হারিয়ে যাওয়া পথ খুঁজে পাওয়া,,,, পর্ব-3

13
649

হারিয়ে যাওয়া পথ খুঁজে পাওয়া,,,,

পর্ব-3
লেখা –সুলতানা ইতি

 

এখন ও s,h,c exam দেয়া হয়নি এই পড়া দিয়ে জব পাওয়া টা খুব কঠিন, পাশের বস্তির এক আন্টি কে গিয়ে বললাম আমাকে কয়েক টা বাচ্ছা খুজে দিতে, আমি পড়াবো তাদের কে,
আন্টি বল্লো উনি যে বাসায় কাজ করে ঐ বাসার বাচ্চার জন্য টিচার লাগবে আমি বললাম আন্টি প্লিজ আপনি ওদের কে আমার কথা বলুন আমি পড়াবো,
আন্টি বল্লো কাল সকালে তুমি আমার সাথে যেও,আমি অনেক টা খুশি হলাম
পরদিন সকালে আন্টির সাথে গেলাম ঠিক হলো প্রতিদিন সন্ধার পরে পড়াতে হবে ২০০০ টাকা করে দিবে আমি ও রাজি হয়ে গেলাম, রোজ টিউশনি করে এসে মায়ের সাথে কাজে হেল্প করি,এর মধ্যে মা ও একটা বাসায় কাজ পেয়ে যায়
আমি আর ও কয়েকটা টিউশনি যোগাড় করে ফেলি,
এর মধ্যে এক স্টুডেন্ট এর বাবা ধরে, একটা প্রাইভেট কম্পানিতে জব নিই,বলতে গেলে আংকেল অনেক জরা জরি করে কাজ টা আমায় পাইয়ে দেয়,
সেদিন যে আমি কতো খুশি হয়েছি বলে বুঝাতে পারবো না মাকে নিষেধ করি উনি যেন অন্যের বাসায় কাজ না করে, আমার ৪ টিউশনি আর জব এর টাকাতে মা মেয়ে দুজনের খুব ভালো কেটে যাবে এর মধ্যে বড় আপু ছোট আপুর সাথে যোগা যোগ করি, আমরা ভালো আছি শুনে আপুরা খুব খুশি হলো,
এই ভাবে কয়েকটা দিন কেটে গেলো বস্তির ঐ ভাংগা বাসা টা ছেড়ে দিয়ে ভালো একটা রুম বাড়া করেছি,পড়ন্ত বিকেল এ বসে আছি একটু পরে টিউশিনিতে যাবো ভাবছি কয়েক দিন আগের কথা কি ছিলাম, আর কি হয়ে গেলাম,
অবশ্য এখন ভালো ই আছি আল্লাহর কাছে শত কুটি শুকরিয়া
হঠাৎ মোবাইল এর রিং টনে আমার ভাবনায় ছেদ পড়লো অছেনা একটা নাম্বার কিছু না ভেবেই কল টা রিসিভ করি,কন্ঠ শুনে বুঝতে বাকি রইলো না ফোনের ঐ পাশে কে আছে, হুম আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড অন্নির কথা বলছি

অন্নি: কিরে কেমন আছিস আমার কথা কি মনে আছে তোর

আমি: তোর কথা কি কখন ও ভুলতে পারি,আসলে তোর নাম্বার টা হারিয়ে পেলেছিলাম তাই আর কি,তুই আমার নাম্বার কই পেলি,

অন্নি: সুমি আপুর কাছে থেকে নিয়েছি,আন্টি কেমন আছে রে

আনুশা: ভালো, সেদিন অনেক কথা হলো অন্নির সাথে,টিউশনির সময় হয়ে গেছে তাই অন্নিকে বলে লাইন কেটে দিই,,
পরদিন একি সময়ে অন্নির ফোন

অন্নি: আনুশা তোকে একটা কথা বলতে ফোন করেছি

বল কি কথা?

অন্নি: তুই তো এখন ভালো একটা পর্যায় আছিস,পড়া শুনা টা আবার শুরু কর,তুই অনেক ভালো স্টুডেন্ট ছিলি
কথা টা শুনে খুশিতে আমার চোখ জল জল করছিলো, অন্নি তুই তো খুব ভালো কথা বলেছিস। দাড়া আমি কালকেই ট্রাই করবো, এই কথা টা কথা আমার মাথায় আসেনি আর কেউ আমায় বলে ও দেয়নি,

অন্নি: আমি তো বলেছি, এতেই হবে,

আনুশা: এখন এই সময়ে কি ভর্তি নিবে

অন্নি: নিতে ও পারে রিকুয়েস্ট করে দেখ

আনুশা: আচ্ছা দেখছি,

অন্নি: এখন রাখিরে পরে কথা হবে

আনুশা; ওকে রাখ

মোবাইল রেখে রেডী হয়ে টিউশনি করাতে গেলাম ওখান থেকে রাত ১০ টায় ফিরলাম।

মা: আনু খাবি চল

আনুশা: মা খেতে ইচ্ছে করছে না আমার তুমি খেয়ে নাও

মা:তুই কি কোন ব্যাপার নিয়ে টেনশন এ আছিস?

