মোহ মায়া ৪র্থ পর্ব

"এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে। আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার। আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন "

#মোহ_মায়া
#৪র্থ_পর্ব
#অনন্য_শফিক



ভোর বেলা নোরার দাদিকে ফোন করলাম। তিনি ফোন রিসিভ করে গমগমে গলায় বললেন,’কী হয়ছে?কেউ মরছে টরছে নাকি?
এতো সকাল বেলা কেউ কাউরে মোবাইল করে? তুমি কী মুসলমানের মাইয়া না? নামাজ কালাম নাই?কুরান শরীফ পড়নের সময় না এইটা?এই সময়ে কেউ কাউরে ফোন দেয়?’
কিছু বলার আগেই তিনি যে মেজাজ দেখালেন তখন আর ভয়ে কথা বলার সাহস থাকে? ভাগ্যিস তখন নিতুল ঘুমে ছিল।ও যদি সজাগ থাকতো তবে কী আর ফোন করা যেতো তার মায়ের কাছে!

এবার ভাবলাম বর্ষাদের বাসার নম্বরে একটা ফোন দিবো।নিতুল ঘুমিয়ে থাকতে থাকতে কাজটা করবো। বারান্দায় গিয়ে দাঁড়িয়ে বর্ষাদের ফোনে ফোন দিয়ে তার মাকে বলবো,আন্টি বর্ষার কাছে দিন একটু। তারপর বর্ষার সাথে কথা বলবো।
বর্ষাদের নম্বরে ডায়েল করতেই ও পাশ থেকে ফোন রিসিভ করলো বর্ষাই। আমি একটা আননোন নম্বর থেকে ওকে ফোন দিয়েছিলাম যাতে করে সহজেই ওর হাতে ফোন থাকলে রিসিভ করে।
বর্ষা ফোন রিসিভ করে বললো,’হ্যালো, আসসালামুয়ালাইকুম।কে বলছেন?’
‘ওয়ালাইকুমুস সালাম।বর্ষা তুমি ফোনটা কেটো না প্লিজ!আমি তোমার নিশু ভাবী।’
বর্ষা ফোন কাটলো না কিন্তু ও পাশ থেকে একেবারে চুপ হয়ে গেল।
আমি এবার বললাম,’বর্ষা,তোমায় কথা বলতে হবে না। তুমি শুধু আমার কথাগুলো মন দিয়ে শুনো। প্লিজ বর্ষা তুমি কিন্তু ও পাশ থেকে কেটে দিও না!’
বর্ষা ফোন কাটলো না ও পাশ থেকে।
আমি এবার অনুনয়ের গলায় বললাম,’বর্ষা, তোমার যে আপন বড় বোন আছে ওই যে শিলা আপু ‌।শিলা আপুর সাথে তুমি এমন একটা বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারতে বোন?নিশ্চয় করতে পারতে না!কারণ ও তো তোমার রক্তের বোন।ওর সংসারে তোমার ভাগ্নে ভাগ্নী আছে। তাছাড়া তোমার বোনের একটা সুন্দর সংসার তোমার জন্য ভেঙে যাক তা কখনো তুমি চাইতে না! কিন্তু আমার বেলায় তো আর কোন সমস্যা নাই।আমি তো তোমার কেউ হইনা! আমার সংসার ভেঙ্গে গেলে,মেয়েটা বাবা হারা কিংবা মা হারা হয়ে গেলে তো তোমার কোন দুঃখ নেই এতে! কিন্তু বর্ষা বিশ্বাস করো,আমি তোমাকে নিজের আপন বোনের মতোই বিশ্বাস করেছিলাম।ওই যে চার বছর আগে নিজের বাবা মা ভাই বোন রেখে এসেছিলাম তারপর তো আপন বলতে নিতুল , তার মা আর তুমিই। তুমি রোজ আমার এখানে আসতে।পড়তে, গল্প করতে, নামাজ পড়তে, ধর্মীয় উপদেশ,বাণী শুনাতে আমায়। আমার খুব ভালো লাগতো এইসব কিছু।মনে হতো আমার আপন বোনটিই আমার ঘরে বেড়াতে এসেছে। আমার এমন বিশ্বাসটা কীভাবে তুমি নষ্ট করে ফেললে বোন?’
বর্ষা টু শব্দ পর্যন্ত করছে না।নিঝঝুম হয়ে আমার কথাগুলো শুনছে। আমি এবার প্রায় কাঁদো কাঁদো গলায় বললাম,’তোমার পায়ে পড়ি বর্ষা, তোমার আল্লাহর দোহাই, তুমি ভুলে যাও নিতুলকে। তুমি আমার সংসারটা ভেঙে যেতে দিও না বোন।প্লিজ ভেঙে যেতে দিও না!’
কথাগুলো বলতে বলতে বারান্দার গ্রিল ধরে কাঁদছিলাম খুব। হঠাৎ পেছন থেকে চুলে টান পড়ায় ব্যাথায় কঁকিয়ে উঠে পেছনে তাকিয়ে দেখি নিতুল আমার চুল টেনে ধরেছে।
আমি ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বললাম,’কোথাও ফোন করিনি আমি।আমি কোথাও ফোন করিনি।’
নিতুল আমার হাত থেকে খপ করে ফোনটা কেড়ে নিয়ে ডায়েলে থাকা নম্বরটা দেখলো। তারপর মোবাইল ফোনটা এক ঢিলে ছুঁড়ে মারলো আমাদের বাসার বাম পাশে বয়ে যাওয়া ময়লার ড্রেনে।
আমি ওর দিকে জলভরা চোখে অসহায়ের মতো তাকিয়ে রইলাম।
নিতুল এবার তার গলার স্বর বিকৃত করে বললো,’বর্ষাকে ফুসলানো হচ্ছিল না? এখন থেকে ফুসলানো হবে!’
আমার ভয়ের বদল এখন রাগ হচ্ছে।নিতুলের প্রতি ঘৃণায় আমার শরীর রি রি করছে।
নিতুলকে আমি এবার বললাম,’তুই আসলেই একটা ছোট লোকের বাচ্চা।আমি তোকে জেলের ভাত খাওয়াবো!’
নিতুল সেই অট্টহাসি হেসে বললো,’হাউ ইজ ইট পসিবল বেবি? পুলিশের কাছে গিয়ে কী বলবে? আমার হাসব্যান্ড আমার ন্যুড ছবি তুলে আমায় ব্লাকমেইল করছে?এটাই তো না? কিন্তু সমস্যা হলো কী আমাদের ফাঁড়ির দারোগাটা না বড্ড লুচু!ওই যে লসমান মুচির বিধবা মেয়ে সন্ধি আছে না ওর সাথে রোজ দিন ওইসব করে!’
তারপর নিতুল আবার হাসলো। হেসে বললো,’তুমি যে সুন্দর, তোমার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তোমায় তখন কী বলবে জানো?
জানো না। তবে শুনো, বলবে, কোন ছবিটা?
তুমি বলবে একটা ছবি আছে।ও ভাইরাল করে দিয়েছে। তখন দারোগা ফেসবুক ঘেঁটে বের করে বলবে,এটা যে তোমার ন্যুড তার প্রমাণ কী?
তুমি বলবে,আমি ভিক্টিম। আমার কথাই প্রমাণ!
দারোগা তখন লুচু হাসি হেসে বলবে,আইন তো তোমার এ কথা শুনবে না।কাপড় খুলো! টেস্ট করে দেখতে হবে।আইন প্রমাণ ব্যাতীত কোন একশান নেয় না!
তুমি তখন অবাক হবে। হাতজোড় করে কাঁদবে।
কিন্তু চরিত্রহীন দারোগা তোমায় আস্ত ছাড়বে না!
হা হা হা।
হা হা হা।
এখন ভাবো তুমি কোনটা করবে?
ভাইরাল হয়ে তোমার জীবনের সবকিছু হারাবে নাকি চুপ থাকবে?চুপ থাকলে ভয় নেই। বর্ষাকে দু’দিন পর ইউজ করে ছেড়ে দিবো।এনশেন্ট জিনিস আমি চয়েজ করি না আবার!’
নিতুল অসভ্য আমি জানতাম। কিন্তু এতোটা বর্বর তা আগে জানতাম না।
ওর মুখ থেকে সবকিছু শোনার পর আমার চোখ ঝাপসা হয়ে এসেছে।মনে হচ্ছে এই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় যে অসহায় মানুষটি আছে সে আমি ছাড়া আর কেউ না!

