Home "ধারাবাহিক গল্প" ভয়ংকর ভালবাসা ২য় পর্ব

ভয়ংকর ভালবাসা ২য় পর্ব

#ভয়ংকর_ভালবাসা।
#শতাব্দী_নাওয়ার।
#২য়_পর্ব।

হুট করে কোথায় থেকে এসে আভাস আমার সীঁথিতে সিঁদুর পড়িয়ে দেয়।
আর আমি থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে শুধু জিজ্ঞেস করি,
-কেন করলেন এমনটা আমার সাথে?

মুসলিম ঘরের মেয়ে আমি।অথচ সিঁদুর দিয়ে আমার মাথা ভর্তি।সিঁদুর নাকে পড়ে আমার নাকটা লাল হয়ে গেছে।
সিঁদুর পড়ে আমার সাদা কলেজ ড্রেস জায়গায় জায়গায় লাল হয়ে গেছে।

-আভাস, কেন করলেন আমার সাথে এমন?
-দোস্ত কি করলি এটা তুই?(প্রদীপ)
-আজব তো,কি করলেন এটা আপনি?(স্নেহা)
-আমি আরফাকে পাগলের মত ভালবাসি,ভালবাসি,ভালবাসি,আমি ওকে কোন মতেই হারাতে চাইনা।
আর তুই কাল শুনলি না দেব কি বল্লো?দেব পূজাকে গোপনে সিঁদুর পরিয়ে দিয়ে প্রথমে বিয়ে করেছে।তারপর পারিবারিক ভাবে বিয়ে করেছে।আর হিন্দু ধর্ম মতে সিঁদুর পরালেই বিয়ে হয়ে যায় না?দেবতো তাই বল্লো,টিভি সিনেমায়ও তো তাই দেখি।তারমানে আমাদের বিয়ে হয়ে গেছে।যেভাবেই হোক হয়েছেতো।এখন শুধু মুসলিম ধর্ম মতে বিয়ে করা বাকি।
এটাও হয়ে যাবে।

আজ থেকে আমি আরফার স্বামী,আর আরফা আমার স্ত্রী।আমি শুধু এটাই জানি।

-দোস্ত শোন,সিনেমা আর বাস্তবতা এক না।আর দেব যেটা করেছে সেটা ওরা মন থেকে দুজনকে আপন ভেবে সজ্ঞানে নিজেদের ইচ্ছেয় করেছে।
আর পরবর্তীতে যখন পূজা বাসায় জানায় দেব ওকে সিঁদুর পরিয়ে দিয়েছে তখন পূজার পরিবার ওদের পারিবারিক ভাবে বিয়ে দেয়।কারণ আমাদের ধর্ম মতে আমাদের কাছে সিঁদুরটা অনেক দামি।আমাদের কাছে সিঁদুরের মূল্য অনেক।আর আমরা হিন্দু।

কিন্তু তাই বলে সিঁদুর পরালেই যে বিয়ে হয়ে যায় তা কিন্তু না।
অনেক বিধি,নিয়ম আছে।তারপরই আমাদের ধর্মে বিয়ে সম্পূর্ণ হয়।(প্রদীপ)

-আপনি যেটা করলেন সেটাতো পাপ করলেন,আমাদের ধর্ম আর তাদের ধর্ম কি এক?আমাদের ধর্মে বিয়ের পর কেউ সিঁদুর পরে?এটা তো আমাদের ইসলাম ধর্ম মতে কঠিন গুনাহ এর কাজ করেছেন আপনি।এর শাস্তি আপনাকে ভোগ করতে হবে।এর শাস্তি আপনি পাবেন।(আরফা)

