শুধু তুই Part-14

"এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে। আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার। আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন "

#শুধু তুই#
#Part_14
Writer_Raidah Islam Nova

দেখতে দেখতে দুই সপ্তাহ কেটে গেল।আইভির সাথে ফারিশের সম্পর্কের কোনো উন্নতি হয়নি।মেহেদী অনেকটা পটিয়ে ফেলেছে রিনিকে।কিন্তু এশার ভাব- ভাবান্তর বোঝা মুশকিল। দুদিন ঠিক থাকেতো দুদিন বেঠিক।একটা চা স্টলের সামনে বিষন্ন মনে বাইকে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ফারিশ। পাশে জন ও মেহেদী চা খাচ্ছে।

মেহেদীঃ কিরে কি হয়েছে তোর?
জনঃ তোকে এতো বিষন্ন লাগছে কেন?
ফারিশঃ কিছু না।
মেহেদীঃ তোর যে কিছু একটা হয়েছে সেটা জানি।
ফারিশঃ কিছু হয়নি বললাম তো।
জনঃ তুই বলবি নাকি মার খাবি।
ফারিশঃ আসলে আমি আইভিকে নিয়ে চিন্তায় আছি।
মেহেদীঃ কেন?(কপাল কুঁচকে)
ফারিশঃ তোরা দুজন তোদের মনের ভাব ভালবাসার মানুষের কাছে প্রকাশ করে ফেলেছিস।কিন্তু আমি এখনও পারিনি।আমি ওকে কতবার বলতে চেয়েছি কিন্তু কিছু বলতে পারিনি।বারবার মনে হয়েছে ওকে বললে ও আমায় ছেরে চলে যাবে।
জনঃ তুই বলে দেখ।
মেহেদীঃ তুই ওকে অন্যরকমভাবে প্রপোজ কর।দেখবি ও তোকে নিশ্চয় মেনে নিবে।
ফারিশঃ যতটা সহজ তোরা ব্যাপারটা কে দেখছিস ততটা নয়।
জনঃ ব্যাপারটা সহজই কিন্তু তুই জটিল করছিস।
ফারিশঃ আমি ক্রিশ্চান ও মুসলিম কিভাবে কি হবে? আমার মাথায় কিছু ঢুকছে না।
মেহেদীঃ শালা,পছন্দ করার সময় এই কথাটা মনে ছিলো না।এখন এসেছো ধর্মের দোহাই দিতে।
ফারিশঃ আমি কি করবো? মনটাতো মানলো না।
মেহেদীঃ আল্লাহ যদি তোর জন্য আইভিকে বানিয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই তুই ওকে পাবি।
জনঃ প্রপোজ তো করে দেখতে পারিস।তারপর নাহয় পরেরটা পরে দেখা যাবে।
মেহেদীঃ আমার মাথায় একটা হেব্বি প্লান আছে।দেখিস এভাবে যদি তুই কাজ করিস নিশ্চয় তোকে আইভি এসেপ্ট করে নিবে।কি রে ফারিশ বলবো।
ফারিশঃ হুম বল।দেখি চেষ্টা করে।বাকিটা না হয় আল্লাহর ইচ্ছা।
মেহেদীঃ তুই আল্লাহকে বিশ্বাস করিস?(বিস্ময় চোখে)
ফারিশঃ জানি না।ছার এসব কথা। প্লান কি সেটা বল?
মেহেদীঃ শোন তাহলে………………

🌺🌺🌺

কিছুটা দূরে চা স্টলের ভেতরে থেকে দুজন ছেলে চা খাচ্ছে আর লুকিয়ে ওদের তিনজনকে খেয়াল করছিলো।সব কথা শুনছিলো।একজনের নাম রনি আরেকজনের দিশান।ওরা দুজনই হোটেলে ও নদীর পাড়ে ওদের ছয়জনকে ফলো করছিলো।স্টলের থেকে আস্তে করে বের হয়ে কাউকে ফোন করলো দিশান।ফোনটা পৌঁছালো অন্ধকার রুমে চেয়ারে উল্টোমুখো হয়ে বসে থাকা একজনের কাছে।

