মায়াজাল পর্বঃ ০২

0
412

মায়াজাল পর্বঃ ০২
লেখকঃ আবির খান

আবিদার মিষ্টি গোলাপি ঠোঁটটার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে রিফাত৷ এটা বড্ড ওকে টানে। অধরার সেই ছোটকালের মতো মুগ্ধতা এখনো ওই ঠোঁটে লেগে আছে আবিদার। কিন্তু ওতো আবিদা। তাহলে কেন অধরার সব কিছু ও পেয়েছে। রিফাতের হার্টবিট ক্রমশ বেড়েই যাচ্ছে আবিদাকে চোখের সামনে দেখে। আবিদা ওর মিষ্টি কণ্ঠ স্বরে বলে উঠে,

আবিদাঃ স্যার বসতে পারি?

রিফাতের ঘোর কাটে আবিদার ডাকে। একপ্রকার থতমত খেয়ে বলে,

রিফাতঃ হ্যাঁ?? জ্বী জ্বী বসুন বসুন।

আবিদা কিঞ্চিৎ হেসে চুপচাপ রিফাতের সামনে বসে। রিফাত আর আবিদার দূরত্ব শুধু মাত্র একটা টেবিলের। রিফাত আবিদার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আবিদা বোরখা আর হিজাব পরে এসেছে। হিজাবে ওকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে। রিফাতের চোখ যেন আজ মুগ্ধতায় ছেয়ে গিয়েছে। ও কি করবে, কি বলবে সব কিছু যেন হারিয়ে ফেলছে। অথচ ও ঠিক জানেও না ও অধরা কিনা। কিন্তু ওর মন শুধু বলছে আবিদাই ওর হারিয়ে যাওয়া অধরা হয়তো।

রিফাতকে কিছু বলতে না দেখে আবিদা রিফাতের দিকে আস্তে করে তাকায়। দুজনের চোখাচোখি হয়। আবিদা মনে মনে বলে,

আবিদাঃ এই ব্যাটা আসলেই লুচু নাকি! কীভাবে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। আমি তো এতোটাও সুন্দরী না। যে এভাবে তাকিয়ে থাকতে হবে। অসহ্য লাগছে। কিন্তু জবটারও খুব প্রয়োজন৷ দেখো এখনো কীরকম ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে। আমাকে দেখে মনে হয় হারিয়ে গেছে। একটা কাশি দি। তাহলে ব্যাটার হুশ আসবে।

আবিদা সত্যিই খকখক করে কাশি দেয়। রিফাত এবার লজ্জায় পড়ে যায়। তাড়াতাড়ি কোনরকম নিজেকে সামলে নিয়ে বলে,

রিফাতঃ দেখি আপনার ফাইলটা। আমাকে দিন।

আবিদা ওর কাছে থাকা ফাইলটা রিফাতকে দেয়। রিফাত ফাইল নিয়ে একবার আড় চোখে আবিদাকে দেখে ফাইলটা খুলে। সবার আগেই রিফাতের চোখে পড়ে আবিদার পুরো নাম।

– “আবিদা জাহান অধরা”
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share


এরপর আসে আবিদার বয়স। আবিদার এখন ২৩ বছর বয়স। রিফাতের চোখ দিয়ে টপ করে দুফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। আজ পনেরোটা বছর পর ও অধরাকে ফিরে পেয়েছে। হ্যাঁ আবিদাই হলো রিফাতের সেই ছোট্ট বান্ধবী অধরা। রিফাতের মন চাচ্ছে সব ছেড়ে অধরাকে শক্ত করে ওর বুকের সাথে জড়িয়ে ধরতে। ফাইলে থাকা অধরার ছবিটাকে রিফাত হাত দিয়ে স্পর্শ করছে। ও মনে মনে বলছে,

রিফাতঃ আল্লাহ তোমার কাছে কোটি কোটি শুকরিয়া। তুমি এতোটা বছর পর আমার অধরাকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিয়েছো।

রিফাতকে এভাবে দেখে অধরা মনে মনে বলছে,

অধরাঃ উনি কি কান্না করছে? জিজ্ঞেস করবো? আমারতো খুব নার্ভাস লাগছে। কিন্তু আমার ফাইল দেখে কান্না কেন করবে? নাহ! একবার জিজ্ঞেসই করে ফেলি।

অধরাঃ স্যার আপনি কি কান্না করছেন? কিছু হয়েছে?