-আরফা,বিশ্বাস করো আমার হিতাহিত কোন জ্ঞান নেই এখন।কত টা দিন তুমি আমার চোখের আড়াল।কলিজাটা ফেটে যাচ্ছিলো আমার।
গত কাল যখন দেবের কাছে ওদের বিয়ের কাহিনী শুনলাম,তখন মনে হলো আমি তাহলে তোমাকে সিঁদুর পরিয়ে দিলেই হিন্দু রীতিতে আমাদের বিয়ে হয়ে যাবে।আর তারপর আমরা ইসলাম ধর্ম মতে বিয়ে করে নেবো।আর তুমিও আমাকে বিয়ে করবে,করতে বাধ্য হবে।আমার মাথায় শুধু একটা চিন্তাই ছিলো যে তুমি আমার হবে।শুধু আমার হবে।
তোমার প্রেমে আমি অন্ধ হয়ে গেছি,আমার জ্ঞান,বুদ্ধি লোপ পেতে শুরু করেছে।প্লিজ আমাকে তুমি বিয়ে করে নাও।আমি বাঁচতে পারবোনা তোমায় ছাড়া।

-আরফা, আভাস তোমাকে সত্যিই অনেক লাভ করে।না হলে ও এমন পাগলামো করতোনা।ও যেভাবেই হোক তোমাকে পেতে চেয়েছে।নইলে এভাবে সিঁদুর পরাতোনা।আর ও কোন ধর্মের উপর অসম্মানতো করেনি তবে কেন ও শাস্তি পাবে?আর না কোন ধর্মকে অপমান করেছে।ও শুধু তোমাকে আপন করে পেতে চেয়েছে।সেটা যেকোন উপায়ই হোক।তাই ও এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
তাছাড়া আমরা তো আজকাল কতই দেখি,হিন্দু মুসলিম রা খ্রিষ্টানদের নিয়মে বিয়ে করে।দেখোনি তুমি?

তুমি ওকে ফিরিয়ে দিওনা প্লিজ।তোমার বাসায় ওর কথা জানাও,আর ওর ভুল গুলো মাফ করে দাও।(প্রদীপ)

-সরি ভাইয়া,আমার পক্ষে ওকে মাফ করা সম্ভব না।যে কিনা সবার সামনে আমাকে এই ভাবে অপমান করলো,
তাকে নিয়ে সংসার করা আমার পক্ষে অসম্ভব।
আর আল্লাহ্‌ ই তো ওকে মাফ করবেন না,কারণ ও একজন মুসলিম ছেলে হয়ে সিঁদুর ছুঁয়েছে,আমাকে ছুঁইয়েছে।
আমি এই কুত্তাটার মুখ আর দেখতে চাইনা।ওকে আমার সামনে থেকে যেতে বলুন,নয়তো আমি ওর নামে মান হানির মামলা করবো।

-তুমি কি বলতে চাও আরফা?তোমাদের ধর্মে কি ভুল করে ক্ষমা চাইলে মাফ পাওয়া যায়না?তাছাড়া আমিতো শুনেছি আল্লাহর কাছে কান্না কাটি করে তোমরা ক্ষমা চাইলে তিনি তোমাদের নিরাশ করেন না।ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিবে।কিন্তু তুমি আগে ওকে ক্ষমা করে দাও।

এদিকে আমরা ছিলাম মাঠের এক পাশে।আর সবাই প্রোগ্রাম দেখায় বিজি ছিলো।তাই আমার ক্লাসমেট কয়জন আর আভাসের বন্ধু কজন ছাড়া তেমন কেউ বিষয়টা খেয়াল করেনি।
তার উপর ফুল সাউন্ডে গান বাজছে,স্টেজে নাচ হচ্ছে সেই গানের তালে।

আমি কোন কথা না বলে কাঁদতে কাঁদতে স্নেহাকে নিয়ে ওয়াশ রুমে গিয়ে সিঁদুর ধুয়ে ফেলি।কিন্তু তবুও থেকে যায় কিছু অংশ।
ধুয়ে স্নেহাকে নিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেই।
আর তখনি পেছন থেকে আভাস আর প্রদীপ দা আসে।আভাস আমার হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে থাকে।

-হাত ছাড়ুন আমার।হাত ছাড়ুন।নইলে আমি চিল্লাবো।
-প্লিজ আমাকে ১০ টা মিনিট সময় দাও।জাস্ট ১০ টা মিনিট।এর পর থেকে আমি আর তোমাকে জ্বালাবোনা।
-ওকে এই দশ টা মিনিট ই আপনার শেষ সময়।এর পর আপনি আর আমার সামনে আসবেন না।আপনার মুখ আর আমি দেখতে চাইনা।

