লাইফস্টাইল

0
332

“এই তুই হেয়ার কালার কোন টা ইউজ করিস?” রিনি জিজ্ঞেস করলো।
“আমি? চুলে মাঝে মাঝে হেনা দেই,তাও চুল পেকে যাচ্ছে তাই” সামিয়া আস্তে করে জবাব দিলো।
“উফ!! এখনো সেই হেনার যুগে তুই পড়ে আছিস কেন? হাসান তো আমাকে দেশের বাইরে গেলেই সব ব্রান্ডেড প্রোডাক্ট এনে দেয়। তবুও পারলারে গিয়েই এপ্লাই করি। জানিস তো,হাসান আবার ব্র‍্যান্ড ছাড়া পছন্দ করেনা”
“হুম,বলেছিলি।”
“তুই তো জানিস। আর আমি যে জব টা করি,সেখানে অনেক কিছু মেইনটেন করতে হয়। তোর অনেক সুবিধে, তোর প্রফেশনে লুক প্রাধান্য পায়না। ”
“ওসব কিছু নয়,রিনি। শালীনতা বজায় রেখে চললেই হয়”
“ধুর!! তুই একদম আদ্যিকাল। আজকাল এভাবে বড় টিপ কেউ দেয় নাকি। চোখে থ্যাবড়ানো কাজল,আর ঠোট শুকনো”
“কেন? কড়া করে আমি সাজিনা রে কখনো”
“হুম,সাজিস নাই বলেই তো,সাজিদ তোকে পাত্তা দেয়না” রিনি খোঁচা দিলো।

হাসলো সামিয়া..জানা কথা,সব কথার শেষে এই কথা আসবেই..সাজিদ আর তার সংসারের ঝামেলা..

“হাসবিনা,সামু। তুই জানিস,আমাকে কত কিছু সামলাতে হয়।নিয়মিত জিমে যাই। ডায়েট করি। অবশ্য শুধু হাসান না,ইদানীং তো সব ফিদা। তুই এরকম কেন? একটু গুছিয়ে চললে কি হয়!!”
“ইচ্ছে করেনা। নিজের মতন থাকি। যে থাকার,সে থাকবেই। না থাকলে নাই। এত ভেবে কি হবে? জীবন ছোট রে,এর চেয়ে বরং আমি নিজের মতো ঘুরে বেড়াই”

“বেড়াতেও কই যাচ্ছিস!! বলিহারি!! শান্তিনিকেতন!! তুই পাগল নাকি রে!! মালদ্বীপ আর বালি লেটেস্ট ট্রেন্ড। যা,সাজিদ কে নিয়ে আরেক টা হানিমুন ট্যুর দে”
“হা হা হা। কি যে বলিস না..ওর এসব পছন্দ না। আর আমি একা থাকতে ভালোবাসি”
“তুই মর। যাই হোক,যাই রে…রাতে একটা অফিসিয়াল পার্টি আছে আমার। এরপর আবার ক্লাব মেম্বার দের কিটি নাইট। আজ বাইরে থাকবো রাতে,সারা রাত আড্ডা দিবো ফিমেল কলিগ রা। ছেলে কে আগেই দাদীর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। তুই ভাই বেড়ে সুবিধায় আছিস,ঝাড়া হাত পা!! ”
“আসলেই রে। যদিও একটা বাচ্চা থাকলে বেশ হতো”
“আসমান থেকে আসবে? সাজিদ কে দেখলামও না কোনদিন। সেই চার বছর থেকে শুনছি।ও দেশের বাইরে,আসবে। ও আসলে,কখন চলে যায়,বলিসওনা।”
“লাস্ট এক বছর আসেনি। আসলে সবার সাথে দেখা করে,থাকেই ১৫/২০ দিন। আমার সাথেই বা থাকে ক’দিন!!”
“হ্যা রে,শোন!! সাজিদ আরেক টা বিয়ে করে রাখেনি তো ওখানে?”
“জানিনা। এসব নিয়ে কথা হয়নি। আর আমার কিছু যায়ও আসেনা”
“তুই মরবি। তোর কিসে এসে যায় শুনি”
“আপাতত ঘুরতে যাবো,এটা নিয়ে এক্সাইটেড ”
“যাক,বাবা। কিছু নিয়ে তো ভাবছিস।কাল সকালে হাসানেরও ফ্লাইট। ইতালি যাচ্ছে”
“তুই যা সাথে। ”
“পাগল? ওর এসব বোরিং অফিসিয়াল ট্যুর!! আমার তো এই সু্যোগ” চোখ টিপে বললো রিনি..
“তুই পারিসও” হাসলো সামিয়া..
“তো? তোর মতো বোকা নাকি আমি? লাইফ তো ফুল অফ মাস্তি!!যাই,হাসানের ব্যাগ গুছিয়ে দিবো। বোকা টা আমাকে ছাড়া কিছুই পারেনা”
“হ্যা,যা। মন খারাপ করিস না”
“ধুর। মোবাইল টা অফ করে দেয়,বাইরে গেলেই। এটাই অসহ্য।”
“ব্যস্ত থাকে নিশ্চয়”
” তুই এত নরমাল থাকিস কিভাবে? আজিব!! কি দিয়ে বানিয়েছেন আল্লাহ?”
“এঁটেল মাটি”
“হা হা হা!! যা পাগলী!! যা,তোর আদ্যিকালের সাজ দে, খ্যাতের খ্যাত” জড়িয়ে ধরে চুমু খেলো রিনি।

ছুটে বেড়িয়ে গেলো।

অনেক কাজ। ব্যাগ গুছিয়ে নিতে হবে। একদম সময় নেই। সকাল ৭ টায় ফ্লাইট।

আলমিরা টা খুললো সামিয়া। এই ড্রয়ার টা খুব প্রিয় ওর। খুব প্রিয় জিনিস গুলো সাজিয়ে রাখা। ছুরি টাও আছে। এটা দিয়েই তো সাজিদ কে গত বছর….

মোবাইল টা বেজে উঠলো..এস.এম.এস..

“বি রেডি,সেক্সি!! মালদ্বীপ অপেক্ষা করছে। নিতে আসছি ভোর ৪টায়। ভালোবাসি,আমার অগোছালো সুন্দরী”

হাসান টা এমন ই,এমন টা ই ভালোবাসে তাকে…

তাই অগোছালো ই আমি,এটাই আমার লাইফস্টাইল!!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here