখনি। (চোখ গরম করে)
|
রিওনা বের হয়ে গেলো।
|
রাতে………..
আলোঃঃ শুনুন….
|
ভোরঃঃ বলো… (আধোশোয়া হয়ে ফোন টিপতে টিপতে)
|
আলোঃঃ ফুপি আজ প্রভাতীকে গোসল করিয়ে দিয়েছে আবার ঘুম পাড়িয়েও দিয়েছে।
|
ভোরঃঃ সত্যি?
|
আলোঃঃ হুম। তবে সে আমাকে পছন্দ করেনা আর রিওনা না আমাকে না বেবিকে কাউকেই পছন্দ করেনা। (মন খারাপ করে)
|
ভোরঃঃ পাগলি মন খারাপ করে না। আমি তো আছি।
|
আলোঃঃ হুম। আচ্ছা ঘুমান।
|
ভোর কিছু না বলে ঘুমিয়ে পড়লো। আলোও একটু পর এসে ঘুমিয়ে পড়লো।
|
সকালে…….
রিওনাঃঃ আআআআআ… (হাত ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে চিৎকার দিয়ে)
|
রিওনার চিৎকার শুনে রিওনার মা আর ভোর দৌড়ে এসে….
|
ভোরঃঃ কি হয়েছে রিওনা? চিৎকার করছো কেন?
|
রিওনাঃঃ এই মেয়েকে বলেছিলাম এক কাপ কফি দিতে। কফি এনে এই মেয়ে ইচ্ছা করে আমার হাতে কফি না দিয়ে কফি হাতে ঢেলে দিয়েছে। ওহ মম জ্বলে যাচ্ছে। (ন্যাকা কান্না)
|
ফুপিঃঃ ছিঃ ভোর ছিঃ। তুই এমন একটা মেয়েকে বিয়ে করলি যার ভিতর এতো হিংসে? আমার মেয়েকে পুড়িয়ে মেরে ফেলতে চাইছে।
|
ভোরঃঃ আলো… তুমি এটা ইচ্ছা করে করেছো নাকি এক্সিডেন্ট?
|
আলোঃঃ আমি কিছুই করিনি। যা করার উনি নিজে নিজে করে এমন করছে।
|
রিওনাঃঃ মম দেখো এই মেয়ে আমাকে পুড়িয়ে এখন কত মিথ্যা বলছে। অহহহ মম জ্বলে যাচ্ছে।
|
ভোরঃঃ ওয়েট আমি মেডিসিন নিয়ে আসছি…
|
ভোর উপরে গিয়ে মেডিসিন এনে রিওনার হাতে লাগিয়ে দিলো। রিওনা আলোর দিকে তাঁকিয়ে একটা ডেবিল মার্কা হাসি দিলো। আলো কিছু বললো না। চুপচাপ উপরে রুমে গিয়ে বেলকনিতে বসে আছে কিছুক্ষণ পর ভোর এসে…..
|
ভোরঃঃ আলো আমি জানি ফুপি.. রিওনা তোমাকে সহ্য করতে পারে না। তাই বলে তুমি এমন বিহেভিয়ার না দেখালেও পারতে।
|
আলোঃঃ আপনি এটা বিশ্বাস করলেন আমি করেছি??? (অবাক হয়ে)
|
ভোরঃঃ কেউ নিজে নিজে ইচ্ছে করে তার হাতে গরম কফি ঢালবে না। তাই না? একটু মাথায় রেখো ওরা কিন্তু আমার আপনজন। আর রিওনা বা ফুপি দুজনই বেবিকে অনেক ভালোবাসে। আশা করবো তুমি এমন কাজ দ্বিতীয়বার করবে না।
|
আলোঃঃ আপনি কিননন….
|
আর বলতে পারলো না তার আগেই ভোর বেরিয়ে গেলো আর আলো কষ্টে কেঁদে দিলো এইভেবে.. ভোর আলোকে বিশ্বাস করলো না?
|
রিওনাঃঃ আমি তোমাকে ভোরের জীবন থেকে তাড়িয়ে ছাড়বো। আজকে মাত্র শুরু।
|
ভোর যেতেই রিওনা এসে এইকথা গুলো আলোকে বললো। আলো চোখ মুছে উঠে দাড়িয়ে বললো…
|
আলোঃঃ তোমার মতো হাজার রিওনা আসলেও ভোরের জীবন থেকে আমাকে সরাতে পারবে না। আমি সরবো না।ভোর সরাবে না। আর তোমাকে আমি এক সপ্তাহের মধ্যে ভোরকে দিয়ে ঘাড় ধাক্কা দিয়েই এ বাড়ি ছাড়া করবো। mind it.
|
বলে চলে এলো। আর রিওনা রাগে ফুঁসছে।
|
রিওনাঃঃ মম মম…
|
ফুপিঃঃ হ্যাঁ বল..
|
রিওনাঃঃ ঐ মেয়ে আমাকে বলে ভোর আমাকে ধাক্কা দিয়ে বাড়ি ছাড়া করবে তাও এক সপ্তাহের ভিতর। মম তুমি এমন কিছু বের করো যেন ঐ মেয়ে এ বাড়ি ছাড়া হয় এক সপ্তাহের ভিতর। (চোখমুখ লাল করে)
|
ফুপিঃঃ চিন্তা করিস না। কাল তোর চাচ্চুর ছেলে আসবে এখানে। আমি আসতে বলেছি। ভোরের চোখে সন্দেহের বীজ বপন করবো ওকে দিয়ে।
|
রিওনাঃঃ ওহ মম। you are great. (মমকে জড়িয়ে ধরে)
|
|
|
চলবে………
((ভুল-ত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন। ধন্যবাদ? ))

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here