তারপর আভাস,প্রদীপ দা,স্নেহা আর আমাকে কলেজের সামনের মসজিদ টায় নিয়ে যায়।
আমরা সেখানে যাই,ওই মসজিদে একজন ইমাম সাহেব সব সময়ই থাকেন।
উনার গ্রামের বাড়ী দূরে বলে উনি মসজিদের পাশেই একটা রুমে থাকেন।
ছুটি পেলে গ্রামে গিয়ে ঘুরে আসেন।
খুব ভালো একজন ইমাম উনি তাই উনাকে কেউ ছাড়তেও চায়না।

তো আভাস প্রথমে গিয়ে ইমাম সাহেব কে ডাকলো।
ইমাম সাহেব বেরিয়ে এলে আভাস আমাদের তিন জন কে ডাকে।
আমরা দুজনের সামনে যাই,

-হুজুর আমি আজকে আপনার কাছে একটা কথা নিয়ে এসেছি।
-হ্যাঁ বলো।
-হুজুর আমি একটা বড় অন্যায় করে ফেলেছি।যেটা আমার করা ঠিক হয়নি,আমি এখন আমার ভুল বুঝতে পেরেছি,আল্লাহ কি আমাকে মাফ করবেন?

-বাবা আগে তুমি বলো আমাকে কি ভুল করেছো?আর আল্লাহ্‌ তো ক্ষমাশীল।আমরা পাহাড়ের সমান ভুল করলেও আল্লাহ্‌ তা মাফ করে দিবেন।যদি আমরা তার জন্য অনুতপ্ত হই আর ওয়াদা করি যে এই ভুল আর ২য় বার করবোনা।তবে ক্ষমা টা চাওয়ার মত চাইতে হবে।

তারপর আভাস সব কিছু খুলে বলে ইমাম সাহেব কে,ও কি কি করেছে,আর কেন করেছে।
আর বলে,আমি আরফাকে অনেক ভালবাসি হুজুর,সেই ছোট বেলা থেকে।ওকে ছাড়া আমি বাঁচবোনা।
আর আমার ভালবাসায় কোন পাপ নেই।না আমি কখনো ওকে খারাপ নজরে দেখেছি,না কোন দিন খারাপ কিছু ভেবেছি।শুধু ভেবেছি ও ই আমার বউ হবে।ও আর কারো হবেনা।হতে পারেনা।

-সবই বুঝলাম বাবা,তুমি ওকে সিঁদুর পরিয়ে ভেবেছো ওর সাথে বিয়ে হয়ে গেছে।অথচ আমাদের ইসলাম ধর্ম মতে আমাদের বিয়ে না হলে সেই বিয়ে কোন দিন বৈধ হবেনা।আর তোমরা দুজনই মুসলিম ঘরের সন্তান।তোমার তো এমন করা ঠিকই হয়নি।কিন্তু তুমি যেহেতু তোমার ভুল বুঝতে পেরেছো সেহেতু আমি বলবো তুমি তওবা করো।
আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ে ইস্তেগাফার করো।
আল্লাহর কাছে মন থেকে কান্না কাটি করে একা নীরবে নামাজ পড়ে ক্ষমা চাও।
নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমা করবেন।
কারণ তিনি পরম ক্ষমাশীল।