#চলবে

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......

Related Articles

ছন্দ ছাড়া বৃষ্টি পর্ব-০৫ এবং শেষ পর্ব | ইমোশনাল গল্গ

#ছন্দ_ছাড়া_বৃষ্টি #লেখনীতে- Ifra Chowdhury #পর্ব-০৫ (শেষ পর্ব) . তন্ময়, তিন্নি রুম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ডুকরে কেঁদে উঠলাম আমি। তিহান আমার সাথে এতো বড় বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, এটা...

ছন্দ ছাড়া বৃষ্টি পর্ব-০৪

#ছন্দ_ছাড়া_বৃষ্টি #লেখনীতে- Ifra Chowdhury #পর্ব-০৪ . তিহান অফিসে চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই তন্ময় হন্তদন্ত পায়ে আমার কাছে ছুটে আসে। আমি ওর প্রতীক্ষায়ই ছিলাম। ও আসার পর সরাসরি...

ছন্দ ছাড়া বৃষ্টি পর্ব-০৩

#ছন্দ_ছাড়া_বৃষ্টি #লেখনীতে- Ifra Chowdhury #পর্ব-০৩ . হঠাৎ করে তিহান হাসতে আরম্ভ করলেন। এবার আমি ভ্রুজোড়া কুঞ্চিত করে জিজ্ঞেস করলাম, 'হাসছেন কেন?' উনি হাসতে হাসতেই জবাব দিলেন, 'তোমাকে ভয় পেলে বেশ...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -
- Advertisement -

Latest Articles

ছন্দ ছাড়া বৃষ্টি পর্ব-০৫ এবং শেষ পর্ব | ইমোশনাল গল্গ

0
#ছন্দ_ছাড়া_বৃষ্টি #লেখনীতে- Ifra Chowdhury #পর্ব-০৫ (শেষ পর্ব) . তন্ময়, তিন্নি রুম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ডুকরে কেঁদে উঠলাম আমি। তিহান আমার সাথে এতো বড় বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, এটা...
error: ©গল্পপোকা ডট কম