দিশানঃ বস,ওরা তো আইভিকে পটানোর প্লান করছে।এখন আমরা কি করবো?
—- তোমাদের আপাতত কিছু করতে হবে না।সময়মতো যা করার আমি করবো।
দিশানঃপ্লানটা কিন্তু মেহেদীর।
—– হুম, মেহেদী একটু বেশি উড়ছে।নো প্রবলেম ওর পাখা কেটে দেওয়ার সময় হয়ে গেছে।তোমরা শুধু ওদের ছয় জনের যাবতীয় খবর আমাকে দিবে।
দিশানঃওকে বস।কিন্তু….
—- চিন্তা করো না পেমেন্ট সঠিক সময়ে পেয়ে যাবে।তবে কাজ আমার সঠিক হওয়া চাই।
দিশানঃআপনি নিশ্চিন্তে থাকেন। সব হয়ে যাবে আপনার প্লানমতো।এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।
—– গুড জব।বায়।

ফোন রেখে চেয়ারটা ঘুরিয়ে আবছা আলোতে অট্টহাসিতে ফেটে পরলো ব্যাক্তিটা।

—– ফারিশ তোর জীবনে আঁধার ঘনিয়ে আসছে।তুই ভাবতেও পারবি না কি হতে চলছে তোর জীবনে।তোকে শান্তিতে আমি থাকতে দিবো না।যে দিকে তাকাবি শুধু মরুভূমির মতো ধূ ধূ বালি দেখবি।আশার আলো আমি তোকে দেখতে দিবো না।অনেক বড় ভুল করেছিস তুই। সেই ভুলের মাশুল তোকে অবশ্যই দিতে হবে।আমি নিজের স্বার্থের জন্য সব করতে পারি।দরকাল হলে কাউকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিবো।ফারিশ আই এম কাম ইন ইউর লাইফ।যাস্ট ওয়েট এন্ড ওয়াচ।হা হা হা হা।

🌺🌺🌺

পড়ন্ত বিকেলে সূর্যের আলোটা রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে।বিকেলের এই সময়টা আমার ভালো লাগে।নামাজ পরে বাসা থেকে কোচিং – এর উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলাম।এশু আজ সোপিং – এ যাবে।তাই আমায় বাধ্য হয়ে একা বের হতে হয়েছে।ফিরেও আসতে হচ্ছে একা।এই মেয়েটা বিশ্ব ফাঁকিবাজ।পড়া- লেখা না করার জন্য শুধু বাহানা খুঁজে। ওর কথা এতো পড়াশোনা করে কি হবে? শ্বশুর বাড়ি গিয়ে সেই ডেগ মাস্টার হতে হবে।ওর এই আদিম কালের উদ্ভট ভাবনা আমি পাল্টাতে পারলাম না।এটায় আমার ব্যর্থতা।এসব ভাবছি আর রাস্তা দিয়ে আনমনে হাঁটছি। গাড়ির হর্ণের শব্দে হুশ ফিরলো।পেছনে তাকিয়ে দেখি সাদা রংয়ের একটা গাড়ি। গাড়ির ভেতর থেকে নাহান বের হয়ে এলো।আজকাল তাকে দেখতে পাই না।মানুষ হিসেবে নাহানকে খুব ভালো লাগে। অন্ততপক্ষে ঐ লম্বু তালগাছের মতো তো নয়।হুম লম্বু তালগাছটাও খারাপ নয়।আমার কত খেয়াল রাখে।যদিও মাঝে মাঝে বকে।তাও ভীষণ ভালো লাগা কাজ করে ওর সাথে থাকলে।ধূর,কি ভাবছি আমি এসব।