আর একটা কথা,বুঝলাম তুমি মেয়েটাকে ভালবাসো, কিন্তু মেয়েটাকি তোমাকে ভালবাসে?
-না হুজুর,ও আমাকে ভালবাসেনা।
-শোন বাবা,আমাদের ইসলাম ধর্মে বিয়ের আগে প্রেম ভালবাসা হারাম।
তুমি এক কাজ করো তুমি তোমার ভাগ্যটাকে আল্লাহর উপর ছেড়ে দাও।
তুমি আল্লাহকে বিশ্বাস করোতো?
-জ্বী হুজুর।
-তাহলে তুমি আল্লাহর কাছে সব ছেড়ে দাও।নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও এবং ভালবাসার মানুষটাকে চাও।
আল্লাহ্‌ যদি চান তবে একদিন ঠিক ওকে তোমার করে দিবেন।
আর তুমি ওকে আর বিরক্ত করোনা।দুজনই ঠিক মত লেখাপড়া করো।নামাজ রোজা করো।
পড়া লেখা শেষ করে চাকরি ধরে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে তখনও যদি তোমার মনে হয় তুমি মেয়েটাকেই চাও।তাহলে তখন তুমি ওদের বাসায় প্রস্তাব পাঠিও।

যদি ওর সাথে তোমার বিয়ে আল্লাহ্‌ লিখে রাখেন।তবে নিশ্চয়ই তুমি ওকে পাবে।ওদের বাসার সবাই রাজিও হবে।
যদি রাজি না হয় তাহলে ভেবে নিও,আল্লাহ্‌ যা করেন ভালোর জন্য করেন।

-হুজুর আমি না হয় সব মানলাম,কিন্তু ও যদি এর মধ্যে কাউকে পছন্দ করে ফেলে?আপনি ওকে কিছু বলে দেন।

-মা তুমি ওকে পছন্দ করো?
-না,
-কি চাও তুমি?
-হুজুর আমি আমার আম্মু আব্বুর পছন্দে বিয়ে করবো।তারা যেখানে দিবেন সেখানেই আমি রাজি।
-এইতো মাশাআল্লাহ্‌।
-নামাজ পড়ো?
-রেগুলার না।
-আজ থেকে রেগুলার পড়বে ঠিক আছে?
-আচ্ছা।
-আমি বলে দিয়েছি ও আর তোমাকে বিরক্ত করবেনা।ও ওর মত থাকবে,তুমি তোমার মত।যদি ভাগ্যে থাকে আল্লাহ্‌ তায়ালা চান তবে একদিন তোমাদের পরিবারের মতে তোমাদের বিয়ে হবে।আর যদি আল্লাহ্‌ না চান তবে হবেনা।তুমি কি বলো?
-হুজুর আমি ওকে বিয়ে করবোনা কোন দিন।ও আমাকে সবার সামনে অপমান করেছে।কোন দিন মাফ করবোনা আমি ওকে।আমি কি করবো,আল্লাহ্‌ই তো ওকে কোন দিন মাফ করবেনা।
-কে বলেছে তোমাকে?আল্লাহ্‌ পরম ক্ষমাশীল।ও যদি আল্লাহ্‌র কাছে অনুতপ্ত হয়ে তওবা করে ক্ষমা চায়,আল্লাহ্‌ ওকে ক্ষমা করে দিবেন ইনশাআল্লাহ্!
আল্লাহ্‌ বলেছেন,তোমরা আমার কাছে চাও।
দেয়ার মালিক এই আমি আল্লাহ্‌।
তোমরা আমার কাছে ক্ষমা চাও।
ক্ষমা করার মালিক আমি আল্লাহ্‌।

আর আল্লাহ্‌ যদি ওকে ক্ষমা করতে পারে তবে তুমি পারবেনা?
আমার জন্য হলেও ছেলেটাকে ক্ষমা করে দাও,ছেলেটা কিভাবে কাঁদছে দেখো।

আর ভুল তো মানুষই করে।
আর যারা ভুল করে,তাদের অন্তত একটা সুযোগ দিতে হয় তাদের ভুল টাকে শুধরানোর।আর ও তো অনুতপ্ত।নিজের ভুল বুঝতেও পেরেছে।ক্ষমা করে দাও ওকে।আর কখনো ও তোমাকে বিরক্ত করবেনা।

-আচ্ছা ঠিকাছে,আপনার কথায় আমি ওকে ক্ষমা করে দিলাম।আজকের পর যেন সে কোন দিন আমার সামনে না আসে।