রিফাত ফাইলে থাকা অধরার ছবির ওপর থেকে চোখ উঠিয়ে অধরার দিকে তাকায়। আর বলে,

রিফাতঃ অধরা….

“অধরা” ডাকটা শুনেই অধরার মনের ভিতরে খচ করে উঠে। অস্থির হয়ে যায় অধরা। ওর চোখগুলো ভরে আসতে চায়। পুরনো সে স্মৃতিগুলো সব জেগে উঠতে চায়। চোখকে ঝাপসা করে দিতে চায়। অধরা আস্তে করে কাঁপা কণ্ঠে বলে,

অধরাঃ জ্বী স্যার?

রিফাত চোখটা মুছে বলে,

রিফাতঃ অধরা নামটা খুব সুন্দর। আজ থেকে আপনাকে আমি অধরা বলেই ডাকবো। আমার সাথে সবসময় থাকবেন কিন্তু।

অধরা বিচলিত হয়ে বলে,

অধরাঃ সবসময়!

রিফাতঃ জ্বী। কারণ আপনার চাকরিটা হয়ে গিয়েছে। আপনি আজ এখন থেকে আমার পিএস।

অধরা মুহূর্তেই অনেক খুশী হয়ে যায়। মুখখানা খুশীতে উজ্জ্বল হয়ে গিয়েছে। ঠিক ছোটবেলায়ও এভাবে উজ্জ্বল হতো যখন রিফাত ওকে খুশী করতো। রিফাত মুগ্ধ নয়নে অধরাকে দেখছে। ও বলে,

রিফাতঃ আচ্ছা আপনি সবার কাছে আবিদা নামটা বলেন কেন? অধরা নামটাতো খুব সুন্দর।

দমকা হাওয়া চলে গেলে যেমন সব শান্ত হয়ে যায় ঠিক তেমনি অধরাও শান্ত হয়ে যায়। আস্তে করে বলে,

অধরাঃ আসলে সবার কাছে আবিদা নামটাই প্রিয় তাই এ নামেই ডাকে।

রিফাত বুঝলো অধরা আসল কথাটা বলতে চায় না। তাই ও বলল,

রিফাতঃ অধরা নামটা আমার খুব প্রিয়। আমি আপনাকে অধরা বলেই ডাকবো।

অধরা কিছুক্ষণ রিফাতের দিকে তাকিয়ে বলে,

অধরাঃ আচ্ছা ডাকিয়েন।

রিফাতঃ বাই দ্যা ওয়ে আপনার এই চাকরিটার প্রয়োজন কেন জানতে পারি? আই নো যে এটা পারসোনাল প্রশ্ন হয়ে গেল। বাট আপনিও তো এখন আমার পারসোনাল সেক্রেটারি তাইনা। যদি বলতেন।

অধরা কিছুটা অসহায় ভাব নিয়ে বলে,

অধরাঃ বাবা এখন রিটায়ার্ড। আমার কোন ভাই বোন নেই। তাই জব করতে আসা।

রিফাতঃ আঙ্কেল আন্টি কেমন আছেন?

অধরাঃ জ্বী আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আল্লাহ ভালো রেখেছেন।

রিফাতঃ যাক খুব ভালো। শুনুন যাওয়ার সময় কেশিয়ার এর কাছ থেকে যাবেন। আপনাকে অগ্রিম বেতন দেওয়া হবে। প্রতি মাসে ৫০০০০ টাকা। যাওয়ার সময় টাকাটা নিয়ে যাবেন।

অধরাঃ এখন বেতন! তাও আবার ৫০০০০ টাকা কেন? আমার বেতন তো ৩০০০০ টাকা হবে।

রিফাতঃ জ্বী সেটাই হতো। কিন্তু আমি।যেহেতু বস সো আমি যা দিব আপনাকে তাই নিতে হবে। আর আপনি হলেন বসের পিএস। সো বেতন তো বেশী হবেই। বসের পিএসদের অনেক কাজ থাকে। তাই এই বেতন।