নাহানঃ কি ম্যাডাম রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় কোন ধ্যানে থাকেন?
আমিঃ কোনো ধ্যানেই না।
নাহানঃ কখন থেকে গাড়ির হর্ণ দিয়ে যাচ্ছি কিন্তু তোমার কোনো খেয়ালই নেই।
আমিঃ আমিতো রাস্তার কিনার দিয়ে হাঁটছি। কারো সমস্যাতো হওয়ার কথা নয়।
নাহানঃ আমিতো সমস্যার কথা বলিনি।আমি বলতে চেয়েছি রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় সবদিকে খেয়াল করে হাঁটতে হয়।অন্য ধ্যানে হাঁটলে আবার সেদিনের মতো এক্সিডেন্ট করবে।সেবার তো আমি ছিলাম বলে বেঁচে গেছো। কিন্তু এবার কে বাঁচাবে?
আমিঃ কেন আমার আল্লাহ। সে যদি আমার ক্ষতি না চাই কারো সাধ্য আছে আমার ক্ষতি করবে।
নাহানঃ তা তুমি ঠিক বলেছো। বাসায় যাচ্ছো।
আমিঃ হুম। আপনি কি অফিস থেকে ফিরলেন?
নাহানঃ হ্যাঁ,আমার অফিস যাওয়ার রাস্তাতো এটাই।
যদি কিছু মনে না করো তোমায় বাড়ি পৌঁছে দেই।আমিতো তোমাদের বাসার রাস্তা দিয়েই যাবো।
আমিঃ না না। আমি একা চলে যেতে পারবো।
(বাপরে তোমার সাথে গেলে আমায় যদি আবার ঐ তালগাছটার হাতে মার খাই।বিশ্বাস নেই ঐ টাকে দিয়ে।সেদিন যে জোরে আমার গাল চেপে ধরেছিলো।আমার তো জান যায় যায় অবস্থা।) মনে মনে
নাহানঃ প্লিজ চলো।আমাকে তোমার ফ্রেন্ড ভেবেই চলো।
আমিঃ আপনি সারাদিন অফিস থেকে টায়ার্ড হয়ে গেছেন।এখন তারাতাড়ি বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নেন।আমাকে দিয়ে আসতে গেলে আপনার দেরি হয়ে যাবে।
নাহানঃ তুমি কি ভেবেছো তোমাকে আমি একা ছেরে দিবো।সেদিনের মতো তুমি যে অঘটন ঘটাবে না তার কোনো গ্যারান্টি নেই। চুপচাপ গাড়িতে উঠো। আমি ২য় বার বলবো না।

নাহানের জোড়াজুড়িতে শেষ পর্যন্ত আমাকে গাড়িতে উঠতে হলো।গাড়িতে উঠে মনে মনে দরুদ শরীফ পরছি আর বলছি ঐ ধলাচান মিয়া যেনো কিছু না জানে।যদি জানে আমি নাহানের সাথে গাড়িতে করে বাড়ি গিয়েছি তাহলে আমার সাধের গাল, হবে আবার
লাল।নাহানের পাশের সিটে আমি বসেছি।নাহান মনোযোগ দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছে।আমি জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছি। বাসার সামনে এসে নাহান গাড়ি থামালো।আমি গাড়ি থেকে নামলাম।

আমিঃ বাসার ভেতরে চলুন।
নাহানঃআজ নয় আরেকদিন।
আমিঃ আমরা গরীব মানুষ । আর কিছু খেতে দিতে না পারি এক কাপ কফি তো অফার করতেই পারি।সেদিন তো কফি খাওয়া হয়নি। আমার জন্য আপনাকে অপমান হতে হয়েছে। আজ না হয় এক কাপ কফি খেয়ে যাবেন।
নাহানঃ সেদিনের কথা আমি ভুলি নি।সেদিন তো কফি হাউস ছেরে পালিয়েছিলে আজ যদি বাসায় যাই তাহলে আবার বাসা ছেড়ে পালাবে।
আমিঃ মোটেও না।আজ আমি ঐ রকম কিছু করবো না।প্লিজ চলুন।এক কাপ কফিই তো।
নাহানঃ না,আজ বড়ি ফিরে যাই। আরেকদিন এসে দুপুরের খাবার খেয়ে যাবো
আমিঃ হয়েছে আমাকে আর শান্তনার বাণী শোনাতে হবে না।উনি এক কাপ কফি খাবেন না আবার দুপুরের খাবার খেয়ে যাবেন।
নাহানঃ হুম।সত্যি কথা। আপনার বিয়ের দিন পেট ভরে খেয়ে যাবো।
আমিঃ তাহলে তো আপনাকে দাওয়াত দেয়া যাবে না।
নাহানঃ কেন? (ভ্রু কুঁচকে)
আমিঃ যেভাবে বললেন মনে হলো সব ডেকচি খেয়ে শেষ করে ফেলবেন।
নাহানঃ তাই করবো।দাওয়াত না দিলেও চলে আসবো।
আমিঃ বড়লোকরা এতো ছোঁচা জানা ছিলো না তো আমার।আমার বিয়েতে ছোঁচা মানুষ নোট এলাউ।
নাহানঃ সে সময় হলে দেখা যাবে।আজ আসি।
আমিঃ আল্লাহ হাফেজ। সময় করে একদিন নিশ্চয় আসবেন।
নাহানঃ আচ্ছা। আল্লাহ হাফেজ। ভালো থাকবেন।

