স্পর্শের_বাহিরে_তুমি Part-20

"এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে। আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার। আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন "

#স্পর্শের_বাহিরে_তুমি
#আদরিতা_জান্নাত_জুঁই
#part_20

তিয়াসার পাশে দাড়িয়ে…
রাইসা: কি হলো.? চোখ মুখ এণন চিকচিক করছে কেনো..? একটু আগ পযর্ন্ত ও তো মুখটা বিবর্ন ধারন ছিল…

তিয়াসা কিছু না বলে মাথা নিচু করে রাখে…তখন সেতু দৌড়ে এসে তিয়াসাকে জড়িয়ে ধরে… তিয়াসা ও সেতু কে আগলে নেই… পাশ থেকে..

তন্নী: আমাকে ভুলে গেলে কি করে হবে..।

সেতু কে ছেড়ে দিয়ে তন্নীর দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে..
তিয়াসা: তুই এতোটাও ইম্পর্টেন্ট পারসন না যে তোকে মনে রাখতে হবে… তুই তো একটা চিটিংবাজ….।

তন্নী: বারে চিটিং কি শুধু আমি করেছি…?

তিয়াসা খুশিতে ভুলেই গিয়েছিল…দূরন্ত ও যে ওর সাথে চিটিং করেছে… তিয়াসা দূরন্তর দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকাতেই দূরন্ত মুখটা এমন ভাব করলো যে ও খুব ভয় পেয়েছে… দূরন্তর এমন ইনোসেন্ট মার্কা মুখ দেখে তিয়াসার রাগটা ইনক্রেজ হলো…

তিয়াসা: হ্যাঁ নাটের গুরূ কে পরে দেখছি… আপাতত তুই আমার সামনে থেকে সর…।

তন্নী: ওহহহ..দেখতে অসুবিধা হচ্ছে…
মুখ টিপে হেসে বললো..এবং সাইটে চলে গেলো…।

ওদের কথা বলার মাঝে তিসান এসে তিয়াসা কে নিয়ে একটা চেয়ারে বসালো… তিয়াসা জিঙ্গেসা দৃষ্টিতে তিসান এর দিকে তাকালো…

তিসান: আমি তোকে প্রমিজ করেছিলাম… আজ তোর মতামত নিবো..তুই তো ছেলেকে দেখেছিস..এবং আগে থেকেই চিনিস…তোর কি এ বিয়েতে কোনো আপত্তি আছে..

তিয়াসা নিচের দিকে তাকিয়ে মাথা নেড়ে হ্যাঁ করলো..

তিসান: আমরা চাচ্ছিলাম…

তিসান এর পুরো কথা শেষ করার আগে..
তিয়াসা: তোমাদের যেটা ভালো মনে হয় সেটাই করো…আমার কোনো আপত্তি নেই…।

তিসান: হুমমম তাতো থাকবেই না…
মুচকি হেসে..

তিসান কি বলতে চেয়েছে তিয়াসার বুঝতে বাকি নেই… কিছুটা লজ্জা পেয়ে চেয়ার থেকে উঠে চলে এলো…।

তিয়াসার হঠাৎ এমন হাসি হাসি মুখ দেখে রাইসা কনফিউজড… কিছুক্ষন আগেও যে মেয়ের মুখে ছিল বিরক্তর ছাপ… সেই মুখে এখন খুশির ঢেউ বইছে… রাইসার ধারনা ছেলে টাকে হয়তো তিয়াসার খুবব পছন্দ হয়েছে সে জন্য… রাইসা তো আর এটা জানে না..এটাই যে তিয়াসার তিয়াসার মনের মানুষ… জানবেই বা কি করে… তিসান তো এ কথা কাউকেই জানাইনি… রাইসা কে জানালে নির্গাত রাইসা কোনো না কোনো ভাবে মুখ ফসকে তিয়াসা কে কথাটা বলেই দিতো… তিসান তিয়াসার এই হাসি মুখটা দেখার জন্যই এতো লুকোচুরি করেছে…

রাইসা:আচ্ছা ননদিনীর মখে এমন এলইডি জ্বলে উঠলো কেনো…?