এরপর আমরা হুজুরের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসি।
শুনেছি পরের দিনই আভাস এতেকাফে বসেছে।
যদিও ও আমার সামনে আসে নি কখনো সেদিনের পর থেকে।
কিন্তু খুব দূর থেকে মাঝে মাঝে দেখতাম দেখতো আমাকে।

কিছু দিন পর শুনি,ও এখন ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে।দাঁড়িও রেখে দিয়েছে।আর এটা সত্যিও।

এর মাঝে অনেক দিন কেটে যায়,আমাদের আর যোগাযোগ হয়না।
আমিও আমার মত পড়াশোনা চালিয়ে যাই।আরো বড় হতে থাকি।
আম্মু আব্বু বিয়ের চিন্তা ভাবনা করতে থাকেন।
আব্বু দেশে আসায় আমার জন্য অনেক ছেলে পক্ষ থেকেই বিয়ের প্রস্তাব আসতে থাকে।

আমার আব্বু আবার ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন।তিনি নামাজ কালাম পড়ে এমন ছেলে পছন্দ করেন।আমার আম্মুও নামাজী,আমার দাদীও তাই।আমিও পড়ি তবে মাঝে মাঝে পড়িনা।

একদিন রাতে আমার আম্মুকে আব্বু একটা ছেলের ছবি দেখিয়ে বলেন,
এই ছেলেটাকে কেমন লাগে দেখোতো,
ছেলেটা অনেক ভালো,
পরিবারও একদম ছোট।
ছেলেটা মাস্টার্স পাশ করে এখন একটা বেসরকারি অফিসে চাকরি করে।
বাবা নেই।
জায়গা সম্পত্তি আছে।আর ছেলে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে।সিগারেটও খায়না।
আমার বন্ধুর ভাতিজা হয় ছেলেটা।
আমার পছন্দ হয়েছে বলে পরে আমি অন্যদের কাছ থেকে খবর নেই,
সবাই বলেছে এ যুগে এমন ছেলেই হয়না।

নামাজ পড়ে।
কখনো দেখিনি একটা সিগারেট খেতে।
কোন বাজে রেকর্ড নাই।
এক বোনের বিয়ে হয়ে গেছে,বড় ওর।
বাসায় শুধু ও আর ওর মা।
মাও অনেক ভালো,নামাজী। কারো সাথে কোন রকম ঝগড়াঝাঁটিতে নেই।
ছেলের বাবাও খুব ভালো মানুষ ছিলেন।
ছেলের বাবা মারা যাবার পর ছেলেই সংসারের হাল ধরে।
আপনার মেয়ের জন্য প্রস্তাব এসে থাকলে না করিয়েন না,বিয়ে দিলে মেয়ে অনেক সুখী হবে।
ভালো থাকবে।

সবই তো শুনলাম ভালো,
এখন তুমি কি বলো?
-আমি আর কি বলবো?ছেলেতো দেখতে সুন্দর আর ভদ্রই লাগছে।দেখো তোমার মেয়েকে জিজ্ঞেস করো,ও কি বলে।

আব্বু আমাকে ডেকে বললেন,
মামনি,তুমি তো এখন বড় হয়েছো।সবই বোঝো।
আমি দেশে আসার পর থেকে তোমার জন্য বিয়ের প্রস্তাব আসছে।
এখন তুমি কি বলো?তোমার কি কাউকে পছন্দ আছে?নাকি আমরা ছেলে দেখবো?
কেউ পছন্দ থাকলে আমাদের বলতে পারো।

-না আব্বু আমার কোন পছন্দ নেই।আপনারা যা ভালো মনে করেন তাই করেন।
-একটা ছেলে দেখেছি,আমার বন্ধুর ভাতিজা,ছেলের বয়সও কম।দেখতেও সুন্দর।জব করে।
বাসায় ওর মা ছাড়া কেউ নেই।ছেলে এবং ছেলের মাও ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে।আমার মনে হয় কখনোই তারা বাড়ীর বউ এর সাথে খারাপ ব্যবহার করবেনা।
আর আমার ছেলেটাকে খুব পছন্দ হয়েছে।