অধরা যেন শক্ত একটা পাথরের সাথে ধাক্কা খায়। এতো জল না চাইতে সাগর পাওয়ার মতো। অধরার চোখেমুখে অসম্ভব খুশীর ছাপ। রিফাত আবার বলে,

রিফাতঃ মন দিয়ে ঠিক মতো কাজ করতে হবে। আমি যা যা বলবো তা তা করতে হবে। ওকে?

অধরাঃ জ্বী মানে চেষ্টা করবো।

রিফাতঃ আরে ভয় পাবেন না। ওমন কিছু করতে বলবো না যাতে আপনার খারাপ লাগবে।

অধরাঃ তাহলে ঠিক আছে। আমি আমার যথাযথ চেষ্টা করবো।

রিফাতঃ এটা আমার কার্ড। এখানে আমার নাম্বার আছে। কখনো কোন সমস্যা হলে কল দিবেন।

অধরা আবার অবাক হয়। তাও কার্ডটা গ্রহণ করে ব্যাগে রাখে। রিফাত বলে,

রিফাতঃ তাহলে কাল থেকে জয়েন করবেন।

অধরাঃ জ্বী অবশ্যই। তাহলে আমি আসি।

রিফাতঃ যাবেন?

অধরাঃ যাবো না?

রিফাতঃ না মানে আচ্ছা যান। ওয়েট… এটা কেশিয়ারকে দিবেন। আপনাকে কিচ্ছু বলতে হবে। ও টাকা দিয়ে দিবে।

অধরাঃ ওকে স্যার। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে। অনেক উপকার হলো এই চাকরিটা পেয়ে। সত্যি আপনি খুব ভালো।

রিফাতঃ আপনার যোগ্যতা অনুযায়ী জবটা দিয়েছি। সাবধানে যাবেন।

অধরাঃ ওকে স্যার। আসি।

অধরা খুব খুশী হয়ে চলে যায়। রিফাত কেশিয়ারকে সব বলে দেয়। চাকরির শুরুর আগেই এতোগুলা টাকা পেয়ে অধরা অসম্ভব খুশী। অন্যদিকে রিফাত দ্রুত আবিরকে কল দেয়।

আবিরঃ হ্যাঁ দোস্ত বল।
রিফাতঃ দোস্ত…
আবিরঃ কি?
রিফাতঃ অধরা।
আবিরঃ অধরা!

রিফাত এবার আবিরকে সব বুঝিয়ে বলতে শুরু করে,

রিফাতঃ আবিদাই আমার অধরা। ও আমার কাছে জবের জন্য আসছে। আমার পারসোনাল সেক্রেটারি হিসেবে। দোস্ত আমি মনে হয় খুশীতে অজ্ঞান হয়ে যাবো৷ অধরাকে ফিরে পেয়েছি আমি। আমার অধরা দোস্ত।

আবিরঃ কি বলিস কি? আবিদাই তাহলে অধরা?

রিফাতঃ হ্যাঁ ভাই হ্যাঁ। তোকে অসংখ্য অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ। তুই গতকাল আমাকে ডাক না দিলে আমি অধরাকে হয়তো কোন দিন পেতাম না। আজ তোকে ট্রিট দিব ভাই। তুই আয় শুধু।

আবিরঃ আসলে দোস্ত এটা তোর ভাগ্য। তুই ওর জন্য পনেরোটা বছর অপেক্ষা করেছিস। ওকে অসম্ভব ভালবেসেছিস। ও তোর ই। ওকে তোর করে দিতে আমি যতটা সম্ভব সাহায্য করবো। আল্লাহ ভরসা।

রিফাতঃ থ্যাংকস দোস্ত।

আবিরঃ এক মিনিট। তুই ওকে ধরা দিস নাই কেন যে তুই রিফাত? ওর সেই ছোট কালের বন্ধু।

রিফাতঃ ও আমাকে রিফাত নামে জানতো না তো দোস্ত।

আবিরঃ তাহলে!

