ভয়ংকর ভালবাসা ৩য় পর্ব

"এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে। আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার। আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন "

#ভয়ংকর_ভালবাসা।
#শতাব্দী_নাওয়ার।
#৩য়_পর্ব।

ছবিটা দেখা মাত্রই আমার বুকের ভেতর কাঁপতে শুরু করলো,
এ যে আর কেউ না,এ যে দেখছি আভাস।
আর আমি আব্বু আম্মুকে সাথে সাথে বলে দিলাম,
আমি এই ছেলেকে বিয়ে করবোনা,
তোমরা অন্য ছেলে দেখো…

-কি বলছিস তুই?ছেলেটা দেখতে কত সুন্দর,স্মার্ট, দাঁড়ির জন্য না করছিস তুই?
দাঁড়িতে কত্ত নিষ্পাপ লাগছে ছেলেটাকে দেখ।
ছেলেটা ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে,কেউ নাকি দেখেনি আজো একটা সিগারেট খেতে।
তোর বাবার তো ছেলে অনেক পছন্দ হয়েছে।
আর ছেলের মা টাও নাকি অনেক ভালো।
তুই সুখী হবি,ভালো থাকবি।
তাছাড়া আমারো এমন ছেলে পছন্দ।ওরা অন্তত আল্লাহ্‌কে ভয় পেয়ে হলেও বউকে কখনো কষ্ট দিবেনা।তোকে ভালো রাখবে।(আম্মু)

-ছেলেকে তোমার পছন্দ না কেন মামনি?কোন সমস্যা?ছেলে কে কি তুমি আগে থেকে চেনো?
-আব্বু অন্য ছেলে দেখেন প্লিজ।আমার এই ছেলেকে ভালো লাগেনি।
-আচ্ছা ঠিকাছে,তুমি যা বলবে তাই হবে।

আব্বু আভাসের চাচাকে ফোন করে রাতেই না করে দেয়।
বলে,ছেলেকে আমার আর আপনার ভাবীর পছন্দ হয়েছে।কিন্তু আমাদের মেয়ের পছন্দ হয়নি।

আভাসের চাচা যখন আভাসকে জানায় এ কথা,আভাস ওর চাচার কাছ থেকে আমাদের বাসার মোবাইল নাম্বার নেয়।

সকাল বেলা হঠাৎ একটা আননোন নাম্বার থেকে ফোন আসে,
আর আমি ফোন টা রিসিভ করি।
-হ্যালো আসসালামু আলাইকুম।
-ওয়ালাইকুম আস সালাম।
-কে বলছেন?
-আমি আভাস।

এই কথা শোনার সাথে সাথে আমি লাইন কেটে দেই।

আভাস ফোন করেই যাচ্ছে।
আর আমি বার বার লাইন কেটে দিচ্ছি।
পরে আম্মু রুমে এসে বলে কে ফোন দিচ্ছে,আর তুই কাটছিস কেন?
দেতো আমার কাছে।

আমি মোবাইল আম্মুর হাতে দিয়ে চলে যাই অন্য রুমে।

-হ্যালো,কে?
-জ্বী আমি আভাস।আমার কাকা আমার কথা আপনাদের বলেছিলেন না?
-ও হ্যাঁ চিনেছি।কেমন আছো তুমি?
-এইতো আলহামদুলিল্লাহ্‌!
-আপনি কেমন আছেন?
-আমিও ভালো আছি।
-আমি কি আপনাদের বাসায় একটু আসতে পারি আম্মু?আপনার সাথে আমি একটু কথা বলতাম।
-অবশ্যই বাবা,কখন আসবে এসো।
(আম্মু আভাসের মুখে আম্মু ডাক শুনেই শেষ)
-আমি একটু পরেই আসছি।
-আচ্ছা ঠিকাছে এসো।

আমি জানিনা ও যে আমাদের বাসায় আসবে।
আম্মুও আমাকে বলেনি,আমি যদি চিল্লাপাল্লা করি।

একটা সময় হুট করে আভাস আমাদের বাসায় চলে আসলো,
আম্মু বাইরের রান্না ঘরে রান্না করছিলো।
আর আভাস এসে হাজির।

-আসসালামু আলাইকুম আম্মু।
-ওয়ালাইকুম আস সালাম।
-কেমন আছেন আম্মু?
-ভালো,তুমি?
-এইতো চলছে।
-আম্মু কিছু কথা ছিলো আপনার সাথে।
-হ্যাঁ বাবা ঘরে আসো,কিছু চা নাস্তা করো তারপর শুনবো সব।
-না আম্মু!চা নাস্তা পরে হবে,আগে আমার কথা শুনুন।
-আচ্ছা বলো,
-আম্মু আমি আরফাকে বিয়ে করতে চাই।
-বাবা আমাদের তো কোন আপত্তি নেই,ও ই না করছে।
-আম্মু আমি জানি ও কেন আমাকে না করছে,
আসলে দোষ আমারি।
-তোমরা কি পূর্ব পরিচিত?
-আম্মু আমি একটা সময় ওকে খুব বিরক্ত করতাম।একদিন…

এই ভাবে আভাস আম্মুকে সব কথা খুলে বলে।আর পরবর্তীতে কিভাবে ও পরিবর্তন হয় সব খুলে বলে।আর আম্মুর কাছে ক্ষমা চায়।