তোমার আম্মুরও ছেলে পছন্দ হয়েছে।
তুমি ছেলেটার ছবি দেখো,যদি তোমার ভালো লাগে তাহলে ছেলের চাচাকে বলে দেই,আগামীকাল এসে ছেলে সহ তারা সবাই এসে তোমাকে দেখে যাক।
সবার আগে আমার গল্প পড়তে চাইলে “নীল ক্যাফের ভালোবাসা” পেজে পাবেন।
-আমার কোন ছবি টবি দেখতে হবেনা।
আপনাদের যা ভালো মনে হয় তাই করেন।
-তা কি করে হয়?সারাজীবন সংসার করবি তুই।তোর একটা পছন্দ অপছন্দের ব্যাপার আছেনা?পরে পছন্দ না হলে বলবি তোমাদের জন্য আমার সারাজীবন এটাকে নিয়ে ঝুলতে হচ্ছে।

এই বলে আম্মু একটা হাসি দিয়ে ছেলেটার ছবিটা আব্বুর মোবাইল থেকে বের করে আমার চোখের সামনে মোবাইলটা ধরলো।

আর ছবিটা দেখা মাত্রই আমার বুকের ভেতর কাঁপতে শুরু করলো,
এ যে আর কেউ না,এ যে দেখছি আভাস।
আর আমি আব্বু আম্মুকে সাথে সাথে বলে দিলাম,
আমি এই ছেলেকে বিয়ে করবোনা,
তোমরা অন্য ছেলে দেখো…

(সত্য ঘটনা অবলম্বনে)
কারো ভালো না লাগলে ইগ্নোর করুন।
দয়াকরে কোন বাজে কমেন্ট করবেন না।🙏

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

অবাধ্য অনুভূতি পর্ব-১০ এবং সমাপ্তি পর্ব | বাংলা রোমান্টিক গল্প

@অবাধ্য অনুভূতি #পর্ব_১০ #লেখিকা_আমিশা_নূর "উফফ,বাবা।আজকে মিটিংটা ভালো ভাবে মিটে গেলো।" সমুদ্র ব্লেজার খুলে পানি খেলো।তারপর ওয়াশরুম থেকে গোসল করে বের হয়ে দেখলো ভূমিকা দাঁড়িয়ে আছে।গতদিন ভূমিকা সমুদ্রকে...

অবাধ্য অনুভূতি পর্ব- ০৯

@অবাধ্য অনুভূতি #পর্ব_০৯ #লেখিকা_আমিশা_নূর "সূচি,আমিও চাকরি করবো।তখন টাকা শোধ করতে সুবিধে হবে।" "কীহ?" "হ্যাঁ।তুই একটা কাজ করিস।তোর বসের সাথে আমার কথা বলিয়ে দিস।" "কে..কেনো?" "কেনো কী আবার?মাসে কতো করে শোধ...

অবাধ্য অনুভূতি পর্ব-০৮ | Bangla Emotional love story

@অবাধ্য অনুভূতি #পর্ব_০৮ #লেখিকা_আমিশা_নূর "প্রেম,মামা আসবে।তখন মামা'র সাথে খেলতে পারবে।"(রাফিয়া) "হুয়াট?মাহির আসছে?" মিহুর চিৎকার শুনে রাফিয়া কানে আঙ্গুল দিয়ে কচলাতে কচলাতে বললো,"ইশ রে!কান গেলো।আমার ভাই আসছে এতে তোর কী?" "ছোট...

অবাধ্য অনুভূতি পর্ব-০৭

@অবাধ্য অনুভূতি #পর্ব_০৭ #লেখিকা_আমিশা_নূর "মামুনি কেমন আছে এখন?" "আলহামদুলিল্লাহ যথেষ্ট ভালো,ভূমিকা তোমাকে সত্যি অনেক ধন্যবাদ।" "সুক্ষ্ম,আমাকে কতো ধন্যবাদ দিবে আর?দেখো তুমি এমন করলে কিন্তু আমি রেগে যাবো।" "হাহাহাহা।" সুক্ষ্ম'র হাসি...
error: ©গল্পপোকা ডট কম