রিফাতঃ বিল্লু বলে জানতো। (আবির হেসে দেয়) হাসিস না ব্যাটা শোন আগে। ওর সাথে বিড়াল নিয়েই আমার পরিচয়। আর সেদিন থেকেই আমাকে বিল্লু বলে ডাকে।

আবিরঃ দেখেও চিনলো না?

রিফাতঃ আগে মোটাসোটা ছিলাম। এখন তো দেখছিসই কত পরিবর্তন হয়ে গিয়েছি। কীভাবে চিনবে ও বল।

আবিরঃ আচ্ছা সব বুঝলাম। বাট তুই ধরা দিলিনা কেন?

রিফাতঃ আমি দেখতে চাই সেই ছোট কালের বিল্লুটাকে ওর আজও মনে আছে কিনা? ও ভালবাসে কিনা সেই বিল্লুটাকে জানতে চাই।

আবিরঃ যদি ভুলে যায়? যদি ভালো না বাসে? তখন?

রিফাতঃ আগে দেখি। কাহানী তো মাত্র শুরু। পিকচার আভি বাকি হেই মেরে দোস্ত।

আবিরঃ হাহা। তোদের গল্পটা আমি লিখবো। সেই হিট হবে।

রিফাতঃ হ্যাঁ হ্যাঁ দোস্ত লিখিস। ছোট বেলার সেই হারানো প্রেম কাহানী। হাহা।

আবিরঃ হাহা। আচ্ছা লিখবো লিখবো।

রিফাতঃ সন্ধ্যায় দেখা হচ্ছে তাহলে।

আবিরঃ আচ্ছা হবে হবে৷

অধরার বাসায়,

অধরা খুব উত্তেজিত হয়ে আছে। কখন বাসায় গিয়ে বাবা-মাকে খুশীর খবরটা দিবে। দ্রুত বাসায় ফিরে বেল দিতেই অধরার মা দরজা খুলে। আর সাথে সাথে অধরা ওর মাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। ওর মা অবাক হয়ে যায়। তিনি বলে,

মাঃ কিরে মা এত্তো খুশী কেন? কি হয়েছে।

অধরাঃ বাবা কই?

মাঃ ভিতরে।

আধরা মাকে নিয়ে বাবার কাছে যায়। বাবাকেও কান্না করতে করতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। ওর বাবা-মা দুজনেই ভয় পেয়ে যায়। তারা অস্থির হয়ে বলে,

বাবাঃ কি হয়েছে মা? কাঁদছিস কেন? কি হয়েছে?

মাঃ হ্যাঁ কাঁদছিস কেন? কি হয়েছে বল।

অধরাঃ মা চাকরিটা হয়ে গিয়েছে। আর আমাকে অগ্রিম বেতনও দিয়ে দিয়েছে। এই দেখো ৫০০০০ টাকা।

মাঃ এতো টাকা?

অধরাঃ আমিও অবাক হয়ে ছিলাম। কিন্তু বসটা অনেক ভালো।

বাবাঃ কি দরকার মা তোর চাকরি করার। আমার পেনশন দিয়েই তো হতো।

অধরাঃ হলে হতো। এত্তো পড়াশোনা করিয়েছো কি বসে খাওয়ার জন্য? মোটেও না। নেও বাবা আমার প্রথম ইনকাম। এটা তোমাদের।

অধরার বাবা ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে,

বাবাঃ মেয়েটা অনেক বড় হয়ে গিয়েছে তাই না অধরার মা? এইতো সেদিনও কত্তো ছোট ছিল।

মাঃ হ্যাঁ। আমার পরী মেয়ে।

অধরাঃ হিহি। আমি ফ্রেশ হয়ে আসি। তোমরা গল্প করো।

মাঃ আচ্ছা যা।

এদিকে রিফাতও অসম্ভব খুশী আজকে। এতোটা বছর পর অধরাকে ফিরে পেয়েছে। ফোনে অধরার ছবিটা বের করে দেখছে ও। আর মনে মনে বলছে,