তিয়াসা: ভাবিইই তুমিও…

রাইসা: ওরে আমার লজ্জাবতি রে.. হুমম তোমার চোখ মুখ দেখেই বুঝা যাচ্ছে ছেলেটাকে তোমার মনে ধরেছে…

তিয়াসা মনে মনে: তারমানে ভাবি কিছু জানতো না… হ্যাঁ ভাবি জানলে তো আমিও কোনো না কোনো ভাবে জেনেই যেতাম…

রাইসা: কি হলো..কি ভাবছো…?

তিয়াসা: ভাবছি তোমাকে একটা সত্যি কথা বলবো…

রাইসা: কি কথা বলো..বলো…!

তিয়াসা: বলবো…তবে এখন না…

রাইসা কিছু বলবে তার আগেই সেতু আর তন্নী তিয়াসা কে নিয়ে দূরন্তর পাশে দাড় করিয়ে দিলো…
তিয়াসা দূরন্তর পাশে দাড়িয়ে যা এক্সপ্রেশন এ তাকাচ্ছে না দূরন্তর দিকে… সব ক্যামেরা বন্দি করছে তন্নী…।



,,


এনগেজমেন্ট খুব ইনজয়লি হয়ে গেছে… দূরন্ত আর তিয়াসার তাকানোর মাঝেই খুনসুটি চলেছে… একে অপরের দিকে তাকিয়েই মুখে না বলা অনেক কথা বলে ফেলেছে…দূরন্তর বেশ বুজতে পেরেছে তিয়াসা ছোট খাটো একটা সুনামি তুলবে দূরন্তর উপর… তুলবেই না বা কেনো.. শুধু শুধু মেয়েটা কয়টা দিন ধরে কষ্ট পেয়েছে.. অযথা চিন্তা করেছে… কান্না করেছে…।

এনগেজমেন্ট শেষে তিয়াসা হাটতে হাটতে রিসোর্ট থেকে বাহিরে চলে আসে… বাগানের এক সাইটে দোলনায় গিয়ে বসে…দোলনায় বসে চোখ স্থির করে রেখেছে কিছুক্ষন আগে দূরন্তর পরিয়ে দেয়া রিংটার উপর…যদিও এর আগেও দূরন্ত তিয়াসাকে রিং পরিয়ে দিয়েছিল… সেইদিন এর থেকে আজকের রিং পরিয়ে দেয়ার মাঝে আছে অনেকটা প্রাপ্তি আর প্রশান্তি এবং একে অপরকে পাওয়ার নিশ্চয়তা…
আনমনেই তিয়াসা মাথা নিচের দিকে ঝুকে রিং এর উপর নিজের ঠোঠ ছুইয়ে দিলো..মাথা তুলার আগেই তিয়াসা গালে শীতল কিছুর অনুভব করলো…পাশে তাকিয়ে দূরন্ত কে দেখতে পাই.. দূরন্ত আরাম করে দোলনার উপরে দু হাত মেলিয়ে বসে আছে… একটু আগে যা হয়েছে.. সে বিষয়ে দূরন্তর কোনো ধারনায় নেই এমন ভাব করে বসে আছে…

তিয়াসা: এটা কি হলো…??
গালে হাত রেখে একটু চেচিয়ে বললো…

দূরন্ত: কি হয়েছে…?

তিয়াসা: একদম আদিক্ষেতা করবেন না…এখানে এসেছেন কেনো..?

দূরন্ত: ফুলের কাছে ভোমর আসবে এটাই তো স্বাভাবিক…

তিয়াসা: তাহলে বসে থাকেন ফুলের কাছে…
বলে দোলনা থেকে উঠে পা বাড়াতেই পিছন থেকে দূরন্ত হাত ধরে আটকে দেই..তিয়াসা পিছনের দিকে না তাকিয়েই বারবার চেষ্টা করছে হাত ছাড়িয়ে নেয়ার… না পেরে অবশেষে মুচড়ামুচড়ি শুরু করে দিয়েছে…

দূরন্ত: শুধু শুধু শক্তি নষ্ট করছো… তার থেকে বেটার ফিউচার এর রেখে দাও..কাজে লাগবে…

তিয়াসা: ধরবেন না আমায়..ছাড়েন বলছি…

দূরন্ত: আমি ধরবো না তো কে ধরবে হুমম..?