নাহান গাড়ি নিয়ে চলে গেল।আমি মুচকি হেসে বাড়ির ভেতর ঢুকে পরলাম।

🌺🌺🌺

এভাবেই কেটে গেল আরো বেশ কিছু দিন।ফারিশের সাথে একটিবারের জন্যও কথা হয় না। ভার্সিটিতে কিছু সময়ের জন্য আসে।কিন্তু একবার আমার দিকে তাকায় না।আমার কোনো জানি ওর অবহেলাটা সহ্য হচ্ছে না।ওকে খুব বেশি মিস করছি আমি।সারাক্ষণ জন,মেহেদী, ফারিশ খুব ব্যস্ত থাকে।মেহেদী ভালো হয়ে যাওয়ার পর সবাই ওকে খুব পছন্দ করে।সবাই মেহেদী বদলে যাওয়ায় খুশি হলেও কিছু মানুষ ওকে অপছন্দ করা শুরু করেছে।সেটা হলো রিটা ও তার দল এবং মেহেদীর আগের দলের ছেলেরা। যার কারণে মেহেদী এখন ২৪ ঘণ্টা জন ও ফারিশের সাথে থাকতে পছন্দ করে। সেদিন রিটা ও মেহেদীর আগের দলের ছেলেদের সাথে মেহেদীর প্রায় হাতাহাতি শুরু হয়ে গিয়েছিলো।কিন্তু ঠিক সময়ে ফারিশ বুদ্ধি করে সব ঠিক করে দিয়েছে। ফারিশতে শয়তানি বুদ্ধিতে সবার সেরা।তার সাথে কি করে ওরকম পুঁচকে ইঁদুর গুলো পারবে।

পরের দিন……

ক্যাম্পাসে বসে আছি আমি,রিনি, এশা।কয়েকদিন ধরেতো মহারাজদের টিকিটার দেখা পাই না।কি এমন ব্যস্ত থাকে কে জানে?মাঝে মাঝে মনে হয় প্রধানমন্ত্রী তাদের দেশ চালাতে দিয়েছেন।যা ভাব আজকাল দেখি।এমনভাবে চলে যে আমাদেরকে চিনেই না।
ক্লাস শেষ হওয়ার পর গেইটের সামনে দাঁড়িয়ে আছি।এশা,রিনি পেছনের দিকে আছে। দুপুরের সময়টা বেশি কেউ নেই।রাস্তা- ঘাট সবকিছু রোদে খাঁ খাঁ করছে।এশা ব্যাগে কিছু একটা খুঁজছে।