রিফাতঃ অধরা এতোটা বছর পর তোমাকে পেয়েছি। তোমার সব কষ্ট দূর করে দিয়ে তোমার মনে আমার জন্য বাসা বানাবো। সেখানে তুমি আর আমি থাকবো। ভালবাসা কি এবার তুমি বুঝবে। তোমাকে আমার করে ছাড়বো এবার৷ আর হারাতে দিব না। দেখি তোমার বিল্লুটাকে মনে আছে কিনা তোমার।

পরদিন সকালে,

অধরা সকাল সকাল উঠে সুন্দর করে রেডি হয়ে নেয়। আজ ওর কাজের প্রথম দিন। ঠিক মতো কাজ করতে হবে। নাস্তাটা করে মাকে বিদায় দিয়ে নিচে আসতেই দেখে রিফাত ব্লাক টিশার্ট আর ব্লাক প্যান্ট পরে গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। অধরাকে দেখে একটা হাসি দেয় রিফাত। অধরা গেইটের কাছেই স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ওর মাথা কাজ করছে না। রিফাত ইশারা করে ডাক দেয় অধরাকে। অধরা রিফাতের কাছে আসে। এসে বলে,

অধরাঃ স্যার আপনি এখানে কি করে? আমার বাসা কীভাবে চিনেন?

রিফাতঃ সিক্রেট বলা যাবে না। চলুন অফিসে যাওয়া যাক।

অধরা শুধু অবাক হয়ে আছে। রিফাতের সাথে গাড়িতে উঠে বসে। রিফাত নিজেই ড্রাইভ করছে।পাশের সিটে অধরা৷ ও হিসাব মিলাতে পারছে না। বারবার হ্যান্ডসাম রিফাতকে আড় চোখে দেখছে আর গভীর ভাবনায় হারিয়ে যাচ্ছে। রিফাত হঠাৎ করে বলে উঠে,

রিফাতঃ আমার বাসা আপনার কাছেই। তাই ভাবলাম সাথে করেই নিয়ে যাই। আর বাসার এড্রেসটা আবিরের কাছ থেকে জেনেছি। হাহা।

এবার অধরা কিছুটা শান্ত হয়। একটু হাসে। রিফাত আবার বলে,

রিফাতঃ আমাকে দেখে অবাক হয়েছেন তাইনা?

অধরাঃ অবাক মানে সক খেয়েছিলাম।

রিফাতঃ আমার সারপ্রাইজ দিতে খুব ভালো লাগে। তাই সবসমন নিজেকে রেডি রাখবেন সারপ্রাইজ নেওয়ার জন্য।

অধরা কিছুটা অস্তিত্বের মধ্যে পড়ে৷ তাও সামলে নেয়। এরপর ওরা অফিসে চলে আসে। ওদের একসাথে দেখে অনেক মেয়ে ইম্পোলই জ্বলে পুড়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে। অধরা তা বেশ বুঝতে পারছে। হঠাৎই রিফাত সবার সামনে দাঁড়িয়ে অধরাকে পাশে নিয়ে বলে,

রিফাতঃ আপনাদের সবার সাথে পরিচিত করিয়ে দি। উনি হলেন মিস আবিদা। (অধরা অবাক হয়ে রিফাতের দিকে তাকায়) আমার পিএস। এই অফিসে আমার আর বাবার পর যদি কারো ক্ষমতা বেশী থাকে তাহলে মিস আবিদার। তাই সবাই তার সাথে কোওপারেটিভ থাকবেন আশা করি। সবাই তাকে ওয়েলকাম করুন।

অধরা রীতিমতো পাথর হয়ে গিয়েছে। রিফাত বললটা কি! অধরা হতবাক হয়ে শুধু তাকিয়ে আছে রিফাতের দিকে। আর একটা প্রশ্ন অধরার মাথায় ঘুরছে সেটা হলো, রিফাত ওকে অধরা নামে কেন সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিল না! কি এর রহস্য?

চলবে..?

সবার ভালো সাড়া চাই। কেমন লেগেছে জানাবেন কিন্তু। সাথে থাকবেন সবসময়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here