আনুশা: মা বিকেলবেলা অন্নি কল দিয়েছিলো বল্লো আবার পড়া লিখা স্ট্রাট করতে এখন এই সময়ে কলেজে কি ভর্তি নিবে তাই ভাবছি

মা: এতো ভাবিস না তো আল্লাহ রাজি থাকলে সব হবে চল খেয়ে নিবি,

মা জোর করে খেতে নিয়ে গেলো খেয়ে এসে শুয়ে শুয়ে ভাবতে লাগলাম,আর আল্লাহ কে বললাম আল্লাহ যাতে কলেজ এ ভর্তি হওয়া নিয়ে কোন প্রব্লেম না হয়, রাতে দু চোখের পাতা এক করতে পারিনি

ফজর এর আযান এর সাথে সাথে ওযু করে নামায পড়তে গেলাম নামায শেষ এ আল্লাহর কাছে দুই হাত উঠালাম হে আল্লাহ হে ফারও আরদেগার সবমস্ত সৃস্টির মালিক তুমি, আল্লাহ আমি কোথায় ছিলাম কোথায় এসে দাড়ালাম সব তোমার দয়ায়,হে দয়াময় পরম করুনাময়, দয়া করো গো আমি যেন কলেজ এ ভর্তি হতে পারি কোন জামেলা যেন না হয় আল্লাহ আমার মনের আশা টা তুমি পূর্ন করো আমিন

নামায শেষ এ একটু শুতে গেলাম যদি একটু ঘুমাতে পারি এই আশায়

মা: কিরে উঠ অনেক বেলা হলো

আনুশা: মায়ের কথায় চট করে উঠে বসলাম মা কখন যে চোখ টা লেগে এসেছিলো বুঝতে পারিনি

মা: হুম সেটাই তো কতোইই বা বয়স হলো এই বয়সে কতো পরিশ্রম করিস,আমি মা হয়ে সেটা কি করে সয্য করি বল

আনুশা: উফফ মা তুমি না একটু বেশিই বলছো আমি একদম ঠিক আছি, এর মাঝে মোবাইল বেজে উঠলো,

মা: তুই কথা বল আমি তোর খাবার রেডি করছি

আনুশা: অন্নি বল

অন্নি: কোথায় ভর্তি হবি ভেবেছিস কিছু

আনুশা: নারে ভাবেনি দেখি এখানে কোন কলেজে এডমিশন নিতে পারি কি না

অন্নি: তোকে আর কষ্ট করতে হবে না, আমি তোর কথা বাবা কে বলেছি মতিঝিল একটা কলেজ আছে বুঝলি অই কলেজ এর প্রিন্সিপাল বাবার বন্ধু, তুই সেখানে গিয়ে বলবি আনিস আংকেল পাঠিয়েছে, ব্যাস আর কিছু করতে হবে না তোকে যা করার প্রিন্সিপাল স্যার করবে

আনুশা: কিন্তু অন্নি কলেজ টার নাম।কি,

অন্নি : মোশারফ হোসেন কলেজ

আনুশা : ওকে আমি রেডি হয়ে বের হচ্ছি

অন্নি: তা হলে রাখি টেক কেয়ার,,

ফোন রেখে আনুশা রেডি হয়ে নিলো

মা: কোন কলেজ এ ভর্তি হবি ভেবেছিস কিছু

আনুশা: মা অন্নি ফোন করেছিলো তার পর অন্নি যা যা বলেছিলো সব কথা মাকে বলে
মা: যাক আমি একটু নিশ্চিন্ত হলাম, অন্নি মেয়ে টা খুব ভালো

আনুশা: তা ঠিক বলেছো মা,আমি তো পুরোনো সবার সাথে যোগা যোগ বন্ধ করেই দিয়েছি,তার পরে দেখো অন্নি কেমন আমাকে খুঁজে বের করে পেল্লো

মা: হুম আমাদের এই অসময় ভাবি যে এমন করবে আমি ভাবতে ও পারিনি,আর অই নিহাল কতো বিশ্বাস করে ওর হাতে তোকে উঠিয়ে দিয়েছিলাম

অন্নি: অহ মা তোমাকে না কতো বার বলেছি আমার সামনে ঐ নাম টা উচ্ছারন করবে না,ভুলে থাকতে চাই আমি সব কিছু,তুমি কেনো বার বার ঐখারাপ সময় গুলো আমার মনে করিয়ে দিচ্ছো তুমি কি চাও আমি মরে যাই
মা: এমন করে বলিস না মা,তোর কিছু হয়ে গেলে আমি কি নিয়ে বাঁঁচবো ঠিক আছে আমি আর কোন দিন ঐ সব নাম তোর সামনে বলবো না

আনুশা; ঠিক আছে আমি বের হচ্ছি

মা: কিন্তু তুই তো কিছুই খেলি না

আনুশা: খেতে ইচ্ছে করছে না মা, দোয়া করো আমি আসছি আনুশা বের হয়ে গেলো

মা: আমি জানি মেয়েটার মন আমি খারাফ করে দিয়েছি, কিন্তু টাকা নষ্ট হবে, এই ভয়ে পথে কিচ্ছু খাবে না, এখন কি করি

আনুশা ঠিকানা অনুযায়ী কলেজ এ গিয়ে পৌছলো ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো ১১:৩৯ উফফ জ্যাম এ পড়ে দেরি হয়ে গেলো,এখন প্রিন্সিপাল এর রুম কোন দিকে এই সব ভাবছে আর আনমনে হাটতে হাটতে কলেজ এর ভিতরে চলে গেলো

Comments are closed.