সন্দেহ পর্বঃ ২১

1
616

সন্দেহ
সৌরভে_সুবাসিনী(moon)
পর্বঃ ২১
.
.

বাহিরে তুমুল ঝড় বৃষ্টি হচ্ছে। অনু বেশ স্বাভাবিক ভাবে সাম্যর সাথে কথা বলছে।
সবাই মিলে আড্ডার আসর বলা যায়। কথার বিষয় ওদের ছোট বেলা।
কে কেমন ছিলো সেসব৷
অনু হাসতে হাসতে লুটোপুটি খাচ্ছে।
সাম্য তাকিয়ে শুধু দেখছে।
সবাই সেখানে বসেই সন্ধ্যার নাস্তা করলো।
এশার আজান দিতেই মামা মামি উঠে গেলো। নামাজের জন্য।
তখন ওরা তিনজন বসেই ছিলো। সীমন্তিনী তাদের বাড়ির সেই নদীর বাকের কথা বললো৷
যেখানে সচরাচর কেউ যায় না।
কয়েকদিন আগে না কি সে গিয়েছিলো কিন্তু এখন আর তেমন নেই।
অনেক পাল্টে গেছে । নদীর বাক পাল্টেছে।
.
সাম্য অনুর দিকে তাকালো। সেই বাকের সাথে যে অনুও পাল্টে গেছে।
সেখানেই তো সাম্য প্রথম অনুকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলো। অনু জাপ্টে ছিলো তাকে।
সে অনুর চোখে ছিলো ভালোবাসা, ছিলো আবেগ, ভরসা কিন্তু আজকের অনুর চোখে শুধুই বাস্তবতা।
.
.
সীমন্তিনীর ফোনে কল এলো। নীলের সাথে কথা বলতে সে চলে গেলো।
সাম্য কল পেয়ে বাহিরে গেছে।
অনু ধীরেধীরে উঠে দাড়ালো।
নিলয় এখন ব্যস্ত।
কি জানি বাপু! রাতের বেলা কি এমন ব্যস্ততা তার।
মাঝেমধ্যে মনে হয় তার পেটে একটা না কয়েকটা আছে।
না হলে পেট এতো বড় কেনো?
অনু এ বেপারেও নিশ্চিত যে ওর ছেলে হবে কারণ এখনি সে পেটের মধ্যে ফুটবল খেলা শুরু করেছে ।
জানালার পাশে দাড়াতেই বৃষ্টির পানি এসে মুখে লাগছে।
বেশ ভালো লাগছে তার।
একটা আলাদা ভালোলাগা । চুল গুলো হাওয়ায় বেশ উড়ছে।
.
আধো আধো ভাঙা গলায় অনু গান ধরে। রবীন্দ্র সংগীত।
.