আমি অবাক হয়েছিলাম ওর সাহস দেখে।ও কিভাবে আমাদের বাসায় এসে ডিরেক্ট আম্মুকে বলেছে আমাকে ও বিয়ে করতে চায়।আবার সব অতীত ও আম্মুর সামনে তুলে ধরেছে।

পরে আম্মু ওকে নাস্তা দেয়,ও কোন রকম খেয়েই চলে যায়।
আর আম্মুকে বলে যায়,প্লিজ আম্মু।আপনার ছেলেটাকে ফিরিয়ে দিবেন না।আপনার ছেলেটা আপনার মেয়েটাকে খুব ভালবাসে।

আমি ওর সামনে যাইনি।
পাশের রুম থেকে শুনেছি।

আব্বু বাসায় ফিরলে আম্মু আব্বুকে সব খুলে বলে।
আম্মু আব্বু খাবার টেবিলে বসে আমাকে বলেন,

-আমরা জেনেছি কিসের জন্য তুমি না করেছো।কিন্তু ছেলেটা যা করেছিলো শুধু তোমাকে পাওয়ার জন্যই করেছিলো।
আর এখন ও টোটালি চেঞ্জ হয়ে গেছে,তাও আবার তোমার জন্যই।
এত বছর পরও ও তোমাকে মনে রেখেছে।
আমাদের কোন আপত্তি নেই,আমরা ওকে ওর ভুলের জন্য ক্ষমা করে দিয়েছি।
আমরা চাই তুমিও সব ভুলে ওকে বিয়ে করে নাও।
আর যেই ছেলে তোমার জন্য এত পাগল।সেই ছেলে কোন দিন তোমায় কষ্ট দিবেনা।

-আপনাদের যা খুশি আপনারা তাই করুন।
-তুমি ছেলের চাচাকে বলে দাও আগামীকাল ছেলের মাকে নিয়ে,ছেলেকে নিয়ে আসতে।এসে আরফাকে দেখে যাক।ছেলে অনেক ভালো।(আম্মু)

-ঠিকাছে আমি বলে দিচ্ছি ফোন করে।

পরে আব্বু ফোন করে বলে দেয় ওই বাসা থেকে এসে আমাকে দেখে যেতে।

আভাস আভাসের মা,আভাসের চাচা,চাচি আমাকে এসে দেখে যান।
পরের দিন আমাদের বাসার লোক জন ওদের বাসায় যান।
বাড়ী ঘর,সবার ব্যাবহার,সব কিছু আমাদের বাড়ীর লোকজনের পছন্দ হয়।
তাই ওই বাসায়ই আমাদের বিয়ের পাকা কথা হয়ে যায়।

ডেট ফিক্সড হয়ে যায়।
আগামী শুক্রবার আমাদের বিয়ে।
ধুমছে বিয়ের কেনা কাটা চলে।
আভাস ফোন দিয়ে আম্মুকে বলে আমার সাথে কথা বলতে চায়।

আম্মু আমার হাতে ফোন দিয়ে বলে,
আভাস কথা বলবে।

-হ্যালো,
-আরফা,
-জ্বী বলুন।
-এখনো রেগে আছো আমার উপর?
-কি বলার জন্য ফোন দিয়েছেন সেটা বলুন।
-কি রঙের, হলুদের শাড়ী,বদল শাড়ী,আর বিয়ের শাড়ী নিতে চাও তুমি?
-আপনার ইচ্ছে।
-না সমস্যা নেই,তুমি তোমার পছন্দের রঙ বলতে পারো।আর চাইলে আমার সাথে কেনাকাটাও করতে পারো।

-না,প্রয়োজন নেই।
-তাহলে আমি আমার পছন্দ মত কিনবো?
-জ্বী,কিনেন।

এই বলে লাইন টা কেটে দেই।

আজ আমার গায়ে হলুদ,
বাসায় বিয়ের আমেজ।ছেলের বাড়ীর লোক জন সবাই আসছে।
আমার বাসার লোক জন রিসিভশনে দাঁড়িয়েছে।
কিছু ক্ষণ পর শুনি আমার খালাতো বোনের চিৎকার।
-ওই জামাই আসছে জামাই আসছে…

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......

Related Articles

আঁধার পর্ব-১৩ | ১৮+ এলার্ট

আঁধার ১৩. ( ১৮+ এলার্ট ) ঘুটঘুটে অন্ধকারে পড়ে আছি আমি। অন্ধকারের ঘনত্ব এতো বেশি হতে পারে জানা ছিলো না আমার। এতো অন্ধকারে চোখ...

আঁধার পর্ব-১২

আঁধার ১২. " রান্না ভালো হয়নি? " প্রশ্নটা না করে পারলাম না। " হ্যাঁ, ভালো হয়েছে। আমি নিজেও এতো ভালো রান্না করতে পারিনা। বিয়ের...

আঁধার পর্ব- ১১

আঁধার ১১. " তুমি ঠিক এভাবে নিয়ম করে হাসলে আমি তোমার প্রেমে পড়তে বাধ্য হবো। " মুখ ফসকে কথাটা টুক করে বের হয়ে গেল। সাথে...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -
- Advertisement -

Latest Articles

আঁধার পর্ব-১৩ | ১৮+ এলার্ট

0
আঁধার ১৩. ( ১৮+ এলার্ট ) ঘুটঘুটে অন্ধকারে পড়ে আছি আমি। অন্ধকারের ঘনত্ব এতো বেশি হতে পারে জানা ছিলো না আমার। এতো অন্ধকারে চোখ...
error: ©গল্পপোকা ডট কম