তিয়াসা: কেউ ধরবে না..

দূরন্ত: ঘুরো আমার দিকে… রাগ করেছো হুমম..?

তিয়াসা: না..

দূরন্ত: আমার দিকে ঘুরবে তো…
সাথে সাথে তিয়াসা কে টান দিয়ে দোলনায় বসিয়ে দিলো…

দূরন্ত: এই দেখো আমি খুবব খুববব স্যরি… আসলে আমি তোমাকে সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম…

তিয়াসা: আমি কোনো সারপ্রাইজ পাইনি…কষ্ট পেয়েছি… এটাকে সারপ্রাইজ বলে না কষ্ট দেয়া বলে…. শুধু এই কয়টা চিন্তা করলাম কষ্ট পেলাম… আপনার কোনো চিন্তাই ছিল না.. আপনি তো বিন্দাস ছিলেন…

দূরন্ত: হ্যাঁ…তোমাকেও বলেছিলাম চিন্তা করো না সব ঠিক হবে দেখো.. তাই তো হলো..

তিয়াসা: আপনারা সবাই পচা.. সবাই আমাকে কষ্ট দিয়েছেন…আমি কারো সাথেই কথা বলবো না…

দূরন্ত: ওলে আমাল পুতুলতা..লাগ কলেনা..এত্তো গুলা চকলেত কিনে দিবো…

তিয়াসা: একদম ঢং করবেন না.. ভার্সিটির সেই প্রথম দিন থেকে মিথ্যা কথা বলে এসেছেন… আর কি কি মিথ্যা বলেছেন হুমমম…??

দূরন্ত: কোথায় মিথ্যা বলেছি..একটা কথাও মিথ্যা বলেনি..

তিয়াসা: শুধু আপনি না আপনার ওই চামচি মানে আপনার বোন ও মিথ্যা কথা বলেছে.. একটা না একশো টা মিথ্যা বলেছে…।

দূরন্ত: ওমন করে বলেনা সোনা.. ও না তোমার একমাত্র ননদ হয়..

তিয়াসা: ইশশশ এতো ঢং শিখেছেন কোথায়..??

দূরন্ত: তোমার চোখের গভীরে… আর শুনো আমি একটাও মিথ্যা কথা বলেনি যা বলার তন্নী বলেছে.. অবশ্য আমি বলতে বলেছি তার জন্যই বলেছে…

তিয়াসা: হ্যাঁ আপনি তো একটা মিথ্যার গোডাউন..
আচ্ছা মানলাম এই বিয়ের পুরো ব্যাপার টা সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য… কিন্তু এটা কেনো বলেন নি তন্নী আর আপনি ভাই বোন…।

দূরন্ত: বলেনি কারন.. তুমিই তো প্রথম দিন যা ডপ মারলে..সে জন্য বলার আর সুযোগ পাইনি.. ভেবেছিলাম তোমার বলা মিথ্যা কথাটা সত্যি করে তবেই বলবো…বুঝেছো…?

তিয়াসা: হ্যাঁ…

দূরন্ত: এখনো কি রাগ করে আছো…??