এশাঃ এই যাঃ। ও আমার আল্লাহ আমি এতটা মন ভুলো কি করে হতে পারলাম।
রিনিঃ কি হয়েছে?
এশাঃ আমার ফোনটা বোধহয় ঐখানে ফেলে এসেছি?
আমিঃ খুঁজে দেখ ব্যাগেই আছে।
এশাঃ নেই। আমি খুঁজছি। কোথাও নেই।
রিনিঃ চল তাহলে ঐ দিকটায় খুঁজে আসি।
এশাঃ আইয়ু তুই কি যাবি?
আমিঃ না,রে আমার ভালো লাগছে না। রোদে আমি কাহিল।আর হাঁটতে ইচ্ছে করছে না।তোরা যা,আমি এখানে দাঁড়িয়ে তোদের জন্য অপেক্ষা করছি।
রিনিঃ চল এশু।
এশাঃ হ্যাঁ,চল।

এশা ও রিনি চলে গেল।আইভি একা দাঁড়িয়ে আছে। সব ক্লাস শেষ করে বাসায় ফিরতে গেলে অনেক সময় পেরিয়ে যায়।ভার্সিটিতে ৭/৮ জনের মানুষের বেশি দেখা যাচ্ছে না।ছাত্রলীগের একটা মিটিং আছে।সবাই সেখানে গেছে। যার কারণে ভার্সিটি পুরো ফাঁকা বলা যায়।দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে আইভি বিরক্ত হয়ে যাচ্ছে।অপেক্ষা জিনিসটা অনেক খারাপ। এটা করতে অনেক ধৈর্য্য লাগে।যেটা সবার কুলোয় না।

🌺🌺🌺

দাঁড়িয়ে থাকতে আর ভালো লাগছে না।এভাবেই শরীরটা ভালো লাগছে না।তার মধ্যে ঐ দুটোর আসার নাম নেই। হঠাৎ করে আমার সামনে একটা দামী ব্রান্ডের তেল চকচকে নতুন গাড়ি এসে থামলো।আমি গেইটের একপাশে দাঁড়িয়ে আছি।গাড়িটা ঠিক আমার সামনে কেন থামলো তা বুঝলাম না।গাড়ি থেকে নামলো ৬ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট ফর্সা বর্ণের একটা ছেলে।কালো কালার প্যান্টের সাথে ইন করে সাদা কালার শার্ট পরেছে।শার্টের ওপরে গাঢ় নীল কোর্ট।পায়ে কালো সু ও চোখে কালো সানগ্লাস। চুলগুলো এলোমেলো করে সেট করা।গাড়ি থেকে নেমে সানগ্লাসটা খুলে প্যান্টের পকেটে রাখলো।তারপর সোজা আমার দিকে এসে জিজ্ঞেস করলো।

—- হাই,আমার নাম আরোশ।আমাকে একটা হেল্প করবেন প্লিজ ।এদিকে একটা পার্ক আছে ঐ টা কোনদিকে বলতে পারবেন।আসলে আমি অনেক বছর পর দেশে ফিরলামতো তাই।
আমিঃ আমাকে বলছেন?
আরোশঃআপনি ছারাতো এখানে কাউকে দেখছি না।
আমিঃ ও আমি বুঝতে পারি নি।আপনি সোজা গিয়ে ইউটার্ন নিলেই পার্ক দেখতে পাবেন।আশা করি আমি আপনাকে বুঝাতে পেরেছি।আপনি এখন আসতে পারেন।

কথাটা ছেলেটার কানে ঢুকলো না।সে তো এক ধ্যানে আইভিকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে।পা থেকে মাথা পর্যন্ত স্ক্যান করছে।মনে হচ্ছে কাংক্ষিত বস্তুটা পেয়ে গেছে।

আমিঃআমার ছেলেটাকে সুবিধার মনে হচ্ছে না।চাহনিটা কি রকম বাজে লাগছে।আমাকে এভাবে দেখছে কেন? নজরটা বেশি ভালো নয়।এশু আর রিনিও আসছে না।ছেলেটা সরছে না কেন এখান থেকে।ধূর,ভালো লাগে না।( মনে মনে)

আরোশঃ আরেকবার বলবেন প্লিজ। আমি ঠিক বুঝতে পারি নি।আপনি কোন দিকটার কথা বললেন?