.
যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে,

আমি বাইব না মোর খেয়াতরী এই ঘাটে,
চুকিয়ে দেব বেচা কেনা,
মিটিয়ে দেব গো, মিটিয়ে দেব লেনা দেনা পাওনা বন্ধ হবে আনাগোনা এই হাটে–
তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে,
তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে।
যখন জমবে ধুলা তানপুরাটার তারগুলায়,
কাঁটালতা উঠবে ঘরের দ্বারগুলায়, আহা,
ফুলের বাগান ঘন ঘাসের পরবে সজ্জা বনবাসের,
শ্যাওলা এসে ঘিরবে দিঘির ধারগুলায়–
তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে,
তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে।
.
.
হঠাৎ বিদুৎ চমকায় কারেন্ট চলে গেলো।
অনু দাড়িয়েই আছে।
সাম্য দ্রুত এসে ওর রুমে মোম জ্বালায়।
অনুর দিকে তাকাতেই বুকের ভিতর মোচড় দিয়ে উঠে।
ও যে একদম ফুপুর মতো লাগছে।
সেই আদল,সেই চুল, নাকের ডগায় বিন্দু বিন্দু মুক্তোকণা।
.
.
সাম্য- অনু! এদিকে আয়। ঠান্ডা লাগবে।
.
অনু দাড়িয়েই আছে। সাম্য এগিয়ে যেতেই অনু সরে দাঁড়ায়।
.
সাম্য- আশ্চর্য! আমি তোকে কিছু করেছি না কি? ভয় পাচ্ছিস কেনো?
অনু- কেনো ফিরে এলে?
সাম্য- মানে?
অনু- আশা কে কেনো বিয়ে করছো?
সাম্য- সেসব তোর না জানলেও চলবে।
অনু- আমি বাড়ি যাবো।
সাম্য- না!
অনু- কেনো?
সাম্য – কারণ আমি চাইছি না।
অনু- কিসের অধিকার তোমার?
.
সাম্য চুপচাপ বারান্দায় চলে যায়। সিগারেট ধরাতেই অনু ওয়াশরুমের দিকে যায়।
বমি আসছে তার।
সাম্য বুঝে পিছনে যায়।
অনু এবার বমি করেই দেয়।
সাম্য অনুর পিঠে হাত বুলাচ্ছে আর জোড়ে জোড়ে মা কে ডাকছে।
.
সাম্য- মা, ও আবার বমি করছে! দেখো না কি হলো।
.
ওর মায়ের কথা শুনতে সে নারাজ। হ্যাঁ বমি হয় কিন্তু প্রথম পিরিয়ডে এখন কেনো এত বেশি হবে।
দ্রুত সে আশার নাম্বার ডায়েল করে।
.
.
সবে মাত্র রাউন্ড দিয়ে এসে বসেছে আশা। আজ ঝড়ের কারণে হাসপাতালে মানুষ কম।
ইদানীং ফ্রি সময়ে সে সাম্য কে নিয়েই ভাবে।
সাম্যর চোখ, ঠোঁট গুলো খুব টানে।
অপোজিট এট্রাকশন৷ যাই হোক সে চুপচাপ তাকেই চিন্তা করছিলো।
.
ফোনের স্ক্রিনে সাম্যর নাম্বার দেখে সে অবাক। সাম্য তো কল দেয়না। আশা দেয়। টুকটাক কথা বলে।
কিন্তু আজ সে দিয়েছে?
.
.
আশা- আসসালামু আলাইকুম।
সাম্য- অনু বমি করছে। ওর হাত পা কাপছে। আপনি কি আসতে পারবেন? না আমি আসবো ওকে নিয়ে?
.
আশা- চিন্তার কিছু নেই এমন সময় এরকম স্বাভাবিক।
.
সাম্য- কিভাবে স্বাভাবিক? ৩৩ তম সপ্তাহ চলছে। এখনো এমন কেনো হবে? তাছাড়া আজ অনেক ঘুমিয়েছে সে৷
.
আশা- ভাবী আজ অনেকটা পথ জার্নি করে আপনাদের বাসায় গেছে। হয়তো ক্লান্ত৷
চিন্তা করবেন না, দেখুন বমির একটা মেডিসিন ভাবীর মেডিসিন বক্সে আছে। খাইয়ে দিন।
.
সাম্য- আবার বেবির সমস্যা হবে না তো? আপনি হোল্ড করুন আমি মেডিসিন নাম বলছি।
.
সাম্য মেডিসিনের নাম বলে।তারপর আশা যখন বলে এটাই৷ তখন কল কেটে দিয়ে অনু কে খাইয়ে দেয়।
অনু দুচোখ বন্ধ করে।
.
.
রাত দশ টা বাজে। নিলয় আজকে এখনো কল দেয় নি।
অনুর এখন যথেষ্ট ভালো লাগছে।
ফোন হাতে নিলো নিলয় কে কল দিবে বলে।
কয়েকবার রিং হওয়ার পর
.
অনু- কোথায় আপনি? কোন খোজ নেই যে?
.
অপর পাশ থেকে মেয়েলি কন্ঠস্বরে জবাব আসে নিলয় শাওয়ার নিচ্ছে।
.
অনু কিছু বলে না। চুপচাপ বিছানায় গা এলিয়ে দেয়।
.
.
বান্ধুবী দের সাথে আড্ডায় বসে আছে ইরা। সেও অনেক দিন পর বাবার বাড়ি এসেছে৷
.
.
– কি রে ইরা বললি তো দিবি বিসিএস এতো দেখি পুরো বাচ্চা এস দিচ্ছিস!
– হ্যাঁ, হটাৎ করেই হয়ে গেলো।
– নীলাভ্রর মাঝে কি ইদানীং নীলয় কে একটু বেশিই ফিল করিস না কি?
– কি বলিস এসব?
– শুনলাম নিলয়ের বৌয়ের না কি বাচ্চা হবে?
– হুম!৩৩ সপ্তাহ চলে
– আশা ছেড়ে দিয়েছিস না কি? সেই জিদেই বাচ্চা?
– তোরা অন্তত এ বিষয়ে মজা করিস না। সব জেনেও
– তাই তো বলছি অনুকে বাড়ি থেকে খেদাতে পারলি না?
– নাহ্! চেষ্টা তো আর কম করিনি।
– সেভাবে করিস নি।
– মানে?
– নিলয় কে বুঝাতে হবে বাচ্চা টা ওর না। তাহলেই খেল খতম।
– না রে এখন সম্ভব না।
– কেনো?
– অনুর মামাতো ভাই বিদেশ থেকে এসেছে । নাম সাম্য। খুব চালাক।
– তো?
– অনু বলতে জান যায়। প্রমাণ করেই ছাড়বে যে অনু পবিত্র আর বাচ্চা বৈধ।
– তাহলে তার সাথেই বাজিয়ে দে
– আরে না। ওর সাথে আমার ননদিনীর বিয়ে ঠিক।
– আগে নিজের ভালোবাসা সামলা পরে অন্য কেউ।
.
.
ইরা এক সময় আশা ছেড়ে দিলেও কোথায় যেনো একটা ক্ষীণ আলো দেখছে।
.
.
চলবে

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here