তিয়াসা:জানি না…



বিয়ের ডেট ফিক্সড হয়েছে..তিয়াসার সেকেন্ড ইয়ার ফাইনাল এক্সাম এর পর… আর মাত্র দু তিন মাস বাদেই তিয়াসার এক্সাম… এর আগে বিয়ের অনুষ্ঠান হলে পরিক্ষায় সমস্যা হবে… তাই পরিক্ষার পর ডেট ঠিক করা হয়েছে…যদিও তিয়াসার বাবা ভাই চেয়েছিলেন তিয়াসার পড়া কম্পিলিট করার পর বিয়ের এরেন্জ করতে… কিন্তু দূরন্তর বাবার কথা তিনি তার বউ মাকে বাকি দু বছর নিজের কাছে রেখেই পড়াবে… এবং তিয়াসার কোনো অসুবিধা হবেনা.. তন্নী যেমন থাকে তিয়াসা ও ঠিক তেমন ভাবেই থাকবে.. বাড়ির বউ নয় মেয়ে হয়ে…

তাই আর তিয়াসার বাবা আপত্তি করেননি.. তিনি খুব টেনশন ফ্রি এমন একটা ঘরে মেয়েকে বউ করে পাঠাতে পারবে ভেবে… সব বাবা মার স্বপ্ন থাকে এমন.. যেটা ইজিলি পূরন হতে চলেছে…।

.
.
.
তিয়াসা ড্রয়িং রুমে শুয়ে শুয়ে টিভি দেখছে…সেন্টার টেবিলের উপর ফোন ব্রাইবেশন হচ্ছে… তিয়াসা ধপ করে উঠে বসে.. নাম্বার না দেখেই রিসিভ করে
তিয়াসা: ফোন দেয়ার আর টাইম পান না…?

তন্নী: ভাবি আমি তন্নী বলছি… আপনি বোধহয় নাম্বারটা দেখেন নি…।

তিয়াসা ফোনের স্কিনের দিকে তাকিয়ে জ্বিব্বায় কামড় দেই…

তিয়াসা:ওহহহ স্যরি স্যরি…

তন্নী: ইটস ওকে ভাবি.. এসময় এরকম হওয়ারই কথা…

তিয়াসা:এই কিসব বলছিস..ভাবি আবার আপনি করে..

তন্নী: হ্যাঁ আমি আমার ভাবি কে ফোন দিয়েছি ফ্রেন্ড কে নয়…তাই…

তিয়াসা: তাহলে রাখছি… আমি এমন ফরমালিটি করে কথা বলতে পারবো না..

তন্নী: আচ্ছা ভাবি আপনি কি সত্যিই ইফাদ এর থেকে আমাকে আলাদা করে দিবেন…?

তিয়াসা: আর একবার যদি ভাবি আর আপনি করে বলিস… তাহলে কিন্তু সত্যিই….

তন্নী: স্টপ স্টপ… এই কথাটা আর মুখে আনিস না… নিজে তো খুব ইজিলি আমার ভাইকে পেয়ে গেছো… যত টেনশন এখন আমার…।

চলবে…

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......

Related Articles

আঁধার পর্ব-১৩ | ১৮+ এলার্ট

আঁধার ১৩. ( ১৮+ এলার্ট ) ঘুটঘুটে অন্ধকারে পড়ে আছি আমি। অন্ধকারের ঘনত্ব এতো বেশি হতে পারে জানা ছিলো না আমার। এতো অন্ধকারে চোখ...

আঁধার পর্ব-১২

আঁধার ১২. " রান্না ভালো হয়নি? " প্রশ্নটা না করে পারলাম না। " হ্যাঁ, ভালো হয়েছে। আমি নিজেও এতো ভালো রান্না করতে পারিনা। বিয়ের...

আঁধার পর্ব- ১১

আঁধার ১১. " তুমি ঠিক এভাবে নিয়ম করে হাসলে আমি তোমার প্রেমে পড়তে বাধ্য হবো। " মুখ ফসকে কথাটা টুক করে বের হয়ে গেল। সাথে...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -
- Advertisement -

Latest Articles

আঁধার পর্ব-১৩ | ১৮+ এলার্ট

0
আঁধার ১৩. ( ১৮+ এলার্ট ) ঘুটঘুটে অন্ধকারে পড়ে আছি আমি। অন্ধকারের ঘনত্ব এতো বেশি হতে পারে জানা ছিলো না আমার। এতো অন্ধকারে চোখ...
error: ©গল্পপোকা ডট কম