আমিঃ বুঝবেন কি করে? হা করে তো আমাকে গিলছেন।জীবনে মেয়ে দেখেনি বোধহয়।পোশাকে তো ভদ্র মনে হচ্ছে।তবে চরিত্রে ভদ্র মনে হচ্ছে না।
(মনে মনে)
আরোশঃকোথায় হারিয়ে গেলেন মিস?
( মুখের সামনে তুরি বাজিয়ে)

আইভি পেছন দিকে ঘুরে আরোশকে রাস্তা দেখিয়ে দিয়ে বলতে লাগলো।

আমিঃ না, না কোথাও হারাই নি।আপনি রাস্তা জিজ্ঞেস করছিলেন।এখান থেকে সোজা গিয়ে ইউটার্ণ……..

বাকি কথাগুলো আইভির বলা হলো না।আইভির পেছন দিকে ঘোরার সুযোগে ছিলো আরোশ।সুযোগের স্বদ্যবহার করে সে একটা রুমাল বের করে পেছন থেকে আইভির মুখে ধরলো।আইভি ঢলে পরে গেল আরোশের ওপর।এক হাতে ওকে জরিয়ে ধরে কপালে ঠোঁট ছোঁয়ালো।

—- সরি, মাই ডিয়ার। ইউ আর অনলি মাইন।এখন থেকে আমার #শুধু তুই #। অন্য কারো হতে দিচ্ছি না আমি।আরোশ তার প্রিয় জিনিস অন্য কাউকে দেয় না।

(চলবে)

#

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......

Related Articles

দুষ্টু মেয়ের মিষ্টি সংসার পর্ব-০৮ এবং শেষ পর্ব | বাংলা রোমান্টিক ভালোবাসা গল্প

#গল্পঃ_দুষ্টু_মেয়ের_মিষ্টি_সংসার_ #লেখকঃ_Md_Aslam_Hossain_Shovo_(শুভ) #পর্বঃ__৮_(শেষ পর্ব) √-চোখে তাকিয়ে থাকা ও পাপ্পি দিয়ে কেটে গেলো। সকাল বেলা বাস গিয়ে সিলেটের একটা আবাসিক হোটেলের সামনে থামলো। আমরা বাস থেকে নেমে সরাসরি যার...

দুষ্টু মেয়ের মিষ্টি সংসার পর্ব-০৭ | বাংলা নতুন গল্প

#গল্পঃ_দুষ্টু_মেয়ের_মিষ্টি_সংসার_ #লেখকঃ_Md_Aslam_Hossain_Shovo_(শুভ) #পর্বঃ__৭_ √-রিতুঃ হি হি, আমি তখনো আম্মাকে ডাক দিবো.. আমিঃ তুমি না হানিমুনে যাওয়ার জন্য পাগল, তাই তখন আম্মাকে কোথায় পাবে? তখন তো কোনো ছাড়াছাড়ি নেই।...

দুষ্টু মেয়ের মিষ্টি সংসার পর্ব-০৬ | ভালোবাসার গল্প

#গল্পঃ_দুষ্টু_মেয়ের_মিষ্টি_সংসার_ #লেখকঃ_Md_Aslam_Hossain_Shovo_(শুভ) #পর্বঃ__৬_ √-রিতুঃ কক্সবাজার নিয়ে যাবে... আমিঃ হায় আল্লাহ, এক দিনের মধ্যে আবার কক্সবাজার যাওয়া যায় নাকি? প্রস্তুতি লাগে না... রিতুঃ আমি জানি না। আমি...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -
- Advertisement -

Latest Articles

দুষ্টু মেয়ের মিষ্টি সংসার পর্ব-০৮ এবং শেষ পর্ব | বাংলা রোমান্টিক...

0
#গল্পঃ_দুষ্টু_মেয়ের_মিষ্টি_সংসার_ #লেখকঃ_Md_Aslam_Hossain_Shovo_(শুভ) #পর্বঃ__৮_(শেষ পর্ব) √-চোখে তাকিয়ে থাকা ও পাপ্পি দিয়ে কেটে গেলো। সকাল বেলা বাস গিয়ে সিলেটের একটা আবাসিক হোটেলের সামনে থামলো। আমরা বাস থেকে নেমে সরাসরি যার...